ঠাকুরগাঁওয়ে ৩ টি আসনে ১৩ জন প্রার্থীর চুড়ান্ত তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ
হুমায়ুন কবির,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনটি সংসদীয় আসনে মোট ১৩ জন প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০ টা থেকে থেকে দুপুর সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত ওই ১৩ জন বৈধ প্রার্থীদেরকে প্রতীক বরাদ্দ দেন ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান।সেইসাথে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন -২০২৪ উপলক্ষে ঠাকুরগাঁওয়ের ৩টি নির্বাচনী এলাকার চূড়ান্তভাবে প্রার্থীদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
এ তালিকায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ০৪ জন, ঠাকুরগাঁও-২ আসনে ০৫ জন ও ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে ০৪ জন, ৩ টি আসনে মোট ১৩ জন প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী রমেশ চন্দ্র সেন পেয়েছেন ‘নৌকা’ প্রতীক, জাতীয় পার্টির মো. রেজাউর রাজী স্বপন চৌধুরী ‘লাঙ্গল’, ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টি মো. রাজিউল ইসলাম ‘আম’ ও ইসলামী ঐক্যজোট এর মো. রফিকুল ইসলাম পেয়েছেন ‘মিনার’ প্রতীক।
ঠাকুরগাঁও-২ আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মো. মাজহারুল ইসলাম সুজন ‘নৌকা’, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আলী আসলাম জুয়েল ‘ট্রাক’, মো. আব্দুল কাদের ‘সোফা’ , জাতীয় পার্টির মোছা. নুরুন নাহার বেগম ‘লাঙ্গল’ ও বাংলাদেশ কংগ্রেস এর মোছা. রিম্পা আকতার পেয়েছেন ‘ডাব’ প্রতীক।
এবং ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে জাতীয় পার্টির হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ পেয়েছেন ‘লাঙ্গল’, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোছা. আশা মনি ‘ঈগল’, ওয়ার্কাস পার্টির গোপাল চন্দ্র রায় ‘হাতুড়ী’ ও বিকল্পধারা বাংলাদেশ এর এস এম খলিলুর রহমান সরকার ‘কুলা’ পেয়েছেন ‘কুলা’ প্রতীক।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ৪ জন, ঠাকুরগাঁও-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ৫ জন এবং ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ৪ জন প্রার্থী। ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬০ হাজার ৬০৪, ঠাকুরগাঁও-২ আসনে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৭ হাজার ৯৬৫ ও ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৪৪ হাজার ৩৫৪ জন।
জেলার তিনটি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ১১ লাখ ৪২ হাজার ৯২৩ জন।
আগামী ৭ জানুয়ারি ২০২৪ খ্রি: ৩ টি আসনের মোট ৪১৭ টি কেন্দ্রে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
১০ বছর পর সাভারে ফিরেই স্থানীয় রাজনীতিতে চমক দেখালেন স্বতন্ত্র প্রার্থী জং মুরাদ
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা- ১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন ঈগল প্রতীক নিয়ে তালুকদার মোহাম্মদ তৌহিদ জং মুরাদ ।
সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) বিকেলে আশুলিয়ার টংগাবাড়ী এলাকায় তার নিজ বাড়ির পাশে সমাহিত বাবার কবর জিয়ারত শেষে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন।
এ সময় রানা প্লাজা নিয়ে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে মুরাদ জং বলেন, আপনারা বলে তো রানা প্লাজা কি আমি ফেলাইছি? রানা প্লাজা আমি বানাইছি? ওইটার মালিক কি আমি? ওখানে কি আমার কোনো ব্যবসা ছিল? ওখানে কি আমার কোনো অংশীদারিত্ব ছিল? ওই মার্কেট টা কি আমার শাসন আমলে বানানো হয়েছে?। তাহলে কেন আমাকে দোষারোপ করা হলো। আমি মানুষ না, আমার কষ্ট লাগে না, আমার অভিমান হইতে পারে না। আর যেখানে আমার নেতা, আমার অভিভাবক, আমার বোন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেখানে বলছে তাইতো চুপ ছিলাম।
এ সময় তিনি বলেন, আজকে ২০২৩ এর এই নির্বাচনে যখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলছে, আসো কে জনপ্রিয় প্রমান করো। তাই তো আমি আসছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এতদিন চুর থাকতে বলেছেন। এইবার বলেছেন মুখ খুলো। তাই তো মুখ খুললাম। আপনারদের কাছে আসলাম।
তিনি আরও বলেন, আমি তো নৌকাই, শুধু মার্কাটা হলো ঈগল। এই মার্কাটা লাইয়া দয়া করে আপনারা যদি আমার নির্বাচনটা করে দেন। আরেকটা বার যদি সুযোগটা দেন। তাহলে প্রথম ফুলের মালাটা তো জননেত্রী শেখ হাসিনার গোলাই তো পড়াবো।
মুরাদ জং আরও বলেন, আমাকে অনেকে বলছে, আহে নাই। ১০ বছর দেখি নাই। ১০ বছর কই ছিল। মুরাদ জং ইতিহাসের পাতায় চলে গেছে। কেন মুরাদ জং কি রোহিঙ্গা, মুরাদ জং কি গাংগ হাতরায় আইসে। মুরাদ জংয়ের বাড়ী আশুলিয়া। মুরাদ জংয়ের বাড়ী টংগাবাড়ী। মুরাদ জং আপনাদের ছেলে। আমার ইজ্জত আপনাদের ইজ্জত।
সবশেষে তালুকদার মোহাম্মদ তৌহিদ জং মুরাদ বলেন, আপনারা যদি জিজ্ঞেস করেন আমার যোগ্যতা কি, তাহলে বলবো আমি আপনাদেরকে ভালোবাসি। আর যদি বলেন আমার অযোগ্যতা কি? আমি আপনাদের সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, আশুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শাহাব উদ্দিন,আওয়ামী লীগ নেতা আলী হায়দার ও আব্দুল কাদের দেওয়ান সহ স্থানায় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সিলেটে শেখ হাসিনা
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে জনসভা ও প্রচারণায় অংশ নিতে পূণ্যভূমি সিলেটে পৌঁছেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷
বুধবার (২০ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিলেট পৌঁছান শেখ হাসিনা। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গণভবন থেকে সিলেটের উদ্দেশে রওয়ানা দেন তিনি।
মাত্র তিন সপ্তাহেরও কম সময় বাকি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের৷ সময় হয়েছে ভোটারদের কাছে যাবার৷ প্রার্থীরাও সরব হচ্ছেন গণসমর্থন আদায়ে৷ শুরু হয়েছে নির্বাচনী প্রচারণা৷ আর সেই উদ্দেশ্য সামনে রেখেই আজ সিলেট সফরে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা৷
গত প্রায় তিন দশক ধরে দেশের রাজনীতিতে অনেকটা রীতির মতোই এবারও সিলেট থেকেই প্রচার শুরু করছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি৷
সূচি অনুযায়ী- বরাবরের মতোই সফরের শুরুতে হযরত শাহজালাল (র:) এর দরগাহ্ শরীফ জিয়ারত করবেন তিনি৷ সেখানকার কর্মসূচি শেষে যাবেন হযরত শাহ্ পরাণ (র:) এর মাজারে৷ এই সফরেও নিরাপত্তা ছাড়া কোনো সরকারি প্রটোকল নেবেন না প্রধানমন্ত্রী৷
মাজার জিয়ারত পর্ব সেরে বিকেল ৩টায় মহানগরীর ঐতিহাসিক সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অতীতের মতোই নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেবেন বঙ্গবন্ধু কন্যা৷ নৌকার আদল থাকলেও নির্বাচনী বিধি মেনে প্রস্তুত হয়েছে সাদামাটা মঞ্চ৷ চিরাচরিত রঙিন ব্যানারের বদলে সাজসজ্জা হয়েছে সাদাকালোয়৷
সিলেটে শেখ হাসিনার সফরকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উজ্জীবিত স্থানীয় প্রার্থী ও নেতারা। সমাবেশে অন্তত পাঁচ লাখ মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর আগে মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুরে জনসভার মাঠ পরিদর্শন করেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ স্থানীয় নেতারা৷
তারা জানান, এই সফর ঐতিহাসিক হতে চলেছে৷ আগামী দিনের নতুন ভিশন তুলে ধরবেন দলীয় প্রধান
এই মাঠ থেকেই আওয়ামী লীগ প্রধানের জমজমাট নির্বাচনী প্রচার শুরুর অপেক্ষায় এখন পুরো সিলেট৷
আগামী ৭ জানুয়ারি নির্বাচনে কোন কোন বিশেষ দল না এলেও ক্ষতি হবে না :অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম
কোন বিশেষ দল নির্বাচনে না এলে ০৭ জানুয়ারির নির্বাচন ক্ষতিগ্রস্ত হবে না মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ঢাকা ০২ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম।
মঙ্গলবার বিকেলে সাভারের হেমায়েতপুর বাস স্ট্যান্ডে নির্বাচনী জনসভার মধ্যে দিয়ে প্রচারণা শুরু করেন তিনি। এসময় তিনি বলেন, যারা নির্বাচনে আসবে না তারা রাজনীতির মাঠ থেকে চিরতরে হারিয়ে যাবে।
বিএনপি জামায়াত অপশক্তিকে বাংলাদেশ রাজনীতি থেকে নির্মূল করার কথা জানান তিনি। কামরুল ইসলাম বলেন,কোন ষড়যন্ত্র করে বাসে ট্রেনে আগুন দিয়ে নির্বাচন বন্ধ করা যাবে না।
নির্বাচিত সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব তা দেখাতে চায় আওয়ামী লীগ। আগামী সরকারের স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার অংশীদার হতে ভোটারদের সাত জানুয়ারি নৌকা প্রতীকে ভোট দেয়ার আহবান জানান তিনি। বর্তমান সরকারের অধীনে দেশের যোগাযোগ খাতে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয়েছে দাবি কামরুল ইসলাম বলেন, আগামীতে সরকারের লক্ষ্য স্মার্ট বাংলাদেশ গড়া। আর স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার পুর্বশর্ত হচ্ছে ভোটারদের অংশগ্রহণ। একটি গোষ্ঠী দেশকে অকার্যকর করার চক্রান্ত করছে অভিযোগ করে কামরুল ইসলাম বলেন, বিএনপি জামায়াত দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে পেছনের দিকে নিতে চায়। তারা নির্বাচনকে সামনে রেখে আবারো ২০১৪ সালের মতো জ্বালাও পোড়াও শুরু করেছে। কোন জ্বালাও পোড়াও করে ০৭ জানুয়ারির নির্বাচন বন্ধ করতে পারবে না অপশক্তি।
সাভারের তিনটি ইউনিয়ন ভাকুর্তা আমিনবাজার ও তেতুলঝোড়া ইউনিয়নের ভোটারদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় নির্বাচনী জনসভা।
এতে সভাপতিত্বে করেন সাভার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনজুরুল আলম রাজীব, কেরানীগঞ্জ মডেল থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইউসুফ আলী চৌধুরী তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফখরুল আলম সমর, ভাকুর্তার চেয়ারম্যান লিয়াকত হোসেন ও আমিনবাজারের চেয়ারম্যান রকিব আহমেদসহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ যুবলীগ ছাত্রলীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
দেশে খেলা চলছে, নির্বাচনী খেলা ,সবাইকে নৌকা প্রতীক দিয়ে দিলেই হয়:নজরুল ইসলাম
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, দেশে খেলা চলছে, নির্বাচনী খেলা। সবাইকে নৌকা প্রতীক দিয়ে দিলেই হয়।
রোববার (১৭ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন।
নজরুল ইসলাম বলেন, আজ প্রতিদিন বিরোধী মতের ব্যক্তিদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। প্রতিদিন আমরা দেখছি একের পর এক মামলায় শুধু পুলিশি সাক্ষীতে সাজা দেয়া হচ্ছে। হাজার হাজার নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছেন। তাদের অপরাধ কী? তারা শুধু গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছেন।
তিনি বলেন, বার বার প্রমাণ হয়েছে যে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই করেছে বিএনপি। আরেকবার গণতন্ত্র খাদে পড়েছে, ফেলা হয়েছে। আমার বিশ্বাস আরেকবার আমরা গণতন্ত্র ফিরে পাব বিএনপির নেতৃত্বে।
বিএনপির চরিত্র বদলায়নি, মানুষের ওপর অত্যাচারই ওদের আন্দোলন: প্রধানমন্ত্রী
জাতির পিতাকে হত্যার মধ্যদিয়ে হানাদারদেরর দোসররা ক্ষমতা দখল করেছিল বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রোববার (১৭ ডিসেম্বর) আওয়ামী লীগের বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির চরিত্র বদলায়নি। মানুষের ওপর অত্যাচারই হলো ওদের আন্দোলন। নির্বাচন ঠেকাতে চেয়েছিল তারা, সেটা পারেনি৷ কেননা, জনগণ আমাদের পাশে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির জ্বালাও-পোড়াও প্রতিহতের বিষয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি কবলেন, ধ্বংসাত্মক কর্মসূচির মাধ্যমে বিএনপি দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা শুরু করেছে। ভোটে জিতবে না জেনেই তারা নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা করে যাচ্ছে।
ভোট চুরির জন্য খালেদা জিয়াকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশবাসীর এটা মনে রাখা উচিত। বিএনপির মুখে গণতন্ত্রের কথা মানায় না। দেশবাসী তাদের বিশ্বাস করে না। এদের চরিত্র কখনোই বদলাবে না। তারা নিজেদেরটা বোঝে, জনগণের কল্যাণ তাদের মাথায় নেই।
নির্বাচনে কারচুপি করে জিয়াউর রহমান অবৈধ ক্ষমতা বৈধ করেছিল বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
বিএনপির জ্বালাও-পোড়াও প্রতিরোধে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে দেশের মানুষকে প্রতিরোধ করতে এগিয়ে আসতে হবে। ওদের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড আর চলতে দেয়া যায় না। নিজেদের হরতাল-অবরোধে নিজেরাই অবরুদ্ধ হয়ে যায় তারা।’
এ সময় বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগ সংসদে কথা বলার সুযোগ পায়নি বলেও অভিযোগ করেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, তারা পার্লামেন্টে কথা বলার সুযোগ দিত না। কিন্তু আমরা গণতন্ত্রের চর্চা করি বলেই, একাদশ জাতীয় সংসদে বিএনপির প্রতিনিধিরা ইচ্ছামতো কথা বলেছেন। তাদেরতো আমরা বাধা দিইনি!
কিছু বুদ্ধিজীবী দেশের কল্যাণ বোঝে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন বিদেশের মানুষ বুঝলেও, সাধারণ মানুষ বুঝলেও, কিছু বুদ্ধিজীবী সেটি বুঝতে চান না, বা স্বীকার করেন না। তবে দেশের মানুষ বোঝে কিসে তাদের ভালো হবে।
অগ্নিসন্ত্রাসী ও খুনিদের ১৯ ডিসেম্বরের বিজয় র্যালি থেকে জবাব দেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ার করেন তিনি।
সাভারে সেলফি পরিবহনের চাপায় এবার প্রাণ গেল শিশুর
সাভার প্রতিনিধি: সাভারে সেলফি পরিবহনের চাপায় তাওহীদ (১১) নামে এক শিশু ঘটনাস্থলেই মারা গেছে। পরীক্ষার ছুটিতে সাভারে পোশাক শ্রমিক মা-বাবার কাছে বেড়াতে এসে দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল শিশুটির।
শনিবার রাত ১১টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারের গেন্ডা বাসস্ট্যান্ডে লাঙ্গলের মোড়ে এমন ঘটনা ঘটে। পরে রোববার ভোরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।
নিহত শিশুটির বাবা মোস্তফা কামাল জানান, তার স্ত্রী শাপলাকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি পাবনা থেকে এসে সাভারের গেন্ডা এলাকায় ভাড়া থেকে পোশাক কারখানায় কাজ করেন। তাদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে গ্রামে নানা-নানীর বাড়িতে থেকে সেখানে পড়াশোনা করত। বার্ষিক পরীক্ষার ছুটিতে গ্রামের বাড়ি পাবনা থেকে শনিবার রাতে মা বাবার কাছে সাভারে বেড়াতে আসে সন্তানরা।
তবে সাভারের গেন্ডা বাসস্ট্যান্ডে গাড়ি থেকে নেমে তিন সন্তানকে নিয়ে মহাসড়ক পার হয়ে বিপরীত দিকে আসতেই দ্রুত গতিতে ছুটে আসা ঢাকা থেকে মানিকগঞ্জগামী সেলফি পরিবহনের একটি বাস তাদের বড় সন্তান তাওহীদকে চাপা দেয়। এ সময় মা-বাবার সামনেই বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা যায় শিশু তাওহীদ।
এ ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে সেলফি পরিবহনের প্রায় ২০টি বাস আটকে রাখে এলাকাবাসী। এছাড়া ভাঙচুর করা হয়েছে কয়েকটি বাস।
সাভার হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল খালেক বলেন, পরিবারের কোন অভিযোগ না থাকায় নিহত শিশুর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মোস্তফা কামাল ও শাপলা দম্পতির বাড়ি পাবনা জেলার সাথিয়া থানার ফকিরপাড়া এলাকায়। জীবিকার প্রয়োজনে দু’বছর আগে সাভার চলে এসে আল মুসলিম গ্রুপের পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন এই দম্পতি।
উল্লেখ্য, গত ৭ ডিসেম্বর ঢাকার ধামরাইয়ে সেলফি পরিবহনের দুই বাসের রেষারেষিতে পথচারী নিহত হন দুই পথচারী। এছাড়াও সেলফি পরিবহনের বেপরোয়া গতিতে বিভিন্ন সময় ঘটেছে বেশ কয়টি দুর্ঘটনা।
ধোঁয়াশা কাটছেই না আওয়ামী লীগ-জাতীয় পার্টির “আসন বণ্টনের
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুটি আসন ফাঁকা রেখে প্রথমে ২৯৮ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছিল আওয়ামী লীগ। পরে শরিক দলের জন্য আরও ছয়টি আসন ছাড়ার ঘোণা দেয় দলটি। এদিকে চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের নেতৃত্বে নির্বাচনে ২৮৯ আসনে প্রার্থী দিয়েছে জাতীয় পার্টি। তবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাতীয় পার্টির জোট নিয়ে সমঝোতার গুঞ্জন উঠেছে। ২৬টি আসন ছাড়ের কথা শোনা গেলেও দুদলেরই দাবি, জোট নয়, নির্বাচনের কৌশল নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
জাতীয় পার্টির দাবি, কোনো আসনেই প্রার্থী প্রত্যাহার করা হবে না। মানুষ ভোট দেয়ার সুযোগ পেলে সরকার গঠন করবে দলটি। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরাও জানান, আসন নয় কথাবার্তা হচ্ছে কৌশলগত বিষয়ে। তবে এখনও সমঝোতার পথ উন্মুক্ত আছে।
ফলে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি এককভাবে নির্বাচনে যাচ্ছে, নাকি আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে জোটগতভাবে নির্বাচনে যাচ্ছে তা এখনও দোলাচালে।
ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে শুধু আসন ভাগাভাগির মতো নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়নি জাতীয় পার্টির। তবে ইউরোপীয় সংসদের মতো বিরোধী দল হলেও সিনিয়রদের জন্য আসন ছাড়ের ব্যাপারে আলোচনা করেছে দলটি।
সর্বশেষ শুক্রবার (১৫ ডিসেম্বর) রাতে জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু।
আওয়ামী লীগের পক্ষে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ, বাহাউদ্দিন নাছিম ও সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আযম। জাতীয় পার্টির পক্ষে ছিলেন দলের মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু ও সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।
বৈঠকের বিষয়ে তাৎক্ষণিক দুদলই কিছু জানায়নি। তবে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছিলেন, বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে। এ বিষয়ে শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) দুদলের পক্ষ থেকে আলাদাভাবে গণমাধ্যমে ব্রিফ করা হবে।
শনিবার দুপুরে জাতীয় পার্টির বনানী কার্যালয়ে সাংবাদিকদের চুন্নু বৈঠকের বিষয়ে খোলাসা করলেও এখনও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কিছু বলা হয়নি।
জোট নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি, কৌশল নিয়ে আলোচনা চলছে দাবি করে জাপা মহাসচিব বলেন, চরম বিরোধী দল হলেও অনেক সময় আসনের জন্য ছাড় দেয়া হয়। সম্মানের জায়গা থেকে ছাড় চাওয়া হচ্ছে। আসন থেকে প্রার্থী প্রত্যাহারের সব কৌশল তো সামনে আনা যায় না। তবে আগামীকাল আরও তথ্য খোলাসা করা হবে।
২৬ আসনের সমঝোতার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে চুন্নু বলেন, ‘যে সাংবাদিক সংখ্যাটা উল্লেখ করেছেন তার থেকে নিশ্চয়ই আমি সংখ্যাটা বেশি জানব। কিন্তু সেটা তো না। শুক্রবারের সভার সময় ভেতরে তো কোনো সাংবাদিক ছিলেন না। তবে রোববার (১৭ ডিসেম্বর) আরও তথ্য খোলাসা করা হবে।’
নির্বাচন থেকে বিরত থাকতে দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদেরকে হুমকি দেয়া হয়েছে অভিযোগ করে দলের মহাসচিব বলেন, এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) উত্তরা পশ্চিম থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।