যশোর-বেনাপোল সড়কের পুরাতন জীর্ণ, অকার্যকর গাছ অপসারণ ও ৬ লেনের দাবীতে সংবাদ বিফ্রিং

যশোর-বেনাপোল সড়কের পুরাতন জীর্ণ, অকার্যকর গাছ অপসারণ ও ৬ লেনের দাবীতে যশোর প্রেসক্লাব ও বেনাপোল সাংবাদিকদের সাথে বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশন সহ বেনাপোল বন্দর ব্যবহার কারী বিভিন্ন সংগঠনের সংবাদ বিফ্রিং মঙ্গলবার দুপুর দেড়টায় সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের নিজস্ব ভবনে অনুষ্টিত হয়।

বেনাপোল বন্দর রক্ষার সংবাদ ব্রিফিং প্রধান অতিথী হিসেবে বক্তব্য রাখেন বেনাপোল সিএন্ডএফ এসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান স্বজন, আরও বক্তব্য প্রদান করেন সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব নুরুজ্জামান, সাবেক সহসভাপতি আলহাজ্ব শামছুর রহমান, দৈনিক কল্যানের বার্তা সম্পাদক আব্দুল ওয়াহাব মুকুল। এসময় উপস্থিত ছিলেন এসোসিয়েশনের কার্যকরী সকল সদস্যবৃন্দ।

সংবাদ বিফ্রিং-এ প্রধান অতিথী বলেন বেনাপোল স্থলবন্দর দক্ষিন এশিয়ার সর্ববৃহৎ স্থল বন্দর। ভারতের সাথে অসম বাণিজ্যে বেনাপোল বন্দরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি বছর দেশের সিংহভাগ শিল্প কলকারখানা ও গার্মেন্টস ইন্ডাঃ মালামাল আমদানি হয় এই বন্দর দিয়ে, এবং সার্বিক ভাবে এখানে ৩০ হাজার কোটি টাকার মালামাল আমদানি-রপ্তানী হয় এবং ৫৫০০ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়ে থাকে। ইতিমধ্যে এ বন্দরটি এশিয়ান হাইওয়ে সাথে সংযুক্ত হয়েছে এবং ৪দেশীয় ট্রানজিট কোরিডোর এই বেনাপোল-পেট্রাপোল।

ভারতের কোলকাতা থেকে বেনাপোল অত্যন্ত সন্নিকটে বিধায় কম সময়ে এবন্দর দিয়ে মালামাল আমদানি করা সম্ভব। প্রতিদিন এই পথে ৮/১০ হাজার পাসপোর্ট যাত্রী ভারত-বাংলাদেশ যাতায়াত করে থাকে। দু-দেশের প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে দক্ষিনাঞ্চলের দীর্ঘ দিনের দাবির কথা বিবেচনা করে কোলকাতা বেনাপোল-খুলনা রূটে সরাসরি যাত্রীবাহী ট্রেন চালু হয়েছে।আন্তদেশীয় ঐতিহাসিক ট্রানজিট চুক্তি বাস্তবায়ন হয়েছে বেনাপোল বন্দর দিয়ে।

সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলকে রক্ষা করার জন্য বেনাপোল বন্দর ব্যবহার কারী বিভিন্ন সংগঠন গুলো সরকারে কাছে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবী-দাওয়া তুলে ধরেন। সেগুলোর অন্যতম হলো:

যশোর-বেনাপোল সড়কের পুরাতন জীর্ণ এবং অকার্যকর গাছ অপসারন করে সড়কটি আন্তজার্তিক মানের প্রশস্তকরন এবং পরবর্তীতে ৬ লেন করার দাবি।বেনাপোল চিটাগাং,মংলা,পায়রা, বন্দরের ন্যায় পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ (সতন্ত্র বঙ্গবন্ধু স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ) ঘোষণার দাবি।সকাল ৬.০০ টা হতে রাত ১০:০০ পর্যন্ত পাসপোর্ট যাত্রীদের জন্য ইমিগ্রেশন চালু রাখার দাবি।খুলনা-কোলকাতা মৈত্রী-বন্ধন ট্রেন সার্ভিসে বেনাপোল স্টেশন হতে ২০০ টি সিট বরাদ্দ রাখা জরুরী।

বেনাপোল বাইপাস সড়কের সন্মুখে (ফায়ার সার্ভিসের সম্মুখে) ট্রাফিক আইল্যান্ড রেখে বাইপাসের সাথে মেইন সড়কে ২০ গজ জয়েন্ট সড়ক নির্মান জরুরী। নাভারন ব্রীজের পশ্চিম পার্শ্বে কমপক্ষে ১০/১২ ফিট সড়ক চওড়া করা আবশ্যক (যেহেতু সেখানে পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে) গদখালি ব্রীজের পশ্চিম পার্শ্বে এবং বেনেয়ালি বাকে (টার্নিং পয়েন্টে)দক্ষিন পার্শ্বে সড়কটি ৫/৭ ফিট চওড়া করা জরুরী। যশোর চাঁচড়া মোড়ে গোল চত্তরটি ছোট করা এবং দৃষ্টি নন্দন করা সহ সড়কটি চওড়া করা একান্ত প্রয়োজন ।

এই সংবাদ ব্রিফিং-এ যশোর প্রেসক্লাব, সীমান্ত প্রেসক্লাব বেনাপোল, বেনাপোল প্রেসক্লাবের সকল ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া,প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।