20 C
Dhaka, BD
সোমবার, জানুয়ারি ১৯, ২০২৬

ধামরাইয়ে দুই মহিলার মরদেহ উদ্ধার।

ঢাকার ধামরাইয়ে সুতিপাড়া ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের রোকিয়া বেগম (৪৫) নামে এক মহিলার মরদেহ উদ্ধার করেছে ধামরাই থানা পুলিশ।

আজ সোমবার (১৫এপ্রিল) সকাল ১০ ঘটিকার সময় শ্রীরামপুর গ্রামে নিজ বাড়ীতে থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত রোকিয়া বেগমের বাড়ী ধামরাই উপজেলার সুতিপাড়া ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের মোঃ জিন্নত আলী দেওয়ানের স্ত্রী।

এলাকবাসি সুত্রে জানাযায় জিন্নত আলী দেওয়ান তার স্ত্রীর সাথে প্রায় ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকত এরই জের ধরে রাতের আধারে স্বামীর সাথে ঝগড়া করে নিজ ঘরের আড়ার সাথে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। পরে সকালে বাড়ীর লোকজন ঘুম থেকে উঠে ঘরের দরজার সামনে গিয়ে ডাকতে থাকে কিন্তু ভিতর থেকে কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে ঘরের দরজা ভেঙে ভিতরে গিয়ে দেখে ঘরের আড়ার সাথে ফাঁস দিয়ে জুলে আছে।

পরে পাড়া পতিবেশিরা সেখান থেকে নামিয়ে কালামপুর হলি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মূত বলে ঘোষনা করে এবং সাথে সাথে এলাকার লোকজন পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

অপর দিকে ধামরাই পৌরসভার ছোট চন্দাইল (তালতলা) গ্রামের সাথি আক্তার (২২) নামে এক মহিলার মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ।
নিহত সাথি আক্তরের বাড়ী ধামরাই পৌরসভার ছোট চন্দাইল এলাকার (তালতলা দক্ষিণ পাড়া) মহল্লার মোঃ বিজয় হোসেনের স্ত্রী।

পুলিশ সুত্রে জানাযায়, সাথি আক্তারের গত ২৫-০৩-১৯ তারিখে মোঃ বিজয় হোসেনের সাথে বিবাহ হয়।বিবাহর পর সাথী আক্তার তার নানী শাশুরীর(মঞ্জুয়ারার) বাড়ীতে বসবাস করিত। কিন্তু কিছুদিন পর সাথী আক্তারের বুকের বামপাশে ব্যাথা অনুভাব করিয়া ছটফট করত। সেই ব্যাথায় আজ সকালে ছটফট কারিয়া এক সময় মাটিতে লুটিয়া পড়িলে আসেপাশের লোকজন তাকে গন স্বাস্থ্য হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে মৃত বলে ঘোষনা করে। পরে সাথী আক্তারের মা নিজে থানায় আসিয়া পুলিশকে জানালে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

এই ব্যাপারে ধামরাই থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, আজ সকালে খবর পেয়ে সুতিপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ শ্রীরামপুর গ্রামের গিয়ে দেখি এক মহিলা আত্মহত্যা করেছে এবং ধামরাই পৌরসভার ছোট চন্দাইল এলাকায় এক মহিলা বুকের ব্যাথায় মারা গেছে। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসি। মরদেহটি ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হবে। ময়না তদন্তের পর বলা যাবে এটি হত্যা না আত্মহত্যা।

নুসরাত হত্যার বিচারের দাবীতে সাপাহারে মানববন্ধন

“যুবরাই লড়বে, সবুজ পৃথিবী গড়বে” এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে ফেনীর সোনাগাজির মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে নওগাঁর সাপাহারে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১ টায় উপজেলার জিরো পয়েন্ট এলাকায় সামনে গ্রীণ ভয়েস বাংলাদেশ (পরিবেশবাদী যুব সংগঠন) সাপাহার উপজেলা শাখা ও স্কলার্স একাডেমীর আয়োজনে ঘন্টাব্যাপী এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

এসময় গ্রীণ ভয়েস বাংলাদেশ এর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ও স্কলার্স একাডেমীর পরিচালক মিন্টু রহমান, রেজা নুর আলম, বাদদমদমা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাকারিয়া আলম, নিয়ামত আলী সহ গ্রীন ভয়েজ বাংলাদেশ সাপাহার উপজেলার সকল সদস্য ও স্কলার্স একাডেমীর শিক্ষার্থী, শিক্ষক মন্ডলী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তারা, নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এর সাথে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান।

নওগাঁর মান্দা-বাঘমারা ও আত্রাই উপজেলার সড়কের মান ও প্রশস্থকরণ কাজের উদ্বোধন ।

নওগাঁর মান্দা-বাঘমারা ও আত্রাই উপজেলার সড়কের মান ও প্রশস্থকরণের কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় মান্দার ফেরিঘাটে প্রধান অতিথি হিসেবে কাজের ফলক উন্মোচন করেন সাবেক বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী মোহাম্মদ ইমাজ উদ্দিন প্রামানিক।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, নওগাঁ সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ হামিদুল হক, মান্দা উপজেলা পরিষদ নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান স.ম জসিম উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব মোল্লা এমদাদুল হক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার খন্দকার মুশফিকুর রহমানসহ দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গ।

প্রায় ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে এ কাজটি করছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আমিনুল হক প্রাইভেট লিমিটেড ও কামাল অ্যাসোসিয়েট।
পরে কয়াপাড়া কামারকুড়ি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাঠে এ উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বামনডাঙ্গা মানব কল্যাণ সংস্থার উদ্যেগে নুসরাত হত্যায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে সমাবেশ ও মানববন্ধন।

‘নুসরাত ঘুমিয়ে যাও তুমি,ছাড় পাবে না কোন আসামী,ছাড় পাবে না সিরাজ ও তার দল,তোমার বিচারের দাবিতে পড়েছে মানুষের ঢল’এই স্লোগানকে সামনে রেখে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গায় নুসরাত জাহান রাফির হত্যাকারী সিরাজ উদদৌলাসহ তার সাথে জড়িতদেরকে দ্রুত বিচারের দাবিতে সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে বামনডাঙ্গা মানব কল্যাণ সংস্থা।

সোমবার(১৫ এপ্রিল) সকাল ১১ঘটিকায় সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ডিবি রোড শিববাড়ী মোড়ে বামনডাঙ্গা মানব কল্যাণ সংস্থার উদ্দোগ্যে সমাবেশ ও মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত মানববন্ধনে বামনডাঙ্গা মানব কল্যাণ সংস্থার সভাপতি শরিফুল ইসলাম লিটনের সভাপতিত্বে নুসরাত জাহান রাফির হত্যাকারী সিরাজ উদদৌলাসহ তার সাথে জড়িতদেরকে দ্রুত বিচারের দাবিতে বক্তব্য রাখেন, বামনডাঙ্গা মেধাবিকাশ শিক্ষালয়ের সত্ত্বাধিকারী ও প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শাফায়েত উল্যাহ সরকার,বামনডাঙ্গা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম শহিদ, বামনডাঙ্গা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মাহাবুর খান,শাপলা কুঁড়ির আসর’র সভাপতি হাবিবুর রহমান হবি,ভালোবাসি বামনডাঙ্গা’র সভাপতি ফয়সাল সাকিদার আরিফ,বামনডাঙ্গা শিশু নিকেতন এন্ড মডেল হাই স্কুলের অধ্যক্ষ ইনযামাম আযম,বামনডাঙ্গা বহুমুখী কল্যাণ সংঘের সাবেক সভাপতি শেখ শাহিন,বামনডাঙ্গা বিবর্তন নাট্যচক্র’র সাধারন সম্পাদক গোলাম সারোয়ার সহ অনেকে।

অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন,সহ-সভাপতি ছাএ ইউনিয়ন গাইবান্ধা শাখা’র ফজলে রাব্বি,বামনডাঙ্গা মানব কল্যাণ সংস্থার সহ-সভাপতি সজিব ইসলাম, বামনডাঙ্গা মানব কল্যাণ সংস্থার সেক্রেটারি ও বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব বাপ্পি রাম রায়(ক্যাপ্টেন),বামনডাঙ্গা মানব কল্যাণ সংস্থার সহ প্রচার সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম মিঠু,বামনডাঙ্গা মানব কল্যাণ সংস্থার দপ্তর সম্পাদক মাসুদ রানা,বামনডাঙ্গা মানব কল্যাণ সংস্থার বিচার বিষয়ক সম্পাদক হাসান আলী পাপ্পু প্রমুখ।

এছাড়াও উক্ত মানববন্ধনে কাটগড়া দ্বি মুখী উচ্চ বিদ্যালয়,বামনডাঙ্গা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বামনডাঙ্গা আল হিকমাহ মাদ্রাসা, বামনডাঙ্গা মেধা বিকাশ শিক্ষালয় ও বামনডাঙ্গা ঘাঘট চাইল্ড প্রি-ক্যাডেট স্কুলের শিক্ষার্থীরা অংশ গ্রহন করেন।

উল্লেখ্য: গত ২৭ মার্চ অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মামলা করেন মেয়েটির মা। মামলা প্রত্যাহারে রাজি না হওয়ায় ছাত্রীটির গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ওই দিনই গুরুতর আহত অবস্থায় মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাতকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

পরে গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটের সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন।

নিখোঁজের তিন দিন পরে সাভারে ধলেশ্বরী নদী থেকে হুমায়ন কবির সরকারের লাশ উদ্ধার ।

নিখোঁজের তিন দিন পরে সাভারে ধলেশ্বরী নদী থেকে স্থানীয় সেচ্ছাসেবক লীগ নেতা হুমায়ন কবির সরকারের লাশ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস।

রোববার সকালে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এসময় গ্রামের শত শত মানুষ উপস্থিত ছিলেন ও পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে। এদিকে এঘটনায় পুলিশ ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত ওই হুমায়ন কবির ভরারী এলাকার গোলাম মোস্তফার ছেলে।

এর আগে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় গত বৃহস্পতিবার সন্ধায় তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ সভাপতি মোঃ হুমায়ন কবির সরকারকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে পানপাড়া বংশী নদীর পারে বালির মাঠে নিয়ে যায় এলাকার চিহিৃত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যাবসায়ী পারভেজ বাহিনীর লোকজন।

পরে সেখানে মাদক ব্যাবসায়ী পারভেজ বাহিনীর ২০/২৫ জনের একটি সন্ত্রাসী দল তাকে রামদা দিয়ে এলোপাথারী ভাবে কুপিয়ে হত্যা করে। পরে সন্ত্রাসীরা লাশটি একটি ট্রলারে করে বংশী নদীতে গুমকরে রাখে।

ট্যানারী পুলিশ ফাড়ির ওসি গোলাম নবী বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় সন্ত্রাসী পাভেজ বাহিনীর লোকজন তাকে হত্যা করে লাশটি বংশী নদীতে ফেলে দেয়।

পরে রবিবার সকালে তিন দিন পর বংশী নদী থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে এ ঘটনায় এর আগে ট্রলারের মাঝিসহ  মোট ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

সাভার ফায়ার সার্ভিস এর ষ্টেশন অফিসার লিটন আহমেদ জানান, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এলাকার মারামারি ঘটনায় নিখোঁজ ছিলেন।পরে গতকাল সকালে ফায়ার সার্ভিস পানপাড়া এলাকায় ধলেশ্বরী নদীতে তল্লাশী চালিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে। পরে পুলিশ তার লাশ ময়না তদন্তের জন্য রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে প্রেরণ করে।

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ,এফ,এম সায়েদ জানান, বৃহস্পতিবার মারামারি ঘটনায় নিখোঁজ ছিলেন হুমায়ন কবির। প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে স্থানীয় প্রতিপক্ষ পারভেজ ও তার সহযোগিতারা কবিরকে জখম করে নদীতে ফেলে হত্যা করেছে। এঘটনায় অভিযুক্ত ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। বাকী আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্রে করে এই মারামারি ঘটনা ঘটেছে বলেও ধারনা দেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

এঘটনায় নিহতের স্বজন বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

মান্দায় বাংলা নববর্ষ উদযাপন

নওগাঁর মান্দায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে যথাযোগ্য মর্যাদায় বাংলা নববর্ষ ১৪২৬ পালন করা হয়েছে।

মঙ্গল শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, পান্তা উৎসব, গ্রামীণ ঐতিহ্যের লাঠি ও বদন খেলা, বর্ণিল ঘুড়ি উড়ানো প্রতিযোগিতাসহ বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা হয়।

এ উপলক্ষে সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে পরিষদ চত্বর থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়ে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে পরিষদ সংলগ্ন মাঠে ইউএনও খন্দকার মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় সাংসদ ইমাজ উদ্দিন প্রামানিক প্রধান অতিথি ছিলেন।

উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) এসএম হাবিবুল হাসানের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুর রশিদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মোল্লা এমদাদুল হক, সাধারণ সম্পাদক ও নবনির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান সরদার জসিম উদ্দিন, মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাফফর হোসেন, নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান গৌতম কুমার মহন্ত ও মাহবুবা সিদ্দিকা রুমা, মান্দা প্রেসক্লাবের সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাংলা নববর্ষ পালন করা হয়েছে।

সুন্দরগঞ্জে নববর্ষ উদযাপন

বাংলা নববর্ষ উদযাপনে বাঙলা সংস্কৃতির রঙে ঢঙে মাতোয়ারা হয়ে উঠেছে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ ।

বছরের প্রথম সকালে উদিত সূর্যের আলো চারদিক ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই ঢাক-ঢোলের আওয়াজে প্রকম্পিত হয়ে উঠে শহরের আশপাশ। ছড়িয়ে পড়ে পহেলা বৈশাখের ডাকে সুখ-শান্তি-সমৃদ্ধির বার্তায় বাংলাদেশকে এগিয়ে নেবার আহ্বান।

রোববার পহেলা বৈশাখে সকাল থেকেই উপজেলায় বাঙালী সংস্কৃতির প্রাণের উৎসব বাঙলা বর্ষবরণে মেতে উঠে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ছোট-বড় সব বয়সী মানুষ।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বের হয় বর্ণিল শোভাযাত্রা।

এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন পৃথক পৃথক র‌্যালী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যেও বর্ষবরণে মাতোয়ারা ছিল সবাই।

‘এসো হে বৈশাখ- এসো এসো’ গানে গানে পহেলা বৈশাখকে বরণ করে নেয়ার পাশাপাশি পুরো উপজেলা জুড়ে চলছে রঙের খেলা। পাড়া মহল্লায় রঙ খেলার দেশীয় সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশে বিভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক আয়োজনে তুলে ধরার হয় নাচে গানে ভাওয়াইয়া, জারি-সারি, ভাটিয়ালি ও বাউল সঙ্গীত।

গ্রামগঞ্জে নাগর দোলা, লাঠি খেলা, হা-ডু-ডু, ঘুড়ি উৎসবসহ বৈচিত্রময় সব আয়োজন করা হয় ।কেউ কেউ রঙ তুলির আলপনায় বৈশাখের শুভেচ্ছা বিলিয়ে দিচ্ছে গ্রামের মেঠোপথ থেকে শহুরের দিকে। সবমিলে যেন উত্তরের সংস্কৃতি সমৃদ্ধ প্রাচীনতম এই সুন্দরগঞ্জ সহ পুরো গাইবান্ধা জেলা বৈশাখের রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে।

নওগাঁয় নানা আয়োজনে বাংলা বর্ষবরণ ।

আগামী সুন্দর স্বপ্নের প্রত্যয়ে মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্যদিয়ে নানা আয়োজনে শরীয়তপুরে বাংলা ১৪২৬ বর্ষকে বরণ করা হয়েছে।

আজ রবিবার (১৪ এপ্রিল) সকালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জিলা স্কুল মাঠে প্রধান অতিথি হিসাবে ফেষ্টুন উড়িয়ে শুভ উদ্বোধন করেন সদর আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নিজাম উদ্দিন জলিল জন। পরে সেখান থেকে গ্রামীন ঐতিহ্য গরুর গাড়ী, ঘোড়াগাড়ী ও পালকী নিয়ে একটি বর্নাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে কেডি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান, পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন পিপিএম, নওগাঁ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা: আব্দুল বারী, হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা: রওশন আরা খানম, সিভিল সার্জন ডা: মোমিনুল হক, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার হারুন অল রশীদ, সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর শরীফুল ইসলাম খান, সদর উপজেলা পরিষদের নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম রফিকসহ বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ গ্রহণ করেন।

পরে বিদ্যালয় মুক্তমঞ্চ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নৃত্য পরিবেশিত হয়। পরে জেলা প্রশাসকের বাংলার গ্রামীন ঐতিহ্য পান্তা বিভিন্ন ভর্তা দিয়ে খাওয়া হয়। বিকেলে গ্রামীণ হারিয়ে যাওয়া লাঠি খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

অপর দিকে জাতীয় রবীন্দ্র সঙ্গীত সম্মেলন পরিষদের উদ্যোগে সকালে সমবায় চত্বরে শুভ নববর্ষ ১৪২৬ এর উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান। এসময় পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন, জেলা জাতীয় রবীন্দ্র সঙ্গিত সম্মিলন পরিষদের সভাপতি আমিনুল করিম তরফদার সংগঠনের সাধারন সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। পরে ১লা বৈশাখকে বরন করতে বিভিন্ন গান ও নৃত্য পরিবেশন করে।

যশোরের শার্শা-বেনাপোলে জাকজমকপূর্ণ নববর্ষ পালিত

অসামপ্রদায়িক বাঙ্গালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখকে ঘিরে শার্শা উপজেলায় ও বেনাপোলে নানা কর্মসূচি মাধ্যমে এ দিবসটি পালিত হয় ।

শার্শা উপজেলার শার্শা পাইলট মডেল হাইস্কুল থেকে সকাল ৯টার সময় র‌্যালি ও মঙ্গল শোভাযাত্রার মাধ্যমে পহেলা বৈশাখের যাত্রা শুরু হয়।

উপজেলা প্রশাসন ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বর্ষবরণের নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয় । উৎসবকে ঘিরে চিরায়ত মঙ্গল শোভাযাত্রা, পান্তা-ইলিশের পাশাপাশি বিভিন্ন ভর্তা দিয়ে পান্তাসহ বিভিন্ন দেশীয় মুখরোচক খাবার পরিবেশন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্টানের আয়োজন করা হয়। প্রতি বছরের মত পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মেলা বসেছে ।

বিভিন্ন সংগঠন শিক্ষা প্রতিষ্টান, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যাক্তিরা শার্শা ও বেনাপোলে বৈশাখির অনুষ্টানে যোগ দেয়। উৎসবে মাতে শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন ধর্ম বর্ণের মানুষ।

অপরদিকে বেনাপোলে পৌর ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের উদ্দ্যোগে বেনাপোল বলফিল্ড ময়দান থেকে বিশাল র‌্যালি ও মঙ্গল শোভাযাত্রার বের হয়। পহেলা বৈশাখের উৎসবকে ঘিরে প্রায় ৫ হাজার মানুষের পান্তা ও ইলিশ খাওয়া পরিবেশন করা হয়। সুষ্ঠ ও সুন্দরভাবে পান্তা ও ইলিশ খাবারের দায়িত্ব পালন করেন পৌর স্বেচ্ছাসেবকলীগ ও ছাত্রলীগ ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন শেখ আফিল উদ্দিন এমপি, শার্শা উপজেলা নির্বাহি অফিসার পূলক কুমার মন্ডল, শার্শা উপজেলার চেয়ারম্যান সিরাজুল হক মঞ্জু,উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব নুরুজ্জামান, যশোর জেলা আওয়ামীলীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আসিফ -উদ-দৌলা আলোক সর্দার,উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান মেহেদি হাসান,মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আলেয়া ফেরদৌস, বেনাপোল পোর্ট থানার ইনর্চাজ আবু সালেহ মাসুদ করিম, শার্শা থানার তদন্ত ওসি তাসকিন আহম্মেদ তুষার, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি অহিদুজ্জামান অহিদ,বেনাপোল ইউপি চেয়ারম্যান বজলুর রহমান,শার্শা ইউপি চেয়ারম্যান, সোহারাব হোসেন,কায়বা ইউপি চেয়ারম্যান হাসান ফিরোজ টিংঙ্কু, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি এনামুল হক মুকুল,সেক্রেটারী নাসির উদ্দিন,ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি তাহাজ্জেল হোসেন, শার্শা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুর রহিম সর্দ্দার ,সেক্রেটারী ইকবাল হোসেন রাসেল,পৌর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি জুলফিকার মন্টু, সেক্রেটারী কামাল হোসেন, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মামুন জোয়ার্দ্দার, সেক্রেটারী তৌহিদুল ইসলাম, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রুবেল, ইমরান,পারভেজ শ্রমিক নেতা জসিম উদ্দিনসহ প্রমুখ।

এসআই মিজানের চাঁদাবাজির শিকার সরকারী কর্মচারী ।

এবার বেনাপোল পোর্ট থানার এসআই মিজানের চাঁদাবাজির শিকার হলেন যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার সীমান্তবর্তী বড় আঁচড়া গ্রামের আলী মোল্লার পুত্র বেনাপোল পৌরসভার নিরীহ সরকারী কর্মচারী রিয়ন কবীর(৪৫)।

অপর দিকে বেনাপোল পোর্ট থানাধীন সাদিপুর গ্রামের মোছাঃ ফুকদির দুই সন্তান মোরশেদ(২৫) ও হয়রত আলী(৪০)এসআই মিজান কর্তৃক চাঁদাবাজির শিকার হয়েছেন। হযরত আলীর স্ত্রী বলেন,আমার স্বামী ও দেবরকে হেরোইন পাঁচারের মিথ্যা মামলা দিয়ে চালান দেওয়ার হুমকি দিয়ে দুই লাখ টাকা দাবী করে এসআই মিজান। পরে অনেক দেনদরবার করে ৫০ হাজার টাকা বিনিময়ে বিষয়টি রফা দফা করা হয়।

চাঁদাবাজির শিকার রিয়ন সুত্রে জানা যায় বিগত(১৭/১১/২০১৮ইং) তারিখে আনুমানিক রাত ২ টার সময় আমার বাড়িতে বেনাপোল পোর্ট থানার এসআই মিজান ও তার সাথে থাকা দুই জন পুলিশ সিপাহীকে নিয়ে আমার বাড়িতে হাজির হয়ে আমাকে ডাকতে থাকে। আমি উপস্থিত হলে এসআই মিজান আমাকে বলেন তোর নামে থানায় মামলার ওয়ারেন্ট আছে বলে আমাকে গেইট খুলতে বলে। আমি তখন এসআই মিজানকে বলি আমি বেনাপোল পৌর সভার সরকারী কর্মচারী আমার নামে কোন মামলা নেই। আমি কোন অপরাদের সাথে জড়িত নেই, তার পরেও আমার নামে যদি কোন মামলার ওয়ারেন্ট থেকে থাকে তবে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে উচ্চ আদালত ও নিয়োগ প্রাপ্ত থেকে অনুমতি লাগবে।

তখন এসআই মিজান আমাকে বলেন আমি আদালত আমিই নিয়োগ কর্মকর্তা সব আমি আমার কোন অনুমতি লাগে না। আমি তাকে আরও বলি আপনি ওয়ারেন্ট কপি আমাকে দেখান তিনি সাদা কাগজে লেখা আমার নাম দেখিয়ে বলে তুই থানায় চল। এই বলে আমার বাড়ির গেইট খুলে দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। আমি গেইট খুলতে অস্বীকৃতি জানালে এসআই মিজান প্রচন্ড শব্দে গেইটে ধাক্কাতে থাকে,তখন আমি ভয় পেয়ে গেইট খুলে দিলে এসআই মিজান আমার হাতে হ্যান্ডক্যাফ পড়িয়ে আমার পরিবারের সামনেই অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে টানতে টানতে মেইন রাস্তার ওখানে রেল লাইনের পাশে পুলিশ পিকআপ ভ্যানে উঠায়ে থানায় নিয়ে যায়।

তখন আমার কাছে দশ লক্ষ টাকা মুক্তিপন চাই এবং আমার পরিবারকে টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। আমি টাকা দিতে রাজি না হলে এসআই মিজান আমাকে মেরে ফেলার হুমকিসহ অস্ত্র ও ইয়াবা মামলায় চালান দেওয়ার ভয় দেখায়। আমাকে আরো বলেন তোর পৌর সভার চাকরি থাকবে না বলেও ভয় দেখায়। এসআই মিজান আরো বলেন ওসি সাহেবের নির্দেশে আমি এই টাকা চাচ্ছি কারো ভয় করার সময় নেই। তার পরেও টাকার জন্য আমার বাবাকে চাপ দিতে থাকেন তখন আমার বাবা নিরুপায় হয়ে ওই রাতে বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে ধার করে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যবস্থা করে এসআই মিজানের হাতে তুলে দেয়। এসআই মিজান ভোর রাতে আমাকে ছেড়ে দেয়।

ভুক্তভোগী রিয়ন জানান এই অসৎ পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠ বিচারের দাবী করছি ও উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট সুষ্ঠ তদন্তের দাবী জানাচ্ছি।

বেনাপোল পোর্ট থানার এসআই মিজানের মুঠো ফোনে বারবার কল দিলে তিনি ফোন রিছিভ করে নাই।

যশোরের নাভারণ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুয়েল ইমরান জানান, বিষয়টি লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে যদি ঘটনার সত্যতা মেলে তবে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমি আপনাদের মাধ্যমে আরও বলতে চাই যারা দোষী তারা আমার কাছ থেকে কোন ছাড় পাবে না।

সর্বশেষ আপডেট...