কুমিল্লা করোনায় মারা গেলে লাশ দাফনে যারা স্বার্বক্ষিন পাশে আক্রান্ত সেই সৈনিকরা

Loading

এ আর আহমেদ হোসাইন, কুমিল্লাঃ কুমিল্লা জেলা উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি আবু কাউছার অনিক ও উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক সাংবাদিক ইকবাল হোসেন রুবেল করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রবিবার বিকালে ওই বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’র কর্মকর্তা ডাঃ আহমেদ কবির।

তিনি জানান গত ০১-০৭-২০২০ইং তারিখ উভয়ের নমুনা পাঠানো হলে আজ রিপোর্টে পজেটিভ আসে।
এ নিয়ে উজেলায় মোট আক্রান্ত-৩৪১ জন, সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেন-২১৭ জন, মোট মৃত্যু বরন করেন-২০ জন।

বৈশ্বিক মহামারীর করোনার ভয়াল থাবায় বাচতে পারে নাই বিশ্বের কোনো জাতি আক্রান্ত তেমনি সারা বাংলা। কুমিল্লা জেলার ১৭ টি উপজেলার মধ্যে দেবীদ্বার উপজেলা যখন আক্রাত ও মৃত্যুর সংখ্যায় জেলার শীর্ষে তখনই কুমিল্লা-৪ দেবীদ্বার নির্বাচনী সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুল’র নির্দেশে জেলা উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি আবু কাউছার অনিক ও উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক দৈনিক ইত্তেফাক প্রতিনিধি সাংবাদিক ইকবাল হোসেন রুবেল গঠন করেন “হ্যালো ছাত্রলীগ হট লাইন ” করোনার শুরুতে মহাযোদ্ধারা মানুষের পাশে ত্রান সামগ্রী থেকে শুরু করে নগদ অর্থসহ কর্মহীনদের ফোন পেলে সাথে-সাথে বাড়িতে পৌঁছে দিতেন নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী।

জেলা জুড়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১০৬ জন। এর মধ্যে দেবীদ্বার উপজেলায় ২০ জন। করোনায় মৃত্যু ব্যক্তির জানাযা ও দাফনে নিজের আপনজন যখন ভয়ে কেউ এগিয়ে আসতো না তখনই ওই করোনা মহাযোদ্ধারা গঠন করেন জানাযা ও দাফনের কাজে “ওরা ৪১ টিম” করোনা আক্রান্তে মারা গেলে উপজেলা প্রশাসনের খবর পাওয়া মাত্রই জুটে যেতেন আবু কাউছার অনিক’র নেতৃত্বে ওই টিম’র সদস্যরা।

নির্বাচনী সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুল তার ফেইসবুক পোস্টে তাদের জন্য দোয়া কামনা করে বলেন – করোনাভাইরাসে মৃত লাশ যখন উঠানে পড়ে থাকতো, সেই লাশ কাধে তুলে আপন করে নিয়েছে ওরা এভাবে ১৪ জনের কাফন-দাফনের ব্যবস্থা করেছে। দুঃস্থ মানুষকে খাবার পৌঁছাতে গড়েছেন ‘হ্যালো ছাত্রলীগ ‘টিম’ গড়েছে করোনা রোগীদের চিকিৎসায় মেডিকেল টিম, কৃষকের ধান কেটেছে, করোনা রোগীদের জন্য করেছে ‘ব্লাড ব্যাংক’।
পরিশেষে তিনি বলেন- আমি বিশ্বাস ও আস্থা রাখি পরম করুনাময় সৃষ্টিকর্তা তোমাদের খুব দ্রুত সুস্থ করে দিবেন।কারন তোমাদের সাথে রয়েছে হাজারো মানুষের দোয়া ও ভালবাসা রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান জানান ওই আত্নমানবতার দুঃখী মানুষের পাশে থাকার সাথী ২ জনই বর্তমান সময় পর্যন্ত সুস্থ আছেন।তবে তারা নিজ বাড়িতে হোমআইসোলেশনে আছেন।
তাদের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব সময় সুনজর থাকবে তারা যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসেন।

আক্রান্ত করোনা যোদ্ধা আবু কাউছার অনিক ও ইকবাল হোসেন রুবেল প্রত্যেকে তাদের নিজ নিজ ফেইসবুক আডিতে স্ট্যাস্টাস লিখে সকলের দোয়া কামনা করেন যেন আল্লাহর রহমতে দ্রুত গতিতে সুস্থ হয়ে আবার পুরো জেলা জুড়ে করোনা যোদ্ধে অসহায়দের পাশে দাড়াতে পারেন।