সুন্দরগঞ্জে হোম কোয়ারাইন্টাইনে ১৬ জন, উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সংবাদ সম্মেলন

এনামুল হক,সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ কল্পে বিদেশ ফেরত ১৬ জনকে হোম কোয়ারাইন্টাইনে রাখা হয়েছে। বিভিন্ন দেশ থেকে আসার পর ১৪ দিনের সাময়িক পর্যবেক্ষণে রাখা হয় এবং তাঁরা যেন নির্দেশনা অমান্য করে বাহিরে আসতে না পারে সেজন্য স্থানীয়দের সাথে মতবিনিময় করেছেন স্বাস্থ্য বিভাগ।  এ ছাড়াও তাঁদের করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে প্রয়োজনী সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

এদিকে, করোনা পরিস্থিতি ও হোম কোয়ারান্টাইনে রাখা ব্যক্তিদের সার্বিক বিষয়ে জানাতে সংবাদ সম্মেলন করেছে উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি।

বুধবার সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতে সার্বিক পরিস্থিতি জানান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আশরাফুজ্জামান। এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী লুতফুল হাসান ও থানার ওসি আব্দুল্লাহিল জামান।

আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, করোনা প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসন ৯ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে সদস্য সচিব করা হয়। আমরা করোনা প্রতিরোধে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। করোনার ভাইরাসের বিষয়ে তথ্য জানতে ও জানাতে ২৪ ঘন্টার হটলাইন চালু করা হয়েছে। করোনা আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসার জন্য ৫ সদস্যের মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।

এ ছাড়াও করোনা আক্রান্ত রোগীর জন্য দুই বেডের একটি আইসোলেশন ইউনিট প্রস্তুত আছে। সেইসঙ্গে সকলকে সতর্ক করতে প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, গত কয়েক দিন থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সুন্দরগঞ্জ করোনা রোগী সনাক্ত করা হয়েছে বলে গুজব চালানো হচ্ছে। মুলত এ উপজেলায় কোন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী সনাক্ত করা হয়নি। প্রথমে প্রাথমিক বিদেশ ফেরত তিন জনকে হোম কোয়ারান্টাইনে রাখা হয়। কিন্তু সেটাকে তথ্য বিভ্রাট করে গুজব রটানো হচ্ছে। তিনি আরো জানান, উপজেলায় এ পর্যন্ত মোট ১৬ জন বিদেশ ফেরত ব্যক্তিকে হোম কোয়ারাইন্টাইনে রাখা হয়েছে। তাঁরা যেন বাহিরে বের হতে না পারে সেজন্য প্রত্যেককে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। যাতে তারা কেউ জনসম্মুখে আসতে না পারে এ জন্য স্থানীয়দের সাথে মতবিনিময় করা হয়েছে । আর ১৪ দিনের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে যদি কারো মধ্যে করোনা ভাইরাস আক্রান্তের নমুনা দেখা না যায় তাহলে তাদের সুস্থ বলে ঘোষণা দেয়া হবে। তবে এখন পর্যন্ত সবাই স্বাভাবিক আছে বলেও জানান।

এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী লুতফুল হাসান বলেন, যদি বিদেশ ফেরত কোন ব্যক্তি আপনাদের আশেপাশে থাকে। তাহলে তাদের হোম কোয়ারান্টাইনে রাখতে হবে। আর যদি কেউ হোম কোয়ারান্টাইন মানতে না চায় তাহলে আমরা বাধ্যতামূল কোয়ারান্টাইনে রাখবো। সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল্লাহিল জামান বলেন, করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সকলের সহযোগীতা প্রয়োজন। আমরা প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছি। তবে কেউ যদি গুজব ছড়িয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে তৎক্ষনাৎ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন শেষে উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে লিফলেট বিতরণ করেন। সেই সাথে প্রত্যেককে সতর্ক ও নিজের প্রতি খেয়াল রাখার আহ্বান জানানো হয়।