ফক্কা নাসিরের সন্ত্রাসী হামলায় চেয়ারম্যান লাঞ্চিত হওয়ায় তীব্রনিন্দা এবং ক্ষোভ জানিয়েছে পুটখালী গ্রামবাসী।

বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরের শার্শা উপজেলার সীমান্তবর্তী ৫নং পুটখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান-মাষ্টার হাদিউজ্জামানের উপর ফক্কু নাসিরের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় তীব্রনিন্দা এবং ক্ষোভ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে পুটখালী গ্রামবাসী।গত ১৩ এপ্রিল সোমবার পুটখালী’র ফক্কা নাসির(বর্তমানে বহিরাগত) তার বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে চেয়ারম্যান-মাষ্টার হাদিউজ্জামানের উপর অতর্কীতে সন্ত্রাসী হামলা চালায়। এ ঘটনায় চেয়ারম্যান হাদীউজ্জামান মারাত্মক জখম ও লাঞ্চিত হন। অপমানজনীত এমন কর্মকান্ডে ঐ সময় গ্রামবাসীরা ঘটনা স্থলে ছুটে যায় এবং চেয়ারম্যান কে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে উদ্ধার করে।

ঘটনাটিকে বিপরীতমূখী করতে ফক্কু নাসির বাহিনী একটি মিথ্যা মামলা রুজু করার পরিকল্পনা করে। এ ব্যাপারে তারা বেনাপোল পোর্টথানায় মিথ্যা মামলা করতে গেলে পোর্টথানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মামুন খান সেটি গ্রহন না করে তাদের কে ফেরৎ পাঠিয়ে দেন। এরপর তারা ক্ষীপ্ত হয়ে ঘটনাটিকে অন্যদিকে প্রবাহিত করতে গনমাথ্যম কর্মীদের স্মরনাপন্ন হয়ে মিথ্যা সংবাদ প্রচারের ব্যবস্থা নেয়।

একটি অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে ঘটনার মূলপর্ব থেকে সরে গিয়ে ঐ গ্রামের গবাদী পশু খামার ব্যবসায়ী মৃত বুদো মাষ্টারের ছেলে মো:নাসির উদ্দিন কে জড়িয়ে অভিযোগ সাজায়। অথচ ঐ খামার ব্যবসায়ী মো:নাসির উদ্দিন ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিল না। সংবাদটিতে প্রকাশিত হয় ফক্কু নাসিরের চার সহযোগী আব্দুল ওহাব,আব্দুস সামাদ,আনোয়ার হোসেন মো:ফারুক সহ অন্যান্য সহযোগীকে মারধরের অভিযোগসহ খামার ব্যবসায়ী নাসিরের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সীমান্তে গরু পাচার,মাদক এবং অস্ত্র ব্যবসার সাথে জড়িত বলে প্রচার কার্যক্রম চালায়,যা একজন সৎ এবং নিষ্ঠাবান ব্যবসায়ীর জন্য মানহানীকর।

বিষয়টি’র সত্য-মিথ্যা জানতে ইউপি চেয়ারম্যান-হাদীউজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, ফক্বু নাসিরের মূল উদ্দেশ্য ছিল গরুর খাটাল দখলে আনতে চেয়ারম্যানের সহযোগীতা চাওয়া। চেয়ারম্যান তাতে রাজি না হওয়ায় ফক্কু বাহিনীরা তার উপর জামলা চালায়। ঐ সময় গ্রামবাসীর তাড়নায় সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। খামার ব্যবসায়ী নাসিরের ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা না স্বীকার করেন।

এদিকে,বুদো সর্দারের ছেলে খামার ব্যবসায়ী মো:নাসির উদ্দিন ঘটনার সময় ছিল না বলে,সাংবাদিকদের কাছে তার বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে ছড়ানো মিথ্যা অপবাদ যারা দিয়েছেন, আমি তাতের শাস্তি’র দাবী জানাচ্ছি। সে সময় গ্রামবাসীর পক্ষে কথা বলে-শামছুজ্জোহর,মিজানুর রহমান,মফিজুর রহমান,আল আমিনএবং পুটখালি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক-মো:ফারুক হোসেন। ছাত্রলীগ নেতা ফারুক বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ সরকারের একটি শক্তিশালি প্লাটফর্ম,জনগন এবং সরকারের সাথে সরাসরি বন্ধুত্ব তৈরীর একটি মূল কেন্দ্রস্থল। জনগনের প্রতিনিধি হয়ে যিনি সরকারের সকল কর্মকান্ড পরিচালনা করেন,তিনি হচ্ছেন ইউপি চেয়ারম্যান।

কোন কারন বশত: বহিরাগত সন্ত্রাসীদের দ্বারা তিনি যখন অপমানিত এবং লাঞ্চিত হন,তখন তার ব্যবস্থা সরকারকেই নিতে হবে,আমি এব্যাপারে মাননীয় এমপি মহোদয় আমাদের প্রাণপ্রিয় শার্শাবাসীর নেতা আলহাজ্ব শেখ আফিল উদ্দিনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। ঐ দিন ঘটনার সাথে জড়িত ফক্কু নাসির সহ তার বহিরাগত সন্ত্রাসী বাহিনী’র প্রত্যেককেই আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা হউক।

ঘটনাটির সত্যতা জানতে বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, চেয়ারম্যান নিজে থানায় এসে অভিযোগ দায়ের করেন। আমরা সুষ্ঠ তদন্তের ব্যবস্থা গ্রহন করে দোষী ব্যাক্তীদের আইনের আওতায় আনা হবে।