17 C
Dhaka, BD
রবিবার, জানুয়ারি ১৮, ২০২৬

উপজেলা নির্বাচন একেবারে পারফেক্ট হবে, এটা আমি মনে করি না-মন্তব্য : কাদের

উপজেলা নির্বাচন একেবারে পারফেক্ট হবে, এটা আমি মনে করি না- এ মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। শনিবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডি রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, পারফেক্ট বিষয়টি ভিন্ন বিষয়। কোনো বিষয়কে পারফেক্ট বলা ঠিক না, ভুলত্রুটি নিয়েই আমরা এগিয়ে যাই। আমাদের গণতন্ত্রকে পুরোপুরি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার আগে কিছু কিছু ভুলত্রুটি আমাদের অতিক্রম করতে হবে। এটা থাকবে এবং এটা নিয়ে এগোতে হবে।

তিনি বলেন, নির্বাচন করতে করতে এক সময় দেখা যাবে প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্র রূপ নিয়েছে। যে কারণে এ ধরনের ত্রুটি-বিচ্যুতির বিষয়গুলো ততটা কারও নজরে আসবে না।

ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, উপজেলা নির্বাচন হচ্ছে। যারা এসব অপবাদ দেন, তাদের সরেজমিন গিয়ে উপজেলা নির্বাচন দেখতে বলুন। তারপর তাদের ধারণা কত অমূলক, অলীক সেটা প্রমাণ পাবেন।

তিনি বলেন, সিটি উপ-নির্বাচনের দিন সারা দিন মেঘলা আকাশ থাকার কারণে ভোটার উপস্থিতি কম ছিল। তবে বিকেলে মেঘলা আকাশ না থাকায় ভোটার উপস্থিতি বেড়েছে। আকাশ মেঘলা, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে যারা আসতে পারেননি, দুপুরের পর থেকে তারা আসতে শুরু করেন।

এ সময় বিএনপির শাসনামলের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি।

কাদের বলেন, সিটি নির্বাচন নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলেন। সাংবাদিকদের মনে হয় মনে আছে, বিএনপিরও ভুলে যাওয়ার কথা নয়। ২০০১ সালে জাতীয় নির্বাচনের পরপরই সাদেক হোসেন খোকা মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায়, তখন তো কাউকে মনোনয়ন জমা দিতে দেওয়া হয়নি। এত বড় সিটি এখানে কিন্তু কেউই মনোনয়নপত্র দিতে পারেননি। এবার তো কোনো বাধা ছিল না। বিএনপি যদি চাইত, তারা মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারত। জাতীয়, স্থানীয় সরকার কোনো নির্বাচনে আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কাউকে বাধা দিইনি। এখানেও কোনো বাধা ছিল?

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের এক মন্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ধ্বংসের পথে তাদের বিধ্বংসী রাজনীতি। ছদ্মবেশী, বিধ্বংসী যে রাজনীতি তারা করে, সেই বিধ্বংসী রাজনীতি ধ্বংসের পথে আরেক ধাপ এগিয়ে। নির্বাচনের ইতিহাস বলে যারা বয়কট করবে, তাদের কিন্তু জনবিচ্ছিন্নতা, রাজনৈতিক ভাগ্য অনিবার্য হয়ে গেল।

তিনি বলেন, বিএনপিকেও এ কথা বলি, গত সাধারণ নির্বাচনে জনমতের হাওয়াটা তাদের অনুকূলে থাকত, তাহলে এর প্রভাবটা তাদের ফলে পড়ত। জনমত যেদিকে থাকে, নির্বাচনের ফল সেদিকেই টার্ন করবে, এটা নির্বাচনের ইতিহাস।

জাতীয় পার্টির বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতীয় পার্টি বিরোধী দল হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার যে অঙ্গীকার করেছিল, সিটি নির্বাচনে সেটির কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। বিরোধী দল যদি শক্তভাবে বিরোধিতা করত, তাহলে নির্বাচনটা আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতো। সংসদের ভেতরে ও বাইরের উভয় রাজনৈতিক দলকে আমরা শক্তিশালী দেখতে চাই।

এ সময় আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, সদস্য এস এম কামাল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আ’লীগের মনোনয়ন পেলেন শার্শা’র সিরাজুল হক মঞ্জু

যশোরের শার্শা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য চতুর্থ দফায় প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

শুক্রবার (১ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে দলটির স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের এক সভায় এ প্রার্থী’র তালিকা চুড়ান্ত করা হয়।

পরে দলটির দফতর সম্পাদক ও সংসদ সদস্য ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শার্শা উপজেলার চুড়ান্ত মনোনীত প্রার্থী হলেন শার্শা উপজেলা আওয়ামীলীগ এর সম্মানিত সভাপতি এবং উপজেলা পরিষদের সফল চেয়ারম্যান,জননেতা আলহাজ্ব শেখ আফিল উদ্দিন এমপির বিশ্বস্ত ব্যক্তিত্ব, বীরমুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক মঞ্জু ,পুনরায় শার্শা উপজেলা নির্বাচনের আলহাজ্ব সিরাজুল হক মঞ্জুকে নৌকার মাঝি নির্বাচিত করায় শার্শা উপজেলা আওয়ামীলীগ ও সাধারন নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে আওয়ামীলীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান।

ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবি’র অধিনায়ককে নওগাঁয় বদলি

ঠাকুরগাঁও ৫০ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তুহিন মো. মাসুদকে বদলি করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে বদলির সত্যতা স্বীকার করেছেন তিনি।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল তুহিন মো. মাসুদ জানান, তাকে নওগাঁ ১৬ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নে বদলি করা হয়েছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার বহরমপুর এলাকায় গরু জব্দ করাকে কেন্দ্র করে বিজিবির গুলিতে ৩ গ্রামবাসী নিহত ও গুলিবিদ্ধ হয় আরও ১৫ জন। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার বিজিবির অধিনায়কসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে ৩টি মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৫০ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তুহিন মো. মাসুদকে বদলি করা হতে পারে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।

এ বিষয়ে বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, কাউকে প্রত্যাহার বা বদলির বিষয়টি বাহিনীর অভ্যন্তরীণ বিষয়।

এ ব্যাপারে গণমাধ্যমের কাছে কিছু বলার নেই।

সুন্দরগঞ্জে জোড়া খুনের আসামী পক্ষের হামলায় আহত ৩

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামডাঙ্গা বন্দরে চাঞ্চল্যকর পিতা-পুত্র খুনের মামলার আসামী পক্ষের হামলায় আহত হয়েছেন বাদীসহ ৩ জন। শুক্রবার সন্ধ্যায় বানডাঙ্গাস্থ শিববাড়ি মোড় নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মনমথ (রায়পাড়া) গ্রামের মৃত প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের পুত্র চন্দন কুমার রায় রংপুর থেকে সুন্দরগঞ্জগামী থেকে উক্ত স্থানে নামলে আসামী শশী চন্দ্র রায় ও তার লোকজন অতর্কিত হামলা চালায়। এতে চন্দন কুমার রায় ও সুজন কুমার রায় আহত হয়। তাদেরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান স্থানীয়রা। মামলাটি তুলে না নেয়ায় এরআগে বাদীকেও একইভাবে হামলা চালায় আসামীপক্ষ।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যায় বামনডাঙ্গা বন্দরে চন্দনের পিতা প্রফুল্ল চন্দ্র রায় ও ভাই পরিমল চন্দ্র রায়কে নৃশংসভাবে খুন করে শশী চন্দ্র রায়। এ ঘটনায় প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের পুত্র বিপুল চন্দ্র রায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় জামিনে মুক্তি পেয়ে আসামী শশী চন্দ্র ও তার লোকজন প্রতিনিয়তই মামলা তুলে নেয়ার জন্য বাদী পরিবারে হামলা চালায়। এরই একপর্যায়ে নিহত পরিমলের স্ত্রী নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবে তার পিতার বাড়ি রংপুরে অবস্থান করছেন। মামলার বাদী বিপুল চন্দ্র রায় বলেন, জোড়া খুনের ঘটনায় ৬ জনকে আসামী করে থানায় এজাহার দাখিল করি। দীর্ঘ তদন্ত শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তৎকালিন সুন্দরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ হাবিবুর রহমান (বর্তমানে র‌্যাব-১৩, গাইবান্ধা ক্যাম্পের উইং কমান্ডর, এএসপি) আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। আহত চন্দন কুমার রায় ও তার শ্যালক সুজন কুমার রায়ের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ।

এ ব্যাপারে থানা অফিসার ইনচার্জ এসএম আব্দুস সোবহান জানান, বিষয়টি এখনও কেউ জানায়নি। অভিযোগ আসলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শার্শা উপজেলা,ট্রাক,ট্র্যাংকলরী,কভার্ড ভ্যান, ট্র্যাক্টর শ্রমিক ইউনিয়নের নব্য কমিটি গঠন

শার্শা উপজেলা ট্রাক,ট্র্যাংকলরী,কভার্ডভ্যান, ট্যাক্টর শ্রমিক ইউনিয়নের ১১ সদস্য বিশিষ্ট কার্যকরী আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

২ ইং মার্চ যশোর – ১ (শার্শা )আসনের এমপি শেখ আফিল উদ্দিন শার্শা উপজেলা ট্রাক,ট্র্যাংকলরী,কভার্ডভ্যান, ট্রাক্টর শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি: নং-খুলনা-১৯) নামে ১১ সদস্য বিশিষ্ট এ আহবায়ক কমিটি অনুমোদন দেন। কমিটিতে সভাপতি পদে মনিরুজ্জামান ঘেনা, সেক্রেটারি পদে মোঃ শাহিনকে মনোনীত করা হয়। কমিটি’র অন্যান্য সদস্যদের নাম পরবর্তীতে ঘোষনা করা হবে।

শার্শা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মেহেদি হাসান, শার্শা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি অহিদুজ্জামান অহিদ, বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির সেক্রেটারি আজিম গাজিকে শার্শা উপজেলা ট্রাক,ট্র্যাংকলরী,কভার্ডভ্যান, ট্যাক্টর শ্রমিক ইউনিয়নের নব্য আহŸায়ক কমিটির ৩ সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা মন্ডলী নাম ঘোষনা করা হয়।

এসময় নব্য গঠিত শ্রমিকদের উদ্দেশ্য শেখ আফিল উদ্দিন এমপি দিক নির্দেশনা বক্তব্য প্রদান করেন। আরও বক্তব্য প্রদান করেন শার্শা উপজেলা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী আলহাজ্ব নুরুজজামান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ ইব্রাহিম খলিল,যশোর জেলা শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আসিফ উদ-দৌলা অলোক সরদার, বেনাপোল ইউপি চেয়ারম্যান বজলুর রহমান,সীমান্ত বাস মালিক সমিতির যশোর জেলার যুগ্ম আহবায়ক সাজেদুর রহমান সুমন,ট্রাক, ট্র্যাংকলরীর নাভারন শাখার কবির হোসেন, শার্শা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুর রহিম সরদার, ইকবাল হোসেন রাসেলসহ প্রমুখ।

সবশেষে নব্য গঠিত কমিটি ও সাধারন শ্রমিকেরা বেনাপোল বাজার থেকে চেকপোষ্ট পর্যন্ত আনন্দ র‌্যালি বের করে।

ভাইরাস জনিত কারণ নয়: দেব-দেবতার পুজা করতেন আবু তাহের।

অজ্ঞাতরোগে আক্রান্তরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠেছে। আর কেউ এই রোগে আক্রান্ত হয়নি। ভয়-শংকা দূর হয়েছে গ্রামবাসীর । চাঞ্চল্য হয়ে উঠেছে মানুষ। খুলেছে এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। গ্রামবাসীদের বিশ্বাস ঘটনাটি কোনো ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া জনিত কারণ নয়।অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী হতে তন্ত্র-মন্ত্র সাধন করতেন আবু তাহের। পূজায় সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার কারণে প্রথমে তাঁর মৃত্যু এবং পরে তাঁর পরিবারের লোকজন মারা গেছেন বলে এই ধারনা এলাকার মানুষের। তবে এর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ শুরু করছে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা।

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ধনতলা ইউনিয়নের ভান্ডারদহ মরিচপাড়া গ্রামে মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে অজ্ঞাতরোগে একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু হয়। আক্রান্ত হন ওই পরিবারের ২ সদস্য সহ পাঁচজন। এই ঘটনায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে জনমনে ।

মৃত্যু বরণ করা ৫৫ কিংবা ৫৭ বছর বয়সী আবু তাহের দুই ছেলে একই দিন মৃত্যুর ঘটনায় আরও আতংক ছড়িয়ে পড়ে মরিচপাড়াসহ আশপাশের দশ গ্রামে। অসুস্থ হয়ে পড়া আবু তাহের পুত্র বধু কোহিনুর(২০), নাতী আবির(২) ও প্রতিবেশী পসিরুলের স্ত্রী সালমা বেগম (৩২)। কোহিনুর ও তার কোলের বাচ্চা আবির কে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রংপুরে চিকিৎসা নিয়েছেন কোহিনুরের বাবা রবিউল ও মা হালিমা খাতুন। তারা সবাই সুস্থ ।

নিবিড় পরিচর্যা ও পর্যবেক্ষণ শেষে চিকিৎসকরা বলেছেন, কোহিনুর ও তার কোলের বাচ্চা আবিরসহ অন্যরা এখন পুরোপুরি সুস্থ । এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঠাকুরগাঁও ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. শাহজাহান নেওয়াজ।

কোহিনুর আবু তাহেরের বড় ছেলে স্কুল শিক্ষক ইউসুফ আলীর স্ত্রী। গত২৪ ফেব্রুয়ারি ইউসুফ ও তার ছোট ভাই বই ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান একই দিন মারা যান। আর এর আগে ২১ ফেব্রুয়ারি তাহেরের মেয়ের জামাতা হাবিবুর রহমান বাবলু (৩৪) ও স্ত্রী হোসনে আরা (৪৬) এই রোগে মারা যান। গত ৯ ফেব্রুয়ারি মারা যান আবু তাহের।

মরিচ পাড়া গ্রামের সালমা এখন সুস্থ। পাড়া-মহল্লায় হৈ হুল্লুর করে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি ।সংসারের কাজ-কর্ম করে সময় পার করছেন এই দুই সন্তানের জননী সালমা। তিনি বলেন প্রতিবেশীদের মৃত্যুতে আমি ভীষন অসুস্থ হয়ে পড়ি। শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। এরপর কিছু বলতে পারিনা। সালমার শ্বাশুড়ী বলেন কালির থানে গিয়ে ১ জোড়া কবুতুর দিবো এই বলে মানত করি। এরপর কবিরাজ-মাহাত এনে ঝাড়ফুঁক ও দোয়া তাবিজ করে সালমাকে সুস্থ করা হয়। সালমাও বলেন আমি ভালো হয়েছি কবিরাজী করে।

মৃত হুসনে আরার ভাইয়ের ছেলে আখতারুল ইসলাম বলেন, যদি ভাইরাসে একই পরিবারের ৫জনের মৃত্যু হয়। তাহলে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ায় আমি কেন আক্রান্ত হলাম না ? তিনি বলেন, আমি মৃতদের গোছল করিয়েছি। দাফন কাজে ছিলাম। আরও যারা ছিল তারা তো সবাই সুস্থ। ভাইরাস নয়, এটি নিছক গুজব! তবে এই মৃত্যুর রহস্য তো আছে এমন দাবি করেন আখতারুলসহ গ্রামের অনেকে।

আবু তাহের পেশায় ছিলেন চাল ব্যবসায়ী। পরে কৃষি কাজে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এর ফাঁকে তন্ত্র-মন্ত্র ও যাদু বিদ্যা-কবিরাজীতে মনোযোগ দেন এই চাল ব্যবসায়ী। আবু তাহের তার বড় ছেলে ইউসুফের সঙ্গে এনিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। এই দু:খে বাড়ি ছাড়েন তিনি। লাহিড়ী হাট এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন তাহের। তার সঙ্গে থাকতেন ছোট ছেলে মেহেদী ও স্ত্রী হুসনে আরা। লাহিড়ীতে থেকে তিনি অসুস্থ হন।পরে রংপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তার(তাহেরের) মৃত্যু হয়।

গ্রামের আফরোজা বেগম বলেন, আবু তাহের মৃত্যুর আগে পরিবারের সবাই কে বলেছিলেন। তার মৃত্যুর পর বাড়িতে গরু মাংস দিয়ে মিলাদ-মাহফিল না করতে। এটা না মানায় বেসহুরীর অবতার ঘটায় একই পরিবারের ৫জনের মৃত্যু হয়েছে। কেউ বলছেন, ইউসুফের শ্বশুর রবিউলের সঙ্গে এই পরিবারের দন্দ ছিল। তার জের ধরে এই ঘটনা ঘটল কিনা তা’ খতিয়ে দেখতে দাবি উঠেছে।

এ প্রসঙ্গে বালিয়াডাঙ্গী থানা ওসি মোসাবেবরুল ইসলাম বলেন মৃত পরিবারের রেখে যাওয়া সম্পতি থেকে স্বামী হারা কোহিনুর ও শিশু আবিরকে বঞ্চিত করতে এ ধরণের প্রশ্ন তুলছে নিকট আত্মীয়রা ।

লাহিড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাসুদ করিম বলেন তাহেরের ছেলে ইউসুফ তার ছাত্রী কোহিনুর বিয়ে করেছিলেন। এ নিয়ে পরিবারের মধ্যে মনোমালিন্য দেখা দেয়। শেফালি বেগম বলেন, আবু তাহেরের মরদেহ গোছল করার সময় গ্রামবাসীরা বাড়ির আঙ্গিনায় সাপ দেখতে পান। এটিকে অনেকে দেবতা মনে করছেন। কেউ বলছেন আবু তাহের তার বাড়ির একটি কক্ষ সব সময় তালা বন্ধ করে রাখতেন। এ কক্ষে তিনি তন্ত্রমন্ত্র আয়ত্ব করতেন। পরে তিনি কক্ষে তালা দিয়ে রাখতেন। তার মৃত্যুর পর মেয়ে জামাই হাবিবুর তালা খুলে ওই কক্ষে ঢুকতে গেল একটি কাল বিড়াল দেখতে পান। এতে ভয় পান হাবিবুর। এর পর তিনি অসুস্থ হন এবং একদিন পর মারা যান।

এই খবর শোনে তার শ্বাশুড়ী হুসনে আরার আকস্মিক মৃত্যু হয়। এ ভাবে আতংক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায় জানান স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সমর কুমার চ্যার্টাজী। এই জনপ্রতিনিধি বলেন মৃত আবু তাহের অনেক দিন আগে ঠাকুরগাঁও শহরের বড়মাঠে সাপ খেলা দেখেছিলেন। এই থেকে তন্ত্রমন্ত্রের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি।

অজ্ঞাতরোগে ঠাকুরগাওঁয়ে এক পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনায় সেখানে কাজ শুরু করেছে জাতীয় রোগতত্ত্ব রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। প্রতিষ্ঠানটির গবেষক দলের টিম লিডার প্রধান ডা. মো. গাজী শাহ আলম সাংবাদিকদের বলেছেন, তত্ব ও উপাত্ত এবং নমুনা সংগ্রহ শেষে পরীক্ষা নিরীক্ষা পর এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে এটি আসলে কি? ১৫ দিনের ব্যবধানে অজ্ঞাত রোগে একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনা নজরে আসে আইইডিসিআরের। তারা এরমধ্যেই সেখানে তাদের পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত দলকে পাঠায়।

বধুবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ঠাকুরগাঁওয়ের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা.শাহজাহান নেওয়াজ বলেন, রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পাঁচ সদস্যের তদন্ত টিমের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করেছেন। রাজশাহী থেকে আরেকটি মেডিকেল টিম একই উদ্দেশ্যে ঠাকুরগাঁওয়ে আসছে। দুটি মেডিকেল টিমই ঠাকুরগাঁওয়ে তিনদিন অবস্থান করবে। তাদের সংগৃহিত নমুনা ঢাকায় পরীক্ষার জন্য পাঠানোর পর জানা যাবে প্রকৃত ঘটনা ।

এর আগে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক কে.এম কামরুজ্জামান সেলিম, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাসুদুর রহমান মাসুদ, বালিয়াডাঙ্গী থানা ওসি মোসাব্বেরুল ইসলাম সহ প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের পদস্থ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল ঘুরে আসেন ।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাসুদুর রহমান মাসুদ বলেন মরিচপাড়া গ্রামের মানুষের ভয় কেটেছে । শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস শুরু হয়েছে। আর কেউ আক্রান্ত হয়নি। মেডিক্যাল রির্পোট হাতে এলে জানা যাবে প্রকৃত ঘটনা বলে জানান উপজেলা প্রশাসনের এই কর্মকর্তা।

যশোরের বেনাপোলে ১০ লাখ হুন্ডির টাকাসহ আটক-২

যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের বেনাপোল ক্যাম্পের সদস্যরা আমড়াখালী নামক স্থানে অভিযান চালিয়ে ১০লাখ হুন্ডির টাকা সহ আঃ রশিদ (২৬)ও মিনার বিশ্বাস (২৩)নামে ২ হুন্ডি পাচারকারীকে আটক করেছে।

আটক রশিদ বেনাপোল পোর্ট থানার ছোট আচড়া গ্রামের আফসার আলীর ছেলে ও মিনার বিশ্বাস বেনাপোল পোর্ট থানার বাহাদুরপুর গ্রামের আলাউদ্দিন এর ছেলে। শুক্রবার (০১ মার্চ ) দুপুর ২ টার দিকে আমড়াখালী থেকে তাকে আটক করা হয়।

যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে, কর্নেল সেলিম রেজা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি দুইজন হুন্ডি পাচারকারী বিপুল পরিমাণ হুন্ডির টাকা নিয়ে বেনাপোল থেকে একটি ছোট ট্রাকে করে যশোরের দিকে যাচ্ছে ।এমন সংবাদের ভিত্তিতে আমড়াখালী চেকপোষ্টের কমান্ডার নায়েব সুবেদার আব্দুল মালেক সেখানে অভিযান চালিয়ে দুই হুন্ডি পাচারকারী ও ট্রাক আটক করেন।

তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে বেনাপোল পোর্ট থানায় সোপর্দ করা হয়েছে ।

সুন্দরগঞ্জে বামনডাঙ্গা মানব কল্যাণ সংস্থার কার্যালয় শুভ উদ্বোধন।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গায় বামডাঙ্গা মানব কল্যাণ সংস্থার অফিস উদ্বোধন করেছেন, বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এম এ আউয়াল কবীর।

শুক্রবার (১লা মার্চ) বাদ আসর বামনডাঙ্গা মানব কল্যাণ সংস্থার সভাপতি, শরিফুল ইসলাম লিটনের সভাপতিত্বে,প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, সদস্য জেলা পরিষদ গাইবান্ধা, এমদাদুল হক নাদিম,বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বামনডাঙ্গা শিশু নিকেতন এন্ড মডেল হাই স্কুলের সত্ত্বাধিকারী ও প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আবুল কাশেম।
অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন,বামডাঙ্গা ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক স্বপন রাম রায়,বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, বামনডাঙ্গা মানব কল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক শ্রী বাপ্পী রাম রায় (ক্যাপ্টেন), বামনডাঙ্গা মানব কল্যাণ সংস্থার সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক,বামনডাঙ্গা মানব কল্যাণ সংস্থার সহ সভাপতি সজিব ইসলাম,

এছাড়াও অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, বামনডাঙ্গা মানব কল্যাণ সংস্থার কার্যকারী সদস্য মাজহারুল ইসলাম মিঠু, রায়হানুল কবীর রনি,আপেল,লাবিব প্রমুখ।

ভারতে পাচার দুই কিশোরকে যশোরের বেনাপোলে হস্তান্তর

মোঃ রাসেল ইসলাম,বেনাপোল(যশোর)প্রতিনিধি: ভালো কাজের প্রলোভনে ভারতে পাচার হওয়া বাংলাদেশি দুই কিশোরকে স্বদেশ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় ফেরত পাঠিয়েছে ভারত সরকার।

শুক্রবার(০১/০৩/১৯ইং) তারিখ বিকাল ৪ টায় ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরবর্তীতে কাগজ পত্রের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বেনাপোল পোর্ট থানা থেকে বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবি সমিতি তাদের গ্রহন করছে পরিবারের কাছে পৌছে দেওয়ার জন্য।

ফেরত আসা কিশোরেরা হলো, সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মনিখালী গ্রামের কিরণ মন্ডলের ছেলে সুজয় মন্ডল(১৫) ও চানখালী গ্রামের বিমলের ছেলে মিলন(১৬)।

জানা যায়, সংসারে অভাব অনটনের কারনে গত ২ বছর আগে ভালো কাজের আশায় দালালের খপ্পড়ে পড়ে সীমান্ত পথে এরা ভারতে যায়। এসময় অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ভারতীয় পুলিশ তাদের আটক করে। সেখান থেকে ধ্রব আশ্রম নামে ভারতের একটি এনজিও সংস্থা তাদের জেল থেকে ছাড়িয়ে নিজেদের শেল্টার হোমে রাখে। পরবর্তীতে দু’দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সাথে যোগাযোগ করে স্বদেশ প্রত্যাবাসন আইনে এদের স্বদেশ ফেরার ব্যবস্থা করা হয়।

বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবি সমিতির যশোর অফিসের আইনজীবি নাসিমা আক্তার কিশোরদের ফেরত আসার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পাচারের শিকার কিশোরদের পরিবার যদি পাচারকারীদের সনাক্ত করে মামলা করতে চাই তাহলে তাদের আইনি সহয়তা করবেন বলেও জানান এই আইনজীবি।

একুশে পদকপ্রাপ্ত পলান সরকারের মৃত্যুতে রাসিক মেয়র লিটনের শোক প্রকাশ

একুশে পদকপ্রাপ্ত পলান সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের সুযোগ্য সন্তান, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য ও মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। শুক্রবার এক শোক বার্তায় তাঁর শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন মেয়র।

শোক বার্তায় মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, পলান সরকার অত্যন্ত সাদা মনের মানুষ ছিলেন। গ্রামে গ্রামে বই বিলি করে বইপড়া আন্দোলন গড়ে তুলেছেন। তিনি যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেলেন তা চিরকাল স্মরনীয় হয়ে থাকবে।

সর্বশেষ আপডেট...