33 C
Dhaka, BD
রবিবার, এপ্রিল ১২, ২০২৬

হাসপাতালের কর্মচারীদের মারধরে এএসপির মৃত্যু

চিকিৎসা নিতে এসে হাসপাতাল কর্মীদের মারধরে মৃত্যু হলো বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ আনিসুল করিমের।

সোমবার (৯ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে ঢাকার হার্ট ফাউন্ডেশনে তিনি মারা যান। এর আগে মানসিক চিকিৎসার জন্য ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে মাইন্ড এইড হাসপাতালে নেয়া হয়েছিলো। পরিবারের অভিযোগ, ওই হাসপাতালে ভর্তির পরপর সেখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হাসপাতালের ব্যবস্থাপকসহ ছয়জনকে আটক করেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করায় তারা পুলিশ কর্মকর্তাকে শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন।

ওই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দেখার সময় কেউ একজন তা ভিডিও করে; যা পরে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওর কথাবর্তায় ধারণা করা যায়, হাসপাতালের ফুটেজ দেখার সময় আটককৃতদের কয়েকজন পুলিশের সঙ্গে ছিলেন এবং তাদের কাছ থেকে ঘটনার বিবরণ মিলিয়ে নিচ্ছিলো পুলিশ।

আনিসুল করিম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৩ব্যাচ বায়োকেমিসট্রির ছাত্র ছিলেন এবং ৩১তম বিসিএসে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পান। তিনি স্ত্রীসহ ৩ বছর বয়সের এক ছেলে সন্তানের জনক ছিলেন। তার বাড়ি গাজীপুর সদরের বারুদা এলাকার মুসলিমাবাদ রোডে।

আনিসুল করিমের ভাই রেজাউল করিম গণমাধ্যমকে বলেন, পারিবারিক ঝামেলার কারণে তার ভাই মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারা তাকে নিয়ে মাইন্ড এইড হাসপাতালে যান। কাউন্টারে যখন ভর্তির ফরম পূরণ করছিলেন, তখন কয়েকজন কর্মচারী তাকে দোতলায় নিয়ে যান। এর কিছুক্ষণ পর তাদের জানানো হয় আনিসুল অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছেন। এরপর তারা তাকে দ্রুত হৃদ্‌রোগ ইনস্টিটিউটে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় ওই হাসপাতাল থেকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। সেখানে দেখা যায়, বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটের দিকে পুলিশ কর্মকর্তা আনিসুল করিমকে টানাহেঁচড়া করে একটি কক্ষে ঢোকানো হয়। তাকে হাসপাতালের ছয়জন কর্মচারী মিলে মাটিতে ফেলে চেপে ধরেন। এরপর নীল পোশাক পরা আরও দুজন কর্মচারী তার পা চেপে ধরেন। এ সময় মাথার দিকে থাকা দুজন কর্মচারী হাতের কনুই দিয়ে তাকে আঘাত করছিলেন। হাসপাতালের ব্যবস্থাপক আরিফ মাহমুদ তখন পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। একটি নীল কাপড়ের টুকরা দিয়ে আনিসুলের হাত পেছনে বাঁধা হয়।

চার মিনিট পর আনিসুলকে যখন উপুড় করা হয়, তখনই তার শরীর নিস্তেজ ছিল। একজন কর্মচারী তখন তার মুখে পানি ছিটান। তাতেও আনিসুল করিম নড়াচড়া করছিলেন না। তখন কর্মচারীরা কক্ষের মেঝে পরিষ্কার করেন। সাত মিনিট পর সাদা অ্যাপ্রোন পরা একজন নারী কক্ষে প্রবেশ করেন। ১১ মিনিটের মাথায় কক্ষের দরজা লাগিয়ে দেওয়া হয়। ১৩ মিনিটের মাথায় তার বুকে পাম্প করেন সাদা অ্যাপ্রোন পরা নারী।

শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানে আলম মিয়া বলেন, হৃদ্‌রোগ ইনস্টিটিউটের খাতায় লেখা রয়েছে ‘ব্রট ডেড’ অর্থাৎ সেখানে নিয়ে আসার আগেই আনিসুলের মৃত্যু হয়েছিল।

ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মৃত্যুঞ্জয় দে গণমাধ্যমকে বলেন, হাসপাতালের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ তারা সংগ্রহ করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছয়জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আটক করা হয়েছে। আনিসুলের মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। কী ঘটেছিল, তা জিজ্ঞাসাবাদে জানা যাবে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান জানান, বিএমপি’র ট্রাফিক বিভাগের সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ আনিসুল করিম গত ৮ নভেম্বর শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ কারণে ১০ দিনের ছুটি নিয়ে তিনি ঢাকায় পরিবারের কাছে যান। সোমবার সকালে তাকে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট হাসপাতাল এবং পরে আদাবরের মাইন্ড এইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মোহাম্মদ আনিসুল করিমকে মৃত ঘোষণা করেন।

অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৬ পুলিশ কর্মকর্তা

বাংলাদেশ পুলিশের ৬ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত পুলিশ মহা-পরিদর্শক (অ্যাডিশনাল আইজিপি) পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার (৯ নভেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

পদোন্নতি পাওয়া সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তারা হলেন- পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (চলতি দায়িত্বে) মোহাম্মদ ইব্রাহীম ফাতেমী, পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (চলতি দায়িত্বে) এসএম রুহুল আমিন, হাইওয়ে পুলিশ ইউনিটের অতিরিক্ত আইজিপি (চলতি দায়িত্বে) মল্লিক ফখরুল ইসলাম, অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের অতিরিক্ত আইজিপি (চলতি দায়িত্বে) মো. কামরুল আহসান, স্পেশাল ব্রাঞ্চের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. মাজহারুল ইসলাম ও বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পদোন্নতি পাওয়া পদে যোগদানের পর এ আদেশ কার্যকর হবে। এতে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাদের যোগদানের চিঠি পাঠাতে এবং পরবর্তী পদায়নের আদেশ না হওয়া পর্যন্ত তাদের বর্তমান দায়িত্ব পালন করে যেতে বলা হয়েছে।

রাণীশংকৈলে ফুলকপি- বাঁধাকপি’র বাম্পার ফলন কৃষকের মুখে হাসি

হুমায়ুন কবির, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ে রাণীশংকৈল উপজেলায় এ বছর ফুলকপি ও বাঁধাকপির বাম্পার ফলন হয়েছে এবং বাজারে ভাল দাম থাকায় হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে।

আগাম শীতকালীন সবজি হিসেবে ফুলকপির দাম কেজি প্রতি ৫৫-৬৫ টাকা ও বাঁধাকপি ৫০-৬০ টাকা থাকায় উপজেলার হোসেনগাঁ ইউনিয়নের পদমপুর (মিলপাড়া) গ্রামের লিটন আলী জানান, গতবছর আবাদের চেয়ে এবার অনেক বেশি ফুলকপি ও বাঁধাকপি আবাদ হয়েছে। প্রতিমন ফুলকপি পাইকারী দরে ২ হাজার থেকে ২২ শত টাকা এবং বাঁধাকপি ১৮ শত থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এবং খরচ বাদ দিয়ে বেশ মুনাফা পাচ্ছি।

৯ নভেম্বর সোমবার সকালে উপজেলার ডায়াবেটিক মোড়, পদমপুর, রাউতনগড়সহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় মাঠ থেকেই সবজি ব্যবসায়ীরা কপি ক্রয় করছেন। এছাড়াও রংপুর, বগুড়া, ঢাকা ও সিলেটের পাইকাররা এ উপজেলা থেকে আগাম সবজি হিসেবে বাঁধাকপি ও ফুলকপি ভোর রাত থেকে প্রতিদিনের ন্যায় ট্রাকযোগে ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন।

জানা গেছে এবার উপজেলার বিরাশী, উমরাডাঙ্গী, উত্তরগাঁও মহলবাড়ী, কলিগাঁ, ভান্ডারাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক কপিচাষ হয়েছে।

উপজেলায় কর্মরত সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের উপ-সহকারি কৃষি অফিসার গণ এসব কৃষকদের সাথে সার্বিক যোগাযোগের মাধ্যমে সু-পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন প্রান্তিক কৃষকেরা।

তাঁরা জানান মারবেল, মুক্তি, ম্যাগনেট-১২, ভিক্টোরী জাতের ফুলকপি ও কেকে ক্রশ, ট্রপিকল্যান্ড, কুইকার , সুপার সেট জাতের বাঁধাকপি এ অঞ্চলে বেশ জনপ্রিয়।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ সঞ্জয় দেবনাথ বলেন, এই উপজেলার মাটি ফুুলকপি ও বাঁধাকপি চাষের জন্য বেশ উপযোগী।
এ বছর এ উপজেলায় ৪০০ হেক্টর ফুলকপি ও ২০০ হেক্টর বাঁধাকপির আবাদ হয়েছে। আমরা চাষিদেরকে সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। আশা করা যায় আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে চাষিরা বেশিদামে এসব সবজি বিক্রি করে যথেষ্ট লাভবান হবেন।

ধামরাইয়ে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ,থানায় মামলা আটক ধর্ষক।

মোঃ সম্রাট আলাউদ্দিন , ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধিঃ-ঢাকার ধামরাইয়ে বিয়ের প্রলোভনে দেড় বছর ধরে ধর্ষণের ঘটনায় একটি অভিযোগ দায়ের করলে শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে ধর্ষক মোঃ কাউছার (৩০) নামে এক জনকে আটক করেছে ধামরাই থানা পুলিশ।

কাউছারের বাড়ী ধামরাই উপজেলার সুতিপাড়া ইউনিয়নের বেলীশ্বর গ্রামের মোঃ আওলাদ হোসেনের ছেলে। এলাকাবাসী সুত্রে জানাযায়,সুতিপাড়া ইউনিয়নের উত্তর বেলীশ্বর গ্রামের স্বামী পরিত্যক্তা এক সন্তানের জননীকে বিয়ের প্রলোভনে দেড় বছর ধরে ধর্ষণ করে একই গ্রামের আউলাদ হোসেনের ছেলে কাওছার আলী। ধর্ষিতা ওই এক সন্তানের জননীকে বিয়ে না করে কয়েকদিন আগে ওই যুবক গোপনে অন্যত্র বিয়ে করে। ঘটনাটি জানাজানি হলে ওই ধর্ষিতা ধর্ষকের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের দাবিতে অনশন করে। ওই ধর্ষকসহ বাড়ির লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে পিটিয়ে ধর্ষিতা ওই এক সন্তানের জননীকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়।

এব্যাপারে সে থানায় মামলা করতে চাইলে শোলধন ও বেলীশ্বর গ্রামের কতিপয় মাতাব্বররা তাকে মামলা করতে বাঁধা দিয়ে ওই ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে দেয়ার আশ্বাস দেয়। এরই ধরাবাহিকতায় এ ধর্ষণের ঘটনায় বেলীশ্বর খালপাড়ে এক গ্রাম্য সালিশি বৈঠক বসে। জুড়িবোর্ডের মাধ্যমে সালিশি বৈঠকে ধর্ষিতাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে মানতে নারাজ হয় কাউছার। পরে টাকা দিয়ে বিদায় করতে বলে মাতাব্বরদের। সে টাকা ও নিয়ে ধর্ষিতাকে না দিয়ে নিজেদের পকেটে ভরে মাতাব্বরা। এই ব্যাপারে ভুক্তভোগি ওই এক সন্তানের জননী জানান,আমাকে বিয়ের প্রলোভনে প্রলুব্দ করে দেড় বছর ধরে আমাকে ধর্ষণ করে কাউছার আলী। আমি তার বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশন করলে তারা আমাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।

এঘটনায় আমি মামলা করতে চাইলে কতিপয় মাতাব্বররা আমাকে ওই ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেয়ার আশ্বাস ও মামলা করতে বাঁধা দেয়।পরে আমাকে কাউছারের বাড়ীতে উঠতে না দিলে আমি ধামরাই থানায় গিয়ে মামলা করতে বাদ্য হয়। এই ব্যাপারে ধামারই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। পরে রাতেই আভিযান চালিয়ে ধর্ষক মোঃ কাউছার আটক করা হয়েছে। আজ তাকে কোটে প্রেরণ করা হবে।

আমাদের লক্ষ্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সোনার বাংলা গড়া -তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই দেশে আন্ত:সম্প্রদায় সম্প্রীতি বিনষ্টের কোনো অপচেষ্টা বরদাশত করা হবেনা। সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়াই আমাদের লক্ষ্য।’

বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট আয়োজিত ‘নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে মানবিক জাতি গঠন: প্যাগোডাভিত্তিক প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা প্রকল্পের ভূমিকা’ ভার্চুয়াল কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন। রাজধানীর মিন্টু রোডে সরকারি বাসভবন থেকে শনিবার সন্ধ্যায় দেশের ১২টি জেলার ৫৫ উপজেলার প্যাগোডাভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমের সাথে যুক্ত ৩০১টি স্কুলের শিক্ষক প্রতিনিধিরা এতে যোগ দেন।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান বলেন, ‘হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সকল ধর্মের মানুষের ও বাঙালিদের পাশাপাশি মগ-মুরং-চাকমা সকলের মিলিত রক্তস্রোতে আমরা পেয়েছি স্বাধীন বাংলাদেশ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় স্বাধীন বাংলাদেশ গড়েছেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদেের সরকার সেই চেতনাকে সদা সমুন্নত রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ।সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই দেশে আন্ত:সম্প্রদায় সম্প্রীতি বিনষ্টের সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়াই আমাদের লক্ষ্য।’

এসময় ধর্মীয় উপাসনালয়ভিত্তিক নৈতিক শিক্ষাকে উন্নত জাতি গঠনে অত্যন্ত সহায়ক বলে বর্ণনা করেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘শিশুকালই মানুষকে নৈতিকতা শিক্ষা দেয়ার ও তার মাঝে মেধা, মূল্যবোধ, দেশাত্মবোধ, মমত্ববোধের সমাবেশ ঘটিয়ে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ার শ্রেষ্ঠ সময়। প্যাগোডাসহ সকল ধর্মের উপাসনালয়ভিত্তিক নৈতিক শিক্ষা উন্নত জাতি গড়তে অত্যন্ত সহায়ক।’

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মোয়াজ্জেম হোসেনের সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যানদের মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন এমপি, এরোমা দত্ত এমপি, সুপ্ত ভূষণ বড়ুয়া এবং আমন্ত্রিত অতিথি বাসন্তী চাকমা এমপি, ভিক্ষু লোকজিৎ মহাথেরো, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আনিস মাহমুদ প্রমুখ।

মীর আকরাম উদ্দীন আহম্মদ/ পরিচালক- জনসংযোগ

সাভারের আশুলিয়ায় বহুরূপী হাইব্রীড নেতা রাজু

সাভার প্রতিনিধি : কখনো বিএনপির নেতাদের সাথে, কখনো বা আওয়ামী লীগের বিতর্কিত নেতাদের সাথে উঠা-বসা সাভারের আশুলিয়ার নেতা পরিচয় দানকারী রাজু দেওয়ান নামের এক বহুরুপী মানুষের।

চুরি, চাঁদাবাজি, জমিদখল ও সন্ত্রাসীসহ নানা অপকর্মের মুলহোতা তিনি। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তকমা গায়ে লাগিয়ে তিনি আজ হাইব্রিড নেতা।

সম্প্রতি তার এইসব অপকর্মের শিকার ভুক্তভোগী মানুষগুলো মুখ খুলতে শুরু করেছে। তারা বলছে তাদের সাথে হয়ে যাওয়া নানা অন্যায় অবিচারের কথা।

এছাড়াও বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিএনপির নেতা সালাউদ্দিন বাবুর সাথে প্রোগ্রামের ছবি ও আওয়ামী লীগের বিতর্কিত নেতার সাথে ছবি রীতিমতো ভাইরালও হয়েছে।

ছবিতে দেখা গেছে, বিএনপির নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন বাবুর বা পাশে কোনায় হাইব্রিড নেতা রাজু মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে। রাজুর ডান পাশে রয়েছে তার বড় ভাই মুঞ্জ দেওয়ান। অপর আরেক ছবিতে দেখা গেছে আওয়ামী লীগের বিতর্কিত নেতা সাবেক সংসদ সদস্য তার ঘারে হাত রেখে সেলফি তুলছেন। আরেকটি ছবিতে দেখা গেছে বর্তমান সাভার উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে চলতি পথে পাশে হেঁটে চলেছেন।

ছবিগুলো দেখে স্পষ্ট ভাবে বোঝা যাচ্ছে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে ও দলের নামে ভাঙ্গিয়ে খাওয়ার জন্য বিভিন্ন সময় সে দল বদলসহ প্যানেলও বদল করেছে৷

বর্তমানে সে ইয়ারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে আছে। মুল সংগঠনের এই পদে থাকা সত্ত্বেও সে যুবলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকতে চেয়ে জোর লবিং চালাচ্ছে।

এতে করে স্থানীয় ত্যাগী নেতা ও কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়েছে। তারা বলেছে, সুবিধাবাদী এসব নামধারী নেতা দলের জন্য অনেক ক্ষতিকর। এদের মত হাইব্রিডদের জন্য দলের অনেক বদনাম হয়।

অভিযোগ রয়েছে, গত ২৫ নভেম্বর ২০১৮ সালে জিরাবো পুকুর পাড় এলাকায় এক বৃদ্ধকে মারধর করে ৫ শতাংশ জায়গাসহ ১৫টি রুম দখল করে রাজু বাহিনী। এ নিয়ে আইজিপি বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন বৃদ্ধর মেয়ে পারভীন আক্তার জুই। এছাড়া সরকারি সম্পদ গ্যাস চুরি ঘটনাও ঘটিয়েছে রাজু।

এছাড়া রাজু দেওয়ান আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে হামলায় যুবলীগ নেতা ইকবাল সরকারের ছুড়িকাঘাত করে আহত করে৷ এঘটনায় সাভার থানায় একটি অভিযোগ করেন ইকবাল।

এসব অভিযোগের ব্যপারে রাজু দেওয়ান বলেন, বিএনপির নেতাদের সাথে ছবির বিষয়টি হলো। যে স্কুলে অনুষ্ঠানটি হয়েছে সে স্কুলটির সভাপতি ছিলাম আমি। সেই সূত্রে আমাকে দাওয়াত করা হলে আমি প্রোগ্রামে গিয়ে উপস্থিত হই। এছাড়া গ্যাস চুড়ির ব্যপারে একটি কুচক্রীমহল আমাকে জড়াচ্ছে৷

সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসিনা দৌলা বলেন, আমাদের দলে অনেক লোক আছে, এই সমস্ত লোক দলে না থাকলেও চলবে। এরাই দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করে।

রাজশাহীতে শাহমখদুম মেডিক্যাল কলেজ বন্ধে স্বস্তি শিক্ষার্থীদের মাঝে

সৌমেন মন্ডল, রাজশাহী ব্যুরোঃ বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন ও পরিচালনা নীতিমালা লঙ্ঘন করায় রাজশাহীর শাহ মখদুম মেডিক্যাল কলেজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এর আগে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানটি কয়েক দফায় ২২৫ শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয় এ প্রতিষ্ঠানটিতে।

চরম অনিশ্চিয়তার মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের মাইগ্রেশন করার নির্দেশ দেওয়ায় স্বস্তি ফিরে এসেছে তাঁদের মাঝে। ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা এখনো যারা এমবিবিএস শেষ করতে পারেননি তাদের রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ অন্য বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোতে মাইগ্রেশন করার ব্যবস্থা করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।

গত ২ নভেম্বর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রাণলয়ের উপসচিব বদরুন নাহার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশনা জারি করা হয়। এর আগে গত ২৫ অক্টোবর স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্ত কার্যকরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে বন্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের চক্রান্তের প্রতিবাদে মানববন্ধনের ডাক দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁরা দাবি, সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটিকে তাঁরা সাধুবাদ জানিয়েছেন। এতে করে তাঁদের শিক্ষাজীবন হুমকিরমুখ থেকে উদ্ধার হবে। কিন্তু সরকারি এই সিদ্ধান্ত বাতিল করে আবারো কলেজটি চালুর অনুমতি দেওয়া হলে পুনরায় শিক্ষাজীবন হুমকির মুখে পড়বে তাঁদের।

বন্ধ ঘোষণার ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন ও পরিচালনা নীতিমালা ২০১১ এর শর্তসমূহপ্রতিপালন না করায় গত বছরের ১৯ মার্চ একটি রাজশাহী শাহমখদুম মেডিক্যাল কলেজটি পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শনের পর যেসকল বিষয়ে ঘাটতি পূরণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়, পরবর্তি পরিদর্শনের সময় সেসকল বিষয়গুলো বাস্তবায়নের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। এমনকি কর্তৃপক্ষের কোনো সদিচ্ছাও ছিল না। এই অবস্থায় ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ হতে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি বন্ধের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

এদিকে কলেজ সূথ্র মতে, ২০১৪ সাল থেকে কলেজটিতে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু হলেও বিএমডিসির কোনো অনুমোদন ছিলো না। বর্তমানে সাতটি ব্যাচে ২২৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না করায় কলেজটি বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) নিবন্ধন পায়নি। এ অবস্থায় গত ফেব্রæয়ারিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন। আন্দোলনের মুখে অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কলেজটি খোলা রাখা এবং বিকল্প ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থা করার ঘোষণা দেওয়া হয়।

জানতে চাইলে কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুজ্জামান সাধীন বলেন, ‘সম্পূর্ণ নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কলেজের ৬০ হাজার বর্গফুট জায়গার ঘাটতি রয়েছে। কিন্তু প্রতিবেদনে বলা হয়নি কলেজে কতটুকু জায়গা আছে।

আবার বলা হয়েছে, গ্রন্থাগারের ২২০ জন শিক্ষার্থীর আসন ব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে। কতজনের ব্যবস্থা আছে তা বলা হয়নি। তিনি বলেন, কলেজের মোট শিক্ষার্থীই হচ্ছে ২২৫ জন। একইভাবে প্রত্যেক বিভাগে চার থেকে পাঁচজন করে শিক্ষক ঘাটতির কথা বলা হয়েছে। কতজন শিক্ষক আছে তা বলা হয়নি। আমাদের ৪৪ জন স্থায়ী ও ২৪ জন খÐকালীন শিক্ষক দেখানো আছে।

মনিরুজ্জামান আরও বলেন, বিষয়টি পুনঃবিবেচনার জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছেন। এ আদেশের ফলে অনেক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা অনিশ্চিত হয়ে যাবে। আমি প্রয়োজনে উচ্চ আদালতে আবেদন করে আদেশটি স্থগিত চাইবো।’

প্রসঙ্গত, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ পরিদর্শন শেষে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে ২৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করার অনুমোদন দেয়। কিন্তু সেখানে ৫০জন শিক্ষার্থী ভর্তি করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। পরে এই অনিয়ম রাবি কলেজ পরিদর্শকের নজরে আসার পর ২০১৬ সালে সেই সেশনের কার্যক্রম স্থগিত করা করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। এরপর ২০১৫-১৬ শেসনে অনুমতি ছাড়ায় ৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করায় পরীক্ষা কার্যক্রম স্থগিত করে দেয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। কারণ কলেজটি ওই সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভূক্ত ছিল না। এরপর অধিভূক্ত করতে ওই সময় রাবি ভিসিকে গিয়ে হুমকি দিয়ে আসেন রাজশাহীর-১ (তানোর-গোদাগাড়ী আসনের এমপি ফারুক চৌধূরী। বিনিময়ে তাঁকে কলেজটিতে শেয়ার দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত রাবির অধিভূক্তি লাভ করে কলেজটি। তবে বিএমডিসির অনুমোদন নিতে ব্যর্থ হয়।

পাবনার অভিভাবক মুক্তিঘোষ বলেন, ‘কলেজটি বন্ধ ঘোষণায় আমদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। কারণ দীর্ঘদিন বিএমডিসির অনুমতি না পাওয়ায় সন্তানদের ভবিশ্যত নিয়ে আমরা অভিভাবকরা চরম অনিশ্চিয়তায় ছিলাম। এখন অন্য কোনো অনুমদিত প্রতিষ্ঠানে মাইগ্রেশন হলে এ জটিলতা নিরসনা হবে। তাতে করে দুশ্চিন্তাও লাঘব হবে।’

এদিকে আন্দোলনের ডাক দেওয়া শিক্ষার্থী নিশাত তাসনীম বলেন, ‘শাহ মখদুম মেডিক্যাল কলেজ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে বন্ধের নির্দেশ দেওয়ায় সেখানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অন্যান্য বেসরকারী মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেন। এতে খুশি হয়েছি আমরা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে সাধুবাদ জানায়।

কিন্তু এই সিদ্ধান্ত বাতিলের জন্য মেডিক্যালের মালিক পক্ষ বিভিন্ন চক্রান্ত করে যাচ্ছেন এবং পুনরায় শিক্ষার্থীদের বিপদে ফেলার চেষ্টা করছেন। এর প্রতিবাদে আমরা অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা রবিবার রাজশাহী জিরোপয়েন্ট মানববন্ধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা আর এই কলেজে থাকতে চাই না। এখন সরকারের সিদ্ধান্ত মতে অন্য কলেজে মাইগ্রেশন করে পড়া-লেখা আবার শুরু করতে চাই। তা না হলে আমাদের ভবিষ্যত জীবন হুমকির মুখে পড়বে।’

ধামরাইয়ে নিন্মমানের খাদ্য খেয়ে ১২শ মুরগির মৃত্যু খাদ্যবিক্রেতার নামে থানায় অভিযোগ ।

স্টাফ রিপোর্টার ঃ ঢাকার ধামরাইয়ের বালিয়াপাড়া জালসা গ্রামে নিন্মমানের খাদ্য খাইয়ে ১ হাজার ২০০ লেয়ার মুরগির মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন খামার মালিক মহিউদ্দিন। তিনি নিম্ন মানের পোট্রি খাদ্য বিক্রেতার বিরুদ্ধে রাতে ধামরাই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

জানা গেছে, ধামরাইয়ের বালিয়াপাড়া জালসা গ্রামের মনি পোট্রি খামার মালিক মহিউদ্দিন তার খামারে দুই হাজার লেয়ার মুরগি পালন করে আসছেন। এসব মুরগির খাদ্য তিনি ধামরাইয়ের বাথুলি বাজারের আব্দুল খালেকের দোকান থেকে লাকী ফিড নামে এ খাদ্য ক্রয় করেন। গত ২২ অক্টোবরও তার দোকান থেকে ১৩ বস্তা খাদ্য কিনেন তিনি। ওই বস্তার খাদ্যগুলো ভেজা ও নিম্মমানের ছিল। ওই খাবার খাওয়ানোর পর থেকেই মুরগির গলাফুলে যায় এবং পাতলা পায়খানা করতে থাকে। এরপরই খামারের মুরগি মারা যেতে থাকে। এ ঘটনায় মানিকগঞ্জ জেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ের চিকিৎসকরাও খামারের মুরগির চিকিৎসা দেওয়ার পরও প্রতিদিনই ৭০ থেকে ১০০টি করে মুরগি মারা যাচ্ছে। আজ রোববার পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ মুরগি মারা গেছে।

পোট্রি খামার মালিক মহিউদ্দিন জানান, নিম্নমানের খাদ্য বিক্রেতা আব্দুল খালেককে বিষয়টি জানানোর পরও তিনি কোন গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তার ভেজা ও নিম্নমানের খাদ্য খাওয়ানোর পরই খামারের প্রায় এক হাজার ২০০ মুরগি মারা গেছে। এতে আমার প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় খাদ্য বিক্রেতা আব্দুল খালেককে আসামি করে থানায় লিখিতভাবে অভিযোগ দিয়েছি।

এব্যাপারে ধামরাই থানার এসআই আরাফাত হোসেন বলেন,খাদ্য খেয়ে মুরগি মারা যাওয়ার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এবিষয়ে খাদ্য বিক্রেতা আব্দুল খালেকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এব্যাপারে ধামরাই উপজেলা প্রাণি সম্পাদ কর্মকর্তা ডা. সাইদুর রহমান বলেন, ভেজাল খাদ্য খেলে মুরগি কলেরাসহ নানা রোগে আক্রান্ত হতে পারে। তবে মরা মুরগি পরীক্ষার পরই বলা যাবে খাদ্য বিষক্রিয়ায় না অন্য কোন কারণে মুরগিগুলোর মৃত্যু হয়েছে।

রাজশাহীতে সাংবাদিকের কার্ডধারী চাঁদাবাজ আটক

সৌমেন মন্ডল,রাজশাহী ব্যুরোঃ সাংবাদিকের কার্ডধারী চাঁদাবাজকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃত নাম বাবু।

আজ রোববার দুপুর ১২টার দিকে রাজশাহী নগরীর সাহেব বাজার জিরোপয়েন্ট এলাকায় চাঁদাবাজির সময় হাতেনামে আটক হন বাবু।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বোয়ালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নিবারন চন্দ্রবর্মন জানান, তার নামে মাদক ও চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে। আজ চাঁদাবাজির সময় তাকে আটক করা হয়।

তিনি আরও বলেন, আমাদের সে সাংবাদিক পরিচয় দিয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে মাদকসহ অন্য মামলা থাকায় সাংবাদিক হিসেবে ধরছিনা। তাকে চাঁদাবাজির মামলায় চালান দেওয়া হবে।

ধামরাইয়ে চিরকুট লেখে মেডিকেলের ছাত্রীর আত্মহত্যা।

মোঃ সম্রাট আলাউদ্দিন, (ধামরাই প্রতিনিধি)ঢাকার ধামরাইয়ে প্রেমে ব্যার্থ হয়ে চিরকুট লিখে মেডিকেল কলেজ পড়ুয়া স্মৃতি আক্তার(২২) নামে এক তরুণী ঘুমের ঔষধ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে।

এ ঘটনায় চিরকুট সহ তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার ভোর রাতে পৌর এলাকার ইসলামপুর বাড়া বাড়ি থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্মৃতি আক্তার সাভারের পিন্স নার্সিং ইনস্টিটিউটে প্যারামেডিকেলের স্টুডেন্ট ছিল।স্বজনরা জানায়,স্মৃতির সাথে হিমেল নামে এক ছেলের সাথে দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

সেই করনে আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা নিহত স্মৃতির স্বজনরা।হিমেল ইসলামপুর একটি জুতা তৈরি কারখানায় চাকরি করেন। স্মৃতি আত্মহত্যা করারা আগে একটি চিরকুট লিখে গেছেন সেই চিরকুটে তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে হিমেল নামে ছেলেকে দায় করে গেছেন। সেই চিরকুট পুলিশের কাছে রয়েছে বলে জানান তারা।

এ ব্যাপারে ধামরাই থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) খায়ের জানান,আমরা খবর পেয়ে নিহত স্মৃতি আক্তারের মরহেদ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করেছি।সেই সাথে আমরা একটি চিরকুট উদ্ধার করেছি। তদন্ত শেষে বলা যাবে মেয়েটি কি কারণে আত্মহা করেছে।এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হবে।

সর্বশেষ আপডেট...