মোঃ রাসেল ইসলাম,বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: ভারত-বাংলাদেশ উভয় দেশের সিএন্ডএফ এজেন্টদের আমদানি-রফতানি কাজে যাতায়াতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বাধা দেওয়ায় দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল-পেট্রাপোল মঙ্গলবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ভারতের সাথে আমদানি-রফতানি বন্ধ রয়েছে। মঙ্গলবার সকালে মালামাল আমদানি-রফতানি জন্য কাগজপত্র নিয়ে পেট্রাপোল বন্দরে প্রবেশ করতে গেলে হঠাৎ করে বিএসএফের বাধার মুখে পড়ে সিএন্ডএফ কর্মচারিরা।একই ভাবে ভারতীয় কর্মচারিরাও বেনাপোল চেকপোস্টে প্রবেশ করতে পারেনি। কাউকে প্রবেশ করতে দেয়নি বিএসএফ। এর ফলে উভয় বন্দরে কোন ট্রাক পণ্য নিয়ে আসতে ও যেতে পারেনি। উভয় দেশে প্রবেশের অপেক্ষায় পণ্য বোঝাই কয়েক হাজার ট্রাক আটকা পড়েছে। এর মধ্যে পঁচনশীল পণ্যও রয়েছে।তবে কাস্টমসের কর্মকর্তারর আমদানি-রফতানি সচল করতে ভারতীয় পেট্রাপোল বন্দরের কাস্টমস কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে কাস্টমসের কর্মকর্তারা।
বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্টস্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক সাজেদুর রহমান জানান, দ্রæত আমদানি-রফতানির সুবিধার্থে দুই দেশের সিঅ্যান্ডএফ স্টাফরা কাগজপত্র প্রস্তুত করতে বেনাপোল ও পেট্রাপোল বন্দরে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের দেওয়া পরিচয় পত্রের মাধ্যমে যাতায়াত করে থাকেন। মঙ্গলবার সকালে কাগজপত্র নিয়ে ভারতে প্রবেশ করতে চাইলে বিএসএফ বাধা দেয়। তারা বলেন এভাবে প্রবেশ করা যাবে না। পাসপোর্ট নিয়ে প্রবেশ করতে হবে।
তারা বলেন, আমরা ভারতে এবং ভারতের সিএন্ডএফ ব্যবসায়ীরা যদি কাগজপত্র আদান প্রদান করতে না পারি তবে ব্যবসা বাণিজ্য মুখ থুবড়ে পড়বে। এই কাগজ পত্র পেয়ে উভয় দেশে আইজিএম খোলা হয় তারপর মালামাল দুই দেশে প্রবেশ করে।কিন্তু হঠাৎ করে ভারতীয় বিএসএফ সদস্যরা স্টাফদের বন্দরে যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা জারি করায় আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে আমদানি-রফতানি সচল করতে বুধবাার দুপুরে বেনাপোল চেকপোস্ট বন্দর টার্মিনাল মিলনায়তনে উভয় দেশের সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশন ও কর্মচারি এসোসিয়েশনের নেতৃবন্দ প্রশাসনের সাথে এক বৈঠকে মিলিত হয়। বৈঠকে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃবন্দ জানান, ভারতীয় বিএসএফ তাদের জানিয়েছে মঙ্গলবার সকালে একটি আদেশ এসেছে যাতায়াত বন্ধে। এ বিষয়টি তাদের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের আদেশ। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত বিএসএফ কাউকে যেতে দিচ্ছে না। এ অবস্থায় এ পথে আমদানি-রফতানি করা সম্ভব নয়। আমরা বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আমদানি-রফতানি কাজ দেখভালের দায়িত্ব ভারতের কাস্টমস কর্তৃপক্ষের।
কিন্তুু তারাও এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বৈঠকে বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবির তরফদার, বেনাপোল কাস্টমমের সহকারি কমিশনার উত্তম চাকমা, বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি মামুন খান, বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন, সাবেক সভাপতি শামছুর রহমান, সহসভাপতি খায়রুজ্জামান মধু, কামাল উদ্দিন শিমুল, যুগ্ম সম্পাদক জামাল হোসেন, কাস্টমস সম্পাদক নাসির উদ্দিন, বন্দর সম্পাদক শাহাবুদ্দিন, সিএন্ডএফ এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মুজিবর রহমান, সাধারন সম্পাদক সাজেদুর রহমান, ভারতের পেট্রাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রতন কুমার বিশ^াস, সাধারন সম্পাদক কার্ত্তিক চক্রবর্তী, সাবেক সভাপতি বিশ^জিৎ ঘোষ, বনগাঁ মোটর ওনার্স এসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক দিলীপ দাস, মটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক প্রভাস কুমার প্রমুখ।
বেনাপোল বন্দরের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবির তরফদারবলেন, দীর্ঘদিনের যাতায়াতের বিষয়টি কোনো আলোচনা বা সময় না দিয়ে ভারতীয় বিএসএফের এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া সঠিক হয়নি। এ কারণেএ পথে দু‘দিন আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে। বেনাপোল-পেট্রাপোল সিএন্ডএফ এজেন্টের সাথে বৈঠক হয়েছে। তারা বিএসএফের সাথে কথা বলে দ্রæত আমদানি-রফতানি সচল করার চেস্টা করছেন। আমরাও পেট্রাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বাণিজ্য সচল করার চেষ্টা করছি।
মোঃ সম্রাট আলাউদ্দিন(ধামরাই প্রতিনিধি) : আজ ধামরাইয়ের বিভিন্ন স্কুলের মেধাবী ছাএীদের মধ্যে বাইসাইকেল বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে ধামরাই উপজেলার এলজি এসপি-৩ এর আয়োজনে ৯০ টি সাইকেল বিতরণ করা হয়। বাইসাইকেল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ঢাকা ২০ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব বেনজির আহমদ।এ সময় তিনি বলেন, আয়োজনটি অবশ্যই প্রশংসনীয়। এটি সরকারের উন্নয়নেরই একটি অংশ। তিনি শিক্ষা ক্ষেত্রে নারীদের প্রতি সরকারের বিভিন্ন সহযোগিতার চিত্র তুলে ধরেন। বলেন, নারীদেরকে সামনের সারিতে আনতে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। ব্যতিক্রমী আয়োজন সেই উন্নয়নেরই ধারাবহিকতা অব্যাহত থাকবে । ধামরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার সামিউল হক এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ছানিয়া আক্তার উপ-পরিচালক স্হানীয় সরকার (উপসচিব) ঢাকা, ধামরাই উপজেলা যুবলীগ সভাপতি ও ধামরাই উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাদ্দেস হোসেন, ধামরাই পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও ধামরাই পৌর মেয়র আলহাজ্ব গোলাম কবির মোল্লা, ধামরাই উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, (এলজিএসপি-৩) আওতায় বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেধাবী ছাএীদের মাঝে এ বাই সাইকেল বিতরণ করা হলো। যারা সাইকেল পেয়েছে তারা সবাই অসচ্ছল পরিবারের। এমন আয়োজন অব্যাহত থাকবে।উক্ত অনুষ্ঠানে ছাএীরা বাইসাইকেল পেয়ে খুবই আনন্দিত।
আপেল মাহমুদ, নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর নিয়ামতপুর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ প্রেম সংক্রান্ত বিষয়ে ওয়ার্ড যুবলীগের এক নেতাকে পিটিয়ে আহত করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।আহত অবস্থায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর এ নিয়ে দফায় দফায় বৈঠকের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জয়া মারীয়া পেরেরা বিষয়টি সমাধান করে দেন।ভুক্তভোগী ইমরান হোসেন উপজেলার শ্রীমন্তপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি। গত রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে থানায় ওসির কক্ষে এ মারধরের ঘটনা ঘটে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইমরান হোসেনের চাচাতো বোনের সঙ্গে মোবাইলে মহাদেবপুর উপজেলার এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই যুবক হরিপুর গ্রামে রোববার দুপুরে দেখা করতে যান।
যুবকের সঙ্গে মেয়েকে কথা বলতে দেখে এ নিয়ে ইমরান হোসেনের পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। পরে বিষয়টি থানা পর্যন্ত গড়ায়। ইমরান হোসেনের পরিবারের একপক্ষ ওই যুবকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করবে বলে জানায়। কিন্তু ইমরান অভিযোগ না দিয়ে স্থানীয়ভাবে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে চান।এ অবস্থায় ওসি আবুল কালাম আজাদ বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগ দিতে বলেন। কিন্তু এতে বাধা দেন ইমরান হোসেন। এ সময় ক্ষিপ্ত হয়ে থানায় ওসির কক্ষে ইমরান হোসেনকে চড়-থাপ্পড় ও কিল-ঘুষি মারতে শুরু করেন ওসি। পরে ইমরান হোসেন সেখান থেকে চলে যান।ঘটনার পর দফায় দফায় বৈঠকের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়া মারীয়া পেরেরার মধ্যস্থতায় রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে বিষয়টি সমাধান করা হয়।শ্রীমন্তপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজাহারুল ইসলাম বলেন, শুনেছি ইমরানের চাচাতো বোনের সঙ্গে গ্রামে এক ছেলে দেখা করতে এসেছিল। এ নিয়ে ওই ছেলের সঙ্গে মেয়ের পরিবারের দ্বন্দ্ব হয়।
পরে অভিযোগ করার জন্য থানায় গেলে মারধরের ঘটনা ঘটে।নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল কর্মকর্তা প্রণব কুমার সাহা বলেন, ইমরান বিকেলে হাসপাতালে আসেন। তার অভিযোগ ছিল তাকে মারধর করা হয়েছে। তবে তার শরীরে গুরুতর কোনো আঘাত আমরা পাইনি। পরে তিনি বলেন ঘাড়ে এবং কানে আঘাত পেয়েছেন। এরপর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কানে ব্যথা পেয়েছেন তিনি। আমরা তাকে চিকিৎসা দিয়েছি।
এখন অনেকটা সুস্থ আছেন তিনি।নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদের বলেন, আসলে তাকে জোরে মারা হয়নি, যা আহত হওয়ার মতো ।নিয়ামতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জয়া মারীয়া পেরেরা বলেন, বিষয়টি তেমন কিছুই না। সাধারণ একটি বিষয়। উভয়পক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। পরে উভয়পক্ষের মধ্যে সমঝোতা করে দেয়া হয়েছে।
আশরাফ হোসেন পল্টু,মাগুরা প্রতিনিধি : মাগুরায় কালেক্টরেট সহকারীদের ৩ দিনের কর্মবিরতি গতকাল মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে। কালেক্টরেট সহকারীদের পদ ও পদবী পরিবর্তনের দাবিতে গত ২০ জানুয়ারী থেকে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ১শ কর্মচারি ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পূর্ণ দিবস কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে তারা। এতে সাধারণ সেবাগ্রহীতারা সমস্যায় পড়ছেন।
মাগুরা কালেকটরেট সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাকের আহমেদ জানান, মাগুরা কালেক্টরেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় কালেক্টরেট সহকারীদের দীর্ঘ ২০ থেকে ৩০ বছর যাবত কোন প্রকার পদোন্নতি বা পদ পরিবর্তন হচ্ছে না। এর ফলে তারা চাকরির বৈধ সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এ অবস্থায় সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে একাধিকবার চিঠি দেয়া হয়েছে। কিন্তু অদৃশ্য কারণে তাদের বৈধ দাবী পূরণ হচ্ছে না। অথচ একই সময়ে চাকরি নিয়ে সচিবালয়ের সহকারীবৃন্দ ৩ থেকে ৪টি পদোন্নতি পেয়ে গেছেন। গত ২০ জানুয়ারী থেকে ৪ পর্বে দুই ঘন্টা, তিন ঘন্টা, অর্ধ দিবসসহ নানাবিধ কর্মবিরতীর মাধ্যমে আন্দোলন কর্মসূচী পালন করে আসলেও সরকারের কোন পদক্ষেপ না দেখে আমরা ৩ দিনের পূর্ণদিবস কর্মবিরতী পালন করতে বাধ্য হচ্ছি। আশাকারি সরকার আমাদের ন্যায্য দাবী মেনে নিবেন।
এদিকে, জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে ঘুরে দেখা গেছে অফিসের নিচতলার বারান্দায় ব্যানার টানিয়ে চেয়ার পেতে বসে কর্মবিরতি পালন করছেন সহকারীবৃন্দ। অফিসের সহকারীদের অধিকাংশ টেবিল চেয়ার ফাঁকা পড়ে আছে। অনেক সেবাগ্রহীতা সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
শেফালী খাতুন নামে এক নারী এ প্রতিনিধিকে জানান, ডিসি অফিসের কর্মচারিরা আন্দোলন করছেন। একটি দরখাস্ত দিতে এসে শুনলাম সবাই আন্দোলন করছে। আমি দরখাস্ত না দিতে পেরে ফিরে যাচ্ছি। আমার মত অনেকেই সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
আপেল মাহমুদ,নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর মান্দায় চারটি ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে ৬ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেছে পরিবেশ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমান আদালত। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টার পর্যন্ত উপজেলার কাঁশোপাড়া ইউনিয়নের এসব ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাকছুদুল ইসলাম। এসময় পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকার মনিটরিং শাখার পরিদর্শক আসাদুল কিবরিয়া, পরিবেশ অধিদপ্তর নওগাঁর সহকারি পরিচালক মকবুল হোসেন, পরিবেশ অধিদপ্তর বগুড়ার গবেষনা সহকারি মাহমুদুল হাসান, র্যাব-৫ জয়পুরহাট ক্যাম্পের ডিএডি কামরুজ্জামান চৌধুরীসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও ফায়ার সার্ভিস কর্মিরা উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাকছুদুল ইসলাম জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই ইটকাটা ও পোড়ানোসহ কয়েকটি অভিযোগে উপজেলার চারটি ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এর মধ্যে ছবিরন ব্রিকস, শিমুল ইন্টারপ্রাইজ ও এবিবি ব্রিকসের ৬ লাখ টাকা জরিমানাসহ ছবিরন ব্রিকসের এক লাখ কাঁচা ইট ধ্বংস করা হয়েছে ।
তিনি আরও বলেন, ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানের উপস্থিতি টের পেয়ে ভরট্ট কাঠেরডাঙ্গা গ্রামে স্থাপিত টিএসবি ব্রিকসের লোকজন পালিয়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মিদের সহায়তায় পানি দিয়ে এ ভাটার আগুন নিভিয়ে দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে ভাটামালিক সোহেল রানার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে বলেও জানান তিনি।
হুমায়ুন কবির, রাণীশংকৈল, (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল পৌর শহরের আদূরে ঘুঘুডারা নামক স্থানে ২৫ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার দুপুরে প্রথমবারের মতো নির্মিত সাথী হিমাগার লিমিটেডের শুভ উদ্ভোধন করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুহাঃ সাদেক কুরাইশী । সাথী হিমাগারের চেয়ারম্যান সিরাজুল হক সিরাজির সভাপতিত্বে মিলাদ ও আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক সইদুল হক, পৌর মেয়র ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আলমগীর সরকার, আ’লীগ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান সোহেল রানা ও শেফালী বেগম, জাপানী ইন্জিনিয়ার তাকিজওয়া, ইউসিবি ব্যাংকার মুন্নাবির আহমেদ খান, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জমিরুল ইসলাম ও সফিকুল ইসলাম মুকুল প্রমুখ। এছাড়াও এলাকার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ব্যক্তিবর্গ, হিমাগারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা- কর্মচারী, ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
কুবি প্রতিনিধি: পাঁচ দফা দাবিতে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ (বিবিএ) ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা লাগিয়ে আন্দোলন করেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট অনুষদের শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার সকাল থেকে অনুষদের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে আন্দোলনে নামে তারা। পরবর্তীতে তারা অনুষদের সামনে থেকে সরে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে অবস্থান নেয়।শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবিগুলো হচ্ছে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের প্রত্যেকটি বিভাগের জন্য আলাদা ক্লাসরুম, প্রত্যেক বিভাগের জন্য আলাদা ল্যাব ও সেমিনার, শিক্ষকদের জন্য পর্যাপ্ত রুম, নামাজের জন্য আলাদা রুম, মেয়েদের জন্য স্বতন্ত্র আলাদা রুম ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের স্বতন্ত্র পরিচয় যেখানে অন্য কোনো বিভাগ ক্লাস করতে পারবে না।
আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, এতোদিন ক্লাসরুম সংকটে আমাদের ফ্যাকাল্টিতে সিইসি ও আইসিটি বিভাগ ক্লাস করেছে। তাই আমরা তাদের সাথে ক্লাসরুম ভাগাভাগি করেছি। কোনো আন্দোলন করি নাই। কিন্তু এখন এ বিভাগ দুইটি তাদের নিজেদের অনুষদে চলে যাওয়ায় আমাদের ক্লাসরুম ফাঁকা হয়েছে। তাই আমরা এখন আমাদের ক্লাসরুমের দাবীতে আন্দোলনে নেমেছি। আমাদের এ আন্দোলন কোনো বিভাগের বিরুদ্ধে নয়, বরং আমাদের প্রশাসনের বিরুদ্ধে।
জানা যায়, সম্প্রতি এ অনুষদটিতে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অন্তর্ভুক্ত গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে বেশ কিছু ক্লাসরুম বরাদ্দ দেওয়া হয়।
এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো: আবু তাহের প্রথমে কথা বলতে আসলেও শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে কোনো সমাধানে আসতে চায়নি। পরে তিনি জানান, ‘উপাচার্য না থাকায় ব্যাপারটি নিয়ে কোনো সমাধান হয়নি। আগামী রোববার বেলা ১২টায় উপাচার্য ও বিভাগীয় প্রধানদের উপস্থিতিতে সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।’ এ আশ্বাস পেয়ে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত করে।
এ আর আহমেদ হোসাইন ,(দেবীদ্বার – কুমিল্লা) প্রতিনিধি: দেবীদ্বারের এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ৪০দিনের কর্মসূচীর টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে নেমেছেন দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও জেলা প্রশাসন। ওই অভিযোগ উঠেছে উপজেলার ৪নং সুবিল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু তাহের সরকার’র বিরুদ্ধে।
গত বছরের ২৯এপ্রিল দেবীদ্বার উপজেলার ৪নং সুবিল ইউনিয়নের ২৪জন দিনমজুর বাদী হয়ে দূর্নীতিদমন কমিশনে দায়েরকৃত অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্তে নেমেছেন দুদক। এরই মধ্যে দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্মকর্তাগন এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এক প্রতিনিধি গত জানুয়ারী এবং চলতি ফেব্রুয়ারী মাসে ৩দফা সরেজমিনে এসে তদন্ত করে যান।
চলতি বছরের গত ২০ ও ২২জানুয়ারী দিনব্যাপী দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কুমিল্লা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক ও অভিযোগ তদন্তকারী কর্মকর্তা আহমেদ ফরহাদ’র নেতৃত্বে একটি অনুসন্ধানী দল দু’দফা তদন্ত করে যান। তদন্তকালে আরো উপস্থিত ছিলেন সহকারী পরিদর্শক মোঃ মোফাজ্জল হায়দার, সড়ক ও জনপদ বিভাগ গৌরীপুর শাখার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাফরুল হায়দার, দেবীদ্বার উপজেলার সাবেক প্রকল্প কর্মকর্মা ইউনুছ মিয়া, কুমিল্লা ময়নামতি শাখার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আল আমিন, দেবীদ্বার উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম, প্রকল্প বাস্তবায়ন শাখার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আশরাফুল ইসলাম, সার্ভেয়ার মোঃ মোয়াজ্জেম হোসাইন, এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলার ৪নং সুবিল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ আবু তাহের সরকার, অভিযোগকারী আ’লীগ সুবিল ইউনিয়ন কমিটির সাবেক সাধারন সম্পাদক গোলাম সারোয়ার মুকুল ভূঁইয়া, মোঃ আলাউদ্দিন ও আব্দুল কুদ্দুস প্রমূখ।
অপর এক অভিযোগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রবাসী কল্যাণ শাখার সহকারী কমিশনার তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া’র নেতৃত্বে একটি তদন্তকারী দল তদন্ত করে যান।
৪০দিন কর্মসূচী সম্পর্কে ২৪ অভিযোগকারীদের মধ্যে ওয়াহেদপুর গ্রামের মমতাজ বেগম, রেহেনা বেগম, নারায়নপুর গ্রামের ইসমাইল হেসেন, জামাল হোসেন, আব্দল্লাহপুর গ্রামের মিজান, সুলতা মোল্লা বলেন, ওরা এ বিষয়ে অবগত ছিলেননা, ওরা কেউ কাজ করেননাই, টাকাও নেননি কিন্তু তাদের জাতীয় পরিচয় পত্রের নম্বর সহ জাল স্বাক্ষরে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তলন হয়েগেছে বলে জানতে পারেন। তারা বলেন, ৪০দিন কর্মসূচীর আওতায় দিনমজুরদের প্রতি অর্থবছরে জনপ্রতি ৮হাজার টাকা করে ৩অর্থবছরে ২৪হাজার টাকা করে ২৪৮জনকে ৫৯লক্ষ ৫২হাজার টাকা দেয়ার কথা থাকলেও চেয়ারম্যান আবু তাহের ২০১৬-২০১৭, ২০১৭-২০১৮, ২০১৮-২০১৯ইং অর্থবছরে টাকা আত্মসাৎ করে ফেলেছেন। ওই ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের দিন মজুরের তালিকায় আছেন,- ওয়াহেদপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাজী মামুনুর রশীদ এবং একই বাড়ির সিএনজি চালক কাজী জহিরের নামও রয়েছে।
অপর অভিযোগকারী আ’লীগ সুবিল ইউনিয়ন কমিটির সাবেক সাধারন সম্পাদক গোলাম সারোয়ার মুকুল ভূঁইয়া বলেন, ৪০দিনের কর্মসূচীর আওতায় গত ৩অর্থবছরে কোন কাজ হতে দেখি নাই। কোন মেম্বারও কাজ করেন নাই, দুদক এবং জেলা প্রশাসকের বরাবরে অভিযোগের পর চলতি বছরে কিছু কাজ দিলেও তাও সঠিক ভাবে হচ্ছেনা। তাছাড়া ইউপি চেয়ারম্যানের ভয়ে ইউপি মেম্বার কেন, এলাকার সাধারন মানুষজন মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেনা। এ যেন যে যেমন করে লুটের রাজত্ব কায়েম করছে।
সুবিল ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড মেম্বার মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, চলতি অর্থ বছরে ৪০দিনের কর্মসূচীর কিছু কাজ পেলেও ২০১৬-২০১৭, ২০১৭-২০১৮, ২০১৮-২০১৯ইং অর্থ বছরের কোন কাজ চেয়ারম্যান দেন নাই। গত বছর সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবীন্দ্র চাকমা আমাদের ডেকে নিয়ে বললেন, আপনাদের ৪০দিনের কর্মসূচীর কাজের কি অবস্থা, তখন বললাম স্যার আমরাতো কোন কাজ পাইনি, কাজ করিও নাই, কাজের অবস্থা বলব কিভাবে ? তখন ইউএনও স্যার কাগজপত্র বের করে বলেন, এই প্রজেক্টের চেয়ারম্যান আপনি, কাজ করেন নাই বলেন কেন ? তখন বললাম স্যার আপনার কাছেই এ বিষয়ে জানলাম। এ অভিযোগ আরো কয়েকজন ইউপি মহিলা ও পুরুষ মেম্বার নাম না প্রকাশের শর্তে স্বীকার করে বলেন,- আমরা কঠিন চাপে আছি।
এ ব্যপারে অভিযুক্ত সুবিল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু তাহের সরকার বলেন, ৪০দিনের কর্মসূচী প্রকল্পের স্ব স্ব ইউপি মেম্বারগন প্রকল্প চেয়ারম্যান, তাদের এলাকার উন্নয়নে তাদের লোক দিয়ে কাজ করেন। এখানে কাজ না করে দিনমজুরের ভোটার নম্বর দিয়ে জাল স্বাক্ষরে টাকা উত্তোলন করার বিষয়টি আমার নয়। আমি সকল ইউনিয়নের দিনমজুর চেনার কথাও নয়, তবে অনেকের নাম তালিকাভূক্ত থাকলেও তারা কাজ করেননা, বিকল্প লোক দিয়ে কাজ করাতে হয়।
এব্যাপারে সাবেক দেবীদ্বার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইউনুছ মিয়া বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের রাস্তাঘাটের উন্নয়নে কিছু কাজ আমার প্রকল্পের মাধ্যমে হয়।
বিশেষ করে ৪০দিনের কর্মসূচীর কাজের বিষয়ে দুদকে অভিযোগকারী ২৪ দিনমজুর তারা কাজও করে নাই, টাকাও নেয়নি, অথচ তাদের জাতীয় পরিচয় পত্রের নম্বর সহ জাল স্বাক্ষরে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তলন হয়ে যাওয়ার বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, চেয়ারম্যানের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্প আসে সেগুলো অনুমোদন দিয়ে ব্যাংকে পাঠাই, একজনের টাকা অন্যজনকে দেয়া বা জাতীয় পরিচয় পত্রের নম্বর সহ জাল স্বাক্ষরে টাকা উত্তোলনের বিষয়টি ব্যাংক সংশ্লিষ্টরাই বলতে পারবেন।
মোঃ সম্রাট আলাউদ্দিন(ধামরাই প্রতিনিধি)ধামরাইয়ে ধর্ষণ ও মাডার মামলার তদন্তের রহস্য উদঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় ঢাকা রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ পুলিশ পরিদর্শক হিসাবে কাওয়ালীপাড়া বাজার তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক ইনচার্জ রাসেল মোল্লাকে নির্বাচিত করা হয়েছে।শনিবার দুপুরে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ে শ্রেষ্ঠ পুলিশ পরিদর্শক হিসেবে নির্বাচিত করে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমান বিপিএম পিপিএম পরে তিনি শ্রেষ্ঠ পুলিশ পরিদর্শক রাসেল মোল্লা’কে তার পুরস্কারটি তুলে দেন।
সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত ডিআইজি জনাব আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত ডিআইজি আবুল বাসার, অতিরিক্ত ডিআইজি জিহাদুল ইসলাম, অতিরিক্ত ডিআইজি জনাব নূরে আলম মিনা, ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার জনাব মারুফ হোসেন সরদার, ঢাকা রেঞ্জের সকল জেলার পুলিশ সুপারসহ পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
সৈয়দ রুবেল, ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধিঃ ঝালকাঠির নেছারাবদ দরবার শরীফে বার্ষিক ইসালে সওয়াব ওয়াজ মাহফিলের আখেরী মোনাজাত শেষে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় সিয়াম মীর (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনায় তার সাথে অপর আরোহী মোঃ জেবিন জমাদ্দার (২৫) গুরুত্বর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।২৫/০২/২০২০ইং তারিখ সোমবার সকাল ৯টার দিকে বরিশাল-খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়কের ঝালকাঠির বাসন্ডা সেতুর পশ্চিম পাশে ইটবোঝাই অবৈধ ট্রলির মাটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সিয়াম মীর পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া শহরের পুরাতন ষ্টিমারঘাট এলাকার পেশকার বাড়ির সোহরাব মীরের ছেলে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শনিবার নেছারাবদ দরবার শরীফে বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলের আসে।
সোমবার সকালে আখেরী মোনাজাত শেষে মোটরসাইকেল যোগে সিয়াম ও জেবিন ভান্ডারিয়া গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়।
পথে বাসন্ডা সেতুর পশ্চিম পাশে একটি ইটবোঝাই অবৈধ ট্রলি বেপরোয়া গতিতে এসে মোটরসাইকলে ধাক্কা দিলে দুই জনই আহত হয়। গুরুতর অবস্থায় তাদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরে সিয়ামের মৃত্যু হয়।
ঝালকাঠি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খলিলুর রহমান বলেন, ঘটনার পরপরই আহত দুইজনকে বরিশাল নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের মধ্যে একজন মারা গেছে। লাশ ময়না তদন্তের পরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
উল্লেখ্য, ঝালকাঠি জেলা জুড়ে ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্বহীনতা ও অসদাচরনের সুযোগে স্থানীয় পর্যায়ে তৈরী করা এসব অবৈধ ট্রলার টেম্পু ও মালবাহী টেম্পু সড়ক-মহাসড়ক এমন কি পৌরশহরের রাস্তা দবড়ে বেড়াচ্ছে।
এসব অবৈধ পরিবহনগুলো অপ্রাপ্ত বয়স্ক, আনাড়ি ও মাদকসেবী তরুন-যুবক চালক হিসাবে বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে প্রায়শই জানমালের ক্ষতি সাধন করছে।
অথচ কোন ঘটনায়ই পুলিশ বা ট্রাফিক বিভাগ আইনগত বা কঠোর ভূমিকা না নেয়ায় এদের দ্বারা দূর্ঘটনার সংখ্যা বেড়েই চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এহেন ভূমিকার কারনে সাধারন জনমনে চাপ ক্ষোভ বিরাজ করছে।