হুমায়ুন কবির, (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দোল পূর্ণিমা বা হোলি উৎসব আজ। বাংলাদেশে এই উৎসবটি ‘দোলযাত্রা’ ও ‘দোল পূর্ণিমা’ নামে পরিচিত।এ উপলক্ষে নানা রঙে রঙিন হয়ে উঠেছিল ঠাকুরগাঁওয়ের শ্রী-শ্রী রামকৃষ্ণ আশ্রমপাড়া মন্দির।
শুক্রবার (১৮ মার্চ) দিনব্যাপী পালন করা হয় রঙিন এই দোল উৎসব। ঠাকুরগাঁও হোলি উদযাপন কমিটির আয়োজনে দুপুরে মন্দির প্রাঙ্গণে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। উৎসবে অংশ নিয়ে উল্লাস করা তরুণ-তরুণীরা বলেন, ধর্ম যার যার, কিন্তু উৎসব তো সবারই।
ঠাকুরগাঁও হোলি উৎযাপন কমিটির সভাপতি দোলক কুমার রায় বলেন, দোলযাত্রা হিন্দু বৈষ্ণবদের উৎসব। বৈষ্ণব বিশ্বাস অনুযায়ী, এ দিন শ্রীকৃষ্ণ বৃন্দাবনে রাধিকা এবং তার সখীদের সঙ্গে আবির খেলেছিলেন। সেই ঘটনা থেকেই দোল খেলার উৎপত্তি। এ কারণে দোলযাত্রার দিন এ মতের বিশ্বাসীরা রাধা-কৃষ্ণের বিগ্রহ আবিরে রাঙিয়ে দোলায় চড়িয়ে নগর কীর্তনে বের হন। এ সময় তারা রং খেলার আনন্দে মেতে ওঠেন।দ্বাপর যুগ থেকে পুষ্পরেণু ছিটিয়ে রাধা-কৃষ্ণ দোল উৎসব করতেন। সময়ের বিবর্তনে পুষ্পরেণুর জায়গায় এসেছে ‘আবির’। এবং এই উৎসবের আরেক নাম বসন্তোৎসব। চৈত্র মাসের পূর্ণিমা তিথিতে দোলযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি আরও বলেন, প্রতিবারের মতো এবারও আমরা এই দোলযাত্রা উপলক্ষে নানা আয়োজন করা হয়েছে। আমাদের এখানে সব ধর্মের লোকেরাই অংশগ্রহণ করে থাকেন। সবাইকে নিয়েই এই দিনটি আমরা এক সঙ্গে আনন্দের মধ্যে পালন করে থাকি।
কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের কালিয়াকৈরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০২তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে (১৭ মার্চ) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সরকারি হাই স্কুলের মাঠে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।
এসময সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু সরকারি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক আনন্দ কুমার দাস। বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জায়েদা নাসরিন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জাকির হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুরাদ কবির, কালিয়াকৈর পৌরসভার কাউন্সিল মো. আমিনুল ইসলাম সহ অনেকেই।
এম এ জব্বার: ১৯৭৯ সালে মেলার সঙ্গে যুক্ত হয় বাংলাদেশ পুস্তক বিক্রেতা ও প্রকাশক সমিতি।
এ সংস্থাটিও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন চিত্তরঞ্জন সাহা। ১৯৮৪ সালে এসে গ্রন্থমেলার জন্য বিধিবদ্ধ নীতিমালা প্রণীত হয় এবং গ্রন্থমেলার নাম হয় ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’। সেই থেকে এ গ্রন্থমেলা প্রতি বছর প্রায় একই আঙ্গিকে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
অমর একুশে গ্রন্থমেলা – পাঠককের পদ চারনায় মুখরিত বই মেলা প্রাঙ্গণ। বই বাধাইয়ের দর নিয়ে প্রকাশক সমিতির সাথে মত পার্থক্যকের ২ দিন ধরে ধর্মঘট পালন করছে বই বাধাই মালিক সমিতি।
ধর্মঘটের কারনে বন্ধ হয়ে আছে নতুন বইয়ের প্রকাশনা, বিপাকে পরছেন ও লেখকরা। তবে অনেক প্রকাশকদের মতে কাগজ ও অনান্য জরুরী কাচা মালের মূল্যে বৃদ্ধির কারনে বই বাধাইয়ের দাম বাড়াটা এখন সময়ের দাবি।
বই বাধাই মালিক সমিতির দাবি দ্রব্য মূল্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায়, বাধাই শ্রমিকদের দিন দিন হাজিরা বাড়াতে হচ্ছে।
এ সময় সৃজনশীল ও ধর্মীও পুস্তক বাধাই সমিতির সভাপতি – কামরুজ্জামান খাঁন (কচি) জানান – তাদের ধর্মঘোট স্থগিত রাখা হয়েছে এবং প্রকাশকদের সাথে এ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, অচিরেই এর একটি সঠিক সমাধান আসবে।
সাভার প্রতিনিধি: সাভারে বর্জ্য-আবর্জনার অব্যবস্থাপনা রোধে বর্জ্য অপসারণের জন্য নির্ধারিত জমি অধিগ্রহণের দাবিতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে সাভার থানা বাসস্ট্যান্ডের একটি মিলনায়তনে “সাভারের বর্জ্য অব্যবস্থাপনা রোধে করণীয়” শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে পরিবেশবাদী সংগঠন সবুজ আন্দোলন।
সবুজ আন্দোলন সাভার থানার যুগ্ম-আহ্বায়ক লায়ন মাহফুজ-উল-হকের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সবুজ আন্দোলনের চেয়ারম্যান বাপ্পি সরদার।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ধামরাই উপজেলার সহ-সভাপতি অভিনেতা আব্দুর রহিম খান মন্টু। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাভার থানা কমিটির সদস্য সচিব ওমর ফারুক।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাদ্দাম হোসেন, ধামরাই উপজেলা কমিটির সভাপতি শাহীন আলম, সাধারণ সম্পাদক গোবিন্দ বল জয়, সাভার থানার যুগ্ম-আহ্বায়ক মহসিন আলম খান, আলোকিত বাংলাদেশের পত্রিকার স্থানীয় প্রতিনিধি জাহিন সিংহ।
এ সময় সবুজ আন্দোলনের চেয়ারম্যান বাপ্পি সরদার বলেন, ঢাকা সিটির বর্জ্য সাভার উপজেলার বনগাঁও ইউনিয়নের বলিয়ারপুর বাজারের পাশে ফেলা হলেও সাভারের বর্জ্য অপসারণের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো জায়গা নেই। সাভারসহ বাংলাদেশের সকল শিল্পাঞ্চল এলাকার জন্য বর্জ্য অপসারণে জায়গা বরাদ্দ করা এখন সময়ের দাবি।
সাভার পৌরসভা কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতা থাকলে এতদিনে বর্জ্য অপসারণের জন্য জায়গা অধিগ্রহণ সম্ভব হতো। আগামীতে সাভার উপজেলার জনগণকে বিশুদ্ধ পানি সংকটে ভুগতে হবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন বক্তারা।
হুমায়ুন কবির রানীশংকৈল(ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসনের বাস্তবায়নে সোমবার (১৪ মার্চ) দুপুরে ফলক উম্মোচনের মধ্যদিয়ে প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী রামরাই দিঘীর সৌন্দর্যবর্ধন কাজের শুভ উদ্বোধন করেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহরিয়ার আজম মুন্না।
পরে পুকুর পাড়ের বট চত্বরে ইউএনও সোহেল সুলতান জূলকার নাইন কবির স্টিভের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সাবেক সাংসদ অধ্যাপক ইয়াসিন আলী।
বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা সহকারি কমিশনার ভুমি ইন্দ্রজিৎ সাহা,ভাইস চেয়ারম্যান শেফালী বেগম, কৃষি অফিসার সঞ্জয় দেবনাথ বরেন্দ্র সহকারি প্রকৌশলী তিতুমীর রহমান,পৌর-আ’লীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম,অধ্যক্ষ মহাদেব বসাক,ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন ও জমিরুল ইসলাম,মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান।
এছাড়াও প্রধান শিক্ষক ফরিদা ইয়াসমিন ও রুহুল আমিন,রানীশংকৈল প্রেসক্লাব আহব্বায়ক কুশমত আলী ও সভাপতি ফারুক আহমেদ, সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মঞ্জুরুল আলম ও জাহিদ হাসান,উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সামিয়েল মার্ডি,খাদ্য সহকারি অফিসার নবাব আলী,প্রভাষক আলমগীর হোসেনসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মিরা উপস্থিত ছিলেন৷ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহকারি অধ্যাপক প্রশান্ত বসাক৷
প্রসঙ্গত: রামরায় দিঘিতে সৌন্দর্যবর্ধন হিসাবে গেট, দর্শনার্থীদের জন্য গেস্ট হাউজ, গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা নির্ধারণ, প্রতিটি পাড়ে বসার জায়গা, পুকুরের পানিতে ঘুরার জন্য নৌকা, পাবলিক টয়লেট নির্মাণ, স্ট্রিট লাইটসহ বিদ্যুতের ব্যবস্থা রয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ামম্যান ও ইউএনও’র সাথে কথা বললে তারা বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই দিঘীতে দর্শনার্থীদের জন্য সুবিধা এবং পুকুরের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে আমরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছি। আরো কিছু কাজ চলমান রয়েছে।
আশরাফ হোসেন পল্টু,মাগুরা প্রতিনিধি: “শিক্ষা নিয়ে গড়ব দেশ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ” এ প্রতিপাদ্য বিষয়টিকে সামনে নিয়ে গতকাল সোমবার দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠান মালার মধ্যে দিয়ে ঐতিহ্যবাহী শ্রীপুর সরকারি এম,সি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১২০তম বার্ষিক ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে ।
অনুষ্ঠান মালার মধ্যে ছিল অতিথিবৃন্দের আসনের গ্রহনের পরপরই পবিত্র কোরআন থেকে তেলওয়াত, গীতাপাঠ, জাতীয় সংগীতের তালেতালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা, মশাল প্রজ্জ্বলণ, ডিসপ্লে ও যেমন খুশী তেমন সাজো ।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি লিউজা-উল-জান্নাহ অনুষ্ঠানে সভাপতি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানটির শুভউদ্বোধন ঘোষণা করেন।
এময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারি কমিশনার (ভুমি) শ্যামা নন্দ কুন্ডু, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইকরাম আলী বিশ্বাস, শ্রীপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উত্তম কুমার অধিকারী ।
কালিয়াকৈর( গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছে।
সোমবার সকালে (১৪ মার্চ) ধামরাই টু মাওনা আঞ্চলিক সড়কের উপজেলার বড় চালা নামক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তি হলেন কালিয়াকৈর উপজেলার হাবিবপুর এলাকার মিজানুর রহমানের ছেলে তানভীর (২১)।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গাজীপুরের মাওনা এলাকা থেকে তানভীর তার নিজ বাড়ি হাবিবপুরের উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেল যোগে রওনা দিয়ে ধামরাই টু মাওনা আঞ্চলিক সড়কের কালিয়াকৈর উপজেলার বড় চালা নামক এলাকায় পৌঁছালে পিছন থেকে দ্রুতগামী একটি ট্রাক মোটরসাইকেল আরোহীকে সজোরে ধাক্কা দিলে মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে যায়।
স্থানীয়রা আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই ঘটনায় কালিয়াকৈর থানার ফুলবাড়িয়া পুলিশ ফাঁড়ির উপ পরিদর্শক (এস আই) সোহেল মোল্লা বলেন স্থানীয়রা ঘাতক ট্রাকসহ চালককে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
হুমায়ুন কবির, রানীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযুক্ত পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের কম্পিউটার অপারেটর (শিক্ষক) তৌহিদুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আটকের নির্দেশ দেন।
সোমবার (১৪ মার্চ) দুপুরে রাণীশংকৈল চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এস রমেশ কুমার ডগার আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন তৌহিদুল ইসলাম। তবে বিচারক আবেদন বাতিল করে তৌহিদুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তৌহিদুল ইসলাম রাণীশংকৈল উপজেলার সহোদর গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে এবং রাণীশংকৈল পাইলট হাইস্কুলের কম্পিউটার অপারেটর ছিলেন। এর আগে গত ৫ মার্চ তৌহিদুল ইসলামকে আসামি করে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে রাণীশংকৈল থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। সেইদিন তৌহিদুল ইসলামের বিচারের দাবিতে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা পৌরশহরে মানববন্ধন করেন। সেই সঙ্গে তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচারের দাবিতে ইউএনও এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দেয়।
এর পর আরো একবার আন্দোলন করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। সর্বশেষ ১৩ মার্চ তৌহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের দাবিতে রাস্তা অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। এতে প্রশাসন ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেন । অবশেষে জেলা আদালতে জামিন নিতে গেলে আটক হয় অভিযুক্ত তৌহিদুল ইসলাম ।
মোঃ সম্রাট আলাউদ্দিন, ধামরাই(ঢাকা)থেকেঃ-ঢাকার ধামরাইয়ে ব্যক্তিগত গাড়িচাপায় মা সহ দুই ছেলে নিহতের ঘটনায় ঘাতক গাড়িটি (ঢাকা মেট্রো- চ ১৯-০২৭৭) সনাক্ত ও চালককে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
এ ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছে নিহতের পরিবার ও স্থানীয় নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) আন্দোলনের কর্মীরা।পুলিশ বলছে, ‘গাড়িটি ধরতে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। দ্রুত তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।’
১১ মার্চ রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার ঢুলিভিটা-ধামরাই বাজার সড়কের মমতাজ মেডিকেলের সামনে প্রাইভেটকার ও যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষে মা ও দুই ছেলেসহ একই পরিবারের ৩ জন নিহত হন। নিহতরা হলেন, ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের ভাড়ারিয়া এলাকার নাসির উদ্দীন খানের স্ত্রী পিয়ারা বেগম (৪৫) ও দুই ছেলে নাসিব খান (২০), ছোটন খান (১৮)।
ঘটনাস্থলের পাওয়া ছবিতে দেখা যায় গাড়িটি (ঢাকা মেট্রো- চ ১৯-০২৭৭) নম্বরে রেজিষ্ট্রেশন করা। তবে ওই গাড়িটির মালিকের পরিচয় জানায়নি পুলিশ।
এ ঘটনায় গতকাল (১২ মার্চ) রাতে বাবা নাসির উদ্দীন খান বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।
এদিকে ওই দুর্ঘটনার পরেই রাতেই ঘটনাস্থল থেকে ঘাতক গাড়িটি সরিয়ে ফেলা হয়। এছাড়া উধাও হয়ে যান চালকও। ঘটনার তিনদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো সে বিষয়ে কোন আইনী ব্যবস্থা নিতে পারেনি পুলিশ।
নিহত ছোটনের ভাই হৃদয় বলেন, ‘ওইদিন মামার বাড়ি থেকে ফিরছিলো তারা। সিএনজিটি মমতাজ মেডিকেলের সামনে আসলে ওই গাড়িটি তাদেরকে ধাক্কা দেয়। পরে সবাইকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে একে একে তিনজনই মারা যান। এখনো ঘাতক গাড়ি বা গাড়ির চালককে শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। তারা গতকাল এসেছিলো। বলেছে চেষ্টা করছে। যেকোন মূল্যে গাড়ি সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। আমরা ঘাতক চালককে দ্রুত আটক করে শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) ধামরাই উপজেলা কমিটির সভাপতি নাহিদ মিয়া বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার সঙ্গে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হলো দুর্ঘটনায় কবলিতদের উদ্ধার, চিকিৎসার সু ব্যবস্থার বিষয়টি। কিন্তু পুলিশ কেস মনে করে অনেকে এগিয়ে আসতে চায় না। পুলিশ দ্রুত না পৌঁছালে দুর্ঘটনায় কবলিত ব্যক্তিদের মালামাল অনেকে হাতিয়ে নেয়। আবার ঘাতকও পালানোর সুযোগ পায়। এই ঘটনায় তেমনই হয়েছে। এ পর্যন্ত গাড়িও চালক কিছুই আটক হয়নি। সড়ক দুর্ঘটনায় পুলিশের তৎপরতা বৃদ্ধি আশা করছি।
ধামরাই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মফিজুর রহমান বলেন, ‘গতকাল ওই ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। তবে এখনো ঘাতককে সনাক্ত করা যায়নি। চেষ্টায় আছি।’
স্টাফ রিপোর্টার : জাতীয় শ্রমিক লীগ আশুলিয়া আঞ্চলিক কমিটির সহ-সভাপতি রাজু আহমেদসহ ৫১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।
শনিবার দুপুরে মামলা দায়েরের বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছে নিশ্চিত করেন মামলার বাদী ও আশুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দিন মাদবর।
এর আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ আদালতে (মামলা নং -২০২/২২) মামলাটি দায়ের হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন শাহাবুদ্দিন মাদবর। নির্বাচনের দিন দুপুরে আশুলিয়ার গৌরীপুর মিন্নত আলী ভোটকেন্দ্রে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর উপর অতর্কিত হামলা করেন প্রতিপক্ষ বিদ্রোহী আনারস প্রতীকের প্রার্থী রাজু আহমেদের সর্মথকরা।
এসময় তাকে ধরে নিয়ে তাকে ব্যাপকভাবে পিটিয়ে ও মারধর করে আহত করে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় বিদ্রোহী প্রার্থী রাজু আহমেদকে প্রধান আসামি করে ৫১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী শাহাবুদ্দিন মাদবর।
আশুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দিন মাদবর বলেন, গত ৫ বছর তিনি সফলতার সাথে আশুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে তার সুনাম, সামাজিক মর্যাদা ও ইউনিয়নবাসীর কাছে তার ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে তাকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে একটি কুচক্রী মহল।
তিনি আরও বলেন, এবারের নির্বাচনে তিনি আবারো নৌকা প্রতীক পেয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী হলে তার বিজয় ঠেকাতে নানামুখী ষড়যন্ত্র ও নির্বাচনের দিন তাকে তুলে নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে ব্যাপক মারধর করেন বিদ্রোহী প্রার্থী রাজু আহমেদের লোকজন।