ধামরাইয়ে বেলীশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক শিক্ষিকা ৪ বছর ৫ মাস ধরে অনুপস্থিত।

ঢাকার ধামরাই উপজেলার ৪৮নং বেলীশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জান্নাতুল ফেরদৌস নামের একজন সহকারি মহিলা শিক্ষক ৪ বছর ৫ মাস ধরে অনুপস্থিত রয়েছেন। ।

শিক্ষিকার এ দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি বিদ্যালয় থেকে বার বার জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তর কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। কর্তৃপক্ষের উদাসিনতার কারণে এখনো পদটি শুণ্য করা হয়নি। অপরদিকে শিক্ষক সল্পতার কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়া লেখা বিগ্নিত হচ্ছে।
জানা গেছে, পটুয়াখালী জেলা সদর উপজেলার ৪নং তেলিখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সহকারী শিক্ষক মোসাঃ জন্নাতুল ফেরদৌসকে ধামরাই উপজেলার ৪৮নং বেলীশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০১২ সালের ২৯ মার্চ বদলি করেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচলক।
যথানিয়মে পটুয়াখালী জেলা সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার ওই বিদ্যালয় থেকে ২০১২সালের ১ এপ্রিল কার্যাব্যাহতি প্রদান করেন।

পরে ৫এপ্রিল ধামরাই উপজেলা শিক্ষা অফিসে ও ৪৮নং বেলীশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করে। যোগদানের পর থেকেই নানা অজুহাত দেখিয়ে বেশ কিছুদিন ছুটিও ভোগ করেন। সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর থেকে অসুস্থতার কারন দেখিয়ে চাকরি হতে অবসরের জন্য আবেদনও করেন। এ দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলেও ওই শিক্ষিকার আবেদন মঞ্জুর হয়েছে কিনা ধামরাই উপজেলা শিক্ষা অফিস বলতে পারছেন না।

এব্যাপারে উপজেলার ৪৮নং বেলীশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক রোজিনা আক্তার বলেন, জান্নাতুল ফেরদৌস দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতের বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে মাধ্যম করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর আবেদন দেয়া হয়েছে এর কোন সুরাহা পাচ্ছিনা। তিনি আরো বলেন, আমার এ বিদ্যালয় এক শিপ্টের ক্লাস চলে। একজন শিক্ষক যদি এতোদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকে তা হলে তার ক্লাস গুলি কিভাবে ম্যানেজ করি।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার কাজী রাশেদ মামুন বলেন, ওই শিক্ষিকার ব্যাপারে জেলা শিক্ষা অফিসারকে জাননো হয়েছে। এমনকি তার ঠিকানা ও মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে তাকে পাচ্ছি না। এব্যাপারে আবারো ওপরে জানানো হবে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোজ নিয়ে দেখি কি করা যায়।

ওই বিদ্যালয় গিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘ এক বছর ধরে অজ্ঞাত কারনে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিও নেই।