রাজধানীতে নিহত গৃহকর্মী লাইলি আক্তারের শরীরে আঘাতের চিহ্ন

গৃহকর্মী হত্যার অভিযোগে রাজধানীতে এক কলেজ শিক্ষিকাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার (১১ এপ্রিল) ওই শিক্ষিকার বাসা থেকে কিশোরীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

মরদেহে আগুনে ঝলসানো ও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে জানিয়ে পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে হত্যার আলামত মিলেছে। পরিবারের অভিযোগ, কিছু হলেই ওই কিশোরীর ওপর চলতো অমানবিক নির্যাতন।

লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার সিরাজ উদ্দীনের মেয়ে ১৬ বছরের কিশোরী লাইলি আক্তার ৮ মাস আগে গৃহকর্মী হিসেবে রাজধানীর বীরশ্রেষ্ঠ নূর মেহাম্মদ স্কুল অ্যান্ড কলেজের হিসাব বিজ্ঞানের শিক্ষক ফারজানা ইসলামের বাসায় কাজ শুরু করে।

মাসিক এক হাজার টাকা দেয়ার কথা থাকলেও এ আট মাসে কোনো বেতন দেননি ফারজানা। উল্টো প্রায় মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করা হতো তাকে। এমনকি তিন মাস ধরে পরিবারের সাথে তাকে যোগাযোগ পর্যন্ত করতে দেয়া হয়নি বলেও অভিযোগ স্বজনদের।

স্বজনরা বলেন, ফ্যামিলির সাথে যোগাযোগ করতে দিত না। আসামির চাচা উনাকে খুব গালিগালাজ করছে তিনিদিন আগে।

রোববার খবর পেয়ে পুলিশ ওই শিক্ষিকার সরকারি আবাসিক ভবন থেকে লাইলি আক্তারের লাশ উদ্ধার করে। খবর দিলে স্বজনরা ছুটে আসেন হাসপাতালে। লাইলির শরীরজুড়ে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে অভিযোগ করে স্বজনরা বলেন, তাকে হত্যা করা হয়েছে।

লাইলির ভাই বলেন, এরকম আঘাত মানুষ মানুষকে করে না। আমার বোনকে এভাবেই আঘাত করে মারছে। আমরা এই ঘটনার বিচাই চাই।

এ ঘটনায় লাইলির মা শ্যামলা বেগম বাদি হয়ে নিউ মার্কেট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ইতোমধ্যে ফারজানা ইসলামকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে হত্যার আলামত মিলেছে।

ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ইফতেখায়রুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ভিকটিমের শরীরে কিছু আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এটা নির্মম আঘাতের চিহ্ন বলা যেতে পারে।

রোববার দুপুরে ফারজানা ইসলামকে আদালতে পাঠিয়ে পুলিশ দশ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে ৪ দিন মঞ্জুর করেন আদালত।