রুশ আগ্রাসনে পতনের মুখে কিয়েভ, অস্ত্র হাতে রাস্তায় সাধারণ মানুষ

সময়ের খবর ডেস্ক:আক্রমণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রাশিয়ার বাহিনী পৌঁছে গেছে ইউক্রেইনের রাজধানীতে। ভারী গোলাবর্ষণের সঙ্গে শহরের উপকণ্ঠে চলছে খণ্ডযুদ্ধ, পালাচ্ছে মানুষ। সব লক্ষণ বলছে, কিয়েভের পতন আসন্ন।

ট্যাংক নিয়ে আগুয়ান রুশ বাহিনীকে ঠেকানোর মরিয়া চেষ্টায় শুক্রবার সাধারণ নাগরিকদের হাতে হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছে ইউক্রেইন সরকার। পালিয়ে না গিয়ে দেশ রক্ষায় রুখে দাঁড়াবার আহ্বান জানানো হয়েছে পুরুষদের।

ইউক্রেইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রালয়ের পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবকদের ১৮ হাজার আগ্নেয়াস্ত্র দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মলোটভ ককটেল বানিয়ে রাখার আহ্বান জানিয়ে লিফলেট বিলি করা হচ্ছে।

সেনাবাহিনীর রিজার্ভ থাকা ‘টেরিটোরিয়াল ডিফেন্স ফোর্স’ এর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে কিয়েভের চারপাশ ঘিরে।

প্রতিরক্ষা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, “সেনাদের গতিবিধি আমাদের জানান, শত্রুকে পরাস্ত করতে মলোটভ ককটেল তৈরি করুন।”

পেট্রোল বোমা বানানোর প্রতিটি ধাপের নির্দেশনা দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোশাল মিডিয়ায় একটি লিফলেট পোস্ট করেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডেনিসেঙ্কো বলেন, “কিয়েভকে রক্ষায় ইউক্রেনীয় সমর সরঞ্জাম ঢুকছে। আমি কিয়েভের বাসিন্দাদের অনুরোধ করছি- দয়া করে এটা ভিডিও করবেন না, এই গতিবিধি ভিডিও করবেন না। শহর রক্ষায় এটা আমাদের জন্য জরুরি।”

বিবিসির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, অগ্রসর হওয়া রুশ সেনাদের ঠেকাতে ইউক্রেইনের সামরিক যানগুলো এরই মধ্যে কিয়েভে ঢুকেছে। ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সীদের লড়াইয়ে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে বিভিন্ন বাহিনীর পক্ষ থেকে। বহু বেসামরিক নাগরিককে অস্ত্র হাতে রাস্তায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে।

রাশিয়ার সংবাদমাধ্যমে গুজব ছড়িয়েছিল, ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পালিয়েছেন। তার জবাব দিতে রাতে এক ভিডিও বার্তায় আবির্ভূত হন তিনি।

গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা আর প্রধানমন্ত্রীকে পাশে রেখে জেলেনস্কি বলেন, “আমরা সবাই এখনও এখানে। আমরা আমাদের স্বাধীনতাকে রক্ষা করছি, আমাদের রাষ্ট্রকে রক্ষা করছি। আর সে চেষ্টাই আমরা করে যাব।”

অবশ্য এই চেষ্টা সফল হবে বলে মনে করতে পারছেন না মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারাও। নিউজউইক লিখেছে, কিয়েভের পতন হলেই ইউক্রেইনের প্রতিরোধ ভেঙে পড়বে বলে ধারণা করছে ওয়াশিংটন।