শ্রীপুরের একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

আশরাফ হোসেন পল্টু,মাগুরা প্রতিনিধি: মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার চরগোয়ালপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মোশাররফ হোসেন ও প্রধান শিক্ষক নকুল চন্দ্র বিশ্বাস এর বিরুদ্ধে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে এবং একই সাথে সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির বিরুদ্ধে সুষ্ট বিচারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৮ সালে চরগোয়ালপাড়া গ্রামের একটি নির্জন ফাঁকা মনোরম জায়গায় বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে নকুল চন্দ্র বিশ্বাস দায়িত্ব পালন করে আসছেন ।

প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগসহ বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। সম্প্রতি তিনি বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মোশাররফ হোসেন এর সাথে জোগসাজসে গত ২০২০ সালের আগস্ট মাসে প্রতিষ্ঠানের জমিদাতা উসমান গণি শেখের ছেলে সাজ্জাদ শেখকে নিয়োগ না দিয়ে অবৈধভাবে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে সভাপতির আপন ভাইয়ের ছেলে শাওন শেখকে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে নিয়োগ দেন।

অপরদিকে ২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পত্রিকায় প্রকাশের পর পত্রিকাটি আত্মগোপন রেখে চাচাতো ভাইয়ের ছেলে ইমরান শেখকে পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও আপন ভাইয়ের স্ত্রী মর্জিনা বেগমকে আয়া পদে নিয়োগ দেন। একই দিনে তার সামাজিক দলের নেতা ও চাচাতো বিয়াইয়ের ছেলে রিয়াজকে নিয়োগ প্রদান করেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় লোকজনদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

এছাড়াও ২০০৫ সালের ১৯ মার্চ সরকারি নিবন্ধন নীতিমালা জারি হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক নকুল চন্দ্র বিশ্বাস চরম দুনীতির আশ্রয় নিয়ে ব্যাক ডেটে অর্থ্যাৎ ১৭ মার্চ তারিখে মরহুম সভাপতি হবিবর রহমানের স্বাক্ষর জাল করে অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে সাবিনা ইয়াসমীন, শংকরী বিশ্বাস, বিলকিস আক্তার ও জেসমিন নাহারকে শিক্ষক পদে নিয়োগ প্রদান করেন।

এছাড়াও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিনা টেÐারে বিদ্যালয়ের ১২০ ফুট লম্বা আধা-পাকা টিনসেড ঘর, লক্ষাধিক টাকার মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগও রয়েছে। বিদ্যালয়ের যাবতীয় আয়ের টাকা তিনি নিয়ম বহির্ভূতভাবে নিজের কাছে রেখে ইচ্ছামত খরচ করে থাকেন। নামেমাত্র ব্যাংক একাউন্ট থাকলেও তাতে লেনদেন করেন না। নেই কোনো অভ্যন্তরীণ অডিট কমিটি এমনকি উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে একটি ওয়ার্কিং কমিটি থাকার নিয়ম থাকলেও এই প্রতিষ্ঠানে এটি নেই। তবে প্রধান শিক্ষক কমিটির সভাপতিকে ব্যবহার করে সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে আসছেন।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন সহকারি শিক্ষক ও জমিদাতা আমীর হোসেন আক্ষেপ করে বললেন, নিজের হাতে গড়া প্রতিষ্ঠানটি প্রধান শিক্ষক ও বর্তমান সভাপতির বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির কারনে প্রতিষ্ঠানটি আজ ধ্বংশের দ্বারপ্রান্তে । তিনি এসব অনিয়ম,দুর্নীতির সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে বিচার দাবী করেন।

প্রতিষ্ঠানের প্রথম জমিদাতা ও গোয়ালপাড়া গ্রামের বাসিন্দা উসমান গনি বলেন,তার ছেলেকে বাদ দিয়ে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে কমিটির সভাপতি মোশাররফ হোসেন প্রধান শিক্ষকের সাথে আতাত করে তার পরিবারের লোকজনদের নিয়োগ দিয়েছে ।
বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আব্দুল বারিক বিশ্বাস বলেন, প্রধান শিক্ষক অত্যন্ত দুর্নীতি পরায়ণ ব্যক্তি । তিনি অবৈধভাবে প্রতিষ্ঠানের গাছকাটা, নিলাম ছাড়া পুরাতন ঘর বিক্রি ও নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন দুর্নীতির সাথে জড়িত ।

এ বিষয়ে ওই গ্রামের বাসিন্দা ও স্কুল শিক্ষক সজীবুজ্জামান সজিব জানান,পত্রিকায় নামেমাত্র নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলেও কোন পত্রিকায় কখন প্রকাশিত হয় সেটি সাধারণ মানুয়ের অন্তরালেই থেকে যায় । এছাড়াও পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি গোপন রেখে সভাপতি মোশাররফ হোসেন আত্মীয়করণের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন ।

প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক নকুল চন্দ্র বিশ্বাস তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল এই প্রতিষ্ঠানের সুনাম-সুখ্যাতি ক্ষুণœ করার জন্য অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। তবে সকল প্রকার নিয়মনীতি মেনেই নিয়োগ প্রক্রিয়া ও প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মোশাররফ হোসেন নিয়োগের বিষয়ে সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ৪ জনের মধ্যে ৩ জন তার নিজের পরিবারের লোক। তবে সকল প্রকার নিয়ম-কানুন মেনেই স্বচ্ছ পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সুলতান আহমেদ বলেন, আমরা তো প্রার্থীদের কাউকেই ব্যক্তিগতভাবে চিনি না, তবে সরকারি নিয়মের মধ্যেই নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে।