রানা প্লাজা ট্রাজেডির আজ ছয় (৬) বছর -কমেনি নিঃস্ব মানুষের আহাজারি ।

আজ ২৪ এপ্রিল। দেশের পোশাক শিল্পের ইতিহাসে এক শোকাবহ দিন। ২০১৩ সালের এই দিনে সাভারের রানা প্লাজা ধসে ১ হাজার ১৩৬ জন শ্রমিকের করুণ মৃত্যু হয়। আহত হন কয়েক হাজার শ্রমিক। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

লাশ পাননি মা জাহানারা , তিনি এখনো তার মেয়ে সুলতানাকে খুঁজে ফেরেন । শিশু তানভীর তার বাবাকে হারিয়েছেন , তার পর থেকেই তার মা মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছেন । আরেক মা মাকছুদা খাতুন তার মৃতছেলে আলমাছ উদ্দিনের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন তেতুলিয়া থেকে। সময়ের খবর ২৪ এর সাথে কথা বলতে গেলে ,কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন সবাই । তাঁহাদের সকলেই দাবী সরকার যদি তাদের দিকে একটু সুনজর দেয় ।

সেদিন যা ঘটেছিলঃ ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভার বাসস্ট্যান্ডের পাশে অবস্থিত রানা প্লাজায় তিনটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা প্রতিদিনের মতো ওই দিন সকাল ৮টায় হাজির হন নিজ নিজ কর্মস্থলে। উৎপাদনও শুরু হয় নির্ধারিত সময়ে। হঠাৎ সাড়ে ৯টার দিকে বিকট শব্দ। আশপাশে উড়তে থাকে ধুলো-বালি। ধসে পড়ে রানা প্লাজা। শুরু হয় আহত শ্রমিকদের আহাজারি। উদ্ধারে এগিয়ে আসেন স্থানীয়রা। পরে তাদের সঙ্গে যুক্ত হন সেনা ও নৌবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, আনসার, র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যরা। চলে বিরতিহীন উদ্ধার অভিযান।

যা ছিল ভবনটিতেঃ রানা প্লাজার প্রথম তলায় ছিল বিভিন্ন দোকান, দ্বিতীয় তলায় ছিল দোকান আর ব্যাংক,তৃতীয় তলায় নিউ ওয়েভ বটমস লিমিটেড, চতুর্থ ও পঞ্চম তলায় নিউ ওয়েভ স্টাইল লিমিটেড ও ফ্যানটম ট্যাক লিমিটেড, ষষ্ঠ ও সপ্তম তলায় ইথারটেক্স লিমিটেড গার্মেন্টস।

হতাহতের সংখ্যাঃ শেষ পর্যন্ত ধসে যাওয়া প্লাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে ১ হাজার ১৩৬ জন শ্রমিকের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। আর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ২ হাজার ৪৩৮ জনকে। আহতদের অনেকেই পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। অনেকে আবার মানসিক রোগীতে পরিণত হয়েছেন।