দেবীদ্বারে করোনা উপস্বর্গে আবারও মৃত্যু নারায়নগঞ্জে মৃত ব্যক্তি দেবীদ্বারে দাফন

Loading

এ আর আহমেদ হোসাইন (কুমিল্লা)প্রতিনিধি : কুমিল্লা দেবীদ্বার করোনা উপস্বর্গ নিয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু এবং নারায়নগঞ্জে করোনা উপস্বর্গ নিয়ে মৃত: অপর এক ব্যক্তিকে নিজ এলাকায় এনে দাফন করার সংবাদ পাওয়া গেছে।

ওই ঘটনা দু’টি ঘটে উপজেলার ১০নং গুনাইঘর দক্ষিণ ইউপির কাশারিখোলা গ্রামে এবং একই ইউনিয়নের উজানিকান্দী গ্রামে।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার কাশারিখোলা গ্রামের মাঝি বাড়ির মৃত: হাজী দুধ মিয়া মাঝির ছেলে সহিদুল ইসলাম মাঝি(৫৫) রোববার সকাল ৭টায় করোনা উপস্বর্গ নিয়ে নিজ বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টেইনে থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরন করেন। সে নারায়নগঞ্জে একটি ফ্যাক্টরীতে কাজ করতেন। অসুস্থ্য শরীর নিয়ে গত ১৫এপ্রিল বাড়িতে আসেন। বাড়ির লোকজন তাকে হোম কোরেন্টেইনে রাখার ব্যবস্থা করেন এবং হোম কোয়ারেন্টেইনে থাকা অবস্থায় রোববার সকাল ৭টায় তিনি মারা যান।

সংবাদ পেয়ে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডিজিজ কন্ট্রোল শাখার প্রধান ডাঃ অর্জুন সাহার নেতৃত্বে স্বাস্থ্য সহকারী মোঃ রুহুল আমীন ও টেকনেশিয়ান অলিউল্লাহ নমুনা সংগ্রহ করেছেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ আহাম্মেদ কবির।

অপর ঘটনাটি ঘটে গত শনিবারে। নারায়নগঞ্জ একটি ফ্যাক্টরীতে কর্মরত অবস্থায় দেবীদ্বার উপজেলার ওই একই ইউনিয়নের উজানিকান্দী গ্রামের বাচ্চু মিয়া (৬০) নামে এক ব্যাক্তি করোনা উপস্বর্গ নিয়ে নারায়নগঞ্জের নিজ বাসায় শুক্রবার দিবাগত রাতে মৃত্যুবরন করেন। তার স্বজনেরা রোবার সকালে মৃত: বাচ্চু মিয়ার মরদেহ নিজ গ্রাম উপজেলার উজানিকান্দী এনে দাফন করেছেন।

করোনার উপস্বর্গ নিয়ে মৃত: বাচ্চু মিয়ার জানাযা সম্পর্কে ১০নং গুনাইঘর দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম খান জানান, গতকাল শনিবার নারায়নগঞ্জ থেকে তার স্বজনেরা বাচ্চু মিয়ার মর দেহ নিয়ে আসার সংবাদ পেয়েই যথা নিয়মে মৃত: ব্যাক্তির দাফন ও কবর দেয়ার ব্যবস্থা করেছি। যারা তাকে নিয়ে এসেছিল, তাদের বহনকারী এ্যাম্বুলেন্স থেকে নামতে দেইনি। জানাযা শেষে নারায়নগঞ্জ থেকে আসা মৃত; ব্যাক্তির স্বজনদের পুন:রায় নারায়নগঞ্জে পাঠিয়ে দিয়েছি।

দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হাসান জানান, কাশারিখোলা গ্রামের মৃত; ব্যাক্তির তথ্য নিয়েছি। তার নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছে। মৃত ব্যক্তির লক্ষণগুলো করোনার সাথে সংশ্লীষ্টতায় ঘাটতি রয়েছে। তার শ্বাসকষ্ট ছিল, নারায়নগঞ্জ থেকে ৪দিন পূর্বে নিজ বাড়িতে আসার পর থেকেই স্থানীয়রা তাকে হোম কোয়ারেন্টেইনে রেখেছিলেন। আপাতত পরিবারের লোকদের দূরত্ব বজায় রেখে নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছি আইইডিসিআর’র রিপোর্ট পজেটিভ হলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ পর্যন্ত যতগুলো নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে সবগুলোর রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। এখন সিজনার জ্বর, সর্দী, কাসি, শ্বাসকষ্টের রোগী বেশী থাকবে, তাতে সব রোগিকে করোনা সন্দেহে মিলিয়ে দিলে হবেনা। করোনারলক্ষণগুলো আগে জানতে হবে, তারপর নিশ্চিত হয়ে আমাদের জানালে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব। গনহারে সন্দেহের আবেগে সকলের নমুনা সংগ্রহ করা কঠিন, কারন আমাদের জনবল, ইকুইপম্যান্ট সে তুলনায় পর্যাপ্ত নেই। এক্ষেত্রে সকলের সহযোগীতা প্রয়োজন। বিচক্ষনতার সাথে আমাদের করোনা মোকাবেলা করতে হবে। সামাজিক দূরত্ব বলতে ব্যাক্তির দূরত্ব এবং মানবিক সামাজিক সহযোগীতা থাকতে হবে।

ইদানিং আরো একটি বিষয় লক্ষনীয়, সেটি হল,- নরায়নগঞ্জ, সাভার বা অন্যান্য ঝুকিপূর্ণ এলাকাগুলো লক ডাউন করা হয়েছে। সেখানকার লোকজন নিজ দায়িত্বে নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করার কথা থাকলেও তারা সেটি করছেননা।

কেউ কেউ প্রশাসনের লোকদের ফাঁকি দিয়ে ভিন্ন পথে বেড়িয়ে যাচ্ছেন। যেখানে আসছেন সেখানকার লোকজনও তাদের গ্রহন করতে চাচ্ছেননা। ফলে এদের মধ্যে মানবিক দূরত্ব ও সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এক্ষেত্রে যারা নিয়ম বহির্ভূতভাবে এসেই গেছেন, তাদের তাড়িয়ে না দিয়ে নিরাপত্তায় ১৪দিন হোম কোয়ারেন্টেনে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রশাসনকে অবহীত করে চিকিৎসকের পরামর্শে চলতে হবে। এক্ষেত্রে গোপনীয়তার কোন সুযোগ নেই। গোপনীয়তায় নিজের এবং পরিবারের যেমন ক্ষতি, তেমনি সমাজের অন্যদের ক্ষেত্রেও তেমনই ক্ষতির সম্ভাবনা থাকছে। আগতদের প্রতি কেউ অমানবিক আচরন করবেন না। তাতে নিজের মধ্যে অমানবিকতার প্রভাব পড়লে ধীরে ধীরে নিজের পরিবারের সদস্যদের প্রতিও অমানবিকতা প্রভাব পড়বে।

ফলে সমাজে মানবিকতা উবে যাবে। সামনের দিনগুলো আরো ভয়াবহ হতে পারে, এ অবস্থায় এখনই কেউ কাউকে সহযোগীতার মানষিকতা হারিয়ে ফেললে, সামনের দিনগুলোতে পরিবার, সমাজ আরো বেশী সংকটে পড়বে।

উপজেলার গোপালনগনর গ্রামে নারায়নগঞ্জ থেকে আসা একটি পরিবারকে পুনরায় নারায়নগঞ্জ ফেরত পাঠানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ওই পরিবারের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সহযোগিতা ও গ্রাম ছাড়া করা লোকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারতাম।