হুমায়ুন কবির, রাণীশংকৈল,( ঠাকুরগাঁও)প্রতিনিধি ঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল পৌর শহর দোকান- প্রতিষ্ঠান কর্মচারী ইউনিয়নের ত্রি বার্ষিক নির্বাচন-২০১৯, ১৫ নভেম্বর শুক্রবার রাণীশংকৈল আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে সভাপতি পদে কার্তিক বসাক, প্রমদীপ সাহা, সুমন বসাক এবং সাধারণ সম্পাদক পদে আনন্দ বসাক, কামাল পারভেজ ও সাহেবী বসাক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মোট ২১৪ জন ভোটার গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোট প্রদান করেন। নির্বাচনে ১১০ ভোট পেয়ে প্রদীপ সাহা সভাপতি এবং ১১৪ ভোট পেয়ে আনন্দ বসাক সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী সুমন বসাক সভাপতি ৫৪ ভোট এবং সাধারণ সম্পাদক পদে কামাল পারভেজ ৮৫ পান ভোট।
নির্বাচন পরিচালনা করেন সংশ্লিষ্ট কমিটির আহবায়ক প্রভাষক প্রশান্ত বসাক, সদস্য সাগর সাহা, অমিত বসাক, মানিক বসাক ও সামু বসাক। নির্বাচন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন উপজেলা পুজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাধন বসাক, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিউল ইসলাম, রাণীশংকৈল প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ইত্তেফাক সংবাদদাতা অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম।
নওগাঁ প্রতিনিধি :নওগাঁর মান্দায় দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অদুরে গড়ে তোলা হয়েছে ইটভাটা। ইতোমধ্যে ভাটায় নতুন ইটকাটা শুরু হয়েছে। কয়লার পরিবর্তে ভাটায় মজুদ করা হচ্ছে কাঠের খড়ি। অচিরেই এ ভাটায় ইট পোড়ানোর কাজ শুরু করা হবে। এতে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়বে দুটি বিদ্যালয়ের ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী। ভাটায় ইট পোড়ানো হলেও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করেননি। গত বুধবার উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা সভায় ভাটাটি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় চেয়ারম্যান ব্রজেন্দ্রনাথ সাহা।
সরজমিনে দেখা গেছে, নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের পাশে মান্দা উপজেলার সাবাইহাট এলাকায় ঝাঁঝরের মোড়ে ভাটাটি স্থাপন করেছেন গোসাইপুর গ্রামের কার্তিক চন্দ্র নামে প্রভাবশালী একব্যক্তি। ভাটাটির নাম দেয়া হয়েছে যমুনা ব্রিক্স। এ ভাটার মাত্র ২৫০ মিটার দুরে রয়েছে একরুখী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একরুখী উচ্চ বিদ্যালয়। রয়েছে দুটি আম বাগান ও আবাসিক এলাকা। ভাটায় ইট পোড়ানো শুরু হলেই এ দুটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মাঝে মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এবারও স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে শিক্ষার্থীরা।
একরুখী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম জানায়, ‘গতবছর ইটভাটা চালু হওয়ার পর হঠাৎ একদিন আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। শ্বাসকষ্টসহ একাধিকবার বমন করেছি। পরে ডাক্তারের নিকট গিয়ে চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে উঠি।’
একই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমন ও মোস্তাকিম জানায়, ইটপোড়ানো শুরু হলে শ্বাসকষ্টের সমস্যায় ভুগতে থাকে শিক্ষার্থীরা। এ সময় আমাদের ক্লাস করতে সমস্যা হয়। এছাড়া স্কুল মাঠের আম গাছগুলোর ফল নষ্ট হয়ে যায়। পরিপক্ক হওয়ার আগেই পচন ধরে গাছ থেকে ঝরে পড়ে আম।
ইট প্রস্তুত ও পোড়ানো পরিবেশ অধিদপ্তর আইনে (২০১৩ এর সংশোধনী) উল্লেখ রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাগান ও আবাসিক এলাকার ১ কিলোমিটারের মধ্যে ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। এ আইনের তোয়াক্কা না করেই দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাত্র ২৫০ মিটার দুরে ভাটাটি স্থাপন ও দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে ইটপোড়ানোর কাজ করে আসছেন কার্তিক চন্দ্র। কোন খুঁটির জোরে ভাটা মালিক আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে ইটপোড়ানোর কাজ করে আসছেন এনিয়ে স্থানীয়দের মাঝে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ব্রজেন্দ্রনাথ সাহা জানান, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে ইটপোড়ানো বন্ধ রাখার জন্য ভাটামালিক কার্তিককে বারবার নিষেধ করার পরও তা মানছেন না। চেয়ারম্যান অভিযোগ করে বলেন, ভাটামালিক কার্তিক চন্দ্রের দম্ভোক্তি পরিবেশ অধিদপ্তরসহ প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের কিনে পকেটে রেখেছেন তিনি। এবিষয়ে প্রশাসনের কোথাও অভিযোগ দিয়েও কাজ হবে না।’
ভাটামালিক কার্তিক চন্দ্র জানান, ‘পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিয়েই ভাটার কার্যক্রম পরিচালনা করছি। কয়লার পরিবর্তে ভাটায় খড়ির মজুদ কেন জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান তিনি।
একরুখী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল ইসলাম জানান, ‘একবছর হয়েছে আমি এ প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেছি। এর অনেক আগে থেকেই বিদ্যালয়ের পাশে ইটভাটাটি রয়েছে। ইটভাটা থেকে যে কালো ধোঁয়া নির্গত হয় তা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকারক। এতে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা মাঝে মধ্যেই শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হালিম জানান, যমুনা ব্রিকসের মালিক কার্তিক চন্দ্রের ইটপ্রস্তুত ও পোড়ানোসহ পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র রয়েছে কি না সেটি আমার জানা নেই। এবিষয়ে তদন্ত করে আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এছাড়া লাইসেন্সবিহীন প্রত্যেকটি ইটভাটার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।’
পরিবেশ অধিদপ্তর বগুড়ার পরিদর্শক মকবুল হোসেন জানান, ‘বিদ্যালয়, বাগান ও আবাসিক এলাকার ১ কিলোমিটারের মধ্যে ভাটা স্থাপন করে ইট প্রস্তুত ও পোড়ানো আইন সম্মত নয়। যমুনা ব্রিকস এ নীতিমালা লঙ্ঘন করে ভাটার কার্যক্রম পরিচালনা করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
ষ্টাফ রিপোর্টার সাভার ঢাকা : ঢাকার সাভারে রাজাকার পরিবারের সন্তান যুবদল নেতা কাউন্সিলর মোঃ মিনহাজ উদ্দিন মোল্লা ( মিনা) আওয়ামীগে অনুপ্রবেশকারী।
তিনি সাভার পৌর এক ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, মামলা থেকে বাঁচতে বিএনপির যুবদল নেতা মিনহাজ উদ্দিন মোল্লা আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনা করে একের পর এক মানুষ খুন করে আসেছে। এর আগে সে যুবলীগ নেতা সি এম বাদশা ফয়সালকে হত্যা, তার পর ব্যবসায়ী সেলিম হত্যা।যুবলীগ নেতা হত্যা মামলায় সে ১নং আসামী। ব্যবসায়ী সেলিম হত্যায় ছেলে অন্তর মোল্লা এজাহারভুক্ত আসামী। এছারাও কাউন্সিলর মিনহাজ উদ্দিন মোল্লার নামে সাভার মডেল থানায় বিএনপির গাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ১৪টি মামলা ও হত্যা মামলা রয়েছে দুটি।
তিনি আরো বলেন, যুবদল থেকে এসে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করে ভুমিদস্য চাঁদাবাজি যুবলীগ নেতা হত্যাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে আওয়ামী লীগের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করছে। এরই মধ্যে কাউন্সিলর মিনহাজ উদ্দিন মোল্লা পরকীয় প্রেমিকার সাথে ফোনালাপে এক অডিও কল রেকর্ড ফাঁস হয়েছে। ফোনালাপে শোনা যায় দুটি পিস্তল ও বিরুলিয়া এক যুবলীগ নেতা হত্যার কথা।মুহুর্তের মধ্যে তার পরকীয়া ফোনালাপ অডিও কল রেকর্ডটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পরে। এর পর পরই এলাকার বিভিন্ন পাড়া মহল্লা অলিগলি ও চায়ের দোকানে তার এই কল রেকর্ড নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনার ঝর উঠে।
স্থানীয়রা বলেন, কাউন্সিলর মিনহাজ উদ্দিন মোল্লার পিতা মৃত আফাজ উদ্দিন মোল্লা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকার ছিলেন। সেমময় তার নেতৃত্বে এলাকায় লুটপাট করাসহ অনেক মা বোন কে অমানবিক অত্যাচার ও ধর্ষণ করা হয়।
এলাকাবাসীরা আরো বলেন, রাজাকার আফাজ উদ্দিন মোল্লার পরিবারের সন্তান কাউন্সিলর মোঃ মিনহাজ উদ্দিন মোল্লার অপকর্মে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। তাই এখনই তাকে আওয়ামী লীগ থেকে বেরকরে দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ কারা উচিৎ বলে মনে করছেন তারা।
মৃধা শাহীন শাইরাজ,তালতলী (বারগুনা) প্রতিনিধিঃ বরগুনার তালতলীর উপকূল এখন শোকের ছায়া, প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবে, সাগরে নিখোঁজ এফ বি তরিকুলের ১৫ জেলের ৮ জেলে ফিরে এলেও বাকি ৭ জেলে ৬ দিনে ফিরে না আসায় উপকূলে এখন শোকের ছায়া।নিখোজ জেলে পরিবার চলছে শোকের মাতম।উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের লালুপাড়া গ্রামের নিখোজ জেলে, রাসেল হাং(৩০), তার তৃতীয় সন্তান ১৮ মাস বয়সী নাঈমা, তারা মাকে বলছে আব্বায় (বাবা) মজা নিয়ে আসবে কবে? আর মুখ লুকিয়ে সন্তানকে সান্ত্বনা দিচ্ছে তার মা। পাসের বাড়িতে,বিলাপ করে কাঁদছে রাসেলের মা ও বোন, তাদের বিলাপে সকলের চোখেই পানি । রাসেলের বাড়ি থেকে একটু সামনে আগাতে নিখোজ সবুজের বাড়ি। ইন্টারমিডিয়েট পাস করে সংসারের হাল ধরতে। বড় ভাইয়ের সাথে ৩রা নভেম্বর সাগরে যায় সবুজ, ৮ নভেম্বর সকালে কূলের দিকে ফিরে আসতেই ট্রলারটির ইঞ্জিন বিকল হয়েযায়,প্রবল ঝড়ের কারনে রাত৮ টায় ডুবে যায় ট্রলার টি। তিন রাত দুই দিন সাগরে ঝড়ের সাথে মোকাবিলা করলেও, পাগরা তলী চরে হারিয়ে যায় সবুজ, নিখোঁজ সন্তানের ছবি বুকে নিয়ে কাঁদছ সবুজের মা। পাসেই কাদছে সবুজের আপন বড় ভাই জসিম, তারা চোখের সামনেই তিন রাত দুই দিন সাগরে ঝড়ের সাথে য্দ্ধু করলেও পাগরা তলী চরে হারিয়ে ফেলেন তিনি, চোখের সামনে ভাইকে হারিয়ে পাগল প্রায়,তার ভাই । ৭ জেলে নিখোঁজ থাকায় উপকূলের আকাশে বাতাসে এখনো শোকের ছায়া
উলক্ষ্য গত( ৮ নভেম্বর) শুক্রবার রাত ৮ টায় ডুবে যায় এফ বি তরিকুল নামে একটি মাছ ধরার ট্রলার। ঐ ট্রলারে থাকা ১৫ জেলের মধ্যে মঙ্গলবার রাতে ৮ জন জেলে বাড়ি ফিরে আসলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছে ৭ জেলে। এরা হলেন মো. হোসেন আলী (৫৫),শানু হাওলাদার (৫৫), মো. লিটন (৫০), মো. কামাল হোসেন (৩৮),সুমন (৩০)মো. রাসেল মিয়া (৩০) সবুজ ফরাজী (১৮)। ফিরে আসা জেলে মোস্তফা জানান, বরগুনার তালতলী উপজেলার লালুপাড়া গ্রামের মো. নজরুল ইসলামের মালিকানাধীন এফবি তরিকুল নামের একটি ট্রলার ৩ নভেম্বর গভীর সাগরে মাছ ধরছিল। ট্রলারটি তীরে ফেরার পথে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবে নারিকেল বাড়িয়ায় ডুবে যায়।
এ সময় ওই ট্রলারে থাকা ১৫ জন জেলের মধ্যে ১১জন জেলে ট্রলার থেকে বের হতে পারলেও বাকি ৪ জন জেলেকে তিনি বের হতে দেখেন নি । ৩ রাত ২ দিন সাগরে ফ্লুট ধরে ভাসার সময় ২ জন জেলে ও কুলের কাছা কাছি এসে ফ্লুট ছেড়ে দেয়। বাকি নয়জন বাংলাদেশে ও ভারতের সিমান্ত এলাকা পাগড়াতলী চরে পৌঁছান।
ওই চরে প্রায় ৩০ কিলোমিটার হাটার পর মাছ ধড়ার নৌকায় ৮ জন ফিরে আসে কৈখালী বিজিপি ক্যাম্প ও পরে চরে থাকা বাকি একজন জেলে সবুজ(১৮)অনেক খুঁজেও পায়নি বিজিবি সদস্যরা।
আশরাফ হোসেন পল্টু,মাগুরা প্রতিনিধি : মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার দ্বারিয়াপুর ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের তাছের আলী মোল্লার স্ত্রী আমেনা বেগম (৭৫) নামে এক বৃদ্ধার গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর সকালে চলন্ত মাইক্রোবাসের ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছে ।
পুলিশ ও নিহতের ছেলে সেকেন্দার মোল্লা জানান, আমেনা বেগম উপজেলার নাকোল ইউনিয়নের রায়নগর গ্রামে জামাই বাড়ি বেড়াতে যান। সকালে জামাই বাড়ি থেকে মেয়ের জ্যাকে সাথে নিয়ে প্রতিদিনের ন্যায় রাস্থায় হাটতে বের হন। হাটার সময় পথিমধ্যে রায়নগর সান রাইজ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মোড়ে পৌছালে পিছন দিক থেকে দ্রæতগামী একটি মাইক্রোবাস তাকে ধাক্কা দেয় ।
ধাক্কা খেয়ে তিনি ছিটকে পাকা রাস্তরা ওপর পড়ে মারাত্বক আহত হন । আহত অবস্থায় তাকে দ্রæত মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে ।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মাহাবুবুর রহমান বলেন ঘটনার বিষয়টি আমি শুনেছি লিখিত কোন অভিযোগ পাইনি । তবে নিহতের পরিবার থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।
হুমায়ুন কবির, রাণীশংকৈল, (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি ঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার শতবর্ষী যাত্রাদল কুলিক নাট্য সংস্থার উৎসবোত্তর পুণর্মিলনী গত ১৩ নভেম্বর বুধবার সন্ধ্যায় রাণীশংকৈল সংগীত বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সংস্থার সংগঠক অনিল বসাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও সংগীত বিদ্যালয় সভাপতি অধ্যাপক ইয়াসিন আলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অধ্যক্ষ তাজুল ইসলাম, তৈমুর হোসেন ও কবি গীতিকার সাংবাদিক অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম। এছাড়াও এতে সংস্থার সকল সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।
শতবর্ষী এ যাত্রা দলটিকে আরো সংগঠিত ও বেগবান করার লক্ষে অনুষ্ঠানে অতিথি ও সদস্যরা বক্তব্য রাখেন। পরে অনিল বসাককে সভাপতি, প্রবীর বসাক ও নারায়ণ বসাককে সহ সভাপতি, বেতার শিল্পী প্রশান্ত বসাক কে সাধারণ সম্পাদক এবং অভিনেতা হযরত আলীকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়।
আশরাফ হোসেন পল্টু,মাগুরা,প্রতিনিধি : মাগুরা শ্রীপুর উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে কৃষি অফিস চত্ত¡রে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে রবি/২০১৯-২০ মৌসূমে সরিষা,পিয়াজ,ভুট্টা ও শীতকালীন মুগ চাষের জন্য বিনামূল্যে বীজ ও সার আনুষ্ঠানিকভাবে বিতরণ করা হয় ।উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ আতিকুল ইসলামের সভাপতিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইয়াছিন কবীর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপজেলার ৩’শত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে এ বীজ ও সার বিতরণ করেন ।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য অফিসার মোঃ শরীফ হাসান সোহাগ,শ্রীপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মসিয়ার রহমান ও শ্রীপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আশরাফ হোসেন পল্টু ।
মৃধা শাহীন শাইরাজ,তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তান্ডবে সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া ট্রলার এফবি তরিকুল ডুবে যায়। ট্রলারে থাকা ১৫ জেলের মধ্যে মঙ্গলবার রাতে ৮ জন জেলে ফিরে আসলেও নিখোজ রয়েছে ৭জেলে। ফিরে আসা জেলেরা জানান, তালতলী উপজেলার লালুপাড়া গ্রামের মোঃ নজরুল ইসলাম স্বপনের এফবি তরিকুল নামের একটি ট্রলার ৩ নভেম্বর গভীর সাগরে মাছ ধরতে যায়। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তান্ডবে ওই ট্রলারটি কিনারে ফেরার সময় সুন্দরবন এলাকার নারিকেল বাড়ীয়ায় ডুবে যায়।
এসময় ওই ট্রলারে থাকা ১৫ জন জেলের মধ্যে ৯জন জেলে সাগরে ৩দিন ভাসতে ভাসতে বিছিন্নভাবে ভারত ও বাংলাদেশের সিমান্ত এলাকা পাগড়াতলী চরে পৌছেন। ওই চরে টহলে থাকা বিজেবি সদস্যরা দেখে তাদের মধ্যে ৮ জেলেকে উদ্ধার করে কৈখালী বিজিপি ক্যাম্প ও পরে শ্যামনগর থানায় হস্তান্তর করেন।
উদ্ধার হওয়া ওই ৮ জেলে মঙ্গলবার সন্ধ্যার পরে তালতলী উপজেলার লালুপাড়া গ্রামের বাড়ী ফিরেছেন। সাগরে ভেসে আসা ৯ জেলের মধ্যে উদ্ধার না হওয়া তালতলীর জেলে সবুজ ফরাজীর (২০) সন্ধান আজও মেলেনি। উদ্ধার হওয়া জেলে পনু মোল্লা, মস্তোফা ফরাজী, জসিম ফরাজী, জলিল খান ও আনোয়ার হোসেন সিকদার জানান, ওই ট্রলারে থাকা ১৫ জেলের মধ্যে মিস্ত্রিসহ ৬জন জেলে ট্রলারের ভিতরেই ছিল। প্রবল ঢেউয়ে ট্রলারটি ডুবে যাওয়ার সময়ও তাদের ট্রলারের ভিতর থেকে বের হতে দেখেননি। তাদের ধারনা ওই ৬ জেলে ট্রলারের ভিতর থেকে বের হতে পারেননি। তারা হলেন তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের লালুপাড়া গ্রামের কা ন আলী হাওলাদারের পুত্র শানু হাওলাদার (৫৫), আলী আকবর হাওলাদারের পুত্র মোঃ রাসেল মিয়া (২৫) ও ময়জদ্দিন হাওলাদারের পুত্র মোঃ কামাল হোসেন এবং বরগুনার নলী এলাকার মিস্ত্রী মোঃ হোসেন আলী (৫৫), মোঃ লিটন (৫০) ও সুমন (৩০)।
আশরাফ হোসেন পল্টু,মাগুরা প্রতিনিধি : মাগুরার শ্রীপুর সেন্ট্রাল কিন্ডার গার্টেন স্কুলের আয়োজনে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে প্রতিষ্ঠান চত্তরে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপণী পরীক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে ।প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ শিশির শিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইয়াছিন কবীর । বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ নির্মল কুমার সাহা,শ্রীপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মসিয়ার রহমান,সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইকরাম আলী বিশ্বাস,বীরমুক্তিযোদ্ধা ও শ্রীপুর প্রেস ক্লাবের উপদেষ্টা মিঞা শাহাদাত হোসেন,প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক আশরাফ হোসেন পল্টু,বীরমুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম প্রমূখ ।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন শ্রীপুর সরকারি কলেজের সহকারি অধ্যাপক আনোয়ার সাদাত,শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ হীল কাফী,মৌরিন,রিয়া ও নিরব প্রমূখ।
সৈয়দ রুবেল ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধঃ ঝালকাঠির নলছিটিতে মো. বাবুল বিশ্বাস নামে এক গাছ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ঝালকাঠির নলছিটিতে ১১ হাজার ভোল্টের বৈদ্যুতিক লাইনের উপর গাছ ফেলে বৈদ্যুতিক খাম্বা ভাঙার অভিযোগ পাওয়া গেছে।১৩/১১/২০১৯ইং তারিখ বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার পূর্বনান্দিকাঠী গাজী বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটলে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় আড়াই ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে।
রাত ৮টার দিকে কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও তিন গ্রামের মানুষ বিদ্যুতহীন হয়ে পড়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সম্প্রতি উপজেলার নান্দিকাঠি গ্রামের বাসিন্দা মো. মামুন মাস্টার নলছিটি-হদুয়া সড়ক সংলগ্ন নরসিংহপুর এলাকায় বেশ কয়েকটি গাছ বিক্রি করেন। গাছগুলো ক্রয় করেন স্থানীয় গাছ ব্যবসায়ী মো. বাবুল বিশ্বাস। বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজনকে না জানিয়ে তিনি গাছগুলো কাটতে গেলে বুধবার সন্ধ্যায় একটি বড় আকারের চাম্বল গাছ বৈদ্যুতিক তারের উপর পড়লে একটি খাম্বা ভেঙে যায়। এসময় ১১ হাজার ভোল্টের বৈদ্যুতিক লাইনসহ সংযোগ লাইনগুলো ছিঁড়ে যায়। এতে দুর্ভোগে পড়েন স্থানীয়রা। ঘটনার আড়াই ঘন্টা পর কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও সারারাত অন্ধকারে ছিল উপজেলার নাংগুলী, বৈচুন্ডী ও মালিপুর গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ।
এ ব্যাপারে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) নলছিটি উপজেলার আবাসিক প্রকৌশলী মো. ফিরোজ সন্যামত বলেন, বিষয়টি জানার পর তাৎক্ষণিক বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য কর্মচারীরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী (ঝালকাঠি) আব্দুর রহিম জানান, সড়কের পাশে গাছ কাটার বিষয়টি বিদ্যুৎ বিভাগকে আগে থেকে অবহিত করা হলে এমন ঘটনা ঘটতো না।
বৈদ্যুতিক খাম্বা ভেঙে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।