আশুলিয়ায় যত্রতত্রভাবে চলছে অনুমোদনহীন ইটভাটা

স্টাফ রিপোর্টার : সাভারের আশুলিয়ায় প্রতিনিয়তই গড়ে উঠেছে অবৈধ ইটভাটা। প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কোনরূপ অনুমোদন ছাড়াই চলছে ভাটাগুলো।

রাজধানীসহ এর আশপাশের এলাকায় এই ইটভাটাগুলো এখন বায়ু দূষণের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে।

সোমবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আশুলিয়ার মরাগাং এলাকায় তুরাগ নদীর তীরে অনুমোদনহীন ভাবে চলছে ২০টির বেশি ইটভাটা।

পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন প্রকার অনুমতি বা ছাড়পত্র ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এসব ইটভাটার মাটির যোগান দেওয়া হচ্ছে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন ফসলের জমি খনন করে।

সেখানে মাটি খননের দৃশ্যটাও অদ্ভুত। ভেকু দিয়ে এভাবেই যত্রতত্র মাটি উত্তোলনের ফলে তৈরি হয়েছে গভীর গিরিখাত। যার প্রভাব সরাসরি পড়ছে সাধারণ মানুষের জনজীবনে।

মাত্র ১টি ইটভাটার গত তিনদিনের হিসাব বলছে অন্তত ৬’শ ট্রাক মাটি উত্তোলন করা হয়েছে এখান থেকে। ‌ সেটাও মাত্র একটি ভেকুর হিসাব।‌ এমন আরও অর্ধশত ভেকুর আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে এখানকার ফসলি জমি।

গত তিন দিন যাবত বদলি দায়িত্ব পালন করছে ভেকু চালক। গণমাধ্যম এর উপস্থিতি টের পেয়ে গেলি মাটি খনন বন্ধ করে দেন। ভেকুর চালক বলেন, গড়ে প্রতিদিন ২০০-৩০০ ট্রাক মাটি উত্তোলন করি আমরা। কেউ কেউ আরো বেশি পারে। কেউ কেউ কম।

কিছুদিন পূর্বেও এই গিরিখাত ছিল অন্যান্য সাধারণ ফসলি জমির মতই। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে অসংখ্য কৃষকের দেখা মিলত। সামান্য সময়ের ব্যবধানে এখন এখানকার ফসলি জমি গুলোতে দু’চার জনের বেশি কৃষকের দেখা মেলে না।

স্থানীয় কৃষক কামাল জানান, মাটি খননের ফলে বেশ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের। তাদের আশঙ্কা হয়তো আগামীতে ফসল ফলানোর মত সামান্য জায়গাটুকুও পাবেন না তারা।

আরেকজন কৃষক আব্দুল হালিম জানান, খেতে আগের মত পানি থাকে না। মাটি সরে যাচ্ছে। চাষাবাদ করে ভালো লাগছে না। এভাবে চলতে থাকলে আমরা হয়তো আগামীতে ফসল আবাদ করার জন্য কোন জায়গায় পাবোনা।

সাভারের আশুলিয়ার মরাগাং এলাকায় এভাবে অনুমোদনহীন ভাবে গড়ে উঠেছে অন্তত ২০টি ইটের ভাটা। ‌ বিভিন্ন সময় এসব অবৈধ ভাটার বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান চললেও লাগাম টেনে ধরা যায়নি পরিবেশ বিধ্বংসী এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডের।

গত বছরের জানুয়ারি মাসে পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযানে বন্ধ করে দেয়া হয় রাজু ব্রিকস ও এএবি ব্রিকস। সেই সাথে এক একটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয় ২০ লক্ষ টাকা করে।

অনুমোদনহীন ভাবে পরিচালিত রাজু ব্রিকসের স্বত্বাধিকারী বিতর্কিত আওয়ামী লীগ নেতা রাজু আহমেদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ইটভাটায় সাংবাদিকদের কী কাজ? পরিবেশের ছাড়পত্র নিয়ে আপনাদের এত মাথাব্যথা কেন? আপনি কি পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক? আপনার যদি ক্ষমতা থাকে আপনিও সিলগালা করে দিয়ে যান।”

পার্শ্ববর্তী আশুলিয়া ব্রিকসের মালিকের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে সেখানে কর্মরত ম্যানেজার জানিয়েছেন, একটি মাদ্রাসা ও মসজিদ করার জন্য ইটভাটা চালু করা হয়েছে।

এছাড়া সেখানে আল আশরাফ ব্রিকস (ডাবল এবি ব্রিকস) নামে আরেকটি ইটভাটাও চলছে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে। সেখানে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের সাথেও অসৌজন্যমূলক ব্যবহার ও বিভিন্ন হুমকি প্রদান করেন প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজার।

প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আরিফ বিল্লার সাথে মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এসব ইট ভাটার প্রভাব শুধু পরিবেশ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকছে না। স্বল্প পারিশ্রমিকে কাজ করানো হচ্ছে অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশুদের দিয়েও।

এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকা জেলার উপ-পরিচালক জহিরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, অবৈধভাবে পরিচালিত বিভিন্ন ভাটার কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বিভিন্ন সময়ে নোটিশ প্রদান করা হচ্ছে। লোকবল সংকটের কারণে নিয়মিত এ বিষয় তদারকি করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে অবৈধভাবে পরিচালিত ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলে জানান তিনি।