সিআইডির নজরদারিতে একাধিক বেসরকারি ব্যাংকের এমডি

সিআইডির নজরদারিতে রয়েছেন একাধিক বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)। সম্প্রতি নায়িকা ও মডেল কেলেঙ্কারির ঘটনায় তাদেরকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

একই সঙ্গে গ্রেফতারকৃত নায়িকা ও মডেলদের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসা সন্দেহভাজনদের একটি তালিকাও তৈরি করেছে সিআইডি।

তালিকায় নাম থাকা সবার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে এসব পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছে সিআইডি। এরই মধ্যে শনিবার (৭ আগস্ট) একটি ব্যাংকের এমডিকে দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে।

অন্যদিকে মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে শনিবার নায়িকা পরীমনি, মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসা ও মরিয়ম আক্তার মৌ, বহিষ্কৃত নেত্রী ও ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীর, মিশু হাসান এবং প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজের বাসায় একযোগে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে সিআইডি।

সিআইডির অভিযান-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, অভিযানে পরীমনির বাসা থেকে দুটি ল্যাপটপ, চারটি মোবাইল ফোন, পেনড্রাইভ, মেমোরি কার্ড ও ক্রেডিট কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিশ্লেষণের জন্য এসব সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।

জানা গেছে, নায়িকা, মডেল, প্রযোজক এবং তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইল, মাদক ব্যবসাসহ নানা অভিযোগে হওয়া ৭টি মামলার তদন্তভার শুক্রবার (৬ আগস্ট) সিআইডিতে স্থানান্তর করা হয়। এর পর তদন্তে মাঠে নামে সিআইডির তদন্ত টিম। এর মধ্যে পরীমনি ও রাজের বিরুদ্ধে হওয়া দুটি মামলা সিআইডিতে স্থানান্তর করা হয়।

সূত্র জানায়, আসামিদের হাতে পাওয়ার পরই জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে সিআইডি। জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম বেরিয়ে আসে। এর পরই তদন্তের অংশ হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে সিআইডি। তদন্তে নেমে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিলছে তাদের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।

ওই তালিকার সূত্র ধরে নানা ধরনের পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে সিআইডি। এরই অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের এমডিদের নজরদারি এবং দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করে সিআইডি। দেশের সবগুলো ইমিগ্রেশনকে তাদের বিষয়টি জানানো হয়। তবে তদন্তের স্বার্থে এসব ব্যাংকের এমডিদের বিরুদ্ধে পাওয়া অভিযোগগুলো নিয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু জানাতে চায়নি সিআইডি।

গত ৩ আগস্ট রাতে মিশু হাসান এবং তার সহযোগী মো. মাসুদুল ইসলাম ওরফে জিসানকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। পরে ৪ আগস্ট পরীমনি, মো. নজরুল ইসলাম ওরফে রাজ, পরীমনির ম্যানেজার আশরাফুল ইসলাম দীপু ও রাজের ম্যানেজার সবুজ আলীকে গ্রেফতার করা হয়।

এর আগে গত ২ আগস্ট রাত ১০টার দিকে মডেল পিয়াসাকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। এর পর পিয়াসার দেয়া তথ্যে মডেল মৌকেও গ্রেফতার করা হয়। গত ২৯ জুলাই মধ্যরাতে ব্যবসায়ী নেতা হেলেনা জাহাঙ্গীরকে আটক করে র‌্যাব।

পরে ৩০ জুলাই তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এ পর্যন্ত গ্রেফতার হওয়া ব্যবসায়ী নেতা, নায়িকা, মডেল ও তাদের সহযোগীদের বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ মদ ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।