ইবি উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের মেয়াদপূর্ণ।

আমিনুল ইসলাম, ইবি ঃ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ১২তম উপাচার্য পদের দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারী প্রথমবারের মতো মেয়াদকাল পূর্ণ করেছেন গত ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার। এর আগে ১১ জন উপাচার্য নানা কারণে তাদের মেয়াদকাল সম্পন্ন করতে পারেন নি।

একই দিনে কোষাধ্যক্ষ হিসাবে নিয়োগ প্রাপ্ত অাইন বিভাগের অধ্যাপক ড.সেলিম তোহা ভয়াল গ্রেনেট হামলার দিন উপলক্ষে যোগদান না করে পরে দিন যোগদান করায় তার মেয়াদ পূর্ণ হবে ২১অাগস্ট।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারী ২০১৬ সালের ২১ আগস্ট ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিয়োগ পান। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম উপাচার্য নিযুক্ত হন ১৯৮১ সালের ৩০ জানুয়ারি। এরপর থেকে সময়ের ধারাবাহিকতায় আরও ১১ জন উপাচার্য দায়িত্ব পালন করেন। নানা অনিয়ম আর বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে মেয়াদ পূরণ করার আগেই গদি ছাড়তে হয়েছে উপাচার্যদের। ১১ জনের মধ্যে ৭ জনকে তীব্র আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করতে হয়েছে। আর বাকি চারজনকে অপসারণ করেছে সরকার।

সর্বশেষ ২০১৬ সালের ৩০ জুন নানা অনিয়মের দায়ে অধ্যাপক হাকিম সরকারকে উপাচার্য পদ থেকে অব্যাহতি দেয় সরকার। একই বছরের ২১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২তম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পান ইবির ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হারুন-উর-রশিদ আসকারী। তিনি দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে অধ্যাপক আসকারীর নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৬ বছর পর চতুর্থ সমাবর্তন অনুষ্ঠানের আয়োজন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব’ নামে ম্যুরাল স্থাপন, বঙ্গবন্ধু চেয়ার প্রতিষ্ঠা এবং বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক নিয়োগ, বঙ্গবন্ধু হলের সামনে ৭ই মার্চের ভাষণ উপলক্ষে মুক্তির আহ্বান ও শাশ্বত মুজিব নামের আলাদা দুটি ম্যুরাল স্থাপন, কারিকুলামের উন্নয়নে ৫টি অনুষদ থেকে ৮টি অনুষদে রুপান্তর। ২৫টি বিভাগ থেকে ৩৪টি বিভাগে উপনীতকরণ, সেমিস্টার পদ্ধতি চালুকরণ এবং সেশন জট দূরীকরণ। এছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে এমওইউ স্বাক্ষর বিশ্ববিদ্যালটিকে করেছে আরও স্বনামধন্য। এমন অভূতপূর্ব উন্নয়নমূলক কাজের মধ্যদিয়ে দেশে নতুন করে ভিন্ন পরিচয়ে পরিচিতি লাভ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোঃ সেলিম তোহা ১৯৬৪ সালের ১১ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার খাস মথুরাপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মৃত মোহাম্মদ খোদা বখশ ছিলেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও ক্রীড়াবিদ।

অধ্যাপক তোহা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করে ১৯৯১ সালের ১৩ নভেম্বর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে প্রভাষক পদে যোগদান করেন। তিনি ২০০৮ সালে প্রফেসর হিসেবে পদোন্নতি পান। বর্তমানে তিনি আইন বিভাগের সিনিয়র প্রফেসর । তিনি একজন আইনবিদ, ক্রীড়াবিদ, সংস্কৃতিমনা এবং মানবাধিকারকর্মী।

চাকুরী জীবনে বিভিন্ন মেয়াদে তিনি অনুষদীয় ডীন, বিভাগীয় সভাপতি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রথম প্রভোস্ট, জিয়াউর রহমান হলের হাউজ টিউটর , প্রক্টর, সহকারী প্রক্টর, আইআইইআর ও টিএসসিসির পরিচালক, ভার্সিটির আইন উপদেষ্টা, একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য, স্কলারশিপ কমিটি ফর রিসার্চ, ট্রেনিং এর সদস্য, আইকিউএসি – হেকেপ এর তত্বাবধানে আইন বিভাগে পরিচালিত প্রজেক্টে হেড অফ সেলফ এসেসমেন্ট ছিলেন। এছাড়াও তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স কমিটির সদস্য ছিলেন। আইন অনুষদ কর্তৃক প্রকাশিত “আই ইউ স্টাডিজ ”এর সম্পাদনা করেছেন,আইআইইআর কর্তৃক “ আইআইইআর জার্নালেরও সম্পাদনা করেছেন।

তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাবেক সহ-সভাপতি, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও প্রগতিশীল শিক্ষকদের সংগঠন শাপলা ফোরামের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, ইবি শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক , ৩ বার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পোর্টস কমিটির সভাপতি , বিসিবির ও টেনিস ফেডারেশনের কাউন্সিলর হিসেবে কাজ করছেন এবং ল রিসার্চ অ্যান্ড ডিবেটিং ক্লাবের সভাপতি , টেনিস ক্লাব ইবির সভাপতি, এলকপ(ঊখঈঙচ ) এর হিউম্যান রাইটস সামার স্কুলের আবাসিক প্রশিক্ষক এবং ঊখঈঙচ এর উপদেষ্টা ও নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করছেন। তিনি ২০১০ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে পড়িয়েছেন, এছাড়া ২০০৯-১০ সালে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি তে পড়িয়েছেন এবং গ্রীন ইউনিভার্সিটিতে পড়িয়েছেন ২০১২-১৩ সালে।

তিনি ২০০৮ সালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে “শিশু শ্রম” আইনের উপর পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেন। এম ফিল এবং পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তত্ত্বাবধান করে আসছেন। ২০ টি গবেষণা নিবন্ধগুলি এখনও পর্যন্ত বিভিন্ন পিয়ার রিভিউ জার্নালগুলিতে প্রকাশিত হয়েছে। অনেকগুলি জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ওয়ার্কশপ- সেমিনারে অংশ নিয়েছেন এবং মূল বক্তা হিসাবে অংশ নিয়েছেন।

১৯৯১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ এবং ইউনেস্কোর ব্যাংককের আঞ্চলিক কমিশন যৌথভাবে আয়োজিত ঢাকায় মানবাধিকার কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। ক্লিনিকাল লিগ্যাল এডুকেশন অ্যান্ড অ্যাডভোকেসির ওয়ার্কশপে অংশ নেন। ক্লিনিকাল লিগ্যাল এডুকেশন অ্যান্ড অ্যাডভোকেসিতে অংশ নেওয়া “ওয়ার্কশপটি বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এবং নিউ সাউথ ওয়েলস বার অ্যাসোসিয়েশন (অস্ট্রেলিয়া) যৌথভাবে স্পনসর করে ২ – ৬ জানুয়ারি, ১৯৯৬ ঢাকায়। ৩০ সেপ্টেম্বর – ২২ অক্টোবর, ২০০৫ পর্যন্ত শরণার্থী আইনের উপর প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন, সাধারণ মানুষের আইনের মাধ্যমে ক্ষমতায়ন ( ঊখঈঙচ ) আয়োজিত এবং বাংলাদেশ জাতিসংঘের শরণার্থী হাই কমিশনার (ইউএনএইচসিআর) এর পৃষ্ঠপোষকতায়।

রোহিঙ্গা শরণার্থী সম্প্রদায়ের জন্য নেতৃত্ব ও সংঘর্ষ পরিচালনার উপর একটি প্রশিক্ষণ কোর্স ২৫ নভেম্বর – ২রা ডিসেম্বর,২০১১ অবধি পরিচালনা করেছেন। ২৯ মার্চ – ৩রা এপ্রিল, ২০১৪ পর্যন্ত রোহিঙ্গা শরণার্থী সম্প্রদায়ের নেতৃত্ব ও সংঘাত পরিচালনার বিষয়ে দলের নেতৃত্ব হিসাবে একটি প্রশিক্ষণ কোর্স পরিচালনা করেছেন। ইঊখঅ (বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবি সমিতি) দ্বারা আয়োজিত পরিবেশ আইন সম্পর্কিত একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৬-১৮ আগস্ট,২০১৫ থেকে হেকেপ (ঐঊছঊচ) সাব-প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত আইনের কারিকুলাম বিকাশ সম্পর্কিত কর্মশালায় একজন রিসোর্স ব্যক্তি হিসাবে যোগদান করেছেন।

ক্লিনিকাল আইন শিক্ষার উন্নয়নের জন্য ৬-৯ অক্টোবর,২০১৫ পর্যন্ত ব্লুহাম লিগ্যাল ক্লিনিক,প্রিতজকার স্কুল অফ ল, নর্থ-ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, শিকাগো, ইলিনয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্লিনিকের পরিচালকদের সাথে বৈঠক এবং বিভিন্ন আইন ক্লাস পর্যবেক্ষণ করেছেন, আইন বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, আইকিউএসি(ওছঅঈ) – এইচইকিউইপি(ঐঊছঊচ) প্রকল্পের আওতায়।

কানাডার আইনী ব্যবস্থা এবং আদালত প্রক্রিয়ায় অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য কয়েকটি আইন ফার্মে ২৩ -২৬ অক্টোবর, ২০১৭ পর্যন্ত টরন্টোতে অবস্থান করেছিলেন। জাপানের কিতাক্যুশুতে ২৪ জুন – ০২ জুলাই পর্যন্ত আইসিআইইভি -২০১৮ কর্তৃক শীর্ষক সেমিনারে অংশ নিয়েছেন ।

ড. সেলিম তোহা প্রফেসর ক্যাটাগরিতে মহামান্য চ্যান্সেলর মনোনীত সিন্ডিকেট সদস্য (২০১০-২০১৩) ছিলেন। প্রফেসর তোহা ২০১৯ সালে ১২ তম “বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের ” ভাইভা বোর্ডের সদস্য ছিলেন। তিনি আইন ও ভুমি ব্যাবস্থাপনা বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার হিসেবে আজ দায়িত্ব শেষ করলেন।