28 C
Dhaka, BD
রবিবার, এপ্রিল ২৬, ২০২৬

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আগামী ৩০ জানুয়ারি-(সিইসি)

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। রোববার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে রোববার (২২ ডিসেম্বর) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা।

ওইদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। পুরো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)।

সিইসি কেএম নূরুল হুদা জানান, মনোনয়ন দাখিলের শেষ সময় ৩১ ডিসেম্বর, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ২ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহার ৯ জানুয়ারি। প্রতীক বরাদ্দ ১০ জানুয়ারি। আর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ৩০ জানুয়ারি।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হয়। ওই নির্বাচনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আনিসুল হক আর দক্ষিণে সাঈদ খোকন নির্বাচিত হন। ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর মেয়র আনিসুল হক মারা যাওয়ায় মেয়র পদটি শূন্য হয়। এরপর চলতি ২৮ ফেব্রুয়ারি উত্তর সিটির উপ-নির্বাচনে মেয়র হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিকুল ইসলাম।

সুত্র-www.somoynews.tv

আগামী মঙ্গলবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি-ওবায়দুল কাদের

স্টাফ রিপোর্টারঃ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি আগামী মঙ্গলবার ঘোষণা করা হতে পারে। রবিবার সচিবালয়ে নবনির্বাচিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আগামী মঙ্গলবার আমাদের প্রেসিডিয়াম মিটিং আছে, এর মধ্যে একটা খসড়া প্রস্তাব ও প্রেসিডিয়ামে আলাপ-আলোচনার পর সেদিনই পূর্ণাঙ্গ কমিটি আশা করছি।ওবায়দুল কাদের বলেন, কমিটিতে এখন অর্গানাইজিং সেক্রেটারি, ধর্ম সম্পাদক, শিল্প-বাণিজ্য কোষাধ্যক্ষ, অর্থ সম্পাদক, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এ কয়টি পদ আছে। আর নিচের দিকে পুরো ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা বাকি।
পুরোটা ঘোষণা হলে পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেয়ে যাবেন।

গত ২০ ও ২১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় কাউন্সিল শেষে শেখ হাসিনাকে টানা নবমবারের সভাপতি এবং ওবায়দুল কাদের দ্বিতীয়বার সাধারণ সম্পাদক করে ৮১ সদস্যের মধ্যে ৪২ জনের নাম জানিয়ে দলের কমিটি ঘোষণা করা হয়।

নবনির্বাচিত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদকে ফুলেল শুভেচ্ছা

নিজস্ব প্রতিবেদন ঃ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী ও দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।আজ শনিবার রাতে মিন্টো রোডের মন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে এ শুভেচ্ছা জানানো হয়।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, তথ্য সচিব আবদুল মালেক, বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যম প্রতিনিধিবৃন্দ, মন্ত্রীর সংসদীয় আসনের বিভিন্ন এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, স্থানীয় জনগণ, তথ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মচারিবৃন্দ ড. হাছান মাহমুদকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান।

এছাড়াও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা শাহাজাহান শিকদার, ইফতেখার হোসেন বাবুল, জসীম উদ্দিন, বেদারুল আমল চৌধুরী বেদারসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা নবনির্বাচিত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদককে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

শনিবার দলটির ২১তম সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন আওয়ামী লীগের নতুন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন মাহবুবুল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, ড. হাছান মাহমুদ ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম।

রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের হলরুমে অনুষ্ঠিত কাউন্সিল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন দলের নবনির্বাচিত সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সাথে ছিলেন আওয়ামী লীগের পুনঃনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
টানা তৃতীয়বারের মতো চট্টগ্রাম ৭ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ড. হাছান এর আগে দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং আওয়ামী লীগের সম্পাদকমন্ডলীর বয়ঃকনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

ড. হাছান মাহমুদ স্কুল জীবনেই বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। দীর্ঘ আন্দোলন- সংগ্রামের রাজনৈতিক জীবনে তিনি বারবার মৌলবাদী অপশক্তি ও স্বাধীনতা বিরোধীদের দ্বারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, এমনকি কয়েকবার তার প্রাণনাশেরও চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু কোন রক্তচক্ষু হাছান মাহমুদকে তার সংগ্রামের পথ থেকে পিছু হটাতে পারেনি। ড. হাছান মাহমুদের মধ্যে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং মেধার অপূর্ব সমন্বয় রয়েছে। তাঁর সফল নেতৃত্বের মাধ্যমে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে এবং বিদেশেও তিনি রাজনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন।

চট্টগ্রামের সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত সময়ে তিনি বয় স্কাউটের দলনেতা ছিলেন। জুনিয়র রেডক্রস টিমেরও সদস্য ছিলেন। আন্তঃবিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগতায়ও তিনি স্কুলের বিতর্ক দলের দলনেতা হিসেবে ভূমিকা রেখেছিলেন।

১৯৮৭ সালে তিনি জাতীয় টেলিভিশন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক দলের দলনেতা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি ১৯৭৭ সালে প্রথমে চট্টগ্রাম শহরের জামালখান ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাথে যুক্ত হন। তিনি ১৯৭৮ সালে সরকারি ইন্টারমিডিয়েট কলেজে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি ১৯৭৯ সালে সরকারি হাজী মহসিন কলেজে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
তিনি চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের শিক্ষা ও পাঠক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি ১৯৮৬ সালে ছাত্রলীগের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৮৭ সালে তিনি সামরিক শাসক এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় গ্রেফতার হন।

পরে তিনি ১৯৮৮ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন তাঁর সুদক্ষ নেতৃত্বের মাধ্যমে, নব্বই’র দশকের শুরুতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নির্বাচনে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য বিপুল বিজয় লাভ করে। সেই নির্বাচনের সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে বেরিয়ে যাওয়ার কারণে নিবার্চনে প্রার্থী হতে না পারলেও তিনিই ছিলেন সেই নিবার্চনে সব প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন ও ছাত্রদলের সমন্বয়ে গঠিত সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান।

১৯৯২ সালের শুরুর দিকে, আওয়ামী লীগ চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার কার্যকরী সংসদের সবচেয়ে নবীনতম সদস্য মনোনীত হন।

১৯৯২ সালে তিনি উচ্চতর শিক্ষার জন্য বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে যান। সেখানে তিনি ১৯৯৩ সালে ব্রাসেলস’র বাংলাদেশ ছাত্র সংসদের সভাপতি নির্বাচিত হন।

ইউরোপের একটি শীর্ষ র‌্যাংকিং ইউনিভার্সিটিতে ব্রাসেলসের ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ১৯৯৪ সালে তিনি ‘ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন অব দ্য ইউনিভার্সিটি’র সভাপতি নির্বাচিত হন, যা ৬০টি দেশের ১ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীর প্রতিনিধিত্ব করে।

বেলজিয়ামে ড. মাহমুদ ১৯৯৩ সালে বেলজিয়াম আওয়ামী লীগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে এবং ১৯৯৫ সাল থেকে মার্চ ২ হাজার পর্যন্ত বেলজিয়াম আওয়াামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ড. হাছান মাহমুদ ২০০১ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশের তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী এবং আওয়ামী লীগের সভাপতির বিশেষ সহকারী হিসেবে নিযুক্ত হন।

তিনি ২০০২ সালের ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের পরিবেশ ও বন বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হন। তখন থেকেই তিনি আওয়ামী লীগের সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য।

২০০৭ সালে যখন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাকে সামরিক সমর্থিত সরকার কর্তৃক গ্রেফতার করা হয়, তখন ড. হাছান মাহমুদ, দলীয় সভাপতির মুখপাত্র হিসেবে অকুতোভয়ে কাজ করেন, যা দলের সকল কর্মী ও সমর্থকদের দ্বারা অত্যন্ত প্রশংসিত হয়।

২০০৮ সালে তিনি বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ।

২০০৯-২০১৩ সময়কালে তিনি পরিবেশ ও বন মন্ত্রী হিসেবে সরকারের মন্ত্রিপরিষদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এর আগে ড. হাছান মাহমুদ একই সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ড. হাছান মাহমুদ ২০০২ সালে আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটিতে বয়ঃকনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মনোনীত হন।

গতকাল শুক্রবার বর্ণিল আয়োজনে শেষ হয় আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। বিকেলে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সাভারে পৃথক ঘটনায় এক স্কুল ছাত্রীসহ দুই জনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ (ভিডিও)

বিপ্লব সাভার ঃ পৃথক ঘটনায় সাভারে এক স্কুল ছাত্রীসহ দুই জনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার সকালে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও কাউন্দিয়া এলাকা থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করে সাভার মডেল থানা পুলিশ।

পুলিশ জানায় সকালে সাভারের তালবাগ এলাকায় লিটন মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া সাভার সুপার ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের নার্স রিতা খানমকে (২২) বাড়ির একটি কক্ষে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষনা করেন।

পরে খবর পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে প্রেরণ করে।

অন্যদিকে সকালে সাভারের কাউন্দিয়া এলাকার মোন্নাফ মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া স্থানীয় শহীদ স্মৃতি স্কুলের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী রুনা আক্তারের (১৫) বাড়ির একটি কক্ষে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মৃতদেহ দেখতে পায় পরিবারের সদস্যরা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে প্রেরণ করে।

এবিষয়ে সাভার মডেল থানার ওসি অপারেশন জাকারিয়া হোসেন বলেন ময়না তদন্তের পরে জানাযাবে এ দুটি আত্মহত্যা নাকি হত্যা।

এছাড়া সাভারের হেমায়েতপুরের সীমান্ত বর্তী এলাকা সিংগাইর ব্রীজের বিন্নাডিঙ্গি এলাকায় ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর থানার এ এস আই কফিল উদ্দিন হীরা (৪০) মারা গেছে।

গত শুক্রবার সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পরে আজ সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

বিএনপি দল এখন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে-যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল।

সাভার প্রতিনিধি :আন্দোলনে ব্যার্থ হয়ে বিএনপি নেতারা কর্মীদের চাঙ্গা করতে মাঝে মাঝে সরকার পতনের হুশিয়ারি দেন বলে মন্তব্য করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল।রোববার দুপুরে সাভারে শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট এ যুবকদের ক্ষমতায়ন শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের কর্মশালায় যোগ দিয়ে তিনি একথা বলেন।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এসময় আরও বলেন বিএনপি দল এখন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে তাদের পায়ের তলায় মাটি নেই কর্মী শুণ্য হয়ে গেছে উল্লেখ্য করে তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার অত্যন্ত ভালো ভাবে চলছে আওয়ামী লীগকে পরাজিত করার মত কোন দল বাংলাদেশে নেই ,তাই দেশে নতুন করে নির্বাচন দেওয়ার কথা বলা বিএনপি নেতারা পাগলের প্রল্পাপ করছে বলে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন ,একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষতার মাধ্যমে হয়েছে এই নির্বাচন কমিশনার অত্যন্ত শক্তিশালী ভবিষৎতে নির্বাচন কমিশনকে যদি আরও শক্তিশালী করতে হয় যদি সুযোগ থাকে তাহলে আওয়ামী লীগকে যে ভাবে রিফম করা হয়েছে ,সেভাবে নির্বাচন কমিশনকে করা হবে সেটা কোন বিষয় নয় কিন্তু বিএনপি নেতারাই বলেছেন পাগল ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ নয় উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন আওয়ামী লীগে শেখ হাসিনার বিকল্প এখনও কেউ তৈরি হয়নি প্রধানমন্ত্রী যে ভাবে দলকে সুসংগঠিত করেছে তাতে আওয়ামী লীগ অনেক ঐক্যবন্ধ আওয়ামী লীগ অনেক বড় দল এই দলে অনেক নেতা ও কর্মী রয়েছে। দলকে আরও চাঙ্গা করতে অনেক পদক্ষেপ হাতে নেওয়া হয়েছে বলেও বলেন তিনি।

কর্মশালায় এসময় অন্যাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব আখতার হোসেন,জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড.ফারজানা ইসলাম,শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট এর মহাপরিচালক আনোয়ারুল ইসলাম সরকারসহ আরো অনেকে।

কক্সবাজারে বেড়াতে এসে ,অতিরিক্ত ইয়াবা সেবনের কারণে স্বর্না রশিদ নামের এক ছাত্রীর মৃত্যু ।

কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ কক্সবাজারে বেড়াতে এসে অতিরিক্ত ইয়াবা সেবনের কারণে স্বর্না রশিদ (২২) নামের এক ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।শুক্রবার ভোরে কক্সবাজারের একটি হোটেলে এই ঘটনা ঘটে। স্বর্না রশিদ প্রাইভেটে ব্রিটিশ কাউন্সিলে “এ লেভেল” এ অধ্যয়নরত ছিল। কক্সবাজার সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকের মতে তিনি অতিরিক্ত ইয়াবা সেবন করেছিলেন।পুলিশ এ ঘটনায় ওই ছাত্রীটির প্রেমিক ওয়ালী আহমদ খানকে গ্রেফতার করে গতকালই কারাগারে পাঠিয়েছে।

জানা গেছে, স্বর্ণা রশিদ (২১) নামের ওই মেধাবী ছাত্রী তার বন্ধু-বান্ধবের সাথে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলেন। তারা ছিলেন সংখ্যায় ১০/১১ জন। শুক্রুবার সকালে কক্সবাজার পৌঁছে হোটেল জামান নামের একটি হোটেলে তারা কক্ষ ভাড়া নেন। বিকালে সৈকত ভ্রমণ শেষেই হোটেল কক্ষে ফিরে বন্ধু-বান্ধব সবাই বসে যান মাদক সেবনে। সন্ধ্যার পর পরই মাদকের ঘোরে হুঁশ হারিয়ে ফেলেন মেধাবী ছাত্রী স্বর্ণা রশিদ। তাকে নিয়ে যাওয়া হয় কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে।

জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডাঃ শাহীন আবদুর রহমান চৌধুরী জানান-‘ সন্ধ্যার পর মেয়েটিকে জরুরি বিভাগে যখন আনা হয় তখন আমি তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সিটে ভর্ত্তি দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা ঢাকায় ফিরে যাবার কথা বলে সিটে ভর্ত্তি না হয়ে ফিরে যান হোটেল কক্ষে।’

ডাঃ শাহীন আরো বলেন, সঙ্গীরা মাদকসেবী মেয়েটিকে নিয়ে যাবার বেশ কিছুক্ষণ পর আবারো হাসপাতালে আসেন। তখর রাত আনুমানিক সাড়ে ৯ টা। ডাঃ শাহীন মেয়েটিকে পরীক্ষা করে দেখেন ততক্ষনে তার প্রাণ বায়ু নিভে গেছে। ডাঃ শাহীনের মতে বেশী পরিমাণে (ওভার ডোজ) ইয়াবা সেবন করায় তার মৃত্যু হয়েছে।
ব্যাপারটি নিয়ে তাৎক্ষনিক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে খবর দিলে স্বর্ণাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা সহপাঠিদের

অনেকেই পালিয়ে যান। তবে পুলিশ আটক করতে সক্ষম হন ওয়ালী আহমদ খান নামের এক তরুনকে। আটক ওয়ালী ঢাকার ২২ সিদ্ধেশ্বরী রোডের মনিমান টাওয়ারের বাসিন্দা আলী রেজা খানের পুত্র। পুলিশ তাকে সন্দেহজনক ধারায় আদালতে সোপর্দ্দ করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন।

পুলিশ জানিয়েছেন, স্বর্ণা রশিদ রাজধানী ঢাকার কোতোয়ালী চকবাজারের ৭ নম্বর বেগম বাজার এলাকার ধনাঢ্য ব্যবসায়ী হারুন উর রশিদ পাপ্পুর কন্যা। কক্সবাজার সদর মডেল থানার উপ পরিদর্শক মোঃ শরীফ উল্লাহ স্বর্ণার পারিবারিক সুত্রের বরাত দিয়ে আরো জানান, মূলত স্বর্ণা তার মামার বাড়ীতে যাবার কথা বলেই বন্ধুদের সাথে কক্সবাজার চলে আসেন।

শুক্রুবার রাতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে মৃত্যুর খবর পেয়ে গতকাল সকালে ব্যবসায়ী বাবা সহ পরিবারের আরো কয়েক সদস্য ছুটে আসনে কক্সবাজারে। পুলিশের উপ পরিদর্শক জানান, মেয়েটি বাড়ীতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে চলে আসেন কক্সবাজারে। শোকাহত বাবার আফসোসের যেন শেষ নেই। তিনি কন্যার শোকে বার বার মুর্ছা যাচ্ছিলেন। গতকাল লাশের ময়না তদন্ত শেষে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

শীতে কাপচ্ছে দেশ,অসহাই নিম্ন আয়ের মানুষ

সৌমেন মন্ডল, ব্যাুরো প্রধান রাজশাহীঃ শীত যেন এবার পঞ্জিকা ধরেই নেমে আসলো। পৌষের শুরুতেই যে শীত জেঁকে বসবে, সেই পূর্বাভাস আগেই দিয়েছিল আবহাওয়া অফিস। শীতের তীব্রতা বাড়ায় জনজীবনে দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।বেশি কষ্ট পোহাচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষ। বিশেষ করে অসহাই খেটে খাওয়া গরিব মানুষের দুর্ভোগ-দুর্দশা বেড়ে গেছে। ঠাণ্ডাজনিত ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, জ্বর-সর্দি-কাশি ইত্যাদি রোগবালাইয়ে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ বেশি বেড়েছে। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে শীতজনিত রোগে আক্রান্তের ভর্তির হার বেড়েছে।

শীতের সঙ্গে আছে হিমালয় থেকে আসা ঠাণ্ডা বায়ুর প্রবাহ। আছে ঘন কুয়াশাও। কুয়াশার প্রকোপ বাড়ায় বিভিন্ন স্থানে সূর্য দেখা যায়নি। রাজশাহীসহ আশপাশ এলাকায় আজ দুদিন সূর্যের মুখ দেখা যায়নি কোন সময়।

আজ বিকাল থেকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইতে শুরু করে। সন্ধ্যার পর থেকে বৃষ্টির মতো কুয়াশা পড়ে। আর ভোর থেকে চারপাশ ঘন কুয়াশায় ঢেকে যায়। ঘন কুয়াশায় আলোর স্বল্পতা সৃষ্টি হওয়ায় দিনের বেলায় হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চালানো হচ্ছে। রাস্তাঘাট ও হাটবাজারে মানুষের চলাচল কমে গেছে।

হঠাৎ শীতের কারণে রাজশাহীসহ সারা দেশে গরম কাপড়ের দোকানে বিক্রি বেড়েছে। এদিকে পর্যাপ্ত গরম কাপড় না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন অনেক দরিদ্র মানুষ।

এখন রাজশাহী ফুটপাত গুলোতে ভীর করছে সল্প রোজগারের মানুষ।
এই শীতে সবচেয়ে বিপাকে পরেছে দিনআনে দিন খাই মানুষ জন।তীব্র শীতে কাজে বের হতে পারচ্ছে না তারা। রাস্তার পাশে আগুন জ্বালীয়ে শীত নিবারনের চেষ্টা করছে তারা।

মাগুরার শ্রীপুরে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ

আশরাফ হোসেন পল্টু,মাগুরা প্রতিনিধি : মাগুরার শ্রীপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার হতদরিদ্র শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইয়াছিন কবীর নিজ গাড়ীতে কম্বল বহন করে নিজে উপস্থিত থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শ্রীকোল ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চল বরিশাট আশ্রয়ন প্রকল্প,হাটশ্রীকোল আশ্রয়ন প্রকল্প, শ্রীপুর বাসষ্ট্যান্ড, ওয়াপদা অফিস মোড় ভ্যানষ্ট্যান্ড ও সাচিলাপুর বাজারস্থ হতদরিদ্রদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে এ কম্বল বিতরণ করেন।

এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা তথ্য ও প্রযুক্তি এ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রামার মাহফুজুর রহমান ও প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের উপ-সহকারি প্রকৌশলী অমিতাভ সরকার ।

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইয়াছিন কবীর জানান,সরকারিভাবে বরাদ্ধকৃত শীতবস্ত্র উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধ্যমত হতদরিদ্রদের হাতে হাতে পৌছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই সাথে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউপি চেয়ারম্যানগণ সংশ্লিষ্ট এলাকাতেও এ শীতবস্ত্র বিতরণ করছেন।

বেনাপোল ৩৮ পিস ভারতীয় মোবাইল আটক

মোঃ রাসেল ইসলাম,বেনাপোল(যশোর)প্রতিনিধি: বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমস তল্লাশি কেন্দ্রে থেকে ৩৮ পিস ভারতীয় মোবাইল আটক করেছে কাস্টমস ও শুল্ক গোয়েন্দা সদস্যরা। আজ শনিবার সকাল সাড়ে দশটার সময় ৪ জন পাসপোর্ট যাত্রী ব্যাগ তল্লাশি করে এ মোবাইল আটক করা হয়।কাস্টমস চেকপোস্ট রাজস্ব কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান.গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি তৌহিদুর, জুয়েল, মোমিন ও রশিদ নামে ৪ জন পাসপোর্ট যাত্রী ভারত থেকে বিপুল পরিমান মোবাইল নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে।

এমন সংবাদে স্কানার মেশিনে ডিউটি জোরদার করা হয়।পরে তাদের ব্যাগ স্কানার মেশিনে দিলে তাতে মোবাইল পাওয়া যায়।আটকের অভিযানে ছিলেন শুল্ক গোয়েন্দা, এআরও রহমান, এআরও রোমান ও সিপাহী ইমরান হোসেন। আটক মোবাইল বেনাপোল কাস্টমস হাউজে জমা দেওয়া হয়েছে।

মান্দার মাঠে হলুদের সমারোহ মধু সংগ্রহে মৌ-খামার

আপেল মাহমুদ, নওগাঁ প্রতিনিধি : অগ্রহায়ণের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই আমন ধানের কাটামাড়াই শেষ। মাঘের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হবে বোরো ধানের চারা রোপণের কাজ। মাঝখানে অন্তত: ৭৫ থেকে ৮০ দিন পতিত অবস্থায় পড়ে থাকে জমি। দীর্ঘ এ সময় কাজে লাগিয়ে কৃষকরা শুরু করেছেন সরিষার চাষ। বাড়তি ফসল হিসেবে এ চাষে ক্রমেই আগ্রহ বাড়ছে তাদের।ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় এ অঞ্চলের মাঠের চিত্র। এক সময়ের সবুজ মাঠ হয়ে যায় হলুদ। এবারের শীতে সরিষা ফুলের নয়নাভিরাম দৃশ্য পাল্টে দিয়েছে নওগাঁর মান্দা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ফসলের মাঠ। এ মৌসুমে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে চাষ হয়েছে সরিষার। চারিদিকে এখন শুধু হলুদ সরিষা ফুলের বর্ণিল সমারোহ।

মাঠের পর মাঠজুড়ে সরিষা ফুলের মৌ-মৌ গন্ধ। এ সুযোগ কাজে লাগিয়েছে একদল মৌ-খামারী। সরিষা ফুলের রেণু থেকে মধু সংগ্রহে এসব মাঠে স্থাপন করা হয়েছে একাধিক মৌ-খামার। স্থাপনকৃত এসব খামারেই মধু মাড়াই করে পাঠানো হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। অনুকুল আবহাওয়ায় ভাল লাভের আশা করছেন খামারীরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ৫ হাজার ৯০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৪৫ হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের সরিষার চাষ হয়েছে। এছাড়া ২ হাজার ১৫ হেক্টর জমিতে টরি-৭, ২ হাজার ৮৭৫ হেক্টর জমিতে বারি-১৪ এবং ১৫৫ হেক্টর জমিতে বারি-১৫ এর চাষ করেছে কৃষক। আবহাওয়া অনুকুল হলে এ চাষ থেকে ৯ হাজার ১৬২ মেট্রিকটন সরিষা উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলার ফতেপুর গ্রামের কৃষক ইব্রাহীম হোসেন এবারে ২০ বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছেন। একই গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ ১০ বিঘা, ছোটমুল্লুক গ্রামের কহিম উদ্দিন শাহ্ ৭ বিঘা, ভারশোঁ গ্রামের মোজাফফর হোসেন ৬ বিঘা ও আব্দুল লতিফ ৫ বিঘা জমিতে এ আবাদ করেছেন। এসব কৃষকরা বলেন, আমন ও বোরো ধানের মাঝখানে দীর্ঘ সময় জমি পতিত অবস্থায় পড়ে থাকে। এসময় বাড়তি ফসল হিসেবে আমরা সরিষার চাষ করেছি। তারা বলেন, বাড়তি এ আবাদ থেকে বাড়তি আয় হচ্ছে। সরিষা বিক্রির টাকা আমরা বোরো আবাদে ব্যয় করছি। এখন দোকান থেকে আর বাঁকিতে সার ও কীটনাশক কিনতে হচ্ছে না। সরিষার কাঁটাও জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।

অন্যদিকে চলতি মৌসুমে সরিষার মাঠে স্থাপন করা হয়েছে সাড়ে ৮ শতাধিক মৌ-বক্স। এর মধ্যে সর্বাধিক মৌ-খামার রয়েছে কালিকাপুর ইউনিয়নের কয়েকটি মাঠে। এসব মৌ-খামারে রয়েছে ৪০ থেকে ১৫০টি মৌ-বক্স। খামারীরা মাঠেই মধু মাড়াই করে রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করছেন। আবহাওয়া অনুকুল হওয়ায় বিগত বছরের তুলনায় এবারে মধু আহরনের পরিমাণ বেশি হবে বলে জানিয়েছেন খামারীরা।

উপজেলার ফতেপুর মাঠে স্থাপনকৃত মৌ-খামারের মালিক রাজশাহী শহরের বাসিন্দা রাম্মান আরেফিন রিমন জানান, ‘১৯৯৫ সাল থেকে আমি এ পেশার সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। শুরুতে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছিল। মৌমাছি সংরক্ষণ ও উৎপাদনে তেমন অভিজ্ঞতা ছিল না। পরবর্তীতে এবিষয়ে কয়েকবার প্রশিক্ষণ নিয়েছি। এখন সফলতার সঙ্গে মধু উৎপাদন ও বাজারজাত করছি। রাজশাহী শহরের কয়েকটি বিপনী বিতানসহ অনলাইন ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘দারাজ’ এর মাধ্যমে মধু বিক্রির কাজ করে আসছি।’

সফল এ খামারী আরও বলেন, ‘ সরিষা, কালোজিরা, লিচু মৌসুমসহ বছরের ৬ মাস দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৌ-খামার স্থাপন করে মধু সংগ্রহের কাজ করি। অফসিজনে বাড়িতে মৌমাছি সংরক্ষণের কাজ করে থাকি। রানী মাছি তৈরিতে একটু বেগ পেতে হয়। এসময় পরাগরেনু, ভুট্টা, বেশম মিশ্রিত খাবার দিতে মৌমাছির চাহিদা পুরন করা হয়ে থাকে।’
উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান জানান, চলতি মৌসুমে সরিষার আবাদ বাড়ানোর লক্ষে ১ হাজার ২৫০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে প্রণোদনার সার ও বীজ দেওয়া হয়েছে। স্বল্প খরচ ও স্বল্প সময়ের এ আবাদ থেকে কৃষক বাড়তি আয় করতে পারেন। এ আয় ধান উৎপাদনের ক্ষেত্রে সহায়ক ভ‚মিকা পালন করবে।

কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, সরিষার ক্ষেতে মৌ-খামার স্থাপন করে মধু সংগ্রহ করছেন খামারীরা। খামারের মৌমাছিরা মধু সংগ্রহের কাজে এক ফুল থেকে আরেক ফুলে ছুটে বেড়াচ্ছে। এতে পরাগায়নে সহায়ক ভ‚মিকা পালন করছে মৌমাছিরা। এ কারণে মৌ-খামার স্থাপনকৃত এলাকায় সরিষার ফলন ২০ শতাংশ হারে বাড়বে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, চলতি মৌসুমে সরিষার ১৪টি প্রদর্শনীর প্লট স্থাপনসহ ৬ জন কৃষককে উন্নতমানের মৌ-বক্স দেয়া হয়েছে। যাতে কৃষকরা সরিষা উৎপাদনের পাশাপাশি মধু সংগ্রহ করে তারা বাড়তি আয় করতে পারেন।

সর্বশেষ আপডেট...