সাভারের আশুলিয়ায় বহুরূপী হাইব্রীড নেতা রাজু

সাভার প্রতিনিধি : কখনো বিএনপির নেতাদের সাথে, কখনো বা আওয়ামী লীগের বিতর্কিত নেতাদের সাথে উঠা-বসা সাভারের আশুলিয়ার নেতা পরিচয় দানকারী রাজু দেওয়ান নামের এক বহুরুপী মানুষের।

চুরি, চাঁদাবাজি, জমিদখল ও সন্ত্রাসীসহ নানা অপকর্মের মুলহোতা তিনি। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তকমা গায়ে লাগিয়ে তিনি আজ হাইব্রিড নেতা।

সম্প্রতি তার এইসব অপকর্মের শিকার ভুক্তভোগী মানুষগুলো মুখ খুলতে শুরু করেছে। তারা বলছে তাদের সাথে হয়ে যাওয়া নানা অন্যায় অবিচারের কথা।

এছাড়াও বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিএনপির নেতা সালাউদ্দিন বাবুর সাথে প্রোগ্রামের ছবি ও আওয়ামী লীগের বিতর্কিত নেতার সাথে ছবি রীতিমতো ভাইরালও হয়েছে।

ছবিতে দেখা গেছে, বিএনপির নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন বাবুর বা পাশে কোনায় হাইব্রিড নেতা রাজু মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে। রাজুর ডান পাশে রয়েছে তার বড় ভাই মুঞ্জ দেওয়ান। অপর আরেক ছবিতে দেখা গেছে আওয়ামী লীগের বিতর্কিত নেতা সাবেক সংসদ সদস্য তার ঘারে হাত রেখে সেলফি তুলছেন। আরেকটি ছবিতে দেখা গেছে বর্তমান সাভার উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে চলতি পথে পাশে হেঁটে চলেছেন।

ছবিগুলো দেখে স্পষ্ট ভাবে বোঝা যাচ্ছে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে ও দলের নামে ভাঙ্গিয়ে খাওয়ার জন্য বিভিন্ন সময় সে দল বদলসহ প্যানেলও বদল করেছে৷

বর্তমানে সে ইয়ারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে আছে। মুল সংগঠনের এই পদে থাকা সত্ত্বেও সে যুবলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকতে চেয়ে জোর লবিং চালাচ্ছে।

এতে করে স্থানীয় ত্যাগী নেতা ও কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়েছে। তারা বলেছে, সুবিধাবাদী এসব নামধারী নেতা দলের জন্য অনেক ক্ষতিকর। এদের মত হাইব্রিডদের জন্য দলের অনেক বদনাম হয়।

অভিযোগ রয়েছে, গত ২৫ নভেম্বর ২০১৮ সালে জিরাবো পুকুর পাড় এলাকায় এক বৃদ্ধকে মারধর করে ৫ শতাংশ জায়গাসহ ১৫টি রুম দখল করে রাজু বাহিনী। এ নিয়ে আইজিপি বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন বৃদ্ধর মেয়ে পারভীন আক্তার জুই। এছাড়া সরকারি সম্পদ গ্যাস চুরি ঘটনাও ঘটিয়েছে রাজু।

এছাড়া রাজু দেওয়ান আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে হামলায় যুবলীগ নেতা ইকবাল সরকারের ছুড়িকাঘাত করে আহত করে৷ এঘটনায় সাভার থানায় একটি অভিযোগ করেন ইকবাল।

এসব অভিযোগের ব্যপারে রাজু দেওয়ান বলেন, বিএনপির নেতাদের সাথে ছবির বিষয়টি হলো। যে স্কুলে অনুষ্ঠানটি হয়েছে সে স্কুলটির সভাপতি ছিলাম আমি। সেই সূত্রে আমাকে দাওয়াত করা হলে আমি প্রোগ্রামে গিয়ে উপস্থিত হই। এছাড়া গ্যাস চুড়ির ব্যপারে একটি কুচক্রীমহল আমাকে জড়াচ্ছে৷

সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসিনা দৌলা বলেন, আমাদের দলে অনেক লোক আছে, এই সমস্ত লোক দলে না থাকলেও চলবে। এরাই দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করে।