জাবিতে সেফুদা কে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানব বন্ধন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভ এসে সেফাতুল্লাহ ওরফে সেফুদা পবিত্র কোরআন শরীফকে অবমাননা করায়‌ এবং ধর্মীয় অনু ভূতিতে আঘাত দেওয়ায় সেফাতুল্লাহ ওরফে সেফুদা কে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবিতে মানববন্ধন করেছে জাবির (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষার্থীরা।

আজশুক্রবার (১৯এপ্রিল) দুপুর ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাদ দেশেএই মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এই সময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাবি ও বক্তব্য তুলে ধরে।

৪২তম আবতর্ণের মনিরুল ইসলাম মহিম (প্রত্নতত্ত্ব) বলেন,“সেফুদা পবিত্র কোরআন শরীফ এর পাতা ছিঁড়ে কমোডে ফেলে,সে একটি জঘন্য অপরাধ করেছে, সেই ইসলামকে জঘন্য ভাষায় গালি গালাজ করেছে , সে এইদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের অনুভূতিতে আঘাত করেছে , তাই আমি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি তাকে যেন আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয় , সেই সাথে তাকে আমরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানাচ্ছি”।

৪৬ তম আবতর্ণের ইয়া হিয়া জিসান (ইতিহাস) বলেন,“ সবার ইমত প্রকাশের অধিকার আছে কিন্তু অন্যকার ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ায় অধিকার তাকে কেউ দেয়নি, তার কারনে আমাদের দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে , তাই আমরা সকলে তাকে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানাচ্ছি”।
৪৬ তম আবতর্ণের জহিরুল ইসলাম ফয়সাল (বাংলা) বলেন,“সেফুদার কারনে আমাদেরদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে, শুধু তাই নয় সেফুদা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আমাদের সমাজে অশ্লীলতা ছড়াচ্ছে , সেমদনিয়ে লাইভে এসে তরুণ সমাজকে ধ্বংস করতে চাচ্ছে , সে মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে এদেশের মুসলমানদের ব্যাহত করেছে, বাংলাদেশ সরকার যেন দেশের ভাব মূর্তি রক্ষার জন্য তাকে আইনের অধীনে নিয়ে আসে”।
অপর দিকে মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা চারদফা দাবি উত্থাপন করে,দাবি গুলোহলো:
১.সেফাতুল্লাহ ওরফে সেফুদাকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আজীবন অবাঞ্ছিত ঘোষণা করতে হবে।।
২.সেফুদা যদি মানসিক ভার সাম্যহীন হয় তবে সরকার যেনতাকে দেশেফিরিয়ে এনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
৩.আর সেফুদা যদি মানসিক ভারসাম্যহীন না হয়ে ভন্ড হয়, সরকার যেন তদন্ত সাপেক্ষে তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়।
৪.ইউটিউব সহ সকল সোশ্যালমিডিয়ায় তার প্রচারণা বন্ধ করতে হবে।

এদিকে গতকালবৃহস্পতিবার (১৮এপ্রিল) ফেসবুক লাইভে কোরআনের পাতা ছিড়ে ওয়াশরুমের কমোডে ফেলে, কোরআনের উপর স্যান্ডেল দিয়ে পিটিয়ে মুসলিমদের উপর ক্ষোভ ঝাড়েন সেফাতুল্লাহ। এরপরই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে।
এ ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর সাধারন মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। বেশিরভাগ মানুষ তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি করেন যেন ভবিষ্যতে কেউ কোন ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করতে না পারে।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ায় বেশ আলোচনায় সেফাতউল্লাহ নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশি। ফেসবুকে নানান ধরণের অশ্লীল, অসঙ্গতিপূর্ণ ও বিদ্বেষমূলক ভিডিওবার্তা ছড়িয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। ১৯৯০ সাল থেকে অস্ট্রিয়ার রাজধানীর ভিয়েনায় অবস্থান করছেন সেফাতউল্লাহ ওরফে সেফুদা। তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর। লেখা-পড়া করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে,তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোলও পরিবেশ বিভাগের ছাত্র ছিলেন বলে নিজেকে দাবি করেন।
সেফাত উল্লাহর স্ত্রী জানান, ২৮ বছর আগে দেশ ছাড়েন তিনি। তারপর থেকেই পরিবার থেকে তিনি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। পরিবারের দাবি, বর্তমানে তিনি মানসিক রোগে আক্রান্ত। আর তার এমন কর্মকাণ্ডে পরিবার এবং আত্মীয়-স্বজন বিব্রত।
একটি বেসরকারি টেলিভিশনে সাক্ষাৎকারে সেফাত উল্লাহ’র স্ত্রী বলেন, ‘সবাই, আত্মীয়-স্বজনের কাছে আমাদের মুখ নাই। কেমন লাগতেছে আমরা জানি। এখন এগুলো কি বন্ধ করার কোনো পথ নাই? ইউটিউব কি এগুলো কোনো প্রতিকার করতে পারে না? আর উনি তো সিজোফ্রেনিয়া রোগী।’

এদিকে সেফাতউল্লাহ আসলে মানসিক ভারসাম্যহীন কিনা সে বিষয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। ভিয়েনাতে তিনি চাকরি করছেন। তিনি যদি আসলেই সিজোফ্রেনিয়া রোগে আক্রান্ত হন তাহলে কীভাবে চাকরি সামলাচ্ছেন? তিনি একাই একটি বড় বাসায় থাকেন। পরিপাটি হয়ে অফিসে যান। অনেকেই দাবি করছেন, অতিরিক্ত মদ পানের জন্যই এমন অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন তিনি। তার প্রচুর মদ পানের প্রমাণ মেলে ফেসবুক লাইভে। প্রায়ই লাইভে তাকে মদ পান করতে দেখা যায়।