বেনাপোলে কাঁকড়া খাওয়া বৃদ্ধা পেলো শান্তি নিবাস

মোঃ রাসেল ইসলাম,যশোর জেলা প্রতিনিধি: যশোরের শার্শায় দীর্ঘ ৮ মাস খোলা আকাশের নিচে বসবাস ও কাঁকড়া, শালক খেয়ে বেঁচে থাকা কবিতা নামের সেই বৃদ্ধা মায়ের জন্য একচালা টিনের ছাউনি বিশিষ্ট শান্তি নিবাস গড়ে দিলেন উদ্ভাবক মিজান। ঘরটির নাম দিলেন “মা কবিতা শান্তি নিবাস।

বৃহস্পতিবার (১১ ফ্রেব্রুয়ারি) দুপুরে বেনাপোল বাইপাস সড়কের পাশেই জমিদাতা আব্দুল্লাহ মোল্লা স্বপনসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ একত্রিত হয়ে ফিতা কাটার মধ্যে দিয়ে শান্তি নিবাসের শুভ উদ্বোধন করেন।

এর আগে কবিতাকে নিয়ে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় নিউজ প্রকাশ হলে আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠে শার্শার গোটা এলাকা জুড়ে।

তবুও কোন মহানুভবতার হাত এগিয়ে আসেনি এই অসহায় কবিতার কাছে। খোলা আকাশের নিচে থেকে তাকে উদ্ধার করে তার মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দেয়নি কেউ।

খোলা আকাশের নিচে গোটা শীতার্ত আবহাওয়া কাটিয়ে উঠলেও কেউ ভাবেনি রোদ বৃষ্টি ঝড়ের মাঝে কিভাবে কাটবে তার রাত। তবে কারো নজরে না আসলেও প্রথম থেকে দেখে আসা সেই মানবতার ফেরিওয়ালা দেশসেরা উদ্ভাবক মিজানুর রহমান সেই মহৎ কাজটি করে আবারো শার্শার মাটিতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।

পাশে দাঁড়ালেন সেই কাঁকড়া খাওয়া মায়ের। প্রবাসী দের সহযোগিতায় তিনি করে দিলেন কবিতা শান্তি নিবাস নামে একটি বসতবাড়ি। তিন দিন ধরে বাঁশ খুটি টিন দিয়ে গড়ে তোলা ঘরটি এখন একটি দৃষ্টান্ত।

শুধু তাই নয়। এই কাঁকড়া মায়ের নিরাপদ পানির জন্য টিউবওয়েল এবং পরিছন্ন টয়লেটের ব্যবস্থা করেছেন মিজান। নতুন ঘরের জন্য লেপ ক্যাতা কম্বল বালিশ নিয়ে কবিতার পাশে দাঁড়ালেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও ব্যবসায়ী আলমমগীর হোসেন। সেই সাথে প্রতিদিন খাবারের ব্যবস্থা করতে চান তারা।

এসময় দেশসেরা উদ্ভাবক মিজানুর রহমান বলেন, মানব সেবা বড় সেবা পৃথিবীতে কেউ কিছু নিয়ে আসেনি আর নিয়েও যাবেনা। তাই আসুন আমাদের সমাজে যারা অসহায় অবহেলীত আছে তাদের পাশে এসে দাড়াই। এবং সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেই।

এই মহতী উদ্যোগে আর্থিক সহযোগিতা যারা করেছেন, বিশেষ করে ফুট ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা প্রবাসী শাহপরান, ঝিকরগাছা ব্লাড ব্যাংক ফাউন্ডেশন, তরুন সমাজ সেবক বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী আলমগীর, বাংলাদেশ পুলিশ সদস্য সোহাগ হোসেন তাদেরকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি।

উক্ত অনুষ্ঠানে দেশসেরা উদ্ভাবক মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন, তরুন সমাজ সেবক বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন, মুক্তিযুদ্ধার সন্তান ডাঃ বিল্লাল হোসেন, আব্দুল মালেক, মিডিয়া কর্মীসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।