আশুলিয়ায় গনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে একটি কলেজের অফিস, সীমানা প্রাচীর ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ।

বিপ্লব সাভার ঃ রাজধানী ঢাকার উপকন্ঠ শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার মির্জানগরে রাতের আধাঁরে কানাডিয়ান কলেজের সীমানা প্রাচীর ও অফিসের আসবাবপত্র, প্রধানমন্ত্রী, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ভাংচুরসহ ব্যাপক লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার রাত তিনটার দিকে গনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ তাদের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীর মাধ্যমে কানাডিয়ান কলেজে ভাংচুর ও লটপাটের ঘটনাটি ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ করেন ক্ষতিগ্রস্থ প্রতিষ্ঠানটির মালিক পক্ষ।

জমির মালিক ও কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, ১৯৯৬ সাল থেকে গনস্বাস্থ্যের মালিক ডা. জাফর উল্লাহ আমার জমিটি দখলে নেয়ার চেষ্টা করছে। এসব বিষয়ে তার ও গনস্বাস্থ্যের রেজিষ্ট্রার দেলোয়ার হোসেন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আলী মোর্তজা বাবু ও আওলাদ হোসেনের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানাসহ আদালতে একাধিক মামলা রয়েছে। গত কয়েকদিন পূর্বেও দেলোয়ার হোসেন আমাকে হত্যার হুমকি দেয়, এই ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একাধিক জিডি রয়েছে। পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই বুধবার রাত সাড়ে তিনটার দিকে আমার মালিকানাধীন জমির সীমানা প্রাচীরসহ কলেজের অভ্যন্তরে ঢুকে লুটপাট ও ভাংচুর করেছে।

তিনি আরো বলেন, সন্ত্রাসীরা কলেজ ভবনের প্রতিটি কক্ষের তালা ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকে বৈদ্যুতিক ফ্যান, সোফা সেট, দামী আসাবাবপত্র দুটি ট্রাকে তুলে নিয়ে যায়। এমনকি কলেজের অফিস কক্ষে প্রবেশ করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাংচুরসহ শিক্ষার্থীদের যাবতীয় সনদপত্র, ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তিকৃত ৩ লাখ ৪২ হাজার টাকা, ২৮টি বৈদ্যুতিক ফ্যান, ৫ সেট সোফা, ৩০টি চেয়ার, আয়ার কক্ষ থেকে নগদ ১৫ হাজার টাকা, ১টি স্বর্নের চেইন, এক জোড়া কানের দুল, ১টি আংটি ও ২৫টি নতুন শাড়ী কাপড় লুটে নেয়। এঘটনার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর নিকট বিচার দাবী করে বলেন, ডা. জাফর উল্লাহ নামে মুক্তিযোদ্ধা হলেও কাজে কর্মে মুক্তিযোদ্ধের বিরোধীদের সাথে সরকার পতনের নীলনকশা করছেন।

তিনি সাংবাদিকদের আরো বলেন, ভাংচুর ও লুটপটের ঘটনায় র‌্যাব-৪ ও আশুলিয়া থানাকে অবহিত করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা পরিদর্শন করেছেন। ক্ষয়-ক্ষতির পরিমান নিরুপন করেই আশুলিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করা হবে।

গনস্বাস্থ্য ও গণ বিশ্ববিদ্যালয় রেজিষ্ট্রার ও সহকারী রেজিষ্ট্রারদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাদের বিশ^বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে জানতে চাইলে গণ বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আলী মোর্তজা বাবু বলেন, আমি এসব বিষয়ের সাথে জড়িত নই। গণ বিশ্ববিদ্যালয় জমির বিষয়টি দেখেন ষ্ট্রাষ্টি বোর্ডের লোকজন।

ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক বিজন কুমার দাস। তিনি বলেন, কানাডিয়ান কলেজের সীমানা প্রাচীর, অফিস কক্ষে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাটের সতত্যা পাওয়া গেছে। এঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জমির মালিকের পক্ষ থেকে অভিযোগ দয়ের করলে পুলিশের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে এখবর লেখা পর্যন্ত পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে আটক করেনি।