32 C
Dhaka, BD
রবিবার, এপ্রিল ২৬, ২০২৬

রোগীদের লুকোচুরিতে একের পর এক বন্ধ হচ্ছে হাসপাতাল

করেনার তথ্য গোপন রেখে চিকিৎসা নেয়ায় একের পর এক বন্ধ হচ্ছে বিভিন্ন হাসপাতালের বিভাগ। শুধু বিদেশ ফেরা নয়, করোনা আক্রান্তের খবর পর্যন্ত গোপন করে প্রতিদিন অসংখ্য চিকিৎসককে আক্রান্ত করছেন রোগীরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোগীদের বাস্তবতা বোঝানোর পাশাপাশি সেবা দানে চিকিৎসকদের আরও সতর্ক করা না গেলে কোভিড মোকাবিলায় চরম বিপদের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

এক্ষেত্রে সব হাসপাতালে পিপিই সরবরাহের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের জন্য শিগগিরই আলাদা কর্ণার খোলার দাবি চিকিৎসকদের।

সারাদেশে আক্রান্ত হওয়া চিকিৎসকদের ৯০ শতাংশই সাধারণ হাসপাতালের। এসব হাসপাতালে আগের নিয়মে সেবা অব্যাহত থাকায় আক্রান্তের হার বাড়ছেই। ডেল্টা, আনোয়ার খান মডার্ন, ইনসাফ বারাকা হাসপাতালের মতো সাময়িক সেবা বন্ধের তালিকায় প্রতিনিয়তই যোগ হচ্ছে নতুন নতুন নাম।

সম্প্রতি ইব্রাহিক কার্ডিয়াক হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত একজন রোগী তথ্যগোপন করে চিকিৎসা নিতে আসেন। মুমূর্ষু অবস্থায় লক্ষণ প্রকাশ পাওয়া রোগীর পরীক্ষা করতে চাইলে পরিবার তার কোভিড উনিশে আক্রান্ত হওয়ার কথা স্বীকার করেন। এরপরই বন্ধ করে দেয়া হয় সিসিইউ, কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয় ২০ জন চিকিৎসককে।

ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের ভাসকুলার সার্জন ডা. সাকলায়েন রাসেল জানান, স্বাভাবিকভাবে তারা মনের করছেন তারা লাভবান হচ্ছেন কিন্তু তা হচ্ছেন না। এক তারা পর্যায়ে শনাক্ত হচ্ছেন। এতে বিপদে পড়ছেন চিকিৎসক এবং হাসপাতাল।

অন্যদিকে তথ্য গোপনসহ না জেনে চিকিৎসা নিতে এসে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৫টি বিভাগের বেশ কয়েকটি ইউনিটের সেবা বিঘ্নিত হয়। কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেশনে থাকা প্রায় অর্ধশতাধিক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর পর্যায়ক্রমে পরীক্ষা করার কথা জানান ডিএমসি কর্তৃপক্ষ।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খান আবুল কালাম আজাদ জানান, শ্বাস কষ্ট হচ্ছে সেটা না বলে রোগীরা বলছেন পেটে ব্যথা হচ্ছে। এই রোগীদের শ্বাস কষ্ট হচ্ছে এবং এদের বাঁচানো যাচ্ছে না। এই অবস্থা যদি এখানে হয় তাহলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের হাসপাতালগুলোতে আরও ভয়ানক অবস্থা।

তথ্য গোপনের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে সরকারকে সবার সেবা নিশ্চিত করার আহ্বান বিশেষজ্ঞদের।

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রিদউয়ানউর রহমান জানান, রোগীদের অনরোধ করব আপনারা সঠিক তথ্য চিকিৎসকদের দিন। না দিলে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, হাসপাতাল বিপদে পড়বে।

রোগীদের তথ্যগোপন ও অসচেতনতায় কোভিড যুদ্ধে ক্রমাগতভাবে রসদ কমছে বাংলাদেশের। সামাজিক সংক্রমণের চতুর্থ ধাপে তাই যে কোনো রোগীকে সেবা দানের পূর্বে পিপিই পরার আহ্বান বিশেষজ্ঞদের।

ঝালকাঠিতে শ্বাসকষ্ট নিয়ে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার এসএসসি দেয়া এক শিক্ষার্থী মারা গেছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে তার মৃত্যু হয়।

ছাত্রীটির স্কুল শিক্ষক মিলনকান্তি দাস সময় নিউজকে জানান, ১৬ বছরে ওই কিশোরী বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে সোমবার ভোরে নিজ বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত্য ঘোষণা করেন।

নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মুনীবুর রহমান জুয়েল সময় নিউজকে বলেন, হৃদক্রিয়া বন্ধে মেয়েটির মৃত্যু কারণ বলেই আমারা প্রাথমিক ধারণা করছি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিল কি না-তা নিশ্চিত হতে তার শরীরের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

নমুনা বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে জানিয়ে ডা. মুনীবুর রহমান জুয়েল বলেন, রিপোর্ট আসলেই বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারব।
ছাত্রীটির স্কুল শিক্ষক মিলনকান্তি দাস আরও জানান, ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করার কথা ছিল চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে।

কিন্তু করোনা সঙ্কটে এসএসসির ফলাফল এখন পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি। ছাত্রীটির মৃত্যুতে শিক্ষক ও সহপাঠীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে জানিয়ে শিক্ষক মিলনকান্তি দাস বলেন, নলছিটি পৌর শ্মশানে ছাত্রীটির শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে।

করোনায় মৃত্যু ছাড়াল শতাধিক, আক্রান্ত বেড়ে ২৯৪৮

বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১০ জন। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে মোট মৃতের সংখ্যা ১০১ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৪৯২ জনের দেহে। এ নিয়ে মোট করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৯৪৮ জনে।সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে করোনা ভাইরাস নিয়ে নিয়মিত অনলাইনে বুলেটিনে এ সব তথ্য উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তার সঙ্গে ছিলেন অধিদফতরের কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শহীদুল্লাহ।

তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ২৭৭৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৪৯২ জন। এছাড়া নতুন করে যে ১০ জন মারা গেছেন তাদের মধ্যে
৮ জন পুরুষ এবং দুজন নারী।

অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা আরও জানান, গতকালের চেয়ে করোনায় পরীক্ষা হয়েছে ৫.৫ শতাংশ বেশি। সারাদেশে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন প্রায় দেড় লাখ মানুষ।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে রাণীশংকৈল পুলিশের কঠোর তদারকি

হুমায়ুন কবির,রাণীশংকৈল, (ঠাকুরগাঁও) দেশে চলমান প্রাণঘাতী করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সামাজিক দূরত্ব ও লক ডাউন নিশ্চিতককরণ এবং করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে এক এলাকা হতে অন্য এলাকায় চলাচল কঠোরভাবে সীমিত করার লক্ষ্যে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল থানা পুলিশ বিভিন্ন এলাকার চেকপোস্ট ডিউটি ও তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে । ১৯ এপ্রিল রবিবার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত উপজেলার পৌরশহরসহ সকল ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যন্ত থানা পুলিশের বিভিন্ন টিম ডিউটিসহ কঠোর তদারকি করছেন। এছাড়াও থানা পুলিশ উপজেলার নেকমরদ, রামপুর, গোগরচৌরাস্তা ও কাতিহার ৪ টি মূল পয়েন্টে ২৪ ঘন্টায় চেকপোস্ট কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে লুকোচুরি ছোট ছোট চায়ের দোকানে ভ্রাম্যমাণ টহল পুলিশ রাতের বেলা মানুষের সমাগম ঠেকাতে এবং ঢাকা, নারারগঞ্জ ফেরতদের বাড়িতে লাল ঝান্ডা উড়াতে, এস আই আহাসান আলীর নেতৃত্বে বেশ কয়েকটি টহল টিম নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

এ ব্যপারে অফিসার ইনচার্জ আব্দুল মান্নান বলেন, পুলিশ সুপার স্যারের নির্দেশে আমরা করোনা সংক্রমণ রোধ করতে আমরা দিন রাত সমগ্র উপজেলায় কাজ করে যাচ্ছি। তাছাড়াও অনেক কর্মহীন মানুষকে নীরবে ত্রাণ সামগ্রী বাড়িতে বাড়িতে পৌছে দিচ্ছি এবং এ কার্যক্রম চলমান থাকবে ইনশাল্লাহ এবং আমরা বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া, সবাই নিজ নিজ বাড়িতে থেকে,যেন করোনা যুদ্ধে জয়ী হতে পরি।

যশোরের বেনাপোল বড় আঁচড়ায় সর্দি জ্বরে শিশুর মৃত্যু:বাড়ী লকডাউন

মোঃ রাসেল ইসলাম,বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরের বেনাপোলে জ্বরে দুই বোন আক্রান্তের পর এক বোনের (১১) মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে শিশুটি করোনায় আক্রান্ত কি না তা কেউ নিশ্চিত করতে পারেনি। বাড়িটি প্রশাসন থেকে লকডাউন করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।এ ব্যাপারে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার ইউসুফ আলি জানান, রবিবার ওখান থেকে নমুনা সংগ্রহ করে টেস্টের জন্য পাঠানো হবে। শিশুটির বাবার বরাত দিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার ইউসুফ আলি বলেন, তিন দিন আগে তার দুই মেয়ের জ্বর সর্দি কাশি হলেও ভয়ে তিনি বিষয়টি কাউকে জানাননি।

স্থানীয় কোয়াক ডাক্তারের কাছ থেকে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। শুক্রবার রাতে বড় মেয়েটা (১১) বারবার বমি ও পাতলা পায়খানা করছিল। তার অবস্থার অবনতি হলে যশোরে সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।

শুক্রবার রাতে হাসপাতালে নেওয়ার পথে শিশুটি মারা যাওয়ার পর মনিরামপুর উপজেলায় তার গ্রামের বাড়িতে গোপনে দাফন করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুলক কুমার মন্ডল বলেন, বিষয়টি শুনেই তার বাড়িটিকে লকডাউন করা হয়েছে। এবং পরিবারের সদস্যদের বাড়িতেই অবস্থান করতে বলা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগকে নমুনা সংগ্রহের কথা বলা হয়েছে।

প্রেরক:
মোঃ রাসেল ইসলাম
বেনাপোল,যশোর
মোবাঃ ০১৭৭৫১৯৮৭১৩
তাং ১৯.৪.২০২০

ঝালকাঠিতে নবগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপি’র পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় ১৮০টি পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন

সৈয়দ রুবেল, ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ ঝালকাঠিতে নবগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপি’র পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় ১৮০টি পরিবারের মাঝে বারি বারি গিয়ে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন।করোনা ভাইরাসের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া ঝালকাঠি সদর উপজেলার ৩নংনবগ্রাম ইউনিয়নে কর্মহীন অসহায় খেটে খাওয়া , দিনমজুর, গরিব ও মধ্যবিত্ত ১৮০টি পরিবারের মাঝে জাতীয়তাবাদী দলের উদ্যোগে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন।

১৯/০৪/২০২০ইং তারিখ রবিবার সকালে নবগ্রাম ইউনিয়নে সদর উপজেলার যুবদলের সাধারণ সম্পাদক খান আনিসুর রহমান পানু এর নেতৃত্বে নবগ্রাম ইউনিয়নে ১৮০টি পরিবারের মাঝে বারি বারি গিয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

এসব খাদ্য সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ৫কেজি চাল, ৩ কেজি আলু, ১ কেজি চিঁড়া , ১ কেজি চিনি ১ কেজি বুট ও ৫০০গ্রাম খেজুর ।

বিতরণ কালে উপস্থিত ছিলেন, নবগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কবির হোসেন, মোঃ টিপু সুলতান মল্লিক, মোঃ হেলাল ফকির, মোঃ জুলহাস মোঃ নবীন কাজি, মোঃ আবু সাইয়েদ সহ অনেকেই।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি নবগ্রাম ইউনিয়ন শাখার নেতা কর্মীদের এর নির্দেশে এবং করোনা ভাইরাসের প্রভাবে কর্মহীন হয়ে পড়া নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে দাড়ানোর জন্য এ উদ্যোগ নিয়েছি।

ঝালকাঠির অটোরিকশা,ম্যাজিক ও রেন্ট-এ-কার শ্রমিকদের আর্তনাদ

সৈয়দ রুবেল, ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ ঝালকাঠির অটোরিকশা, ম্যাজিক ও রেন্ট-এ-কার শ্রমিকদের জীবন অচল, যাদের নুন আনতে পান্তা ফুরায় সেই রকম দিনমজুর খেটে খাওয়া শ্রমিকদের জীবন আজ বিপন্ন , মান সম্মানের ভয়ে কারো কাছে হাত পাততেও পারছেন না এ শ্রমিকরা।

স্ত্রী, সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকেন আর মনে মনে ভাবেন কিভাবে তাদের মুখের আহার যোগাবেন। কে দিবে তাদের খাবার।‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌ এক মাস হলো প্রায় কর্মহীন জীবন চলা।

বেশিরভাগ শ্রমিকই ঋণে জর্জরিত। কিস্তি দেয়া বন্ধ থাকলেও নতুন করে আর ঋণ নেওয়ার কোন সুযোগ নাই তাদের। নিত্য নতুন যাদের ইনকাম ছিল আজ তারা পকেট শূন্য খালি হাতে ঘরে বসে আছেন। চা, পান ও সিগারেট না খেলে যাদের সময় কাটতো না তাদের আজ একটি টাকাও নেই কিছু খাবার কিনতে। জানালা দিয়ে তাকিয়ে থাকে কেউ সাহায্য নিয়ে আসে কিনা তাদের বাড়িতে। কিন্তু কই কেউ তো আসছেন না তাদের সাহায্য দিতে। এ রকম অভিব্যক্তি জানালেন ভুক্তভোগী এক ড্রাইভার।

এ বিষয়ে কথা হয় ঝালকাঠি জেলা হিউম্যান হলার রাইডার ও ম্যাজিক পরিবহন সমিতির সভাপতি মোঃ নান্নু মুন্সির সাথে।

তিনি জানান, করোনা ভাইরাসে আমাদের শ্রমিকরা কর্মহীন হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত স্থানীয় কাউন্সিলর রেজাউল করিম জাকির সাহেব ৫ কেজি চাল, ১ কেজি আলু, আধা কেজি ডাল একবার সাহায্য প্রদান করছিলেন।

এছাড়া ঝালকাঠি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৯২ জন ম্যাজিক শ্রমিকদের একবার চাল, ডাল, আলু, তেল, সাবান দিয়েছেন তাতে কয়েক দিন চলেছে আমাদের।

তিনি আরো জানান, ম্যাজিক ড্রাইভাররা চার চাকার গাড়ির ড্রাইভার। সবাই ভাবেন তারা ভালো আছে, আসলে আমরা মোটেও ভালো নেই, আমাদের দুর্দশা চরম আকার ধারণ করেছে।

অপরদিকে, অটোরিকশা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মানবাধিকার নেতা আবু সাঈদ খান জানান, আমি ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে আবেদন করলে তিনি প্রায় ২ হাজার শ্রমিকদের মধ্য হতে ৪শত জনকে ১০ কেজি চাল, ৫কেজি আলু, ২ কেজি ডাল, ২ কেজি তেল, ২ খানা সাবান দেন যা ৮০০ জন শ্রমিকের মধ্যে ভাগ করে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া অন্য আর কোন সাহায্য সহযোগিতা পায়নি অটোরিকশা শ্রমিকরা। তবে আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি সকলকে সাহায্য সহযোগিতার আওতায় আনার জন্য।

অন্যদিকে, ঝালকাঠির প্রায় ৬০জন রেন্ট-এ-কার শ্রমিকরা একটু সৌখিন পেশায় নিয়োজিত থাকায় তাদের দিকে চোখ পড়ছে না কারো।

আসলে দৈনন্দিন খেটে খাওয়া এই মানুষগুলো করোনাভাইরাস আতঙ্কে কর্মহীন হ‌ওয়ায় চরম দুর্দশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। কেউ তাদের খোঁজ খবর নিচ্ছে না বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভুক্ত ড্রাইভার। ম্যাজিক পরিবহন, অটো রিক্সা ও রেন্ট এ কার ড্রাইভারগণ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট তাদের প্রতি সদয় সুদৃষ্টি রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন।

দেবীদ্বারে করোনা উপস্বর্গে আবারও মৃত্যু নারায়নগঞ্জে মৃত ব্যক্তি দেবীদ্বারে দাফন

এ আর আহমেদ হোসাইন (কুমিল্লা)প্রতিনিধি : কুমিল্লা দেবীদ্বার করোনা উপস্বর্গ নিয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু এবং নারায়নগঞ্জে করোনা উপস্বর্গ নিয়ে মৃত: অপর এক ব্যক্তিকে নিজ এলাকায় এনে দাফন করার সংবাদ পাওয়া গেছে।

ওই ঘটনা দু’টি ঘটে উপজেলার ১০নং গুনাইঘর দক্ষিণ ইউপির কাশারিখোলা গ্রামে এবং একই ইউনিয়নের উজানিকান্দী গ্রামে।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার কাশারিখোলা গ্রামের মাঝি বাড়ির মৃত: হাজী দুধ মিয়া মাঝির ছেলে সহিদুল ইসলাম মাঝি(৫৫) রোববার সকাল ৭টায় করোনা উপস্বর্গ নিয়ে নিজ বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টেইনে থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরন করেন। সে নারায়নগঞ্জে একটি ফ্যাক্টরীতে কাজ করতেন। অসুস্থ্য শরীর নিয়ে গত ১৫এপ্রিল বাড়িতে আসেন। বাড়ির লোকজন তাকে হোম কোরেন্টেইনে রাখার ব্যবস্থা করেন এবং হোম কোয়ারেন্টেইনে থাকা অবস্থায় রোববার সকাল ৭টায় তিনি মারা যান।

সংবাদ পেয়ে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডিজিজ কন্ট্রোল শাখার প্রধান ডাঃ অর্জুন সাহার নেতৃত্বে স্বাস্থ্য সহকারী মোঃ রুহুল আমীন ও টেকনেশিয়ান অলিউল্লাহ নমুনা সংগ্রহ করেছেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ আহাম্মেদ কবির।

অপর ঘটনাটি ঘটে গত শনিবারে। নারায়নগঞ্জ একটি ফ্যাক্টরীতে কর্মরত অবস্থায় দেবীদ্বার উপজেলার ওই একই ইউনিয়নের উজানিকান্দী গ্রামের বাচ্চু মিয়া (৬০) নামে এক ব্যাক্তি করোনা উপস্বর্গ নিয়ে নারায়নগঞ্জের নিজ বাসায় শুক্রবার দিবাগত রাতে মৃত্যুবরন করেন। তার স্বজনেরা রোবার সকালে মৃত: বাচ্চু মিয়ার মরদেহ নিজ গ্রাম উপজেলার উজানিকান্দী এনে দাফন করেছেন।

করোনার উপস্বর্গ নিয়ে মৃত: বাচ্চু মিয়ার জানাযা সম্পর্কে ১০নং গুনাইঘর দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম খান জানান, গতকাল শনিবার নারায়নগঞ্জ থেকে তার স্বজনেরা বাচ্চু মিয়ার মর দেহ নিয়ে আসার সংবাদ পেয়েই যথা নিয়মে মৃত: ব্যাক্তির দাফন ও কবর দেয়ার ব্যবস্থা করেছি। যারা তাকে নিয়ে এসেছিল, তাদের বহনকারী এ্যাম্বুলেন্স থেকে নামতে দেইনি। জানাযা শেষে নারায়নগঞ্জ থেকে আসা মৃত; ব্যাক্তির স্বজনদের পুন:রায় নারায়নগঞ্জে পাঠিয়ে দিয়েছি।

দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হাসান জানান, কাশারিখোলা গ্রামের মৃত; ব্যাক্তির তথ্য নিয়েছি। তার নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছে। মৃত ব্যক্তির লক্ষণগুলো করোনার সাথে সংশ্লীষ্টতায় ঘাটতি রয়েছে। তার শ্বাসকষ্ট ছিল, নারায়নগঞ্জ থেকে ৪দিন পূর্বে নিজ বাড়িতে আসার পর থেকেই স্থানীয়রা তাকে হোম কোয়ারেন্টেইনে রেখেছিলেন। আপাতত পরিবারের লোকদের দূরত্ব বজায় রেখে নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছি আইইডিসিআর’র রিপোর্ট পজেটিভ হলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ পর্যন্ত যতগুলো নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে সবগুলোর রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। এখন সিজনার জ্বর, সর্দী, কাসি, শ্বাসকষ্টের রোগী বেশী থাকবে, তাতে সব রোগিকে করোনা সন্দেহে মিলিয়ে দিলে হবেনা। করোনারলক্ষণগুলো আগে জানতে হবে, তারপর নিশ্চিত হয়ে আমাদের জানালে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব। গনহারে সন্দেহের আবেগে সকলের নমুনা সংগ্রহ করা কঠিন, কারন আমাদের জনবল, ইকুইপম্যান্ট সে তুলনায় পর্যাপ্ত নেই। এক্ষেত্রে সকলের সহযোগীতা প্রয়োজন। বিচক্ষনতার সাথে আমাদের করোনা মোকাবেলা করতে হবে। সামাজিক দূরত্ব বলতে ব্যাক্তির দূরত্ব এবং মানবিক সামাজিক সহযোগীতা থাকতে হবে।

ইদানিং আরো একটি বিষয় লক্ষনীয়, সেটি হল,- নরায়নগঞ্জ, সাভার বা অন্যান্য ঝুকিপূর্ণ এলাকাগুলো লক ডাউন করা হয়েছে। সেখানকার লোকজন নিজ দায়িত্বে নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করার কথা থাকলেও তারা সেটি করছেননা।

কেউ কেউ প্রশাসনের লোকদের ফাঁকি দিয়ে ভিন্ন পথে বেড়িয়ে যাচ্ছেন। যেখানে আসছেন সেখানকার লোকজনও তাদের গ্রহন করতে চাচ্ছেননা। ফলে এদের মধ্যে মানবিক দূরত্ব ও সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এক্ষেত্রে যারা নিয়ম বহির্ভূতভাবে এসেই গেছেন, তাদের তাড়িয়ে না দিয়ে নিরাপত্তায় ১৪দিন হোম কোয়ারেন্টেনে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রশাসনকে অবহীত করে চিকিৎসকের পরামর্শে চলতে হবে। এক্ষেত্রে গোপনীয়তার কোন সুযোগ নেই। গোপনীয়তায় নিজের এবং পরিবারের যেমন ক্ষতি, তেমনি সমাজের অন্যদের ক্ষেত্রেও তেমনই ক্ষতির সম্ভাবনা থাকছে। আগতদের প্রতি কেউ অমানবিক আচরন করবেন না। তাতে নিজের মধ্যে অমানবিকতার প্রভাব পড়লে ধীরে ধীরে নিজের পরিবারের সদস্যদের প্রতিও অমানবিকতা প্রভাব পড়বে।

ফলে সমাজে মানবিকতা উবে যাবে। সামনের দিনগুলো আরো ভয়াবহ হতে পারে, এ অবস্থায় এখনই কেউ কাউকে সহযোগীতার মানষিকতা হারিয়ে ফেললে, সামনের দিনগুলোতে পরিবার, সমাজ আরো বেশী সংকটে পড়বে।

উপজেলার গোপালনগনর গ্রামে নারায়নগঞ্জ থেকে আসা একটি পরিবারকে পুনরায় নারায়নগঞ্জ ফেরত পাঠানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ওই পরিবারের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সহযোগিতা ও গ্রাম ছাড়া করা লোকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারতাম।

বেনাপোল ফায়ার সার্ভিস ১শ অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন

মোঃ রাসেল ইসলাম,বেনাপোল প্রতিনিধি: মহামারী করোনা ভাইরাসের দুর্যোগকালীন কর্মহীন দুস্থ অসহায় খেটে খাওয়া মানুষের সাহায্যার্থে আর্তমানবতার সেবায় বেনাপোল ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স এর নিজ অর্থায়নে ১শ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। শনিবার(১৮ই এপ্রিল) সকাল থেকে বেনাপোলের বিভিন্ন এলাকায় নিজেদের গাড়ি নিয়ে ১শ পরিবারের বাড়িতে গিয়ে এই খাদ্যসামগ্রী পোছে দেন বেনাপোল ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। বেনাপোল ফায়ার সার্ভিস ইনচার্জ তৌহিদুর রহমান তৌহিদ এর নেতৃত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন বেনাপোল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব বজলুর রহমান।

বেনাপোল ফায়ার সার্ভিস ইনচার্জ বলেন,আমরা বেনাপোল ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স নিজেদের বেতনের টাকা দিয়ে ১শ পরিবারের মাঝে সামান্য একটু সহযোগীতা করার জন্য আমরা খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করি।

রাণীশংকৈলে আরো একজন করোনায় আক্রান্ত

হুমায়ুন কবির, রাণীশংকৈল, (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ   ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে ১৮ এপ্রিল শনিবার আরো একজন ২৮ বছর বয়সী যুবকের শরীরে করোনার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

এদিন বিকেলে জেলা সিভিল সার্জন ডা: মোঃ মাহফুজার রহমান সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এ নিয়ে রাণীশংকৈলে মোট করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাড়ালো দুই জনে। গতকাল ১৭ এপ্রিল নতুন করে রাণীশংকৈলে একজন করোনা রোগী সনাক্ত হয়। ১৮ এপ্রিল আবারও রাণীশংকৈলে একজন করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি সনাক্ত হলো।

রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর আরএমও ডা: ফিরোজ আলম জানান, গতকালের পর আজ আরো একজনের নমুনায় করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। আক্রান্ত ব্যক্তির বয়স ২৮ বছর। সে রাণীশংকৈল উপজেলার উত্তরগাঁ এলাকার বাসিন্দা। ধারণা করা হচ্ছে সে নারায়ণগঞ্জ থেকে রাণীশংকৈল উপজেলায় এসেছে।

এ নিয়ে উপজেলায় এক শিশুসহ দুইজন করোনায় আক্রান্ত হলো। তাদের ২ জনকেই আইসোলুশনে রাখা হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেট...