সৌমেন মন্ডল, ব্যাুরো প্রধান রাজশাহীঃ শীত যেন এবার পঞ্জিকা ধরেই নেমে আসলো। পৌষের শুরুতেই যে শীত জেঁকে বসবে, সেই পূর্বাভাস আগেই দিয়েছিল আবহাওয়া অফিস। শীতের তীব্রতা বাড়ায় জনজীবনে দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।বেশি কষ্ট পোহাচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষ। বিশেষ করে অসহাই খেটে খাওয়া গরিব মানুষের দুর্ভোগ-দুর্দশা বেড়ে গেছে। ঠাণ্ডাজনিত ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, জ্বর-সর্দি-কাশি ইত্যাদি রোগবালাইয়ে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ বেশি বেড়েছে। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে শীতজনিত রোগে আক্রান্তের ভর্তির হার বেড়েছে।
শীতের সঙ্গে আছে হিমালয় থেকে আসা ঠাণ্ডা বায়ুর প্রবাহ। আছে ঘন কুয়াশাও। কুয়াশার প্রকোপ বাড়ায় বিভিন্ন স্থানে সূর্য দেখা যায়নি। রাজশাহীসহ আশপাশ এলাকায় আজ দুদিন সূর্যের মুখ দেখা যায়নি কোন সময়।
আজ বিকাল থেকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইতে শুরু করে। সন্ধ্যার পর থেকে বৃষ্টির মতো কুয়াশা পড়ে। আর ভোর থেকে চারপাশ ঘন কুয়াশায় ঢেকে যায়। ঘন কুয়াশায় আলোর স্বল্পতা সৃষ্টি হওয়ায় দিনের বেলায় হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চালানো হচ্ছে। রাস্তাঘাট ও হাটবাজারে মানুষের চলাচল কমে গেছে।
হঠাৎ শীতের কারণে রাজশাহীসহ সারা দেশে গরম কাপড়ের দোকানে বিক্রি বেড়েছে। এদিকে পর্যাপ্ত গরম কাপড় না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন অনেক দরিদ্র মানুষ।
এখন রাজশাহী ফুটপাত গুলোতে ভীর করছে সল্প রোজগারের মানুষ।
এই শীতে সবচেয়ে বিপাকে পরেছে দিনআনে দিন খাই মানুষ জন।তীব্র শীতে কাজে বের হতে পারচ্ছে না তারা। রাস্তার পাশে আগুন জ্বালীয়ে শীত নিবারনের চেষ্টা করছে তারা।
আশরাফ হোসেন পল্টু,মাগুরা প্রতিনিধি : মাগুরার শ্রীপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার হতদরিদ্র শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইয়াছিন কবীর নিজ গাড়ীতে কম্বল বহন করে নিজে উপস্থিত থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শ্রীকোল ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চল বরিশাট আশ্রয়ন প্রকল্প,হাটশ্রীকোল আশ্রয়ন প্রকল্প, শ্রীপুর বাসষ্ট্যান্ড, ওয়াপদা অফিস মোড় ভ্যানষ্ট্যান্ড ও সাচিলাপুর বাজারস্থ হতদরিদ্রদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে এ কম্বল বিতরণ করেন।
এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা তথ্য ও প্রযুক্তি এ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রামার মাহফুজুর রহমান ও প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের উপ-সহকারি প্রকৌশলী অমিতাভ সরকার ।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইয়াছিন কবীর জানান,সরকারিভাবে বরাদ্ধকৃত শীতবস্ত্র উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধ্যমত হতদরিদ্রদের হাতে হাতে পৌছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই সাথে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউপি চেয়ারম্যানগণ সংশ্লিষ্ট এলাকাতেও এ শীতবস্ত্র বিতরণ করছেন।
মোঃ রাসেল ইসলাম,বেনাপোল(যশোর)প্রতিনিধি: বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমস তল্লাশি কেন্দ্রে থেকে ৩৮ পিস ভারতীয় মোবাইল আটক করেছে কাস্টমস ও শুল্ক গোয়েন্দা সদস্যরা। আজ শনিবার সকাল সাড়ে দশটার সময় ৪ জন পাসপোর্ট যাত্রী ব্যাগ তল্লাশি করে এ মোবাইল আটক করা হয়।কাস্টমস চেকপোস্ট রাজস্ব কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান.গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি তৌহিদুর, জুয়েল, মোমিন ও রশিদ নামে ৪ জন পাসপোর্ট যাত্রী ভারত থেকে বিপুল পরিমান মোবাইল নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে।
এমন সংবাদে স্কানার মেশিনে ডিউটি জোরদার করা হয়।পরে তাদের ব্যাগ স্কানার মেশিনে দিলে তাতে মোবাইল পাওয়া যায়।আটকের অভিযানে ছিলেন শুল্ক গোয়েন্দা, এআরও রহমান, এআরও রোমান ও সিপাহী ইমরান হোসেন। আটক মোবাইল বেনাপোল কাস্টমস হাউজে জমা দেওয়া হয়েছে।
আপেল মাহমুদ, নওগাঁ প্রতিনিধি : অগ্রহায়ণের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই আমন ধানের কাটামাড়াই শেষ। মাঘের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হবে বোরো ধানের চারা রোপণের কাজ। মাঝখানে অন্তত: ৭৫ থেকে ৮০ দিন পতিত অবস্থায় পড়ে থাকে জমি। দীর্ঘ এ সময় কাজে লাগিয়ে কৃষকরা শুরু করেছেন সরিষার চাষ। বাড়তি ফসল হিসেবে এ চাষে ক্রমেই আগ্রহ বাড়ছে তাদের।ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় এ অঞ্চলের মাঠের চিত্র। এক সময়ের সবুজ মাঠ হয়ে যায় হলুদ। এবারের শীতে সরিষা ফুলের নয়নাভিরাম দৃশ্য পাল্টে দিয়েছে নওগাঁর মান্দা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ফসলের মাঠ। এ মৌসুমে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে চাষ হয়েছে সরিষার। চারিদিকে এখন শুধু হলুদ সরিষা ফুলের বর্ণিল সমারোহ।
মাঠের পর মাঠজুড়ে সরিষা ফুলের মৌ-মৌ গন্ধ। এ সুযোগ কাজে লাগিয়েছে একদল মৌ-খামারী। সরিষা ফুলের রেণু থেকে মধু সংগ্রহে এসব মাঠে স্থাপন করা হয়েছে একাধিক মৌ-খামার। স্থাপনকৃত এসব খামারেই মধু মাড়াই করে পাঠানো হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। অনুকুল আবহাওয়ায় ভাল লাভের আশা করছেন খামারীরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ৫ হাজার ৯০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৪৫ হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের সরিষার চাষ হয়েছে। এছাড়া ২ হাজার ১৫ হেক্টর জমিতে টরি-৭, ২ হাজার ৮৭৫ হেক্টর জমিতে বারি-১৪ এবং ১৫৫ হেক্টর জমিতে বারি-১৫ এর চাষ করেছে কৃষক। আবহাওয়া অনুকুল হলে এ চাষ থেকে ৯ হাজার ১৬২ মেট্রিকটন সরিষা উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলার ফতেপুর গ্রামের কৃষক ইব্রাহীম হোসেন এবারে ২০ বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছেন। একই গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ ১০ বিঘা, ছোটমুল্লুক গ্রামের কহিম উদ্দিন শাহ্ ৭ বিঘা, ভারশোঁ গ্রামের মোজাফফর হোসেন ৬ বিঘা ও আব্দুল লতিফ ৫ বিঘা জমিতে এ আবাদ করেছেন। এসব কৃষকরা বলেন, আমন ও বোরো ধানের মাঝখানে দীর্ঘ সময় জমি পতিত অবস্থায় পড়ে থাকে। এসময় বাড়তি ফসল হিসেবে আমরা সরিষার চাষ করেছি। তারা বলেন, বাড়তি এ আবাদ থেকে বাড়তি আয় হচ্ছে। সরিষা বিক্রির টাকা আমরা বোরো আবাদে ব্যয় করছি। এখন দোকান থেকে আর বাঁকিতে সার ও কীটনাশক কিনতে হচ্ছে না। সরিষার কাঁটাও জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।
অন্যদিকে চলতি মৌসুমে সরিষার মাঠে স্থাপন করা হয়েছে সাড়ে ৮ শতাধিক মৌ-বক্স। এর মধ্যে সর্বাধিক মৌ-খামার রয়েছে কালিকাপুর ইউনিয়নের কয়েকটি মাঠে। এসব মৌ-খামারে রয়েছে ৪০ থেকে ১৫০টি মৌ-বক্স। খামারীরা মাঠেই মধু মাড়াই করে রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করছেন। আবহাওয়া অনুকুল হওয়ায় বিগত বছরের তুলনায় এবারে মধু আহরনের পরিমাণ বেশি হবে বলে জানিয়েছেন খামারীরা।
উপজেলার ফতেপুর মাঠে স্থাপনকৃত মৌ-খামারের মালিক রাজশাহী শহরের বাসিন্দা রাম্মান আরেফিন রিমন জানান, ‘১৯৯৫ সাল থেকে আমি এ পেশার সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। শুরুতে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছিল। মৌমাছি সংরক্ষণ ও উৎপাদনে তেমন অভিজ্ঞতা ছিল না। পরবর্তীতে এবিষয়ে কয়েকবার প্রশিক্ষণ নিয়েছি। এখন সফলতার সঙ্গে মধু উৎপাদন ও বাজারজাত করছি। রাজশাহী শহরের কয়েকটি বিপনী বিতানসহ অনলাইন ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘দারাজ’ এর মাধ্যমে মধু বিক্রির কাজ করে আসছি।’
সফল এ খামারী আরও বলেন, ‘ সরিষা, কালোজিরা, লিচু মৌসুমসহ বছরের ৬ মাস দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৌ-খামার স্থাপন করে মধু সংগ্রহের কাজ করি। অফসিজনে বাড়িতে মৌমাছি সংরক্ষণের কাজ করে থাকি। রানী মাছি তৈরিতে একটু বেগ পেতে হয়। এসময় পরাগরেনু, ভুট্টা, বেশম মিশ্রিত খাবার দিতে মৌমাছির চাহিদা পুরন করা হয়ে থাকে।’
উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান জানান, চলতি মৌসুমে সরিষার আবাদ বাড়ানোর লক্ষে ১ হাজার ২৫০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে প্রণোদনার সার ও বীজ দেওয়া হয়েছে। স্বল্প খরচ ও স্বল্প সময়ের এ আবাদ থেকে কৃষক বাড়তি আয় করতে পারেন। এ আয় ধান উৎপাদনের ক্ষেত্রে সহায়ক ভ‚মিকা পালন করবে।
কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, সরিষার ক্ষেতে মৌ-খামার স্থাপন করে মধু সংগ্রহ করছেন খামারীরা। খামারের মৌমাছিরা মধু সংগ্রহের কাজে এক ফুল থেকে আরেক ফুলে ছুটে বেড়াচ্ছে। এতে পরাগায়নে সহায়ক ভ‚মিকা পালন করছে মৌমাছিরা। এ কারণে মৌ-খামার স্থাপনকৃত এলাকায় সরিষার ফলন ২০ শতাংশ হারে বাড়বে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, চলতি মৌসুমে সরিষার ১৪টি প্রদর্শনীর প্লট স্থাপনসহ ৬ জন কৃষককে উন্নতমানের মৌ-বক্স দেয়া হয়েছে। যাতে কৃষকরা সরিষা উৎপাদনের পাশাপাশি মধু সংগ্রহ করে তারা বাড়তি আয় করতে পারেন।
সৈয়দ রুবেল ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধিঃ চলমান শৈত প্রবাহকে উপেক্ষা করে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো: জোহর আলী রাতের আধারে অসহায় দুস্থদের মাঝে কম্বল বিতরন করেন।১৯ /১২/২০১৯ইং তারিখ আবহাওয়া অধিদপ্তর কতৃক ঘোষিত শৈত প্রবাহের কারনে সারাদেশের ন্যায় ঝালকাঠিতেও বেড়েছে শীতের প্রকোপ। আর এই শৈত প্রবাহে শীতের প্রকোপ থেকে জেলার হতদরিদ্র ও ছিন্নমূল অসহায় মানুষকে সাহায্যের জন্য ২০/১২/২০১৯ইং তারিখ শুক্রবার রাতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শৈত প্রবাহকে উপেক্ষা করে রাতের আধারে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক জোহর আলী শহর থেকে গ্রামে ছুটে শীতার্ত মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে নিজ হাতে শীতার্তদের শরীরে কম্বল জড়িয়ে দেয়ার মাধ্যমে ঝালকাঠি সদরের বিভিন্ন স্থানে কম্বল বিতরণ করেন।
ঝালকাঠিতে জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদানের পর থেকেই একের পর এক মানবিক কাজ করে চলেছেন জেলা প্রশাসক মোঃ জোহর আলী। তারই ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার প্রকোপ শীতকে উপেক্ষা করে ঝালকাঠি সুগন্ধা নদীর তীরবর্তী সদরের লঞ্চঘাট এলাকায় গিয়ে দরিদ্র বেদে সম্প্রদায়দের তাবু মুড়ে থাকা বাসস্থান সহ, নদী সংলগ্ন তীরবর্তী আবাসনে বসবাসরত বৃদ্ধ ও অসহায় মানুষদের মাঝে এসব কম্বল বিতরণ করেন সেই সাথে দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের খোজ খবর নেন।
শীতের কম্বল বিতরনের বিষয় জেলা প্রশাসক মোঃ জোহর আলী হতদরিদ্র, অসহায় ও মানবেতর জীবনযাপন কাটানো শীতার্ত মানুষের পাশে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, একজন শীতার্ত মানুষকে সামান্য সহযোগিতা করলে অসহায় মানবেতর জীবন থেকে রক্ষা পেতে পারেন। এ সময় জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) আহমেদ হাসান ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ফকরুল হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ উড়লে আকাশে প্রজাপতি, প্রকৃতি পায় নতুন গতি’ এই শ্লোগানকে সামনে ধারণ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দশম বারের মতো অনুষ্ঠিত হলো প্রজাপতি মেলা।শুক্রবার সকালে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনের সামনে বেলুন উড়িয়ে এ মেলার উদ্বোধন করেন মেলার আহবায়ক ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন।
প্রতি বছরের ন্যায় এবারের মেলায় ছিলো বর্ণাঢ্য র্যালি, শিশু-কিশোরদের জন্য প্রজাপতি বিষয়ক ছবি আঁকা ও কুইজ প্রতিযোগিতা, প্রজাপতি বিষয়ক আলোকচিত্র প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনী, জীবন্ত প্রজাপতি প্রদর্শন, প্রজাপতির আদলে ঘুড়ি উড়ানো প্রতিযোগিতাসহ নানা আয়োজন।
এবার প্রজাপতি বিষয়ক গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর এম এ বাশারকে বাটারফ্লাই অ্যাওয়ার্ড-২০১৯’ ও সবুজবাগ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী অরুণাভ ব্ররুণোকে বাটারফ্লাই ইয়াং ইনথুসিয়াস্ট অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয় । এছাড়া মেলায় বসেছে বিভিন্ন প্রজাপতির উপর স্টল।
প্রজাপতি সংরক্ষণে মানুষকে সচেতনার জন্য এই মেলার আয়োজন বলে জানিয়েছেন মেলার আহবায়ক অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন।
মোঃ রাসেল ইসলাম,বেনাপোল(যশোর)প্রতিনিধি: যশোরের শার্শায় শহিদুল ইসলাম শহিদ (৪৭) নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।শুক্রবার বেলা সাড়ে ১০টার সময় উপজেলার দক্ষিণ বুরুজ বাগান গ্রামের মাঠের মধ্যে একটি বাগান থেকে কাঁঠাল গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত শহিদুল ইসলাম শহিদ যাদবপুর গ্রামের মহারাজ হোসেনের ছেলে এবং পেশায় সে একজন কাঠ মিস্ত্রি।নিহতের পরিবার ও পুলিশ সুত্রে জানা যায়, পারিবারিক ভাবে দীর্ঘদিনের কলহ থাকায় সে এই আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শার্শা থানা পুলিশের এসআই দিবাকর মালাকার বলেন, সকালে মরদেহ গাছে ঝুলতে দেখে প্রত্যক্ষদর্শীরা পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবার ও স্থানীয়দের সুপারিশে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সৈয়দ রুবেল ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধিঃ ঝালকাঠিতে ধানকাটাকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের ১ জন নিহত ও ৩ জন আহত হয়েছে। ঝালকাঠি সদর উপজেলাধীন পোনাবালিয়া ইউনিয়নের দেউলী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
২০/১২/২০১৯ইং তারিখ শুক্রবার সকালে ধান কাটা নিয়ে বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে জাহিদুল ইসলাম (২৩) নামের এক যুবক নিহত হয়।
এ সময় জাহিদুলের বাবা জালাল খান, জাহিদুলের ছোট ভাই রমজান, শাহজাহান খান গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়দের সহযোগীতায় গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নেয়া হলে শাহজাহান খানকে বরিশাল শেবাচিমে রেফার করা হয়, সেখানে তার অবস্থা আশংকা জনক থাকায় কর্তব্যরত চিকিৎসক শাজাহান খানকে ঢাকায় রেফার করেন।
এ বিষয় নিহতের স্বজনরা জানান, শুক্রবার সকাল বেলা আমাদের জমিতে প্রতিবেশী হামলাকারীরা ধান কাটতে যায়। আমাদের জমির ধান প্রতিবেশী হামলাকারীরা কাটা শুরু করলে আমরা বাধা দেই।
আমাদের বাধা উপেক্ষা করে আমাদের উপর ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা করে। তাদের হামলায় মারাত্মক ভাবে আমাদের চারজন লোক আহত হয়।
পরে এলাকাবাসীর সহযোগীতায় আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে নেয়ার পথে জাহিদুল মারা যায়।
হুমায়ুন কবির, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় হঠাৎ গত দু’দিন ধরে প্রচন্ড শীতের প্রকোপ বেড়েছে। ২০ ডিসেম্বর শুক্রবার সকাল থেকে কোথাও সূর্যের দেখা পাওয়া যায়নি।
সমস্ত উপজেলা কুয়াশার চাদরে ঢেঁকে গেছে। চলতি মৌসুমে দেশের সর্ব উত্তরের রাণীশংকৈলে শৈত্য প্রবাহের দাপট দিন দিন বেড়েই চলেছে, সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীত ও ঘন কুয়াশা। গত কয়েকদিন ধরে মৃদু থেকে শীতল বাতাসের প্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। এরমধ্যে সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢাকা থাকে চারদিক। তীব্র এ শৈত্যপ্রবাহের কারণে উপজেলার জন-জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শীত নিবারণের জন্য পাড়া মহল্লা সহ শহরের বিভিন্ন জায়গায় খড় কুটোতে আগুন জ্বালিয়ে বসেছে সাধারণ মানুষ।
আজ ৬ টায় উপজেলার সসর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অপরদিকে কয়েক ঘণ্টায় কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা অনেকটাই উঠানামা করছে এবং সামনে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এদিকে শীতের প্রকোপে ও হিম শীতল হাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে উপজেলার সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষ। সকাল থেকে দুুুুপুর ও শেষ বিকেল থেকে ঘনকুয়াশা শুরু হয়ে রাত বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তা বৃষ্টি আকারে তা নেমে আসছে মাটিতে। সন্ধ্যা নামতে না নামতেই শুরু হওয়া ঘন কুয়াশা আর উত্তরের হিমালয় থেকে বয়ে আসা হিমেল বাতাসে নাকাল হয়ে পড়েছে উপজেলার জনজীবন। ঘনকুয়াশার কারণে দিনমজুর, শ্রমজীবী, রিকশা-ভ্যান চালকরা বাইরে যেতে না পারায় দুর্ভোগে পড়েছেন।
সব থেকে বেশি শৈত্যপ্রবাহ বইতে দেখা গেছে উপজেলার নদী অঞ্চলের গ্রামগুলোতে। আর এ মৌসুমে শীতের কাপড়ের অভাবে দুর্ভোগে দিন পার করছেন দরিদ্র শীতার্ত অনেক মানুষ। হিমালয় থেকে বয়ে আসা হিমেল হাওয়া আর শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতে রাণীশংকৈল পৌর শহরসহ নেকমরদ মেলায় ক্রেতাদের ভিড় করতে দেখা গেছে শীতের কাপড়ের দোকানগুলোতে। অপরদিকে শীত নিবারণের জন্য গরম কাপড় কিনতে শীতের পুরোনো কাপড়ের দোকানগুলোতে প্রচুর ভিড় করছেন সাধারণ ক্রেতারা। সঙ্গে প্রতিদিন রাত ৮টা থেকে ৯ টার মধ্যেই ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে গ্রাম-গঞ্জের হাট বাজারগুলো। হিমালয় থেকে বয়ে আসা হিমলে হাওয়ায় শুধু মানুষই না সঙ্গে জড়ো-সড়ো হয়ে গেছে গবাদী পশু ও বৃদ্ধরা।
অনেকেই শীতবস্ত্রের সন্ধানে ছুটছেন উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়সহ বিভিনś দপ্তর ও চেয়ারম্যানের কাছে। রানীশংকৈল সদর উপজেলার লুৎফা বানু নামে একজন জানান, ‘আমরা দিন কামিয়ে দিন খাই’ আর এই ঠান্ডার কারণে আমরা কাজে যেতে পারছি না। ইদ্রিশ আলী নামে একজন বৃদ্ধ জানান, রাতের বেলা খুব বেশি ঠান্ডা লাগে। ঠান্ডার কারণে ঘুমাতে পারি না। সরকারি ভাবে যদি একটা কম্বলের ব্যবস্থা করে দিত তবে একটু শান্তিতে ঘুমাতে পারতাম। আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায় এ মাসের শেষের দিক আরো শীত বাড়তে পারে।
এব্যাপারে উপজেলা প্রকল্পবাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোতাহার হোসেন বলেন ১ম দফায় উপজেলা প্রশাসনের বরাদ্দকৃত প্রায় ৩ হাজার শীতের কম্বল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে। ২য় ধাপে আরো কম্বল বরাদ্দের জন্য আবেদন করা হয়েছে।
ওমর ফারুক, সাভার :দায়িত্বশীলদের দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকার প্রথম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে সাভারে বর্ণাঢ্য র্যালী, আলোচনাসভা কেক কাটা হয়েছে। এসময় বস্তুনিষ্ঠ ও সুস্পষ্ট লেখনির মাধ্যমে দেশ রূপান্তরের এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যাক্ত করেন উপস্থিত সাংবাদিকরা। শুক্রবার দুপুরে সাভার প্রেসক্লাবের হলরুমে এসব কর্মসূচী পালন করা হয়েছে। দেশ রূপান্তরের প্রথম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বেলা সাড়ে ১১ টায় সাভার প্রেসক্লাবের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালী বের হয়। র্যালীটি বঙ্গবন্ধু চত্তর ঘুড়ে পুনারায় সাভার প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এসে শেষ হয়। পরে সাভার প্রেসক্লাবের হলরুমে আয়োজিত আলোচনাসভায় দেশ রূপান্তরের সাফল্য কামনা করে বক্তব্য রাখেন উপস্থিত সাংবাদিকবৃন্দ।আলোচনাসভায় সাভার প্রেসক্লাবের সভাপতি ও স্থানীয় দৈনিক ফুলকির সম্পাদক নাজমুস সাকিবের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক ও সমকালের নিজস্ব প্রতিবেদক গোবিন্দ আচার্য্য, প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক পার্থ চক্রবর্তী, কোষাধক্ষ ও জয়যাত্রা টেলিভিশনের ঢাকা জেলা প্রতিনিধি তৌকির আহম্মেদ, প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য ও আরটিভি’র নিজস্ব প্রতিবেদক জিয়াউর রহমান জিয়া।
সাভার প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুস সাকিব বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে অনেক ভালো ভালো পত্রিকায় যেখানে পাঠক প্রিয়তা হারাচ্ছে সেখানে দেশ রূপান্তর পত্রিকা তাদের দক্ষ লেখনির মাধ্যমে অল্পদিনেই পাঠকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। এ পত্রিকাটি অনেক ভালো রিপোর্ট করে দেশ ও জনগনের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে তাই সাভার প্রেসক্লাব ও সকল সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে দেশ রূপান্তর পত্রিকার জন্য অভিনন্দন ও শুভ কামনা জানাচ্ছি যাতে এটি আরও সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারে।
সাভার প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক গোবিন্দ আচার্য্য বলেন, দেশ রূপান্তর পত্রিকার শ্লোগানটি অত্যন্ত সুন্দর যা আমাদের পেশার সাথে যায়। কারন দায়িত্বশীলতা হলো একজন সাংবাদিকের প্রথম কাজ। দায়িত্বশীলদের দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকাটি গত এক বছরে অনেকদুর এগিয়েছে আমরা এর ধারাবাহিক সাফল্য ও অগ্রগতি কামনা করছি।
এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন, দৈনিক মানবজমিনের নিজস্ব প্রতিবেদক হাফিজ উদ্দিন, গাজী টেলিভিশন ও দৈনিক ভোরের কাগজের সাভার প্রতিনিধি আজিম উদ্দিন, নিউজ টোয়েন্টিফোর ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের সাভার প্রতিনিধি নাজমুল হুদা, দৈনিক এশিয়ার বার্তা সম্পাদক চন্দন কুমার রায়, দৈনিক যুগান্তরের সাভার প্রতিনিধি মতিউর রহমান ভান্ডারী, সাপ্তাহিক নিউজ গার্ডেন সম্পাদক ওমর ফারুক।
র্যালী ও আলোচনা অনুষ্ঠানে অন্যান্যেল মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন, জাগো নিউজের সাভার প্রতিনিধি আল মামুন, আমাদের নতুন সময়ের সাভার প্রতিনিধি ইমদাদুল হক, ডেইলী স্টারের সাভার প্রতিনিধি আকলাকুর রহমান, বিজনেস বাংলাদেশের সাভার প্রতিনিধি কাজী মাহাবুুব, আলোকিত বাংলাদেশ প্রত্রিকার রিপোর্টার মামুন মোল্লা, এশিয়ান টেলিভিশনের সাভার প্রতিনিধি আহসান উল্লাহ, সোহেল মোহাম্মদ, মোঃ আলভী, কেটিভি’র সাভার প্রতিনিধি হৃদয় আহমেদ, তাজা খবরে সম্পাদক তপু ঘোষাল প্রমুখ।
প্রতিবেদক।