জাবিতে দুই সাংবাদিকের নেতৃত্বে র‌্যাগিং

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক জাকির হোসেন জীবন ও এনামুল হক তামীমের নেতৃত্বে একই বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের র‌্যাগ দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

উল্লেখ্য, জাকির হোসেন জীবন সময়ের আলো পত্রিকার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি,ও এনামুল হক তামীম লাস্টনিউজবিডি.কম এর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি।

এ ঘটনায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের কাছে মৌখিক অভিযোগ দিয়েছে প্রথমবর্ষের ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (১৫ এপ্রিল) রাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে এই ধরনের ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জানা যায়, ‘সোমবার (১৫ এপ্রিল) সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের আয়োজনে জেএমএস প্রিমিয়ার লীগ শুরু হয়। এ উপলক্ষে খেলা দেখার জন্য প্রথম বর্ষের সকল শিক্ষার্থীকে মাঠে যেতে নির্দেশ দেয় দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা এবং মাঠে সকলকে খেলা দেখার জন্য উপস্থিত থাকতে বলা হয় কিন্তু প্রথম বর্ষের মাত্র ২০-২৫ জন শিক্ষার্থী মাঠে উপস্থিত থাকে।

সকলে মাঠে না যাওয়ার কারণে ক্ষুব্ধ হয় দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা। এতে রাত ৮টায় তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার উপস্থিত হতে বলে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা। এ সময় প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখাসহ ও হাত পা মুড়িয়ে বসিয়ে রাখে তারা।

এসময় দ্বিতীয় বর্ষের রাইসুল ইসলাম রাজু নামের এক শিক্ষার্থী প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থীর দিকে জুতা নিক্ষেপ করে, তাছাড়াও আরও অনেককে শারীরিক ভাবে নির্যাতন করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, এই ঘটনায় সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী মাওলানা ভাসানী হলের জাকির হোসেন জীবন ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের এনামুল হক তামীম এর নেতৃত্বে শহীদ সালাম বরকত হলের আবাসিক শিক্ষার্থী হারুন উর রশীদ, মওলানা ভাসানী হলের রাইসুল ইসলাম রাজু,তাওসীফ আবদুল্লাহ, মাহবুবুর রহমান,স্টিভ সলগা রেমা, বেগম খালেদা জিয়া হলের সারা বিনতে সালাহ, প্রীতিলতা হলের ফারিয়া বিনতে হক,সায়মা লিমা সহ ১২ জন শিক্ষার্থী র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় জড়িত ছিল’।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ভুক্তভোগী প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।

ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, ‘রাত ১০ টার দিকে এক শিক্ষার্থী ও বিভাগের সভাপতির কল পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় কিন্তু সেখানে আমরা দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের সেখানে পায়নি, প্রথম বর্ষের ভুক্তোভোগী শিক্ষার্থীদের কাছে ঘটনা শুনে এর সত্যতা নিশ্চিত করেছি,এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে’‌।

এ ব্যাপারে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক শেখ আদনান ফাহাদ বলেন, ‘গতকাল রাতে ঘটনা জেনেছি। আমরা এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছি, জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।