সৈয়দ রুবেল, ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধিঃ ঝালকাঠির রাজাপুরে চোরের সাথে যুদ্ধ করতে গিয়ে অসুস্থ মো. মোকাম্মেল হাওলাদার (৬০) নামে এক গৃহকর্তার প্রাণ দিতে হয়েছে।২২/০২/২০২০ইং তারিখ শনিবার ভোর রাতে আনুমানিক ৪টার দিকে উপজেলার মঠবাড়ি ইউনিয়নের ইন্দ্রপাশা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মোকাম্মেল বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) প্রাক্তন কর্মচারী ও একই গ্রামের মৃত কাছেম আলী হাওলাদারের ছেলে।
স্থানীয়রা জানায়, ২১তারিখ শুক্রবার রাতে মোকাম্মেল হাওলাদারের ঘরে চোর অবস্থান নেয়। শনিবার ভোর রাত আনুমানিক ৪টার দিকে পরিবারের সবাই যখন গভীর ঘুমে বিভোর তখন চোর মোকাম্মেলের পুত্রবধূর গলায় থাকা চেইন নিতে গেলে তিনি টের পেয়ে চিৎকার শুরু করেন।
এ সময় মোকাম্মেল চিৎকার শুনতে পেয়ে ঘুম থেকে উঠে তিনিও চিৎকার দিয়ে চোরের পিছু ধাওয়া করলে চোর পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরে মোকাম্মেল ঘরে এসে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় স্বজনরা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার মৃত ঘোষণা করেন।
মোকাম্মেল হাওলাদারের ছেলে মো. জুন্নুন হাওলাদার বলেন, চোর মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালংকারসহ দুই লক্ষাধিক টাকার মালামাল নিয়ে গেছে। পরে আমার মোবাইল নম্বরে ফোন দিলে চোর ফোন রিসিভ করে। আমি চোরের সঙ্গে প্রায় আধা ঘণ্টা কথা বলেছি। এ সময় আমি আমার মোবাইল ফোনটা ফেরত চেয়ে চোরকে অনুরোধ করলেও ধরা পড়ার ভয়ে মোবাইল ফেরত দিতে রাজি হয়নি ।
তিনি আরও বলেন- ঘুম থেকে উঠে হঠাৎ চিৎকার ও দৌড় দেয়ায় আমার বাবার স্ট্রোক হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক ।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন অভিযোগ থানায় দায়ের করা হয়নি।
এনামুল হক, সুন্দরগঞ্জ(গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা কেন্দ্রীয় শিব মন্দিরে হাজারো ভক্তের উপস্থিতিতে শ্রীশ্রী মহাশিবরাত্রি পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতি বছর ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণ পক্ষের চতুর্দশী তিথিতে এই মহাশিবরাত্রি পালিত হয়।মহাশিবরাত্রি হল হিন্দুধর্মের সর্বোচ্চ আরাধ্য দেবাদিদেব মহাদেব ‘শিবের মহা রাত্রি’।
শিবরাত্রি হিন্দু শৈব সম্প্রদায়ের নিকট একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান। ভক্তরা এইদিন উপবাস থেকে শিবলিঙ্গে গঙ্গাজল, দুধ, বেলপাতা, ফুল দিয়ে পূজা করে থাকে। সব ব্রতের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হল এই মহাশিবরাত্রি ব্রত।
ব্রতের আগের দিন ভক্তগণ নিরামিষ আহার করে। রাতে বিছানায় না ঘুমিয়ে মাটিতে ঘুমায়। ব্রতের দিন তারা উপবাসী থাকে।
এরপর রাত্রিবেলা চার প্রহরে শিবলিঙ্গকে দুধ, দই, ঘৃত, মধু ও গঙ্গাজল দিয়ে স্নান করানো হয়।
এদিন বেলপাতা , নীলকন্ঠ ফুল, ধুতুরা, আকন্দ, অপরাজিতা প্রভৃতি ফুল দিয়ে পূজা করা হয়।
পূজায় ‘ওঁ নমঃ শিবায়’ এই মহামন্ত্র জপ করা হয় । পূজার দিন রাত্রি জাগরণ করা হয় ও শিবের ব্রতকথা পাঠ,আরাধনা করা হয়।
ইবি, প্রতিনিধিঃ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়(ইবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশীদ আসকারী হঠাৎ করেই আবাসিক হল পরিদর্শন করেছেন।আজ ২১ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় সাদ্দাম হোসেন হলের বিভিন্ন জায়গা তিনি ঘুরে দেখেন।এসময় আবাসিক শিক্ষার্থীরা হলের বিভিন্ন সমস্যার কথা উপাচার্যের কাছে তুলে ধরেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ দীর্ঘ দিনে হলের ডাইনিংয়ের খাবার, রিডিং রুম, টয়লেট, ওয়াশরুম গুলোতে অপরিচ্ছন্নতার বিষয়ে হল কতৃপক্ষের কাছে জানানো হলেও অধিকাংশ সমস্যা গুলো অসমাধান যোগ্য পড়ে থাকে।
শুধু এ সমস্যাই নয় হলে বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির সমস্যা নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। উপাচার্য সরেজমিনে হলের রুম, ডাইনিং, রিডিং রুম, টয়লেট, ওয়াশরুম, ফুলের বাগান, ছাদে পানির ট্যাংক পরিদর্শন করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের দেয়া অভিযোগ গুলো আমলে নিয়ে হল কতৃপক্ষ এবং প্রকৌশল অফিসকে খুবই দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যা সমাধানের নির্দেশ প্রদান করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রক্টর অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বম্মর্ণ, প্রধান প্রকৌশলী ( ভারপ্রাপ্ত) অালিমুজ্জান টুটুল, সহকারী প্রক্টর আরিফুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, হাফিজুর রহমান, ও আবাসিক শিক্ষক আমজাদ হোসেন প্রমুখ।
এ,আর, আহমেদ হোসাইন,(দেবীদ্বার-কুমিল্লা):দেবীদ্বার প্রবাসী ফাউন্ডেশন’র উদ্যোগে মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ৪০ দরিদ্র ও মেধাবী এতিম শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুল ব্যাগ বিতরণ করা হয়। শুক্রবার সকাল ১০টায় দেবীদ্বার পৌর এলাকার ইকরানগরী মাদানিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসায় ওই আয়োজন করা হয়।শহীদ দিবসের আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ৪০ দরিদ্র ও মেধাবী এতিম শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুল ব্যাগ বিতরণ অনুষ্ঠানে দেবীদ্বার প্রবাসী ফাউন্ডেশন’র যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল হালিম’র সভাপতিত্বে এবং ইকরানগরী মাদানিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা কামাল উদ্দিন’র সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাংবাদিক এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম নবী, নারী নেত্রী আমিরুন্নেছা, সাংবাদিক এটিএম সাইফুল ইসলাম মাসুম, সৌদী প্রবাসী সেলিম সরকার। অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন, সাংবাদিক আব্দুল্লাহ ্আল মামুন, হাফেজ ছোবহান আহাম্মদ, দীন মোহাম্মদ দিদার, রকিবুল ইসলাম প্রমূখ। স্বাগতিক বক্তব্য রাখেন দেবীদ্বার সৌদী প্রবাসী ফাউন্ডেশন’র আহবায়ক সাংবাদিক রুস্তম খান।
সৈয়দ রুবেল, ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধিঃ অমর একুশে ফেব্রুয়ারি আমরা তোমাদের ভুলব না। সকল ভাষার শহীদদের স্মরণে রাত ১২:১ মিনিটের সময় ঝালকাঠি কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন, ঝালকাঠি জেলা ছাত্রদলের সকল নেতৃবৃন্দ।জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আরিফু রহমান খান ও সাধারন সম্পাদক গিয়াস সরদার দিপু এর নেতৃত্বে ফুল দিয়ে ভাষা শহিদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়।
এ সময় জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ সভাপতি রানা ভূঁইয়া , সহ-সভাপতি খালিদ বিন জেকি, সাধারন সম্পাদক গিয়াস সরদার দিপু, শাহারিয়ার খান সোহেল, কেশব সুমণ সরকার, সিনিয়র যুগ্ন সাধারন সম্পাদক সাকি, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক আহমেদ সালাউদ্দিন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নেছার আহমেদ জান্নাত, ছাত্রদল নেতা বাবু, সদর উপজেলা ছাত্রদল নেতা রানা ও তাওহিদ সহ সকল সদস্যবৃন্ধ শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনে অংশ গ্রহন করেন ।
এই দেশ আমাদের ৩০ লক্ষ শহিদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত লাল সবুজের পতাকা । ভাষার শহিদদের এ অবদান আমরা কোন দিনই ভুলব না এআমাদের অঙ্গীকার।
হুমায়ুন কবির, রাণীশংকৈল, ( ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ সারা দেশের ন্যায় বিনম্র শ্রদ্ধা, ভাবগাম্ভীর্য এবং বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় ২১ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার যথাযথ মর্যাদায় মহান জাতীয় শহীদ ও আন্তর্জতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়। এ উপলক্ষে রাত ১২ টা ১ মিনিটে ডিগ্রী কলেজ মাঠে শহীদ মিনারে উপজেলা প্রশাসন, আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠন, প্রেসক্লাব, প্রভৃতি সংগঠন পুষ্পার্ঘ অর্পণ করে। একই ভাবে পরদিন সকালে র্যালি নিয়ে ডিগ্রী কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান একই শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে।পরে একই শহীদ মিনার মঞ্চে ইউএনও মৌসুমি আফরিদার সভাপতিত্বে আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দুই সাবেক সংসদ সদস্য সেলিনা জাহান লিটা ও ইয়াসিন আলী,উপজেলা চেয়ারম্যান শাহরিয়ার আজম মুন্না,ভাইস চেয়ারম্যান সোহেল রানা ও শেফালি বেগম, প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম,অধ্যক্ষ তাজুল ইসলাম ওসি তদন্ত খায়রুল আনাম ডন, পৌর আ’লীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলাম, মহিলা আ’লীগ সম্পাদক ফরিদা ইয়ামিন, মুত্তিযোদ্ধা হবিবর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রশান্ত বসাক ও সাদেকুল ইসলাম।
পরে সুকুমার মোদকের পরিচালানায় বিভিন্ন সংগীত বিদ্যালয়ের শিল্পীরা আবৃত্তি ও একুশের গান পরিবেশন করেন।শেষে আবৃত্তি ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদেরকে পুরস্কার দেয়া হয়। অপরদিকে উপজেলার মীরডাঙ্গী, নেকমরদসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যথাযথ মর্যাদার সহিত দিবসটি পালন করে।
কুবি প্রতিনিধি: যথাযোগ্য শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে নানা কর্মসূচি আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটি।২০ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ মিনারে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ১১টায় কালো ব্যাজ ধারণ ও শোকর্যালি, পরবর্তী সময়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়।
রাত ১২টা ১মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শহীদদের উদ্দেশে শ্রদ্ধা নিবেদন ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী। পরে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, কুবি ছাত্রলীগ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতি, আবাসিক হল, বিভাগসমূহ, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, সামাজিক সংগঠন, ক্লাব ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরীর সভাপতিত্বে সাংস্কৃতিক ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভাষাসৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের দৌহিত্রী সংসদ সদস্য আরমা দত্ত।
প্রধান অতিথি আরমা দত্ত ভাষাসৈনিকদের শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘অনেক শ্রদ্ধা আর ভালবাসার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাবে। ভাষা শহীদদের রক্তে লেখা মাতৃভাষা ভিত্তিক বাংলাদেশ রাষ্ট্র আমরা পেয়েছি। আমরা সেই ভাষাসৈনিকদের কখনোই ভুলবোনা। আজকের এই একুশে লগ্নে আপনারা শহীদদের বুকে ধারণ করবেন, বঙ্গবন্ধুকে ধারণ করবেন এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা গর্বিত জাতি। বাঙালিরা প্রাণ দিতে জানে, মাথা নত করতে জানে না।’
২১ ফেব্রুয়ারি জুম্মার নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে ভাষাশহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
আশরাফ হোসেন পল্টু,মাগুরা প্রতিনিধি: মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার আমলসার গ্রাম থেকে ২টি স্বয়ংক্রিয় স্যুটারগান, ১০ রাউন্ড গুলি, ৫টি হাতবোমা ও একটি চাপাতিসহ তিন অপহরণকারীকে আটক করেছে থানা পুলিশ । বৃহস্পতিবার দুপুরে শ্রীপুর উপজেলার আমলসার এলাকা থেকে কালুখালি থানার মহিষাডাঙি গ্রামের পলাশ মন্ডল, মাজেদুল ও নান্নু নামে অপহৃত তিন ব্যাক্তিকে উদ্ধারের পর সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে পুলিশ ওই এলাকা থেকে তিন অপহরণকারীকে অস্ত্র-গুলি ও বোমাসহ আটক করে।
শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো: মাহাবুবুর রহমান জানান, কালিনগর গ্রামের রফিক নামে এক ব্যক্তি ট্রাক ভাড়া করার কথা বলে মোবাইল ফোনে কালুখালি থানার মহিষাডাঙি গ্রামের বালু ব্যাবসায়ী পলাশ মন্ডল (২৪)কে কালিনগরে আসতে বলে। রফিক পূর্ব পরিচিত হওয়ায় পলাশ তার পরিচিত মাজেদুলকে নিয়ে নান্নু নামের এক ব্যাক্তির ভাড়া মোটরসাইকেল যোগে বুধবার সন্ধ্যায় শ্রীপুর উপজেলার কালিনগর এলাকায় উপস্থিত হলে সন্ত্রাসীরা মোটরসাইকেলের মালিক নান্নুসহ পলাশ ও মাজেদুলকে অপহরণ করে।
পলাশকে শ্রীপুর উপজেলার আমলসার ইউনিয়নের মাদিয়াপাড়া এলাকার একটি বাগানে এবং নান্নু ও মাজেদুলকে আমলসার গ্রামের লিটনের বাড়িতে আটকে রেখে সন্ত্রাসীরা নির্যাতন করে এবং মোবাইল ফোনে পলাশের বাড়িতে চাঁদা দাবি করে। পলাশের বাড়ির লোকজন বিষয়টি থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ অভিযান শুরু করে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে এলাকাবাসীর উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা অপহৃত পলাশকে সেখানে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে এলাকাবাসী তাকে আহত অবস্থায় পেয়ে পুলিশকে জানায়। এর পরপরই পুলিশ উক্ত এলাকায় চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে আমলসার এলাকা থেকে প্রথমে মিন্টু বিশ্বাস (২৭)কে আটক করে। মিন্টু বিশ্বাসের আটকের পর তার স্ব^ীকারোক্তি মোতাবেক পুলিশ একই গ্রাম থেকে জামিরুল ইসলাম (২৬) ও বকুল মোল্যা (২৩)কে আটক করে। তিন জনকে আটকের পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিত্তে পুলিশ আমলসার গ্রামের জামিরুলের বাড়ির পেঁয়াজ রাখা ঘর থেকে ২টি স্যুটারগান, ১০ রাউন্ড গুলি,১টি চাপাতি এবং ৫টি হাতবোমা উদ্ধার করে। এ সময় একই এলাকার লিটনের বাড়ি থেকে মাজেদুল ও নান্নু নামে অপহৃত অপর দুই ব্যাক্তিকেও উদ্ধার করে পুলিশ।
আটককৃত তিন সন্ত্রাসীরা হলো শ্রীপুর গ্রামের মৃত গকুল বিশ্বাসের ছেলে মিন্টু(৩০),সারঙ্গদিয়া গ্রামের মৃত শফি মোল্ল্যার ছেলে বকুল (২৭) এবং আমলসার গ্রামের মাছিম শেখের ছেলে জামিরুল (২৮) । এঘটনায় আটককৃতদের বিরুদ্ধে শ্রীপুর থানায় অপহরণ ও অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা রুজু হয়েছে।
পুলিশের তথ্য মতে আরোও জানা যায়, আটককৃতরা থানার তালিকাভূক্ত দুস্কৃতিকারী । দীর্ঘদিন ধরে এরা এলাকায় পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই চালিয়ে আসছিলো। আটককৃতরা উপজেলার চিহ্নিত সন্ত্রাসী হওয়ায় তারা পুলিশের ভয়ে গা- ঢাকা দিয়ে শ্রীপুর উপজেলা, শৈলকুপা,বালিয়াকান্দিসহ বিভিন্ন উপজেলায় আত্মগোপন করে বিভিন্ন ধরণের অপকর্ম করে আসছিল। তাবে তাদের আটকের পর এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে ।
জার্মান ত্রিপুরা ,কুবি প্রতিনিধি: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আদিবাসী ছাত্র সংসদ শিক্ষার্থীরা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাজ্ঞলি অর্পণের মাধ্যমে এদেশের ভাষা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। আজ রাত ১২:০০ (বার)টায় শ্রদ্ধাজ্ঞলি অর্পণ করে শোক প্রকাশ করেন।প্রতি বছর আদিবাসী ছাত্র সংসদ শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাজ্ঞলি অর্পণ করার মাধ্যমে এদেশের ভাষা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোক প্রকাশ করেন এবং সকল শহীদেরকে ম্মরণ করেন। তেমনি এ বছরেও ভাষা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের আত্মা শান্তি কামনা করেন।
সংগঠনের সভাপতি পঙ্কজ চাকমা বলেন বিশ্বের সকল ভাষার ন্যায় বাংলা ভাষা হচ্ছে এদেশে মানুষের মায়ের ভাষা এই ভাষাকে শ্রদ্ধা,সম্মান করা আমাদের মৌলিক কর্তব্য ।তবে পাশাপাশি এ দেশের সকল আদিবাসী জাতিসত্তার ভাষার প্রতিও আমাদের নজর দিতে হবে। বাংলা ভাষাকে কীভাবে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিতে হবে সে বিষয়ে বর্তমান তরুণ প্রজম্মকে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান করেন এবং আরো বলেন বাংলাদেশের ধর্ম,বর্ণ জাতি এবং নির্বিশেষে সর্বস্থ মানুষকে কাজ করতে হবে যেন এই ভাষা আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বিশ্বের মানুষের মুখে এ ভাষা যেন উচ্চারিত হয়।
এ সময় আদিবাসী ছাত্র সংসদে সাধারণ সম্পাদকসহ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত সকল আদিবাসী সংসদ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ,আর আহমেদ হোসাইন,দেবীদ্বার – কুমিল্লা : দেবীদ্বারের গেজেটভূক্ত ও ভাতাপ্রাপ্ত ১১৮৫ জন মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে ৪৩০ মুক্তিযোদ্ধাকে ভূয়া আখ্যাদিয়ে, তাদের সনদ ও ভাতা বাতিলের আবেদন জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন এক মুক্তিযোদ্ধা।ওই ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা অভিযোগকারী বিএলএফ মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুল মমিন সরকার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা কিনা তা যাচাই বাছাই সহ তার ধৃষ্ঠতাপূর্ণ কর্মকান্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে মানবন্ধন, প্রতিবাদ সভা ও প্রধানমন্ত্রীর বরাবররে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর বরাবররে স্মারকলিপি গ্রহনকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হাসান বলেন, যথাযথ প্রক্রিয়ায় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপিটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রেরনের ব্যবস্থা করব। গেজেটভূক্ত ও ভাতাপ্রাপ্ত ৪৩০ বীর মুক্তিযোদ্ধার যাচাই বাছাইয়ের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় লিখিত নোট ছাড়াও সেল ফেনেও দ্রæত যাচাই বাছাইয়ের কাজ সম্পন্ন করতে আমাকে তাগাদা দিয়েছেন। বর্তমানে যেহেতু মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নেই সেহেতু আমাকে পুনঃ যাচাই বাছাইয়ের কাজটি সরকারী কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে সম্পন্ন করতে হবে।
সোমবার সকাল ১১টায় কয়েকশত মুক্তিযোদ্ধা উপজেলা পরিষদ চত্তরে জমায়েত হয়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে ওই স্মারকলিপি প্রদান করেন।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের দপ্তরের সূত্রের আলোকে, স্মারক নং-০৫.০০.১৯৪০.০০০.৪৬.০০১. ১৯-২৪৩/ তারিখ- ২৮/০২/২০১৯ইং এর অভিযোগটি গত বৃহস্পতিবার বিএলএফ মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুল মমিন সরকার সরাসরি নিয়ে এসে দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে তদন্ত স্বাপেক্ষে যাচাই বাছাইয়ের জন্য জমা দেন। ওই সংবাদে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ঘোষিত ‘যার যা আছে তাই নিয়ে শত্রর মোকাবিলা করো’, স্বাধীনতার ওই ডাকে সারা দিয়ে আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন বাজী রেখে যুদ্ধে নেমেছি। দির্ঘ ৯মাস শসস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে দেশমাতৃকাকে শত্রæ মুক্ত করে বীজয় ছিনিয়ে এনেছি। বিজয়ের ৪৯ বছর পর দেবীদ্বারের গেজেটভূক্ত ও ভাতাপ্রাপ্ত ১১৮৫ জন মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে ৪৩০ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আখ্যা দিয়ে তাদের সনদ ও ভাতা বাতিলের আবেদনে আমরা হতবাক হয়েছি। এতগুলো বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও মানহানী করায় আমরা গভীরভাবে মর্মাহত, দুঃখীত, ক্ষুব্ধ এবং এ নেক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং একই সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষনে ধৃষ্টতাপূর্ণ কাজের অপরাধে মোঃ আবদুল মমিন সরকার’র দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আবেদন জানাচ্ছি।
মুক্তিযোদ্ধারা আরো বলেন, যুদ্ধকালীন কমান্ডার কিংবা দেবীদ্বারের মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও গত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই ২০১৭ইং দেবীদ্বার কমিটিতে মোঃ মমিন সরকারের অন্তর্ভূক্ত হওয়ার বিষয়টিও ছিল নিয়ম বহির্ভূত। চলতি বছরে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মহান নেতা বঙ্গবন্ধুর স্মরণে ‘মুজিব শতবর্ষ’ উদযাপন করতে যাচ্ছি। আর মাত্র এক বছর পর আমরা স্বাধীনতার ৫০বছর পূর্তী অনুষ্ঠান করব। সে অবস্থায় মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে বিতর্কিত, অনাকাঙ্খীত, অনুপ্রেত এ ঘটনায় আমরা ক্ষুব্ধ। ৭১’র মুক্তিযুদ্ধে দেবীদ্বার উপজেলা বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুক্তিযোদ্ধাদের এলাকা হিসেবে পরিচিত। অভিযোগকারী মোঃ আবদুল মমিন সরকার’র পৈত্রিক নিবাস দেবীদ্বার উপজেলার তুলাগাও গ্রামে হলেও মূলতঃ তিনি চান্দিনা উপজেলার কেরনখাল গ্রামে নানার বাড়িতে ছাত্র জীবন থেকেই বসবাস করে আসছেন। ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে চান্দিনা কর্মরত বিএলএফ হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন বলে তিনি দাবী করলেও তিনি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা কিনা তা আমাদের কাছে এখনো পরিস্কার নয়। তা ছাড়া দেবীদ্বারের সাধারন, এফ,এফ/ এম,এফ/ ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়ন কর্তৃক গঠিত বিশেষ গেরিলা বাহিনী/ আর্মী গেজেটধারী ও অন্যান্য গেজেটধারী বীর মুক্তিযোদ্ধা সম্পর্কে মোঃ আবদুল মমিন সরকার জানার কথা নয়, তিনি যে অভিযোগটি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ে দাখিল করেছেন তা তার ব্যাক্তিগত আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ, যা ভূয়া, ভিত্তিহীনই নয়, উদ্দেশ্যপ্রনোদীত।
মানববন্ধন চলাকালে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশে সাবেক উপজেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আব্দুস সামাদ’র সভাপতিত্বে এবং সাবেক উপজেলা ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান আউয়াল সরকার’র সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সাবেক উপজেলা ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ মোঃ রফিকুল ইসলাম, বীর গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা মুস্তাকুর রহমান ফুল মিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাদাত হোসেন মাষ্টার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আউয়াল, একাত্মতা ঘোষণা করে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি কুমিল্লা জেলা সভাপতি কমরেড এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, আ’লীগ উপজেলা কমিটির সদস্য মুক্তিযোদ্ধার সন্তান লুৎফর রহমান বাবুল প্রমূখ।