তালতলীতে নানা বাড়ীতে গিয়ে ৭ বছরের শিশু ধর্ষিত

মৃধা শাহীন শাইরাজ,তালতলী প্রতিনিধি: বরগুনার তালতলীতে মায়ের সাথে নানা বাড়ী এসে ৭ বছরের একটি শিশু তার আপন মামাতো ভাই সোহেল প্যাদা(২০) কর্তৃক ধর্ষণের স্বীকার হয়েছেন। গ্রাম পুলিশের সহায়তায় শনিবার রাত সাড়ে টার দিকে শিশুটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য স্বজনরা তাকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ধর্ষিত শিশুটির বাবা কলাপাড়া উপজেলার পায়রা তাপ বিদুৎ কেন্দ্রে দিন মজুরের কাজ করে আসছে। কাজের সুবিধার জন্য তার স্ত্রী ও দুই শিশু কন্যাকে উপজেলার শারিকখালী গ্রামের শ্বশুর বাড়ীতে রেখে যান। ওই বাড়ীতে তার শ্বাশুরী খুশিদা বেগম (৫৫) অসুস্থতা থাকায় দুই শিশু কন্যাকে নিয়ে তার স্ত্রী গত তিন মাস ধরে সেখানেই বসবাস করছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে দিন মজুরের সাত বছরের শিশু কন্যা বাড়ী সংলগ্ন ব্রীজের নিকট খেলতে যায়। ওইখানে শিশু কন্যাটির সৎ মামা ফারুক প্যাদার ছেলে সোহেল দাড়িয়ে ছিল। সোহেল শিশুটিকে লুকোচুরি খেলার কথা বলে কৌশলে সভার অজান্তে ফুসলিয়ে তার চাচা ছালাম প্যাদার নির্জন রান্নাঘরে ডেকে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এতে ধর্ষিতা শিশুটির ব্যাপক রক্তক্ষরণ হয়ে অসুস্থ্য হয়ে গেলেও ধর্ষক সোহেলের ভয়ে গত দুদিন ধরে কাউকে কিছু বলেনি তারা।

শিশুটির মা জানান, এ ঘটনা কাউকে বললে শিশুটিকে মেরে ফেলারও হুমকি দেয় বখাটে সোহেল। বখাটের ভয়ে ওই শিশুটি এ কথা কাউকে বলেনি। শিশুটি শরীরের যন্ত্রনা সইতে না পেরে দুইদিন পরে শিশুটি নানী খুশিদা বেগমের কাছে তল পেটে ব্যথার কথা জানায়। এ সময় নানী তার শরীরের অবস্থা দেখে এবং পুরো ঘটনা শুনে শিশুর মা ও বাবাকে জানায়। ওইদিন রাত সাড়ে ৮ টার দিকে শিশুটিকে গ্রাম পুলিশ মামুন মিয়া ও আবদুল মালেকের সহযোগীতায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

শিশুটির মা কান্নাজনিত কন্ঠে আরও বলেন, আমার মেয়েকে লুকোচুরি খেলার কথা বলে ডেকে নিয়ে সোহাগ প্যাদা হাত-পা ও মুখ বেঁধে অমানষিক নির্যাতন করেছে। তিনি আরো বলেন, এ ঘটনা জানাজানি হয়ে গেলে সোহেলের পরিবারের লোকজন আমাকে জীবন নাশের হুমকি দিয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।
গ্রাম পুলিশ মামুন মিয়া বলেন. খবর পেয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ফারজানা আক্তার দিনা বলেন, শিশুটির বিষয় খুবই স্পর্শকাতর। শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করে যথাযথ চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

তালতলী থানার ওসি মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।