রাজশাহীতে ড্রেনের পাশে দৃষ্টিনন্দন সড়ক

Loading

সৌমেন মন্ডল, রাজশাহী ব্যুরোঃ রাজশাহীর ড্রেনের পাশের সড়ক গুলো নজর কারছে।রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে বহুমুখী উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। নতুন ফোরলেন সড়কের পাশে প্রশস্ত ড্রেন ও ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ড্রেন নির্মাণ কাজ চলছে। সহজে ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার ও কাদামাটি উত্তোলন করতে ১০টি বড় ড্রেনের পাশে ১০টি সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া ১০৫দিন ব্যাপী ড্রেনের কাদামাটি উত্তোলন করা হয়েছে।

২০১৮ সালের ৩০ জুলাই রাসিক নির্বাচনে বিপুল ভোটে মেয়র নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ মনোনিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শহীদ এ.এইচ.এম কামারুজ্জামানের সন্তান এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন। ৫ সেপ্টেম্বর গণভবনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেয়র লিটনকে শপথবাক্য পাঠ করান। এরপর ৫ অক্টোবর ১০৩ কোটি টাকা ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে দায়িত্ব বুঝে নেন তিনি।

দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন ও রাজশাহী মহানগরীকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, আধুনিক, উন্নত ও বাসযোগ্য শহর গড়তে কাজ শুরু করেন মেয়র লিটন। এরই অংশ হিসেবে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেন নগরপিতা। দুই বছরে ড্রেনেজ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়।

মহানগরীর আলিফ লাম মীম ভাটার মোড় হতে ছোট বনগ্রাম, মেহেরচন্ডী, বুধপাড়া, মোহনপুর হয়ে বিহাস পর্যন্ত ৬ দশমিক ৭৯৩ কিলোমিটার ৪ লেন সড়কের দুইপাশে ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। মহানগরীর বিলসিমলা রেলক্রসিং হতে কাশিয়াডাঙ্গা মোড় পর্যন্ত ফোরলেন সড়কের পাশে ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। উপশহর থেকে রাণী বাজার পর্যন্ত সড়কের পাশে ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। কল্পনা সিনেমা হলের মোড় থেকে তালাইমারি পর্যন্ত সড়কের পাশে ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। মনিচত্বর থেকে সদর হাসপাতাল পর্যন্ত সড়কের পাশে ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পভূক্ত অন্যান্য সড়কের পাশে ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে।
প্রথম মেয়াদের শেষের দিকে ২০১৩ সালে জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ‘রাজশাহী মহানগরীর জলাবদ্ধতা দূরীকরণার্থে নর্দমা নির্মাণ প্রকল্প’ গ্রহণ করেন সিটি মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন। দীর্ঘদিন প্রকল্পটির কাজে ধীরগতি ছিল। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্বগ্রহণের পর ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে জোর দেন নগরপিতা। ১৯৩ কোটি ২৯ লাখ ৭৭ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। প্রকল্পের আওতায় ৬ দশমিক ৩৬ কিলোমিটার প্রাইমারি, ১৯ দশমিক ২৯ কিলোমিটার সেকেন্ডারি এবং ৬৭ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার টারশিয়ারি নর্দমা নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে।

বর্তমানে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে স্বল্প সময়ের মধ্যে নর্দমার কাঁদামাটি অপসারণের জন্য প্রকল্পভূক্ত ১০টি প্রাইমারি নর্দমার পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। যা যথাক্রমে ‘‘চালনা সুইস গেট হতে গোলজারবাগ গুড়িপাড়া উত্তরপাড়া মসজিদ’ পর্যন্ত ও ‘সাধুর মোড় অর্কিড ছাত্রাবাস হতে বালিয়াপুকুর বড় বটতলা মোড় পর্যন্ত” ড্রেনের পাশে ১ দশমিক ২৩ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। ‘‘বন্ধগেট রেল লাইন হতে মহিলা কর্মজীবী হোষ্টেল হয়ে মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স পর্যন্ত ড্রেনের পাশে দশমিক ৭৯ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। ‘‘ছোটবনগ্রাম রেল অফিস হতে শালবাগান মোড় পর্যন্ত ড্রেনের পাশে ১ দশমিক ০৭ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। বোসপাড়া পুলিশ ফাঁড়ি হতে টিকাপাড়া ঈদগাহ পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণ ও টিকাপাড়া গোরস্থানের উত্তর পাশ হতে ওলির বাড়ী হয়ে শিরোইল মঠপুকুর মোড় পর্যন্ত ড্রেনের পাশে ১ দশমিক ১৪ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। হেতম খাঁ ডাঃ জোবাইদা মেমোরিয়াল স্কুল হতে কবির ফার্মেসী পর্যন্ত ও ‘‘ডিঙ্গাডোবা সিটি বাইপাশ হতে রাহেল মোল্লার মোড় পর্যন্ত ড্রেনের পাশে দশমিক ৫০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। ‘‘তেরখাদিয়া সিলিন্দা কালভার্ট হতে রাজশাহী বাইপাশ পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মান শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ২.০৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে।

‘‘ছোটবনগ্রাম পূর্বপাড়া মসজিদ হতে বিডিআর ক্যাম্প পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মান শীর্ষক প্রকল্প প্রকল্পের আওতায় .৭৯কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে।

এছাড়া ‘রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় ৩০টি ওয়ার্ডে প্রায় সাড়ে ২২ কিলোমিটার নর্দমা নির্মাণ করা হয়েছে। রাজশাহী মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে ক্ষতিগ্রহস্থ সড়ক ও নর্দমা সূমহের উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ড্রেন নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে।

এদিকে জলাবদ্ধতা দূরকরণে গত ৪ মার্চ মহানগরীর দক্ষিণ থেকে উত্তরমুখী ৪৬টি কালভার্ট এবং বিভিন্ন ড্রেনের ৯০ দিনব্যাপী কাদামাটি উত্তোলন কাজের উদ্বোধন করেন মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন। ৯০ দিনের কাজ শেষে আরো ১৫দিন কাদামাটি উত্তোলন করা হয়। এক্সেভেটর দিয়ে এবং প্রতিদিন ৮০জন শ্রমিক দিয়ে এই কাজ সম্পন্ন করা হয়।

ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে গৃহীত প্রকল্পের আওতায় নর্দমাসমূহে মহানগরীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়েছে। ক্রমবর্ধমান নগরায়নের প্রেক্ষাপটে বর্ধিত এলাকাসমূহে পানি নিষ্কাশনে ৪র্থ পর্যায়ে নর্দমা নির্মাণ শীর্ষক একটি প্রকল্প প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।