রাজশাহীর পবা উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রারএর কাছে সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদা দাবি

রাজ্জাক নামের এক ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে রাজশাহীর পবা উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার রাশিদা ইয়াসমিন মিলির কাছে চাঁদা দাবি করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আবদুর রাজ্জাক নামের ওই ব্যক্তি সাব-রেজিস্ট্রার রাশিদা ইয়াসমিনকে দফায় দফায় ফোন করে ‘নিউজ করার’ হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি করেন।

তবে সাব-রেজিস্ট্রার কথিত এই সাংবাদিকের সঙ্গে সেই কথোপকথন মুঠোফোনে রেকর্ড করে রাখেন। এতে আবদুর রাজ্জাককে বলতে শোনা যাচ্ছে, তাদের একটা ‘গ্রুপ’ রয়েছে। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ‘দুর্নীতি’ অনুসন্ধানে তার নিজের ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আরেকজনের খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ টাকা। নিউজ বন্ধ করতে হলে তাদের এই টাকা দিতে হবে।

প্রায় ২১ মিনিটের কথোপকথনের প্রায় পুরো সময় আবদুর রাজ্জাককে অপ্রাসঙ্গিক কথা বলতে শোনা যায়। রাজ্জাক সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে অভিযোগ করেন, তার দপ্তরের পেশকার আবদুস সেলিম তাকে অফিসে ঢুকতে দেননি। দুর্ব্যবহার করেছেন। এ কারণে তিনি সাব-রেজিস্ট্রারের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। এ অফিসের যে যার মতো ‘করে খাচ্ছেন’। তিনি তথ্য সংগ্রহ করেছেন। নিউজ করবেন। রাজশাহীর একজন টিভি সাংবাদিকের নাম উচ্চারণ করে রাজ্জাক বলেন, তিনিও তথ্য সংগ্রহ করেছেন। তিনিও নিউজ করবেন।

কথোপকথনের একপর্যায়ে সাব-রেজিস্ট্রার রাশিদা ইয়াসমিন তার কাছে জানতে চান, ‘আপনি ইনভেস্ট করেছেন কত? খরচ হয়েছে কত? রাজ্জাক বলেন, ‘টাকা পয়সার বিষয় মোবাইলে বলতে হয় না।’ সাব-রেজিস্ট্রার বলেন, ‘আপনার চিন্তা নাই। আমার দুই টাকার মোবাইলে কিছু রেকর্ড হয় না। আপনি আজকে বলেন, তাহলে আমি পেশকারকে বলে যাব। তার সঙ্গে দেখা করলেই হবে।’

তখন রাজ্জাক বলেন, ‘এই ধরেন, বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া লাগে। টাকা দিয়ে তথ্য নিতে হয়। ২০ হাজার তো খরচ হয়েছেই। সাব-রেজিস্ট্রার বলেন, আপনি কি পাগল হয়েছেন? এই টাকা আমি কোত্থেকে কালেক্ট করব?’ রাজ্জাক বলেন, ‘আমাদের যে গ্রুপটা থাকে। তাদের কাজ করতে হয়। তিন-চারটা মোটরসাইকেল চলে। খরচ তো হয়েছেই। আমি মানুষটা ছোট। কিন্তু আমার পজিশনটা আমিই তৈরি করেছি।’
সাব-রেজিস্ট্রার বলেন, ‘আপনি কত ডিমান্ড করছেন, ২০?’ রাজ্জাক বলেন, ‘এটা আমাদের খরচ হয়েছে।’ সাব-রেজিস্ট্রার তখন ওই টিভি সাংবাদিকের নাম উচ্চারণ করে জানতে চান, তাকেও দিতে হবে কি না। তখন রাজ্জাক বলেন, ‘না, না, ওইভাবে বললে তো খারাপ দেখায়। উনি হাইকোয়ালিটির পাওয়ার লোক। সাব-রেজিস্ট্রার বলেন, ‘আপনি তো ২০ চাইলেন, উনি কতো চায়?’ রাজ্জাক বলেন, ‘ভাইয়ের সাথে আমি তো কথা বলিনি। কথা বলি। ওনারা ধরেন মূলধারার সাংবাদিক। তারা যে জায়গায় হাত দেয়, সেটার মূল্য আছে। যেমন ধরেন, তালাশ টিমের নাম শুনেছেন। তারা সাইডে কাজ করেন। ওই সাইডে যদি এক লাখ টাকার দরকার হয়, তাও খরচ হবে।’

সাব-রেজিস্ট্রার এবার বলেন, ‘তাই বলে ১ লাখ টাকা!’ রাজ্জাক বলেন, ‘আপনাকে কি বললাম? যারা তালাশ টিমে কাজ করেন, তারা এমনই। তারা মূল ধারার সাংবাদিক। আমি অল্প খরচ করে অল্প কাজ করি। আমি যখন মূলধারায় চলে যাব, তখন ওভাবেই কাজ করতে হবে। সাব-রেজিস্ট্রার বলেন, ‘বুঝতে পারছি, ওনারা এক-দেড় লাখ ছাড়া কাজ করেন না। উনি কত চান জেনে রাখেন।’

সাব-রেজিস্ট্রার জানিয়েছেন, গেল বছরের অক্টোবর থেকে রাজ্জাক তাকে টাকার জন্য ফোন করেন। নভেম্বর-ডিসেম্বর তিনি প্রশিক্ষণের জন্য ঢাকায় যান। ফিরে আসার পর মুঠোফোনে আবার রাজ্জাকের উৎপাত শুরু হয়। কিন্তু তিনি টাকা দেননি। সম্প্রতি তিনি বিষয়টি জেলা সাব-রেজিস্ট্রার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং সিটি করপোরেশনের দুইজন পরিচিত কাউন্সিলরকে অবহিত করেন। এরপর রাজ্জাক ফোন করা বন্ধ করেন। এখন তিনি রাজ্জাকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা ভাবছেন। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করছেন।
রাজ্জাক যে মোবাইল নম্বর থেকে সাব-রেজিস্ট্রার রাশিদা ইয়াসমিন মিলিকে ফোন করতেন সে নম্বরে শুক্রবার সকালে যোগাযোগ করা হয়। রাজ্জাক নিজেকে সাংবাদিক বলেই দাবি করেন। তবে সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেন। দাবি করেন, অডিও রেকর্ডটা এডিট করা।

রাজ্জাক জানান, রাজশাহী মহানগরীর উপশহরে তার বাড়ি। তবে রাজশাহীর পেশাদার সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, আবদুর রাজ্জাক নামে কোনো সাংবাদিককে তারা চেনেন না।