আবারও তালা ভেঙে জাবি শিক্ষার্থীদের হলে অবস্থান অব্যাহত

জাহিন সিংহ, সাভার থেকে: গ্রামবাসীর সাথে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের পর বিভিন্ন দাবি নিয়ে আন্দোলনের নামে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনকে ঘিরে হলে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হলেও তা অমান্য করে আবারও তালা ভেঙে হলের ভিতর অবস্থান নিয়েছেন তারা।

সোমবার দুপুরে ছাত্রীরা তালা ভেঙে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে প্রবেশ করেন। সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বর থেকে মিছিল বের করে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

এর আগে রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার সকাল ১০টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগ করার নির্দেশ দেয়া হয়। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও শিক্ষার্থীদের সতর্ক করা হয় ওই বিজ্ঞপ্তিতে।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় তারা হল ত্যাগ করছেন না। অবিলম্বে হল খুলে দেওয়াসহ সকল দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

এদিকে সোমবার সকাল ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলসমূহ ছেড়ে দিতে শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানায় সংশ্লিষ্ট হল প্রশাসন। তবে হল প্রশাসনের এমন আহ্বানে সাড়া না দিয়ে হলেই অবস্থান করার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

এছাড়া নতুন করে অন্তত দু’টি হলের তালা ভেঙে শিক্ষার্থীরা হলে প্রবেশ করেন। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হলেই অবস্থান অব্যাহত রেখেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট কমিটির সভাপতি মোতাহার হোসেন বলেন, প্রশাসনের মিটিং থেকে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি স্ব স্ব হল প্রভোস্ট তার টিম নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলবে। সরকারি নির্দেশে এখনও হল বন্ধ রয়েছে, তারা যেন হল ছেড়ে দেয়। আমরা মনে করি শিক্ষার্থীরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, তারা চলে যাবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের জন্য অনুরোধ করেছি। তারা হল ছাড়তে রাজি হয়নি। এখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে।

উল্লেখ্য, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ক্রিকেট টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও পার্শ্ববর্তী গ্রামবাসীর সংঘর্ষে অন্তত ৪০ জন শিক্ষার্থী ও ৪ জন স্থানীয় বাসিন্দা আহত হয়।

এর মধ্যে অন্তত ১১ জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের এমন সংঘর্ষে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়।

হামলা ও সংঘর্ষের পরে স্থানীয় মেসগুলোতে অবস্থান করতে ‘নিরাপত্তার অভাব’ দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো খুলে দেওয়ার দাবি জানান শিক্ষার্থীরা। তবে সরকারের নির্দেশনা ছাড়া হল খোলা সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়ে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এরপরেই সবগুলো আবাসিক হলের তালা ভেঙ্গে হলে প্রবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। তবে পরবর্তীতে আবারো কয়েকটি হলে তালা ঝুলিয়ে দেয় সংশ্লিষ্ট হল প্রশাসন।