মৃধা শাহীন শাইরাজ তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ বরগুনার তালতলীতে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ চত্তরে বুধবার জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ্ ৩০ জনের মাঝে এসব ত্রান সামগ্রী বিতরণ করেন। প্রতিজনের ত্রান সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ২ বান্ডিল ঢেউটিন, নগদ ৬ হাজার টাকা ও বিভিন্ন রকমের শুকনো খাবার।
জানা গেছে, ৯ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে উপজেলায় সাড়ে ৩ শতাধিক ঘরবাড়ী, শতাধিক পানের র্বজ ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উক্ত ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার লক্ষে তাৎক্ষনিক জেলা প্রশাসক এ ত্রান সামগ্রী বিতরণ করেন।
এসময় উপজেলা চেয়ারম্যান রেজবী-উল-কবির জোমাদ্দার, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মনিকা নাজনীন মনিসহ সাংবাদিক ও বিভিন্ন ইউপি চেয়ারম্যানবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মোঃ রাসেল ইসলাম,বেনাপোল(যশোর)প্রতিনিধিঃ যশোরের বেনাপোল সীমান্ত থেকে ৬ পিস স্বর্ণের বারসহ মনিরা খাতুন (৪৫) নামে এক নারী স্বর্ণ পাচারকারীকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা।বুধবার (১৩ নভেম্বর) সকাল ১১ টায় বেনাপোলের দৌলতপুর সীমান্ত থেকে বিজিবি সদস্যরা তাকে আটক করে।আটক মনিরা খাতুন বেনাপোলের বড়আঁচড়া গ্রামের রমজান আলীর স্ত্রী।
২১ ব্যাটালিয়ন বিজিবির দৌলতপুর ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার মশিয়ার রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পেরে, দৌলতপুর সীমান্তের গরুর খাটালের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে তার শরীর তল্লাশী করে ৬ পিস স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়।
আটক স্বর্ণ পাচারকারীর বিরুদ্ধে স্বর্ণপাচার আইনে মামলা দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হবে বলে তিনি জানান।
মোঃ রাসেল ইসলাম,বেনাপোল(যশোর)প্রতিনিধিঃ ভারতে পাচার কালে যশোরের বেনাপোল ঘিবা সীমান্ত থেকে ২ পিস স্বর্ণেও বার সহ শ্রী দিলিপ বিশ্বাস (৩৫) নামে এক পাচারকারীকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা। বুধবার(১৩ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১ টায় বেনাপোল ঘীবা সীমান্তের পিলার-২২,মাঠ থেকে ৪৯ ব্যাটালিয়নের বিজিবি ঘিবা ক্যাম্পের হাবিলদার মোঃ ওবায়দুল হকের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা তাকে আটক করে।আটক শ্রী দিলিপ বিশ্বাস ৩ নং ঘীবা গ্রামের শ্রী নরেন বিশ্বাসের ছেলে।
যশোর ৪৯, বিজিবি ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর মোঃ নজরুল ইসলাম জানায়, গোপন খবরে জানা যায়, বেনাপোল সীমান্ত পথে ভারতে স্বর্ণের বড় একটি চালান পাচার হবে। পরে বিজিবি সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করে। এক পর্যায়ে সন্দেহ ভাজন ওই যুবক দিলিপকে ঘীবা সীমান্তের মাঠ থেকে তাড়িয়ে আটক করা হয়। পরে তার শরীর তল্লাশী করে ১ কেজি ৯৯৮ গ্রাম ওজনের ২ পিস স্বর্ণেও বার উদ্ধার করা হয়। যার বাজার মুল্য প্রায় এক কোটি আট লাখ টাকা।
আটক স্বর্ণ পাচারকারীর বিরুদ্ধে আইনী প্রক্রিয়া শেষে বেনাপোল পোর্ট থানায় সোপর্দ করা হবে।
হুমায়ুন কবির ,ঠাকুরগাঁও (প্রতিনিধি)ঃ ঠাকুরগাঁওয়ের সদর উপজেলার নারগুন ইউনিয়নের কহরপাড়া গ্রামে হিজড়া জনগোষ্ঠিদের জীবনমান উন্নয়নে নির্মিত গুচ্ছগ্রাম উত্তরণের শুভ উদ্বোধন করলেন ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ড. কে.এম কামরুজ্জামান সেলিম। এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক ড. কে.এম কামরুজ্জামান সেলিম অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্যরাখেন উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভ‚মি) বহ্নি শিখা আশা, প্রেসক্লাব সভাপতি মনসুর আলী প্রকল্প কর্মকর্তা স্যামিয়েল মার্ডি, সদর থানার ওসি (অপারেশন) গোলাম মর্তুজা নওগা ইউপি চেয়ারম্যান পয়গাম আলী হিজড়া জনগোষ্ঠীর নেতা নাদিবা প্রমুখ।
উল্লেখ যে, ০.৯২ একর জমিতে ৩০ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা ব্যায়ে ২০টি হিজড়া পরিবারকে গুচ্ছগ্রামের মাধ্যমে পূণর্বাসন করা হয়। পরে আরও ৪০ জন হিজড়ার বাসস্থান করে দেওয়া হবে বলে জানা যায়।
এছাড়াও তাদের দৈনন্দিন জীবন জীবিকা নির্বাহের জন্য পুকুর প্রদান পার্লার স্থাপন গবাদিপশু, পালনসহ নানা কর্মসূচি সদর উপজেলা প্রশাসন হাতে নিয়েছে।
আপেল মাহমুদ,নওগাঁ:বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কনসালটেন্ট নারা বর্মণ কারকি নওগাঁর মান্দায় শতভাগ টিকাদান কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন। গতকাল বুধবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের কয়েকটি টিকাদান কেন্দ্র পরিদর্শনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। এ লক্ষে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কনসালটেন্ট নারা বর্মণ কারকি সকাল ১০টার দিকে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আগমন করেন। এসময় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিভাগীয় সমন্বয়কারী ডা. কামরুজ্জামান, নওগাঁর সার্ভিলেন্স এন্ড ইমুলাইজেশন মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদুর রহমান তাঁর সঙ্গে ছিলেন।
পরে তিনি মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে স্থানীয় সাংবাদিক ও পুলিশের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এরপর উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের বড়বেলালদহসহ কয়েকটি টিকাদান কেন্দ্র পরিদর্শন করেন তিনি। এসময় স্থানীয় কমিউনিটি লিডারদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে কুসুম্বা ইউনিয়ন পরিষদে যান। সেখানে স্থানীয় চেয়ারম্যান নওফেল আলী মন্ডলসহ পরিষদ সদস্য ও উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এসব বিষয়ে কথা বলেন তিনি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিভাগীয় সমন্বয়কারী ডা. কামরুজ্জামান জানান, মান্দা উপজেলার ১৪ ইউনিয়নের ৯৮ ভাগ শিশুকে ইতোমধ্যে টিকাদান কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়েছে। অবশিষ্ট ২ ভাগ শিশুকে চিহ্নিত করতে বাড়ি বাড়ি কাজ করছেন স্বাস্থ্যকর্মিরা। আগামি ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে এ উপজেলা শতভাগ টিকাদান কার্যক্রমের আওতায় আসবে। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে এ উপজেলাকে মডেল হিসেবে ঘোষণা করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সৌমেন মন্ডল, জ্যাষ্ঠ প্রতিনিধিঃ একটু একটু করে সূর্যের তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে।দিনটাও রাতের তুরনাই ছোট হয়ে গেছে।সূর্যিমামা একটু আগেভাগেই ডুব দিচ্ছে।উত্তরের হাওয়া বলে দিচ্ছে চলে এসেছে শীতের মহারাণী। হেমন্তের শিশির বিন্দুতে সাদা কাশফুলের রঙও এখন বিবর্ণ হয়ে আসছে। শহরে এখনও ওইভাবে শীত না পড়লেও গ্রামাঞ্চলে শীত পড়তে শুরু করেছে।
সন্ধ্যার পরপরই কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় বন্দী হয়ে যাচ্ছে বিস্তীর্ণ জনপদ। তাপমাত্রা কমছে সারাদেশেই।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, মেঘে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল । আর তাই বাতাসের তাপমাত্রা কমেছে। ফলে শীতের আমেজ পাওয়া যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই অসময়ে শীত কিংবা গরম পড়ছে। তবে কনকনে শীত আসতে এখনো বেশ বাকি আছে।
সাধারণত বাংলাদেশে ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শীতের মৌসুম ধরা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিককালে এই সমীকরণ পাল্টে গেছে। এই তিন মাস মিলে শীতকাল হলেও গত কয়েক বছর অক্টোবরের শুরু থেকেই আসতে শুরু করছে শীতের আমেজ। এ সময় সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থান করে বলে বাংলাদেশ ও এর পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে সূর্যের রশ্মি তির্যকভাবে পড়ে। ফলে কমতে থাকে তাপমাত্রা, অনুভূত হয় শীত।
তবে গ্রামঅঞ্চলের দিকে সীত কে বরন করে নিয়ে চলছে খেজুরের রস সংরক্ষণ। বিক্রি হচ্ছে শীতের বিভিন্ন পিঠা,পুলি।
মৃধা শাহীন শাইরাজ তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধঃ বরগুনা তালতলী বন বিভাগের কিছু অসাধু বন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যোগসাজশে উপজেলার বিভিন্ন সংরক্ষিত বন অঞ্চল থেকে প্রতিনিয়ত পাচার হচ্ছে গাছ। যার কারণে সরকার হারাচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব। হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র। সরকার নতুন বনায়ন ও সংরক্ষিত বন অঞ্চল রক্ষায় কোটি কোটি টাকা খরচ করেলেও এর কোন সুফল হচ্ছেনা এসব গুটি কয়েক অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর জন্য ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, পটুয়াখালী বন বিভাগের আওতাধীন বরগুনার তালতলী রেঞ্জের নিশানবাড়িয়া নলবুনিয়া বিট হতে কতিপয় অসাধু বন কর্মকর্তাদের সহযোগীতায় নিয়মিত কেওরা ও ঝাউ গাছ পাচার হচ্ছে। আর রাতের আধারে গাছ কেটে ট্রলার নিয়ে বনের এরিয়ার মধ্যেই স্ব মিলে কাটা হচ্ছে গাছ গুলো ।
আবার নদী পথে কলাপাড়া ও পৌছানো হচ্ছে
কখনো গাছ সহ বন কর্মচারীদের গ্রেফতার করছে প্রশাসন । আবার কখনো গাছ সহ ট্রলার আটকের পরেও টাকার বিনিময় ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে ।
এমনি একটি সংবাদ পেয়ে বুধবার দিবাগত রাত ১২,৩০ মিঃ নিশান বাড়িয়া ইউনিয়নে নলবুনিয়া শুভ সন্ধ্যা সমুদ্রে সৈকতে গেলে দেখা যায় ঝাউ গাছ সহ একটি ট্রলার আটক করেছে নিশান বাড়িয়া নলবুনিয়া বিট কর্মকর্তা সমির বাবু। এবং পরে স্থানীয় জাহাঙ্গীরের মধ্যেস্থ্যতায় ৩০,০০০ টাকার বিনিময় ট্রলার টি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সাধারণ জনগন ।এ বিষয় নিশান বাড়িয়া নলবুনিয়া বিট কর্মকর্তা সমির বাবুর কাছে ট্রলার আটকের পর কি করা হয়েছে এবং সিজার লিষ্টের বিষয় জানতে চাইলে তিনি ব্যাস্ত বলে ফোনের লাইন টি কেটে দেন।
এ বিষয় বৃহস্পতিবার ট্রলার আটকের বিষয় উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তা নয়ন মিস্ত্রি বলেন বিট অফিসার সমির বাবু এ বিষয় মামলা দায়ের করেছে আর ট্রলারটি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের জিম্মায় রাখা হয়েছে।
তবে এ বিষয় ইউপি চেয়ারম্যান দুলাল ফরাজি বলেন আমার জিম্মায় একটি ট্রলার দেওয়া হয়েছে।
এর কিছুক্ষন পরেই ৭ নং সোনাকাটা ২নংইউপি সদস্য সহিদ আকন মুট ফোন দিয়ে বলেন আপনার ব্যাবস্থা আমি করবো।আর ট্রলারের বিষয় কোন নিউজ না করতেও নিষেধ করেন তিনি ।
পরিবেশবিদ হাসান ঝন্টু বলেন, এভাবে যদি সংরক্ষিত বন অঞ্চল উজার হয়। তবে অচিরেই পরিবেশের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলবে তালতলীর সংরক্ষিত বন অঞ্চল। পর্যটন এলাকা থেকে হারিয়ে যাবে ।
শামশুজ্জোহা বিদ্যুৎ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ডিএন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের মাদকবিরোধী অভিযানে শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ৭৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৫০ গ্রাম গাঁজাসহ ৫ জন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।জানা গেছে, ১২ নভেম্বর মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে পরিদর্শক মো. রায়হান আহমেদ খাঁন এর নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স শিবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ৭৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৫০ গ্রাম গাঁজাসহ ৫ জন ব্যক্তিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা শিবগঞ্জ উপজেলার বালিয়াদিঘী কলোনীপাড়ার মৃত লুকুমুদ্দীনের ছেলে. হাসানুল ইসলাম (৩৮), সদর উপজেলার গোয়ালবাড়ী গ্রামের মৃত মন্টুলালের ছেলে শ্রী প্রশান্ত (২২), নামোশংকরবাটি নতুন পাড়ার. মো. আ. মালেকের ছেলে মো. রুবেল (৩২), নামো বড়িপাড়া গ্রামের মৃত রুহুল আমিনের ছেলে মো. তরিকুল (৩২) ও দক্ষিণ চরাগ্রামের মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে মো. আলমগীর হোসেন (৩২) দেরকে ৭৫ পিস ইয়াবা ও ৫০ গ্রাম গাঁজা সহ গ্রেফতার করা হয়।
পরে ভ্রাম্যমান আদালতে আসামীদের হাজির করা হলে প্রত্যেককে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করে জেল হাজতে প্ররণের নির্দেশ দেন। জেলায় মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান রায়হান।
মোঃ সম্রাট আলাউদ্দিন(ধামরাই প্রতিনিধি) উন্নয়নের গনতন্ত্র শেখ হাসিনার মূলমন্ত” এ স্লোগানকে সামনে রেখে ২০১৮-১৯ইং অর্থ বছরের এল জি এস পি-৩ প্রকল্পের আওতায় আজ দুপুরে সূতিপাড়া শ্রীরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দরিদ্র ও অসহায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।উক্ত অনুষ্ঠানে সূতিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধামরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সামিউল হক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) অন্তরা হালদারসহ ইউপি সদস্যগণ।অনুষ্ঠান শেষে ঢাকা জেলার ধামরাই থানাধীন সূতিপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রকল্প উদ্বোধন ও ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন এবং মতবিনিময় সভা করেন।
আপেল মাহমুদ, নওগাঁ প্রতিনিধি : মাচায় মাচায় ঝুলছে লাউ, শিম, পটল, শসা ও করিল্যা। কোথাও আবার বেগুন, কপি, লাল শাকসহ নানা রকমের নতুন নতুন শীতের সবজিক্ষেত। এমন সবুজ ক্ষেতের দৃশ্য এখন হরহামেশাই চোখে পড়ছে শস্য ভান্ডার নামে পরিচিত নওগাঁর মান্দা উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের গ্রামে গ্রামে। চলতি মৌসুমে আগাম সবজি চাষ করে লাভের মুখ দেখেছেন অনেক কৃষক। তবে, এবছর অসময়ে প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারণে অনেকে আবার পড়েছেন ক্ষতির মুখে।
চাহিদা মেটাতে অনেক গৃহিণী আবার বসতভিটায় সবজির চাষ করেছেন। বসতভিটার আশপাশে এসব সবজির চাষ করতে বেশি জায়গার প্রয়োজন হয়নি। বায়োচার ব্যবহারে স্বল্প খরচে চাষ হয়েছে বিভিন্ন জাতের সবজি। পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে এসব সবজি বাজারে বিক্রি করে বাড়তি আয় করেছেন তারা। লাভবান হওয়ায় গ্রামে গ্রামে দিনদিন বাড়ছে সবজির চাষ।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৫শ হেক্টর জমিতে সবজির আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে বেগুন ৮৫ হেক্টর, ফুলকপি ৯০ হেক্টর, বাধাকপি ৬৫ হেক্টর, মুলা ৪০ হেক্টর, শিম ৫০ হেক্টর, মিষ্টি কুমড়া ২০ হেক্টর, ক্ষিরা ৩০ হেক্টরসহ অবশিষ্ট জমিতে বিভিন্ন ধরণের সবজির চাষ করেছে কৃষক। এছাড়া ৬৫০ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের আলু ও ১৮০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে তোড়া পেঁয়াজের।
সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, সবজির জমি তৈরিকালে গত ২৬ সেপ্টেম্বর অসময়ে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়েছে। সেসময় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল ৯৫ মিলিমিটার। এতে আগাম সবজিসহ তোড়া পেঁয়াজ ও সরিষার চাষ পিছিয়ে যায়। এ বৃষ্টিপাতের আগে যেসব কৃষক আলু, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষ করেছিলেন তারাও পড়ের ক্ষতির মুখে।
উপজেলার মান্দা ইউনিয়নের মাগুরা গ্রামের কৃষক দুলাল হোসেন জানান, ‘চলতি মৌসুমে আমি ২৫ কাঠা জমিতে ফুলকপি ও বাধাকপির চাষ করেছি। ব্যয় হয়েছে ১৮-২০ হাজার টাকা। অসময়ে বৃষ্টিপাতের কারণে ফসল তৈরি করতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। ফুলকপিতে পচন রোগ ধরছে। বিভিন্ন কোম্পানির ওধুষ প্রয়োগ করেও সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। তবে, ফুলকপি জমি থেকেই ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। ভাল দাম পাওয়ায় এ ফসল থেকে লাভের আশা করছেন তিনি।’
এ কৃষক আরও বলেন, একবিঘা জমিতে আগাম জাতের আলুর চাষ করেছি। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টির কারণে গাছ ভাল হয়নি। গাছের শক্তিও তুলনামুলক কম। এ ফসলে লোকসানের মুখ পড়তে পারেন বলে উল্লেখ করেন কৃষক দুলাল হোসেন। একই গ্রামের কৃষক আব্দুস সালাম দুই বিঘা জমিতে ফুলকপির চাষ করেছেন। তার জমিতে কপির চারাগুলো সবে সতেজ হয়ে উঠছে।
উপজেলার চকভোলাই গ্রামের কৃষক আতাউর রহমান ও চকদেবীরাম গ্রামের দেলবর রহমান দশ কাঠা করে তোড়া পেঁয়াজের চাষ করেছেন। পেঁয়াজের গাছগুলো ইতোমধ্যে অনেক বড় হয়ে গেছে। আর দুই সপ্তাহের মধ্যে এসব তোড়া পেঁয়াজ জমি থেকে তুলে বাজারে বিক্রি করা যাবে আশা প্রকাশ করেছেন তারা। এসব গ্রামের মাঠে প্রচুর তোড়া পেঁয়াজের চাষ হলেও এবার অনেকটা কম হয়েছে।
এলাকার কৃষকরা জানান, এবারে তোড়া পেঁয়াজের বীজের দাম অনেক চড়া। এক বিঘা জমিতে এ মৌসুমে রোপণের জন্য অন্তত: ২৮ হাজার টাকার বীজ পেঁয়াজের প্রয়োজন হবে। এত চড়া দামে বীজ কিনে লোকসানে পড়ার শঙ্কায় আবাদ কম হয়েছে। এছাড়া অসময়ে বৃষ্টিতে তৈরি জমি নষ্ট হয়ে যায়। পরবর্তীতে ওইসব জমিতে আবারও হালচাষ করতে হচ্ছে।
উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা গেছে, শীতের নতুন সবজি বেগুন ৫০ টাকা, ফুলকপি ৭০ টাকা, বাধাকপি ৩০টাকা, মুলা ৩০ টাকা, শিম ৮০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, পালং শাক ৪০ টাকা, গাঁজর ১০০ টাকা, শসা ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে এ অঞ্চলের কৃষকদের বোরো ধান ছেড়ে অন্য ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ করছেন কৃষি বিভাগ। কৃষিবিদরা বলছেন, পানিসাশ্রয়ী ফসলের চাষ বাড়ানো গেলে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন কমে যাবে। এতে রক্ষা পাবে পরিবেশের ভারসাম্য। এজন্য সবজি, গমসহ পানি সাশ্রয়ী ফসল চাষে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
মান্দা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান জানান, এ উপজেলার কুসুম্বা, মান্দা, নুরুল্লাবাদসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের মাটিতে প্রচুর পরিমানে সবজির চাষ হয়ে থাকে। কৃষকরা তাদের জমি থেকে টাটকা সবজি তুলে স্থানীয় হাটবাজারে প্রতিদিন বিক্রি করছেন। কৃষকদের উৎপাদিত সবজি এলাকার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন শহরে চলে যাচ্ছে। অল্প জমিতে সবজি চাষ করে বেশি আয় হওয়াই দিনদিন বাড়ছে এর পরিধি।