সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তাকে এখনি সিঙ্গাপুর নেয়া হচ্ছে না।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে।
রোববার (৩ মার্চ) রাত সাড়ে নয়টার দিকে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ভিসি অধ্যাপক কনক কান্তি বড়ুয়া।

ব্রিফিংয়ে বলা হয়, সকাল এবং দুপুরের চেয়ে তার অবস্থা এখন ভালো। তার প্রস্রাবও হচ্ছে যেটা দুপুরে একেবারেই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পানি খাবেন কিনা জিজ্ঞাসা করা হলে মাথা নেড়ে সায় দিয়েছেন বলেও জানানো হয়।

তার অবস্থার উন্নতি হওয়ায় আপাতত তাকে সিঙ্গাপুরে নেয়া হচ্ছে না। সিঙ্গাপুর থেকে আসা চিকিৎসক দলের সঙ্গে পরামর্শ করে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।

তবে, এরআগে রাত সোয়া আটটার দিকে আওয়ামী লীগ নেতা ও সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান জানিয়েছিলেন, সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের চিকিৎসক দল ওবায়দুল কাদেরকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দেন। পরে বিএসএমএমইউ’র পক্ষ থেকে জানানো হয়, সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ করেই তাকে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এর আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করেন সিঙ্গাপুর থেকে আসার চিকিৎসক দল।

সন্ধ্যায় তারা একটি এয়ার এ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকায় পৌঁছান এবং সঙ্গে সঙ্গে বিএসএমএমইউ’তে চলে যান। সেখানে ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা মেডিকেল টিমের সঙ্গে আলোচনার পর তাকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে মত দেন তারা।

বিকেলে ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কের জানাতে ব্রিফিং করেন বিএসএমএমইউ’র চিকিৎসকরা। এসময় তারা জানান, ওবায়দুল কাদের ডাকে সাড়া দিচ্ছেন। তিনি চোখ খুলেছেন বলেও জানান তারা।

রোববার ভোর ৬টায় নিজ বাসায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন ওবায়দুল কাদের। এরপর সকাল সাড়ে ৭টায় তাকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে নেয়া হয়। প্রথমে তাকে আইসিইউ-তে নেয়া হলেও পরে সিসিইউ-তে স্থানান্তর করা হয়।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর জনসংযোগ কর্মকর্তা আবু নাছের বলেন, আজ (রোববার) ফজরের নামাজের পর হঠাৎ করে সেতুমন্ত্রীর শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা দেখা দেয়। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে পরীক্ষা করে দ্রুত এনজিওগ্রাম করার পরামর্শ দেন। চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে কার্ডিওলজি বিভাগে নেওয়া হয়। এনজিওগ্রামে তাঁর হার্টে তিনটি ব্লক ধরা পড়ে। রিং পরিয়ে একটি ব্লক সচল করা হয়।

পরে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।