আ’লীগ সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য যা যা করা দরকার করছে- ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি’র) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে কোন গণতন্ত্র নেই, নিয়ন্ত্রণই নেই। সরকারি কর্মকর্তারা কি করছে? তাদের হিসাব নিকাশও নেই।
বর্তমানে যারা এমপি, চেয়ারম্যান আছেন, তাদের কাজের কোন জবাবদিহিতা নেই। তারা যা খুশি তা করছে। যার ফলে আজ গোটা সিস্টেম ধ্বংস হয়ে গেছে। আ’লীগ সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য যা যা করা দরকার সে কাজগুলো করে যাচ্ছে, জনগনের যে স্বার্থ সেটাকে তারা বিবেচনা করছে না। এজন্য তারা মুক্ত গণতন্ত্রকে বহু আগেই বিনষ্ট করে ফেলেছে। বৃহস্পতিবার ১৫ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁওয়ের পৌরশহরের কালিবাড়িস্থ নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফকরুল বলেন, এই সরকারের অধীনে আমরা কোন নির্বাচনে যাব না। যাচ্ছি না। এটা আমাদের অপরিবর্তনীয় সিদ্ধান্ত। নির্বাচনকালীন সময়ে একটি নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া নির্বাচনে যাওয়ার প্রশ্নই উঠে না। পুলিশের নতুন আইজিপি নিয়োগের ব্যাপারে আমাদের কোন মন্তব্য নেই। তত্বাবধায়ক সকারের অধীনে নির্বাচন হলে বিএনপি এবং বিরোধীদলীয় যারা আন্দোলন করছে তারা বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে। এটা অত্যন্ত পরিস্কার করে বলছি বাংলাদেশের জনগনের যে, বেঁচে থাকা এটাই এখন কষ্টকর হয়ে দাড়িয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য যেমন চাল, ডাল, তেল, লবনের যে দাম তো আকাশচুম্বি হয়েছেই সেই সঙ্গে অন্যান্য যে বিষয়গুলো আছে যেমন শিক্ষা, শিক্ষাক্ষেত্রে স্কুলে যারা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা যায় তাদের খরচ অনেক বেড়ে গেছে। শিক্ষার উপকরণ গুলোর দাম অনেকাংশে বেড়ে গেছে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে একটা পণ্যে পরিণত করা হয়েছে। একইভাবে প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে একই অবস্থা। রোগীরা হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা পায় না। ঔষুধের দাম বেড়েছে। কয়েকদিন আগে প্রায় ৫০টি ঔষুধের দাম ৫৪ শতাংশ থেকে ১৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এটা মানুষের জন্য একটা ভয়ংকর একটা সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে। প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধি করে মানুষের জীবনকে অতিষ্ট করে ফেলা হয়েছে। মুল্যস্ফৃতি বেড়েছে প্রচন্ডভাবে। আমরা এ লক্ষ্যে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা যেদিন থেকে তত্তাবধায়ক বিধান বাতিল করা হয়েছে, সরকার যে সমস্ত আইনগুলো করেছে, সংবিধানে যে পরিবর্তন আনা হয়েছে তখন থেকেই ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশের গণতন্ত্র এবং গণতান্ত্রিক সকল প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা হয়েছে। যখন একটি সরকার তারা জনগণের সমর্থন হারায় কিন্তু তারা রাষ্ট্রযন্ত্রগুলোকে ব্যবহার করে থাকে এবং তারা নির্বাচনও করে। তারা সেটাকে ম্যানুপুলেট করে। পুরোপুরি সকল কিছু নিয়ন্ত্রণ করে নির্বাচন ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় যায়। সেখানেই আমরা আন্দোলনগুলো করছি। আমরা গণতন্ত্রে ফিরে যেতে চাই। ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ করেছি। ৭২ এ সংবিধান তৈরী হয়েছিল। পরবর্তিকালে সৈরচার এরশাদকে সরিয়ে গনতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিলাম। পরে আবার তত্তাবধায়ক সরকার দিয়ে নির্বাচন কালীন সময়ে নিরপেক্ষ নির্বাচন যাতে করে হতে পারে সে ব্যবস্থা করা হয়েছিল। একই সাথে আমরা বলেছি এ দেশের মানুষের চাহিদা অনুযায়ী নিরপেক্ষ নির্বাচন যদি না হয়, জনসাধারণ তাদের পছন্দের মানুষদের নির্বাচিত করতে না পারে তাহলে সমস্ত ব্যবস্থাগুলো ভেঙ্গে পরবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, মুক্ত সাংবাদিকতা বহু আগেই আ’লীগ ধ্বংস করেছে। তারা বিভিন্ন আইনগুলো করেছে, এর মধ্যে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন দিয়ে সাংবাদিকদের কন্ঠ রোধ করা হয়েছে। সাংবাদিক হত্যা, নিপীড়ন চলছে। যার ফলে কেউ সাহস করে কেউ কিছু বলছে না, লিখছে না। যারা সুবিধাবাদী তারা ওই জায়গাগুলো থেকে সরতে চায় না। বিভিন্ন শ্রেণির মানুষদের বিভিন্ন কিছু দিয়ে খুশি রাখা হয়েছে। তারা এ কারনে বলে এ ধরনের সরকারই ভাল। এ জায়গা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ৪২ শতাংশ মানুষ দারিদ্র সীমার নিচে বসবাস করছে। সেখানে বাংলাদেশ উন্নত দেশ কিভাবে করবেন, মধ্যম আয়ের দেশ কিভাবে করবেন। এগুলো সম্ভব না। এখানে তো কারও কোন নিরাপত্তা নাই। বিচার নাই। বিচার বিভাগকে দলীয়করণ করা হয়েছে। পুলিশকে দলীয়করণ করা হয়েছে, প্রশাসনকে দলীয়করণ করা হয়েছে। ইউনিভার্সিটিকে দলীয়করণ করা হয়েছে। শুনলাম ঠাকুরগাঁওয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে ১২ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে। তাহলে সে কিভাবে শিক্ষা দান করবে।

ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সাল আমীন, সহ সভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনসারুল হকসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এ মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন।