31 C
Dhaka, BD
শনিবার, এপ্রিল ১১, ২০২৬

বেনাপোল বন্দর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে ব্যবসায়ীরা

মোঃ রাসেল ইসলাম,বেনাপোল প্রতিনিধি: বেনাপোল কাস্টমস এর হঠকারি সিদ্ধান্তে আমদানিকারকরা বেনাপোল স্থল বন্দর থেকে মুখ সরিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বেনাপোল স্থল বন্দরে পরিকল্পিত ভাবে গড়ে উঠা ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ড ৩১ এর কাঁচা মাঠ থেকে আমদানিকৃত ফল, পিয়াজ,চাল,মাছ সহ অন্যান্য পচনশীল পণ্য ভারতীয় ট্রাক টার্মিনাল (টিটিআই মাঠ) স্থানান্তর এর জন্য বেনাপোল স্থল বন্দরকে চিঠি দিয়েছে কাস্টমস। টিটিআই মাঠে খোলা আকাশের নীচে রেখে ওই সব পচনশীল কাঁচাপণ্য খালাস করতে হবে ব্যাবসায়িদের।

অপরদিকে ৩১ নং শেডে রাখা হবে টাটা হিরো হোন্ডা, ইয়ামাহ, টিভিএস ও রানার মোটর পার্টস ও রিকন্ডিশন মোটর পার্টস। আর রোদ বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হবে যে সব পণ্য সেসব পণ্য রাখা হবে ওই টিটিআই মাঠে। এমন সিদ্ধান্তকে হঠকারি সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছেন বেনাপোল বন্দরের ব্যাবসায়ীরা। সেই সাথে শ্রমিকরাও ওই শেডে পণ্য খালাস করবে না বলেও প্রতিবাদ করেছে।

বেনাপোল বন্দর ব্যবহারকারি আমদানি কারক রয়েল এন্টারপ্রাইজ এর সত্বাধিকারী এনায়েত আলী বাবু বলেন, ভারত থেকে পচনশীল এবং কাঁচাপণ্য রাখার জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ পরিকল্পিত ভাবে তৈরী করেছে ৩১ নং শেড। যেখানে রোদ বৃষ্টিতে এসব আমদানি পন্যর গাড়ি শেডের নীচে রাখা হয়। অপরদিকে ভারতীয় ট্রাক টার্মিনাল মাঠে ওইসব পণ্য রাখা যাবে না। কারন ওই মাঠে কোন শেড নির্মান হয়নি। আমদানি পণ্য রাখতে হবে খোলা আকাশের নীচে।

আরকে ট্রেডার্সের সত্বাধিকারী কামাল হোসেন বলেন, টিটিআই মাঠে কাঁচামাল পণ্য স্থানান্তর এর ফলে এই বন্দর থেকে ব্যবসায়ীরা ইতি মধ্যে চলে যাওয়ার ঘোষনা দিয়েছে। এটা একটি হঠকারি সিদ্ধান্ত। এর ফলে সরকার হারাবে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব। এছাড়া ওই মাঠে প্রয়োজনীয় পণ্য খালাশের জন্য শ্রমিকদের জন্য নেই কোন পানির ব্যবস্থা, নেই কোন বাথরুম। শ্রমিকরাও সেখানে পণ্য খালাসের জন্য যেতে ইচ্ছুক না।

সিএন্ডএফ এজেন্ট আলেয়া এন্টারপ্রাইজ এর কর্মকর্তা মারফত আলী বলেন, ওই শেডে কাঁচা পণ্য নিলে ব্যবসায়ীদের লোকশান গুনতে হবে। সেখানে নেই নিরাপত্তার ব্যবস্থা। নেই শেড। রোদ বৃষ্টিতে ভিজে কাঁচা পণ্য নষ্ট হবে ফলে ব্যবসায়ীরা বেনাপোল বন্দর থেকে অন্য বন্দরে চলে যাবে।

বেনাপোল ৯২৫ এর হ্যান্ডলিং শ্রমকি ইউনিয়ান এর নেতা আব্দুল আলীম বলেন, কাঁচা মালের খালাস এর জন্য মাঠ পরিবর্তন এটা আতœঘাতি সিদ্ধান্ত। শ্রমিকরা ওই মাঠে যেয়ে পণ্য খালাস করতে পারবে না। সেখানে খোলা আকাশের নীচে রোদ বৃষ্টিতে ভিজে পণ্য খালাস করতে হবে। তাছাড়া সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার নেই। শ্রমিকদের জন্য সুপেয় পানি, বাথরুম এর ব্যবস্থা না থাকায় কি ভাবে কাজ করবে এটা ভাববার বিষয়।

বেনাপোল স্থল বন্দর এর ট্রাফিক পরিদর্শক লিটন আহম্মেদ বলেন, এতে ব্যবসায়িদের ক্ষতি হবে। কারন ভারতীয় ট্রাক টার্মিনালে পণ্য রাখার জন্য কোন শেড গড়ে উঠে নাই। ইতিমধ্যে অনেক ব্যবসায়ি চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন।

বেনাপোল কাস্টমস হাউজের অতিরিক্ত কমিশনার ড. নিয়ামুল হোসেন বলেন এটা বন্দর কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে যত পোর্ট আছে সেখানে ওপেন ইয়ার্ডে কাঁচামাল আনলোড করা হয়। কারন এসব পণ্য সাথে সাথে খালাস হয়। এ ব্যাপারে আজও আমরা মিটিং করেছি। ৩১ নং শেডে স্থায়ী পণ্য রাখা হবে। যেমন মোটর পার্টস, মোটর গাড়ি।

বেনাপোল স্থল বন্দরের উপপরিচালক মামুন কবির তরফদার বলেন, পণ্য কোথায় পরিবর্তন করে রাখতে হবে তার একটি আইন আছে বন্দরের। আর এ সিদ্ধান্ত বন্দর কর্তৃপক্ষ নিবে। যে মোটর সাইকেল এর কথা বলে শেড পরিবর্তন করতে চাচ্ছে তার জন্য আলাদা শেড নির্মান করা যেতে পারে। এ সিদ্ধান্ত যদি অটল থাকে তবে সরকার যেমন রাজস্ব হারাবে তেমনি ব্যবসায়ীরাও অন্য বন্দরে চলে যাবে।

রাণীশংকৈলে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যের  বিদায় সংবর্ধনা 

হুমায়ুন কবির, রাণীশংকৈল, (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ এই প্রথমবারের মতো ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে ২৩ ডিসেম্বর বুধবার বিকালে থানা চত্বরে সদ্য অবসরে যাওয়া পুলিশ সদস্য লুৎফর রহমানের (৬০) বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয় ।

তিনি রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ আরাজি চন্দন চহট গ্রামের মৃত ফুল মুহাম্মদের ছেলে । থানা সূত্রে জানা গেছে, লুৎফর রহমান ১৯৮০ সালে পুলিশ সদস্য হিসেবে প্রথম ঢাকার ডিএমপি’তে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তার চাকুরী জীবনের শেষ পর্যায়ে গত ১০-০৩-২০ খ্রীষ্টাব্দে পুলিশ সদস্য হিসেবে রাণীশংকৈল থানায় যোগদান করেন। এবং একিই স্টেশনে ১-১২-২০ খ্রীষ্টাব্দে দীর্ঘ কর্মজীবন সমাপ্ত করে পিআরএল যান।

বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন

সহকারি পুলিশ সুপার, রানীশংকৈল সার্কেল তোফাজ্জল হোসেন, অফিসার ইনচার্জ,  এস এম জাহিদ ইকবাল, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল লতিফ শেখসহ থানা পুলিশের সকল এস আই, এ এস আই ও পুলিশ সদস্যবৃন্দ।

উল্লেখ্য, অনুষ্ঠান শেষে থানা পুলিশ অবসরপ্রাপ্ত ঐ পুলিশ সদস্যকে থানার নিজস্ব গাড়ীতে করে তার বাড়িতে পৌঁছে দেন।

পোল্ট্রি ফার্ম ও বিষ্টার স্তুপ দুর্গন্ধ সইতে না পেরে-বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হলেন শ্রীপুরের মমতাজ বেগম

মাগুরা প্রতিনিধিঃ অনেক সাধ করে বাড়ি করেছিলেন মমতাজ বেগম। স্বপ্ন ছিল স্বামী-সন্তান নিয়ে গাছ-পালা ঘেরা, ছায়া ঢাকা,পাখি ডাকা বাড়িতে সুখে-শান্তিতে বসবাস করবেন।

কিন্তু তার সে স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। বাড়ি তৈরীর আট-দশ বছর পর গত প্রায় দু’বছর পূর্বে তার বাড়ির কোল ঘেষে দুই পাশ জুড়ে তিনটি বিশাল পোলট্রি ফার্ম গড়ে তোলে প্রতিবেশী অনিক মোল্ল্যা।

শুধু তাই নয় মমতাজ বেগমের বসত ঘরের একেবারেই কোল ঘেষে ডোবা কেটে সেখানে ফেলতে শুরু করে পোলট্রি ফার্মের বর্জ্য ও মুরগির বিষ্টা । ফলে বর্জ্য, মুরগির বিষ্টার অসহনীয় দুর্গন্ধ ও মশা-মাছির উপদ্রব সইতে না পেরে অবশেষে সাধের বাড়িঘর ফেলে আশ্রয় নিলেন মদনপুর গ্রামে বাবার বাড়িতে ।

বিষয়টি নিয়ে এলাকার ভূক্তভোগি মহল ও মমতাজ বেগম একাধীকবার স্থানীয় প্রশাসনের দারস্থ হয়েও কোন ফল পাননি বলে অভিযোগ করেন। ঘটনাটি মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার ৭নং সব্দালপুর ইউনিয়নের আমতৈল গ্রামের। এই গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তি আছাদুল মোল্ল্যার পুত্র অনিক মোল্ল্যা এই ফার্ম গুলির মালিক।

সম্প্রতি সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, জনবসতি এলাকায় পোলট্রি ফার্মের মালিক অনিক মোল্ল্যা প্রতিবেশী মমতাজ বেগমের ঘরের পাশেই ডোবা কেটে সেখানে ফার্মের বজ্য ও মুরগির বিষ্টা ফেলে স্তুপাকৃতি অবস্থায় রেখেছে। ভূক্তভোগী মমতাজ বেগম বলেন, ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করে দিলেও বিষ্টার দুর্গন্ধে পেট ফুলে দম বন্ধ হয়ে আসে। বিশেষ করে দুপুর বেলা প্রখর রোদে এই দুর্গন্ধ বেশি ছড়ায়। এভাবে দিনের পর দিন দুর্গন্ধের নিঃশ্বাস গ্রহন করতে করতে স্কুল,কলেজ পড়–য়া ছেলে ও মেয়ে শ্বাস কষ্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে গেছে। তিনি আরোও বলেন, স্বামী বিজিবি’তে চাকরি করেন এবং ছেলে-মেয়েকে নিয়ে তিনি বাড়িতে থাকতেন। কিন্তু ছেলে-মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তিনি বাবার বাড়িতে গিয়ে বসবাস করছেন। মমতাজ বেগম প্রায় ছয় মাস পূর্বে এঘটনার প্রতিকার চেয়ে শ্রীপুর উপজেলা নির্বার্হী অফিসারের নিকট একটি লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। এরপর উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসার সরেজমিন পরিদর্শন করলেও এর কোন প্রতিকার পাননি বলে জানান। গ্রামবাসিও একত্রিত হয়ে আরেকটি আবেদন করেছিলেন কিন্ত এরও কোন প্রতিকার হয়নি। এবিষয়ে মমতাজ বেগমের স্বামী মহিদুল ইসলাম বলেন, ফার্ম অপসারনের জন্য আবেদন করায় অনিক মোল্ল্যা ক্ষিপ্ত হয়ে তার প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যমানের গাছ কেটে নিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে শ্রীপুর থানায় জিডিও করা হয়েছিল কিন্তু কোন উপকার পাননি বলে জানান। এছাড়াও পোল্ট্রি ফার্ম অপসারনের জন্য আবেদন করায় তাকে এবং তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরকেও প্রাণ নাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: ইয়াসিন কবীর বলেন,মমতাজ বেগম ও এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগের মাধ্যমে বিষয়টি তদন্ত করা হয়েছে । তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় ফার্ম মালিককে সতর্ক ও জনস্বার্থে ফার্মের সকল সমস্যা সমাধানের বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল । এ নির্দেশের পেক্ষিতে ফার্ম মালিক অনিক মোল্লা ছয় মাসের মধ্যে ফার্মের বর্জ্য অপসারণসহ সকল প্রকার সমস্যা সমাধানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে লিখিতভাবে অঙ্গীকার করেছিল । কিন্ত অঙ্গীকারের সময়সিমা পার হয়ে গেলেও তিনি যদি এবিষয়ে কোন সু-ব্যবস্থা গ্রহন না করে থাকেন তাহলে এমতাবস্থায় ফার্মগুলি পুনরায় পরিদর্শন করে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে ।

ফার্ম মালিক অনিক মোল্লা অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন,পাড়া গায়ে গ্রামাঞ্চলে বসতবাড়ির আশেপাশে ফার্ম নির্মান করায় এবং মুরগি ফার্মের বর্জ্যরে দূগর্ন্ধে এলাকাবাসির বেশ ক্ষতি হচ্ছে সঠিক । তবে যতদ্রুুত সম্ভব এ সমস্যার সমাধান করে দিবেন বলে জানান।

ধামরাইয়ে সড়ক দূর্ঘটনায় পুলিশ সদস্য নিহত

মোঃ সম্রাট আলাউদ্দিন, (ধামরাই প্রতিনিধি)ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ধামরাইয়ের বাথুলি এলাকায় পিকআপ ভ্যানের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী আবির হাসান নামে এক পুলিশ সদস্য নিহত।

বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বাথুলি ইফাদ অটোসের সামনে এই দূর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আবির হাসান (২৫) মানিকগঞ্জ সদর থানায় পুলিশ সদস্য (গাড়ী চালক) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি ঢাকার ধামরাইয়ে।

হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, বিকেলে ধামরাইয়ের নিজ বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল যোগে মানিকগঞ্জ কর্মস্থলের উদ্দেশ্য রওনা হন তিনি। এসময় পিছন থেকে আসা বেপরোয়া গতির একটি অজ্ঞাত পিকআপ ভ্যান তাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

গোলরা হাইওয়ে থানার পরিদর্শক (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, অজ্ঞাত পিকআপ ভ্যানটি সনাক্তের চেষ্টা চলছে। নিহতের মরদেহ হাইওয়ে থানায় রাখা হয়েছে। তার পরিবার এলে এ বিষয়ে আইনগত সিদ্ধান্ত নেয়া  হবে।

করোনার টিকা নেব কি নেব না-আ ব ম ফারুক

করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে এই মুহূর্তে যে পাঁচটি টিকা বিশ্বময় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে সেগুলো হলো যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও সুইডেনের ওষুধ কম্পানি অ্যাস্ট্রাজেনেকার যৌথ টিকা, যুক্তরাষ্ট্রের ফাইজার এবং জার্মানির বায়োএনটেকের যৌথ টিকা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মডার্নার টিকা। বাংলাদেশে আগামী জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্যের টিকা আসবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে এবং আশা করা যায় যে জানুয়ারির শেষের দিকে এই টিকা দেওয়া শুরু হবে।

সরকার এ ছাড়া চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকেও টিকা আনার চেষ্টা করছে বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে। এটা খুবই ভালো একটি উদ্যোগ। বিভিন্ন দেশের টিকা থাকলে মানুষ বাছাই করতে পারবে সে কোন টিকাটি নেবে, কোনটি তার পছন্দ। কিন্তু সমস্যা অন্যত্র। সমস্যা হলো সন্দেহ।

গত ১৭ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে ভারতের স্বনামধন্য জরিপ সংস্থা ‘গকি’ সম্প্রতি তাদের পরিচালিত এক জরিপের ফলাফল প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ভারতের ৫০ শতাংশের বেশি মানুষ করোনার নব আবিষ্কৃত টিকার কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিয়ে সন্দিহান। মোট ১১ হাজার উত্তরদাতার মধ্যে ১০ শতাংশ টিকা নেবে না, ৪৩ শতাংশ এখনই না নিয়ে আরো কিছুদিন অপেক্ষার পক্ষপাতী এবং বাকি ৪৭ শতাংশ টিকা এখনই নিতে রাজি আছে। যারা টিকা নিতে রাজি তাদের মধ্যে মহিলারা টিকা নিয়ে ক্ষতি হয় কি না সে ব্যাপারে পুরুষদের চেয়ে বেশি সতর্ক। বয়সের সঙ্গে টিকার সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বিষয়ে একটা সম্পর্কও পাওয়া যাচ্ছে। ৪৫-৬০ বছর বয়সী বা তদূর্ধ্বরা টিকা নেবেন, তবে এখনই নয়, বরং টিকা নেওয়ার পর অন্যদের শরীরে কী প্রতিক্রিয়া হয় তা দেখেশুনে যারা এখনই টিকা নিতে তৈরি তারা মূলত নবীন যুবা।

যুক্তরাষ্ট্রের এবিসি নিউজ ও ইপসোস মিলে ১৪ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে তাদের দেশে পরিচালিত একটি জরিপের ফল প্রকাশ করে বলেছে, এখন প্রতি ১০ জন আমেরিকানের মধ্যে আটজন কভিডের টিকা নিতে রাজি (প্রায় দুই মাস আগে যা ছিল প্রায় অর্ধেক), কিন্তু এদের মধ্যে ৪৪ শতাংশ অন্যরা টিকা নেওয়ার পর কী হয় তা দেখার জন্য আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে চায়।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকার কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিয়ে এই দ্বিধার কোনো ভিত্তি নেই। কারণ টিকা নেওয়ার পক্ষে আমাদের যে সুপারিশ তা বৈজ্ঞানিক ডাটানির্ভর। এ প্রসঙ্গে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের টি এইচ চান স্কুল অব পাবলিক হেলথের সাবেক ডিন এবং রিসার্চ প্রফেসর বেরি ব্লুম বলেছেন, ‘করোনার এই টিকা নেওয়ার পর আপনার ক্ষতির বা মারা যাওয়ার ঝুঁকি গ্রোসারি শপে যাওয়ার ঝুঁকির চেয়ে অনেক কম।’ তিনি মনে করেন, টিকা দুটির নিরাপত্তা পর্যালোচনা করে প্রকাশিত এফডিএর মোট ১০৭ পৃষ্ঠার রিপোর্ট গণমানুষের পক্ষে পড়া সম্ভব নয়। তাই তারা হয়তো ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের বাইরে অন্যরা নেওয়ার পরে ‘রিয়াল লাইফে’ কী হয় তা দেখার অপেক্ষায় আছে। তারা যখন দেখবে যে তাদের প্রতিবেশী বা পরিচিত কেউ কেউ টিকা নিয়েছে এবং তাদের কোনো সমস্যা হয়নি, তখন হয়তো তারা টিকা নেবে ও অন্যকে নিতেও পরামর্শ দেবে। তিনি বলেন, ‘এটা একটা ধীর প্রক্রিয়া। কিন্তু মানুষের বিশ্বাস বাড়ানোর কোনো ম্যাজিক পিল বা ম্যাজিক বুলেট তো আমাদের হাতে নেই।’

জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকায় করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার পর এখন সে দেশে প্রতিদিন তিন হাজার মানুষ কভিড-১৯-এ মারা যাচ্ছে আর মৃতের সংখ্যা এর মধ্যেই তিন লাখ অতিক্রম করেছে। তাই নতুন টিকা বিষয়ে মানুষের দ্বিধাকে আমলে নেওয়ার পরও বিশেষজ্ঞরা মানুষকে আশ্বস্ত করতে চাইছেন। তাঁরা ব্যাখ্যা করেছেন যে কোনো নতুন টিকার পরীক্ষার সময় তাঁরা টিকা দেওয়ার পরের কয়েক সপ্তাহ স্বেচ্ছাসেবককে গভীর পর্যবেক্ষণে রাখেন। কারণ টিকার যা কিছু বিরূপ প্রতিক্রিয়া তা এই সময়টাতেই প্রকাশ পায়। কিন্তু ফাইজার-বায়োএনটেকের ৪৫ হাজার এবং মডার্নার ৩০ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের ওপর তাদের টিকা প্রয়োগের পর সে রকম কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। যুক্তরাজ্য ও ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দেশে পরিচালিত সর্বশেষ ৪৮ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফলে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা জানিয়েছে যে তাদের টিকাগ্রহীতাদের কারো কভিডের কোনো মারাত্মক লক্ষণ দেখা দেয়নি।

অবশ্য এডিনোভাইরাস ধরনের টিকা হওয়ায় অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার সেই আশঙ্কাও কম। কারণ এ ধরনের টিকা বিশ্বে আগেও ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। এমনকি অক্সফোর্ডের বিজ্ঞানীরাই তা আবিষ্কার করেছেন। তাই এর মধ্যে এ ধরনের টিকার সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা বিরূপ প্রতিক্রিয়া কী কী হতে পারে সে সম্পর্কে অক্সফোর্ডের বিজ্ঞানীদের ধারণা রয়েছে।

প্রকাশিত তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী করোনার টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে ইঞ্জেকশন দেওয়ার স্থানে কিছুটা ফোলা, হালকা জ্বর, গা ম্যাজম্যাজ করা, কারো কারো ক্ষেত্রে গায়ে ব্যথা, তীব্র ক্লান্তি, কাঁপুনি দিয়ে শীত লাগার মতো জ্বর ইত্যাদি। গত ১৭ ডিসেম্বর অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে যে মার্কিন অ্যালার্জি বিশেষজ্ঞরা করোনার টিকাগুলো নেওয়ার পর অ্যালার্জি সৃষ্টির আশঙ্কা প্রসঙ্গে বলেছেন যে তাদের বিশদ পর্যালোচনায় এই আশঙ্কা একেবারেই কম।

কিন্তু আবিষ্কৃত করোনা টিকাগুলোর বিরুদ্ধে নানা রকম অপপ্রচার বাজারে আছে। প্রকৃত সত্য হলো—করোনা টিকা নেওয়ার পর যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো হয় সেগুলোর সঙ্গে কভিড-১৯-এর কয়েকটি লক্ষণের মিল আছে। যেমন—হালকা জ্বর, কারো কারো ক্ষেত্রে কাঁপুনি দিয়ে শীত লাগা, গায়ে ব্যথা, মাথা ব্যথা, ক্লান্তি ইত্যাদি। কিন্তু তার মানে এই নয় যে কভিডের বিরুদ্ধে টিকা নেওয়ায় কভিড হয়েছে। কভিড হলে ফুসফুস আক্রান্ত হতো, শ্বাসকষ্ট হতো, রক্তে অক্সিজেনের সম্পৃক্ততা কমে যেত এবং ফুসফুসের ক্ষতিটুকু এক্স-রে কিংবা সিটিস্ক্যান করলে স্পষ্ট হতো। তাই টিকা নিলে এ রকম হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। কারণ টিকায় করোনার কোনো ভাইরাস নেই। তাই কভিডে আক্রান্ত হওয়ার প্রশ্নই আসে না।

একই কারণে টিকা নেওয়ার পর টিকাগ্রহীতার শরীরে ডিএনএ পরিবর্তনের কোনো কারণও নেই। টিকায় কোনো ডিএনএ নেই। কোনো আরএনএও নেই। ফাইজার-বায়োএনটেক ও মডার্নার এম-আরএনএ টিকায় যা আছে তা হলো করোনাভাইরাসের আরএনএ-এর অতি সামান্য খণ্ডিতাংশ, যা কোড হিসেবে ব্যবহার করে মানবশরীরে করোনাভাইরাসের গায়ের মুকুটসদৃশ কিছু প্রোটিন তৈরি করা হয়, যাতে জীবন্ত করোনাভাইরাস শরীরে প্রবেশ করলে শরীর তাকে প্রতিহত করতে পারে। আরএনএ-এর এই সামান্য খণ্ডিতাংশের শরীরের নিউক্লিক এসিডের অর্থাৎ ডিএনএ ও আরএনএ-এর কোনো পরিবর্তন ঘটানোর কোনোই আশঙ্কা নেই। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা কিংবা চীনের সিনোভ্যাক কিংবা রাশিয়ার গামালিয়া রিসার্চ ও রাশিয়ার সেনাবাহিনীর যৌথ গবেষণার টিকাগুলোতে কিন্তু কোনো আরএনএ-এর খণ্ডিতাংশও নেই। কারণ এগুলো এম-আরএনএ টিকা নয়। এগুলো এডিনোভাইরাসভিত্তিক টিকা অর্থাৎ সর্দিজ্বরের ভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করে সেগুলো দিয়ে তৈরি করা কভিড-১৯ প্রতিরোধের টিকা।

কেউ কেউ বলছেন, যেভাবে দ্রুতগতিতে এই টিকা উদ্ভাবিত হয়েছে তাতে এগুলোর মান ও নিরাপত্তার প্রশ্নে হয়তো আপস করা হয়েছে। এ সন্দেহটি অমূলক বলেই মনে হয়। কারণ এবারের করোনা মহামারি সারা বিশ্বকে যেভাবে একযোগে আতঙ্কিত করেছে তা অতীতে আর কোনো অসুখ বা মহামারি করেনি। ফলে সমগ্র মানবজাতিই বেঁচে থাকার জন্য দ্রুত একটি টিকা হাতে পাওয়ার ঐকান্তিক আগ্রহে অধীর ছিল। ধনী দেশগুলো টিকা গবেষণায় অনুদান দেওয়ার জন্য বিশাল বড় বড় তহবিল গঠন করে। সেই সঙ্গে সম্ভাবনাময় টিকাগুলোর বিপুল পরিমাণ ডোজ নগদ অর্থে অগ্রিম কিনে নেয়।

ফলে বিশ্বময় গবেষকদের কোনো অর্থ সংগ্রহের চিন্তায় বা সংকটে সময়ক্ষেপণ হয়নি। ফলে অনেক সময় বেঁচে গেছে। চিকিৎসাবিজ্ঞান, অণুজীববিজ্ঞান, বায়োটেকনোলজি, ওষুধ প্রযুক্তি ইত্যাদি বিজ্ঞানও এখন এত এগিয়েছে যে আগে এসব গবেষণার যে অংশটুকু করতে বছর লেগে যেত, এখন তা দুই সপ্তাহে করা সম্ভব।

আরো একটি বিষয়। মহামারির ব্যাপকতাও এখানে দ্রুত টিকা আবিষ্কারে পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছে। প্রথমত, এর আগে আর কখনোই কোনো টিকা মহামারির একেবারে সর্বোচ্চ ব্যাপকতার পর্যায়ে ক্লিনিক্যাল স্টাডি করার সুযোগ পাওয়া যায়নি। এর ফলে রোগের শুরু থেকে চূড়ান্ত পর্যায় হয়ে আরোগ্য বা মৃত্যু—সব পর্যায়ে স্টাডির ফলাফল রেকর্ড করা গেছে। দ্বিতীয়ত, মহামারির সর্বোচ্চ অবস্থায় বিপুলসংখ্যক মানুষকে স্বেচ্ছাসেবক কিংবা রোগী হিসেবে স্টাডিতে সহজেই অন্তর্ভুক্ত করা গেছে। স্বাভাবিক অবস্থায় হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবক পাওয়া এবং তাদেরকে ভাইরাসের সংস্পর্শে আনা অত্যন্ত কঠিন হতো। তৃতীয়ত, বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী, নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য, বর্ণ, শারীরিক গঠন, খাদ্যাভ্যাস, আবহাওয়া ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের মানুষের তারতম্যগত ফলাফলগুলোও পর্যবেক্ষণ ও লিপিবদ্ধ করা গেছে। এভাবে বহু বিস্তৃত ভেরিয়েবলের বিপুল পরিমাণ ডাটা অল্প সময়ে সংগ্রহ করা গেছে। বায়োস্ট্যাটিসটিকসের আধুনিক ও উন্নত সফটওয়্যারগুলোর কল্যাণে অনেক সহজে এসব ডাটাকে প্রসেস করাও সম্ভব হয়েছে। অতএব সবগুলো ফ্যাক্টর মিলিয়ে দ্রুততম সময়ে উদ্ভাবনের জন্য টিকাকে মানের বা নিরাপত্তার দিক থেকে আপস করার প্রয়োজন হয়েছে বলে ফার্মাসিস্ট হিসেবে বিশ্বাস করি না।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এবারের করোনাভাইরাসের টিকা সবচেয়ে কম সময়ে আবিষ্কৃত হয়েছে তাও সত্য নয়। এর আগে এইচ১এন১ ভাইরাসের অর্থাৎ ফ্লুর টিকা আরো কম সময়ে অর্থাৎ মাত্র কয়েক মাসের গবেষণায় পাওয়া গিয়েছিল।

ফাইজার-বায়োএনটেক এবং মডার্না তাদের টিকার আবেদনের সঙ্গে বিভিন্ন দেশে পরিচালিত তাদের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালগুলোর যে বিপুল পরিমাণ ফলাফল জমা দেয়, তা পর্যালোচনা করে এফডিএ যথাক্রমে ৫৩ ও ৫৪ পৃষ্ঠার যে রিপোর্টটি তৈরি করেছে তাতে টিকার কার্যকারিতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার পর্যালোচনা শেষে এফডিএ অত্যন্ত ইতিবাচক মতামত রেখেছে, যা পড়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের মিলিটারি ইমিউনাইজেশন প্রগ্রামের পরিচালকসহ ড. অ্যান্থনি ফাউসির মতো অনেক প্রখ্যাত বিশেষজ্ঞও সন্তুষ্ট।

ফাইজার-বায়োএনটেক এবং মডার্নার টিকার কার্যকারিতা বিষয়ে কম্পানিগুলো বলেছে, তাদের টিকা প্রায় ৯৫ শতাংশ কার্যকর। তারা এর সপক্ষে তথ্য-প্রমাণও যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ, যুক্তরাজ্যের এমএইচআরএ, কানাডার কানাডা হেলথ, অস্ট্রেলিয়ার টিজিএ এবং অন্যান্য যেসব দেশ এই টিকা নিজ নিজ দেশে এর মধ্যে ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে তাদের সবাই তাদের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছে। সেসব সংস্থার বিজ্ঞানী বিশেষজ্ঞ মহল কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা বিষয়ে সেসব নথিপত্র পরীক্ষা করে তারপর অনুমোদন দিয়েছেন। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকাও ৯০ শতাংশ কার্যকর পাওয়া গেছে। তারাও উপরিউক্ত সংস্থাগুলোর কাছে অনুমোদনের জন্য তাদের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের সব ফলাফল জমা দেবে। ফার্মাসিস্ট হিসেবে বলতে পারি যে অন্তত প্রথমোক্ত চারটি সংস্থার বিচার-বিবেচনা ও জরুরি ব্যবহারের অনুমোদনের মানদণ্ডের ওপর আমরা বিশ্ববাসী আস্থা রাখতে পারি। এরা অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তারা তাদের দেশের কোনো কম্পানির বা সরকারের ইচ্ছা-অনিচ্ছার প্রতিফলন ঘটায় না।

এতকাল আমরা সবাই অপেক্ষায় ছিলাম, কবে করোনার টিকা আসবে। টিকা আসার পর এখন কেউ কেউ অপেক্ষা করছি অন্যদের শরীরে প্রতিক্রিয়া, পারলে সম্ভাব্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি প্রতিক্রিয়া দেখার জন্য। কিন্তু এই অপেক্ষা যে নিজের, পরিবারের ও জাতির জন্য কী মারাত্মক আত্মঘাতী তা আমরা সবাই যত দ্রুত বুঝতে পারব ততই মঙ্গল।

লেখক: অধ্যাপক ও পরিচালক, বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টার; সাবেক চেয়ারম্যান, ফার্মেসি বিভাগ; সাবেক চেয়ারম্যান, ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগ; সাবেক ডিন, ফার্মেসি অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে রাণীশংকৈলে মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধন ও সমাবেশ

হুমায়ুন কবির রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাও) প্রতিনিধিঃ সস্প্রতি কুষ্টিয়ায় স্বাধীনতার মহান স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে ঠাকুরগাওয়ের রাণীশংকৈল পৌর শহরের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের সামনে বীর মুক্তিযোদ্ধারা ২২ ডিসেম্বর মঙ্গলবার এক মানববন্ধন ও সমাবেশ করেন।

রাণীশংকৈল উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আয়োজনের এতে বীর মুক্তিযোদ্ধারা ছাড়াও স্থানীয় রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক নেতাকর্মি, শিক্ষক ও সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন।
এখানে বক্তব্য দেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা হবিবর রহমান, মুক্তিযুদ্ধকালিন কমান্ডার সিরাজুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন, বিদেশিচন্দ্র রায় ও আবু সুফিয়ান, আ’লীগ সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সইদুল হক, সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তাজুল ইসলাম, পৌর আ’লীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম, সম্পাদক সফিকুল ইসলাম শিল্পি, বেতার শিল্পি প্রভাষক প্রশান্ত বসাক, সাবেক ইউপি সদস্যা আনসারা বেগম প্রমুখ। বক্তারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরকারিদের ও বিরোধিতাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান।

সাভারে তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের নোয়াখালী পাড়ায় ৬শত লিটার মদ সহ আটক ২।

বিপ্লব,সাভারঃ সাভারের হেমায়েতপুরে তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের নোয়াখালী পাড়ায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি দোতলা ভাড়াটিয়া বাসা থেকে প্রায় ৬শত লিটার চোলাই মদ সহ ২ জনকে আটক করেছে সাভার ট্যানারি ফাঁড়ি পুলিশ ।

মঙ্গলবার বিকাল আনুমানিক পাঁচটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাভার ট্যানারি পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ জনাব মোঃ জাহিদুল ইসলাম ,বিপিএম, পিপিএম এর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয় । এসময় বিভিন্ন ড্রাম সহ প্লাস্টিকের বক্সের মধ্যে প্রায় ৬০০ লিটারের মত চোলাই মদ উদ্ধার করা হয় ।

আটককৃতরা হলেন ভীষণ চাকমা (২৫) পিতাঃ সূর্য কুমার, কুটক ছড়ি , রাঙ্গামাটি ও ফেন্সি চাকমা (২৮) পিতাঃ চন্ডী লাল, ধামাই পাড়া ঝোড়া ছড়ি,রাঙ্গামাটি ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাভার ট্যানারি ফাঁড়ি ইনচার্জ জনাব মোঃ জাহিদুল ইসলাম ,বিপিএম, পিপিএম,  এ,এস,আই হাসান আলী সহ আরো বেশ কয়েক জন পুলিশ কর্মকর্তার  ।

সাভারে সড়ক দুর্ঘটনায় দারগ আলী (৫০)এক মোটর সাইকেল-আরোহী নিহত

বিপ্লব,সাভারঃ সাভারে সড়ক দুর্ঘটনায় অজ্ঞাত দারগ আলী (৫০) এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন।

সোমবার (২১ ডিসেম্বর) গভীর রাতে ঢাকা আরিচা মহাসড়কের সাভারের উলাইল বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় এই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।

দারগ আলী মানিকগঞ্জজেলার সিংগাইর থানার জামির্তা ইউনিয়নের বিনা ডাংগী এলাকার বাসিন্দা।পুলিশ জানায়, রাতে সাভার থেকে পঞ্চাশ বছরের অজ্ঞাত ওই ব্যক্তি মোটরসাইকেল যোগে ঢাকা আরিচা মহাসড়ক দিয়ে হেমায়েতপুর যাচ্ছিলেন। এসময় উলাইল এলাকায় তার মোটরসাইকেল পৌছলে পিছন থেকে ছেড়ে আসা অজ্ঞাত একটি দ্রুত গতির গাড়ি তাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হয়। পরে খবর পেয়ে সাভার হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে প্রেরণ করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম মোস্তফা।

রাণীশংকৈলে বঙ্গবন্ধুর অদম্য কর্নারে ৪৬ টি বই সংযোজন

হুমায়ুন কবির, রাণীশংকৈল, (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবরের জন্মশতবার্ষিকী ও মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় ২১ ডিসেম্বর সোমবার দুপুরে নির্বাহী কর্মকর্তার নিচ তলায় অবস্থিত বঙ্গবন্ধু অদম্য কর্নারে ৪৬ টি বই সংযোজন করা হয়।

রাণীশংকৈল উপজেলা পরিষদ তাদের অর্থায়নে বঙ্গবন্ধুর জীবনির উপর লেখা এসব মূলবান ও গুরুত্বপূর্ণ বই গুলো প্রদান করেন।

এ সময় অদম্য কর্নারে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহরিয়ার আজম মুন্না, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবির, উপজেলা আ’লীগ সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সইদুল হক, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শেফালী বেগম প্রমুখ। এ এছাড়াও রাজনৈতিক- সামাজিক-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

উপস্থিত সকলে সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, এসব বিরল সম্বলিত বঙ্গবন্ধুর সম্পর্কে লেখা বইগুলো পড়ে নতুন প্রজন্ম তাঁর জীবনাচরণ সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে ও শিখতে পারবে।

বিশ্বে অনন্য দেশের চেয়েও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি অনেক ভালো- পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।

বিপ্লব,সাভার : বিশ্বে অনন্য দেশের চেয়েও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি অনেক ভালো বলে মন্তব্য করেছেন করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।

সোমবার দুপুরে সাভারে বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিপিএটিসিতে) বঙ্গবন্ধুর পররাষ্ট্র নীতি ও বঙ্গবন্ধু স্মারক সিরিজ সেমিনারে যোগ দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম না হলে কখনো বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিনিয়ত দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে বলেও বলেন তিনি।

বিপিএটিসি ও ছয়টি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান আয়োজিত বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের প্রশিক্ষণার্থীগণ,এডভান্সড কোর্স অন এডমিনিস্ট্রেশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট কোর্সের প্রশিক্ষণার্থীগণ, বিপিএটিসির অনুষদ সদস্যগণসহ বিভিন্ন সরকারী অফিসে কর্মরত কর্মকর্তাগণ এতে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন,বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের রেক্টর রকিব হোসেন এনডিসি ।

সর্বশেষ আপডেট...