সাভার প্রতিনিধি : পেছনে পতপত করে উড়ছে পতাকা। ঠিক সামনেই মুষ্টিবদ্ধ ঊর্ধ মুখী হাত। যেনো দৃপ্ত শপথ নিচ্ছে স্বাধীনতা সংগ্রামের। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফারজানা আলমের ক্যানভাসের চিত্র এটি। মহান স্বাধীনতা দিবসে শহীদদের স্মরণ ও তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে রঙ-তুলিসহ সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে এসেছেন তিনি।
সৌধের পাশের লেক পাড়ে গাছের ছায়ায় আপন মনে আঁকছিলেন তার মতো দেশের নানা বিশ্বিবদ্যালয় থেকে আসা আরো ২০ শিক্ষার্থী।
আয়োজকরা জানান, স্বাধীনতা দিবসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে আর্ট ক্যাম্পের আয়োজন করেছে শিল্পকলা একাডেমি।
২৬ মার্চ সকাল ৯টা থেকে স্মৃতসৌধ এলাকায় উন্মুক্ত স্থানে এই কর্মসূচিতে অংশ নেয় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্রশিল্পীরা। প্রতিযোগিতা চলবে বিকেল ৩টা পর্যন্ত।
জগন্নাথ বিশ্বিবদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী ফারজানা আলম বলেন, আজকে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত আমরা এখানে ছবি আঁকছি। স্বাধীনতা দিবস বিষয়বস্তু নিয়ে যার যার মতো করে আঁকছি আমরা। জাতীয় স্মৃতিসৌধের সামনে প্রাকৃতিক পরিবেশে ছবি আঁকতে পেরে ভীষণ ভালো লাগছে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিরা মনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুর অবদানকে ছবির মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করছি। এধরণে আয়োজনে অংশ নিতে পেরে খুব ভালো লাগছে।
আয়োজক শিল্পকলা একাডেমির গ্যালারি সুপারভাইজার এসএম মিজানুর রহমান বলেন, ‘শিল্পকলার মাধ্যমে আমরা প্রতিযোগীদের সিলেক্ট করি। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশজন প্রতিযোগী আজ এই আর্ট ক্যাম্পে অংশ নিয়েছন। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতায় এসেছেন। বিকেল পর্যন্ত চলবে আর্ট প্রতিযোগিতা। স্বাধীনতা দিবসকে বিষয়বস্তু নির্বাচন করা হয়েছে। এই প্রাকৃতিক পরিবেশে ছবি আঁকতে পেরে শিল্পীরা আনন্দিত। বিষয়বস্তুর কাছে থেকে ছবি আঁকা শিল্পীদের জন্য অনেক আনন্দের। কারণ বেশিরভাগ সময়ই শিল্পীদের ইনডোরে ছবি আঁকতে হয়। আজকে শিল্পীদের আঁকা ছবি গুলো আমরা শিল্প একাডেমিতে সংরক্ষণ করা হবে।’
কালিয়াকৈর(গাজীপুর)প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হয়েছে ।
শনিবার (২৬ শে মার্চ) সুর্যোদয়ের সাথে সাথে একত্রিশ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের শুভ সূচনা করা হয় ।
বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ও স্মতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুস্পস্তবক অর্পন করা হয়।
উপজেলার গোলাম নবী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে আনুষ্ঠানিক ভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন কুজকাওয়াজ ও ডিসপ্লে প্রদর্শন করা হয়।
শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও মুক্তিযোদ্ধার সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। সর্বশেষে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, অলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন শিকদার,পৌর মেয়র মজিবুর রহমান, সহকারী কমিশনার (ভূমি)মোঃ জামাল হোসেন ,ওসি মোঃ আকবর আলী খান ,উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সেলিম আজাদ,উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপিকা জায়েদা নাসরিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ সাহাব উদ্দিন আহসান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ নাছির উদ্দিন প্রমূখ ।
সিংগাইর উপজেলা বিএনপি’র পক্ষ থেকে জানানো হয়, শনিবার সকালে সিংগাইরে অস্থায়ী বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে সকাল ৮টা ৩০ মিনিটের দিকে ২৬ শে মার্চ উপলক্ষে একটি র্যালি বের করার সময় চৌরাস্তার মোড়ে আসতে না আসতেই হঠাৎ করে অতর্কিত হামলা চালায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ।
এতে অন্তত ৩০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে বলে দাবি বিএনপি নেতাকর্মীদের । আহতদের মধ্যে জামির্তা ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক মিজানুর রহমান বর্তমানে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, এছাড়াও ছাত্রদলের রাকিব, সোহাগ, সহ আরো অনেকেই ।
এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুর রহমান শহিদ (ভিপি-শহিদ) জানান, প্রতিবছরের ন্যায় এবারও আমারা ২৬শে মার্চ উপলক্ষে একটি র্যালি প্রস্তুতি নেওয়ার সময় হঠাৎ করেই বিএনপি’র মিছিল থেকে আমাদের মিছিলে ইটপাটকেল ও ঢিল ছোড়ালে এমন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে ।
তবে আওয়ামী অঙ্গসংগঠনের কেউ আহত হয়নি বলে জানান এই নেতা ।
স্টাফ রিপোর্টারঃ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট ও মন্তব্য করায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে মোস্তাফিজুর রহমান খান মুকুল(৩৫) নামের এক ভূয়া সাংবাদিক কে গ্রেফতার করেছে সিংগাইর থানা পুলিশ ।
সিংগাইর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক ভোরের কাগজ প্রতিনিধি মাসুম বাদশাহ’র দায়ের করা মামলায় বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) দিবাগত ১০ টা ২৫ মিনিটে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেন।
মোস্তাফিজুর রহমান খান মুকুল দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন অপকর্ম ও চাঁদাবাজি করে উপজেলার সর্বত্র দাপিয়ে বেড়িয়ে আসছিল। তার বিরুদ্ধে সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও নিরাপরাধ মানুষকে জিম্মি করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। চাহিদা মোতাবেক টাকা না দিলে সমাজের নিরাপরাধ ও সম্মানিত মানুষের বিরুদ্ধে অপমানজনক , আপত্তিকর মন্তব্য প্রচারণা চালানো হতো। মিথ্যা ও মানহানিকর সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় মোটা অংকের টাকা। প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের সাথে সখ্যতা থাকায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেও প্রতিকার পেতনা ভূক্তভোগীরা।
গ্রেফতারকৃত মুকুল ধল্লা ইউনিয়নের ফোর্ডনগর খানপাড়া গ্রামের মৃত জামান মাদবরের পুত্র। সে নিজেকে আইপি টিভির প্রতিনিধি ও নিবন্ধনবিহীন নাম সর্বস্ব অনলাইন পোর্টাল সত্য প্রকাশের পরিচয় দিয়ে এলাকায় বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছিল। তবে ওই আইপি টিভির পরিচালক সময়ের খবর ২৪ কে জানায়, মুকুল নামের কেউ তাদের প্রতিনিধি নেই।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সাংবাদিক মাসুম বাদশাহ’র বিরুদ্ধে তার ফেসবুক আইডি “মো. মোস্তাফিজুর রহমান খান মুকুল ” থেকে বিভিন্ন সময় অপমানজনক , আপত্তিকর ও ছবি বিকৃিত করে মিথ্যা-বানোয়াট প্রচারণা চালিয়ে আসছিল।
একই পোস্ট তার নিবন্ধনবিহীন সত্য প্রকাশেও শেয়ার করেন এউ মুকুল । এতে মাসুম বাদশাহ’র সামাজিক মর্যাদা ক্ষুন্ন হলে, তিনি থানায় মামলা দায়ের করেন। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক উপজেলার ফোর্ডনগর গ্রামের জনৈক রনির কাছ থেকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে ৬০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে এই মুকুলের বিরুদ্ধে । ভূক্তভোগী রনি পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেও কোন এক অলৌকিক শক্তিতে প্রতিকার পাচ্ছেন না বলেও জানান সময় খবর ২৪ কে। এদিকে, সাংবাদিক নামধারী মুকুল গ্রেফতারের খবরে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও তার শাস্তির দাবীতে ঝড় ওঠেছে। মামলার বাদী ও থানা পুলিশকে হয়রানির শিকার অসংখ্য ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন সাধুবাদ। গ্রেফতাকৃত মুকুল ইতিপূর্বে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৫৭ ধারার মামলায় হাজত বাস করেছে। বর্তমানে মামলাটি সাইবার ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে ।
ধল্লা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম ভূইয়া বলেন, মুকুলের নিজস্ব কোন পেশা নেই। সাংবাদিক পরিচয়ে বিভিন্ন সময় ফেসবুকে নেতিবাচক পোস্ট দিয়ে লোকজনকে জিম্মি করে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিয়ে আসছিল । তাকে গ্রেফতার করায় থানা-পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ধল্লা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান।
এ ব্যাপারে সিংগাইর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ আবু হানিফ বলেন, গ্রেফতারকৃত মুকুলের কাছ থেকে তাহার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন টি জব্দ করে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাত ১০ টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। শাহিনের ঝুটের গুদাম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে ইয়াকুবের ভাঙ্গারীর দোকান ও আশপাশের আরও ৫ টি দোকানে ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা আগুন নেভাতে ব্যর্থ হয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়। খবর পেয়ে কালিয়াকৈর, সাভার ইপিজেডের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।আশপাশের গাড়ির গ্যারেজ, মোবাইলের দোকান, জুতার দোকানে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে।
কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে তিনটি ইউনিট কাজ করছে। তবে আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা যায়নি।
হুমায়ুন কবির, রাণীশংকৈল, (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ সারা দেশের ন্যায় যথাযোগ্য মর্যাদায় রাণীশংকৈল উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস ২০২২ খ্রিঃ পালন করা হয়।
এ উপলক্ষে এদিন সন্ধ্যা ৭ টায় উপজেলা চত্বরে বঙ্গবন্ধুর ম্যূরালে মোমবাতি প্রজ্বলন করে শহীদের সম্মান জানানো হয়। এবং ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
পরে উপজেলা হলরুমে ইউএনও সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবির স্টিভের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সহকারি কমিশনার (ভূমি) ইন্দ্রজিৎ সাহা।
সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য দেন উপজেলা পরিষদের ভাইসচেয়াম্যান শেফালি বেগম।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুস সামাদ, থানা অফিসার ইনচার্জ জাহিদ ইকবাল, সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুর রহিম, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রাহিমউদ্দিন,পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম নেজামুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক, প্রেসক্লব (পুরাতনের) আহবায়ক কুসমত আলী, প্রেসক্লাব সভাপতি ফারুক হোসেন প্রমুখ।
এছাড়াও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক- সামাজিক ব্যাক্তিবর্গ, শিক্ষক, ও গণমাধ্যমকর্মিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপ- সহকারি কৃষি অফিসার সাদেকুল ইসলাম। অপরদিকে রাণীশংকৈল উপজেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে আ’লীগ সভাপতি অধ্যক্ষ সইদুল হক ও সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দিন আহম্মেদের নের্তৃত্বে দলীয় কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ও চৌরাস্তা মোড়ে মোমবাতি প্রজ্বলন এবং আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
কালিয়াকৈর(গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অটোরিকশা চালককে জবাই করে হত্যার ঘটনায় ৫ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) দুপুরে হত্যা মামলা দিয়ে ৫ আসামিদের গাজীপুর জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
নিহত অটোরিকশা চালক হলেন- সিরাজগঞ্জের বেলকুচি থানার দুলদিয়ার এলাকার কাঙ্গাল প্রামানিকের ছেলে মনিরুল ইসলাম (২৩)।
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে হাত-পা ও মুখ বেঁধে এক অটোরিকশা চালককে জবাই করে হত্যা করেছিল দুর্বৃত্তরা। পরে তারা নিহতের লাশ একটি নির্জন স্থানে ফেলে রেখে অটোরিকশা ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। অটোরিকশা চালক মনিরুল জীবিকার সন্ধানে তার পরিবারের লোকজন নিয়ে গাজীপুরে আসেন।
তিনি কোনাবাড়ি থানার আমবাগ এলাকার রমজানের বাড়িতে ভাড়া থেকে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। তার ৩ বছরের মনিরা আক্তার ও ১১ মাসের বৃষ্টি আক্তার নামে দুটি কন্যা সন্তান আছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) বিকাল ৪টার দিকে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন মনিরুল। এরপর তিনি আর বাড়ি ফিরে আসেনি। তার পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি করে। শুক্রবার বিকালে কালিয়াকৈর উপজেলার বরাবহ এলাকায় বনবিভাগের নির্জন স্থানে একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখেন এলাকাবাসী।
খবর পেয়ে পুলিশ ওইদিন রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা জবাই করা অবস্থায় নিহতের লাশ উদ্ধার করে। ওই খবর ছড়িয়ে পড়লে খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে মনিরুলের লাশ শনাক্ত করেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, তাকে হত্যার পর তার অটোরিকশা ছিনতাই করেছে দুর্বৃত্তরা।
পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এ ঘটনায় নিহতের বাবা কাঙ্গাল প্রামানিক বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে গাজীপুর পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় মৌচাক ফাঁড়ির ইনর্চাজ সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত মূলহোতা শান্ত, সুমন, শাহীন, লিপন, আলমকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
৫ জন আসামিদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা ও জবাই করা ছুরি জব্দ করা হয়।
কালিয়াকৈর থানার (মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ির) ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল আলম জানান, গাজীপুর পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় অটোরিকশা চালককে জবাই করে হত্যার ঘটনায় মূলহোতাসহ ৫ জন আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ছিনতাই হয়ে যাওয়া অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়েছে।
মোঃ সম্রাট আলাউদ্দিন, ধামরাই(ঢাকা)প্রতিনিধিঃ ঢাকার ধামরাইয়ে এক প্রবাসীর জমি ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দিয়ে জোর করে দখল নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে ফরহাদ হোসেনের বিরুদ্ধে।
এমন ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সোমভাগ ইউনিয়নের দেপাশাই গ্রামে। সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার সোমভাগ ইউনিয়নের পশ্চিম দেপাশাই গ্রামের মৃত হযরত আলীর ছেলে প্রবাসী মোঃ দেলোয়ার হোসেন (শুকুর) এর জমি দির্ঘদিন ধরে জোর পূর্বক দখল নেওয়ার চেষ্টা করে আসছিলেন ফরহাদ হোসেন ।
ফরহাদের বিরুদ্ধে জমি দখলের একাধিক অভিযোগ রয়েছে।তিনি এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব করে বেড়ায়। কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পায় না বলে জানা যায়। চিহ্নিত সন্ত্রাসী ফরহাদের বিরুদ্ধে ধামরাই থানায় একাধিকবার অভিযোগ করেও কোন কাজে আসেনি বলে জানিয়েছেন দেলোয়ার হোসেন (শুকুর)। এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে দেলোয়ারের পরিবারে। যেকোন সময় বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে ফরহাদ হোসেন।
একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে জানা যায়, দেপাশাই গ্রামের মাতব্বরদের নিয়ে গ্রামের মধ্যে এক বিচারে বসেন।সেখানে বিজ্ঞ দুই আইনজীবি দিয়ে কাগজ পত্র দেখানো হলে সেই বিচারেও ফরহাদ হোসেন কোন জমি পায়না বলে জানান আইনজীবিগণ। কিন্তু ফরহাদ হোসেন সাভার ধামরাইসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে সন্ত্রাসী ভাড়া করে দেপাশাই ও দত্তখোলা মৌজার ৮৫ শতাংশ জায়গা জোর করে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দখল নেওয়ার চেষ্টা করে ফরহাদ হোসেন ।
এরপর এলাকার লোকজন দৌড়িয়ে গেলে ভাড়া করা লোকজন নিয়ে সেখান থেকে সরে পরেন তিনি । এছাড়া একই গ্রামের বিধবা হনুফা বেগমের ১৩ শতাংশ জায়গা ৬ লক্ষ টাকা দাম ধরে নিয়ে পরে বিধবা হনুফা বেগমকে ৪ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দিয়ে বাকি টাকা নিজেই খেয়ে ফেলেন। এর পর দেপাশাই পূর্ব পাড়া সাইদুর রহমানের ৪০শতাংশ জায়গা অস্ত্র(পিস্তল) দেখিয়ে জোর করে দখল করার চেষ্টা করেন তিনি।
শুধু তাই নয়, দেপাশাই উত্তর পাড়া মহল্লায় ১২ বছরের একটি মেয়ে ধর্ষণ হয়। শামছুল হককে আসামী করে থানায় মামলা করেন। পরে সেই মামলা মিমাংসা করে দেওয়ার কথা বলে শামছুল হকের স্ত্রীর কাছে দুই লক্ষ টাকা দাবি করেন ফরহাদ । পরে মিমাংসার কথা বলে শামছুল হকের স্ত্রীর কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন তিনি। এই ভাবে নিজের প্রভাব খাটিয়ে মানুষের কাছ থেকে জোর করে জায়গা জমিসহ টাকা পয়সা নেওয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে ফরহাদের বিরুদ্ধে। সে এলাকার চিহ্নিত ত্রাস।তার সামনে অনেকেই কথা বলার সাহস করে না।পরে ক্ষতির ভয়ে।
ভুক্তভোগী দেলোয়ার হোসেন (শুকুর) বলেন, ফরহাদ আমার দেপাশাই ও দত্তখোলা মৌজার ৮৫ শতাংশ জায়গা বিভিন্নভাবে দখলের চেষ্টা করে আসছে। বিদেশে থাকার কারণে তিনি বিভিন্ন অজুহাতে জমি দখল নিতে চাচ্ছে। কিছু দিন পূর্বে ভাড়া করা সন্ত্রাসী দিয়ে জমি দখল করার চেষ্টা করছে। এই বিষয়ে আমি একাধিক বার থানায় জিডি ও অভিযোগ করেছি।কোন ফল হয়নি। এরপর আমাদের গ্রামে মাতব্বরদের নিয়ে গ্রামে সালিশি বসেছিলাম। কিন্তু ফরহাদ গ্রামের বিচার সে মানে নি এবং কোন প্রকার বৈধ কাগজ পত্র দেখাতে পারে নি ।
আরেক ভুক্তভোগী বিধবা হনুফা বেগম বলেন, আমার স্বামী মারা গেছে অনেক আগে। আমার কোন ছেলে সন্তান নেই, থাকার মধ্যে দুটি মেয়ে আছে তাদের ও বিয়ে হয়ে গেছে। আমি কোন রকমে সংসার চালাই। ফরহাদ আমার ১৩ শতাংশ জায়গা নিয়ে ৬ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ফরহাদ আমাকে ৪লক্ষ ২০ হাজার টাকা দিয়েছে। বাকি টাকা দেয় নাই। চাইতে গেলে সে নানাভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখায়।
পশ্চিম দেপাশাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক লোকমান হোসেনের কাছ থেকে জমি লিখে নিয়ে ৬০ হাজার টাকার একটি চেক দেন।পরদিন লোকমান হোসেনকে ব্যাংক চেক দেন। কিন্তু ব্যাংকে তার একাউন্টে কোন টাকা না থাকায় সে ধামরাই থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। আজও লোকমান হোসেনের টাকা পরিশোধ না করে তালবাহানা করে যাচ্ছে।
জানা যায়, ফরহাদ হোসেনের নামে জমি দখল ও অর্থ আত্মসাৎ এর কারণে বিভিন্ন সময়ে ধামরাই থানায় ৪ টি অভিযোগ, ৩ টি সাধারণ ডায়েরি ও কোর্টে রয়েছে একাধিক মামলা।
মঙ্গল আলী নামে এক কৃষক বলেন, আমি সাইদুর রহমানের ৪০ শতাংশ জায়গা পত্তন রেখে চাষ করি। কিন্তু ফরহাদ সেই জমি জোর করে দখল করতে আমাকে পিস্তল দেখিয়ে বলে জমি ছেড়ে না দিলে পিস্তল দিয়ে গুলি করে মেরে ফেলবে। তার ভয়ে এখন কিছুই বলা যায় না।
এই বিষয়ে চিহ্নিত সন্ত্রাসি ফরহাদ হোসেন এসব অস্বীকার করে বলেন, আমি আমার নিজের জমি চাষ করে খাই। আমি কারো জমি দখল করি নাই। তাছাড়া কোন সন্ত্রাসী দিয়ে জমি দখলও করি নাই । তার নিজস্ব বাহিনীর কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন আমার কোন বাহিনী নাই।
জমি দখলের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার নানার জমি আমার মা পেয়েছে সেই জমি বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করছি। এতে কার কি।
সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে আত্মসেবা ফাউন্ডেশন নামের একটি এনজিও গ্রাহকের প্রায় ২০ লাখ টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে।
এ খবরে সিঙ্গাইর পৌরসভার আজিমপুর এলাকার ওই এনজিওর কার্যালয়ে ভিড় করছেন প্রতারিত গ্রাহকেরা। গতকাল সোমবার দুপুরে প্রতিষ্ঠাটির অফিসে গেলে তালা ঝুলতে দেখা যায়।
জানা গেছে, প্রায় ১৫-২০ দিন আগে সিঙ্গাইর পৌর এলাকার আজিমপুরের আবুল হোসেনের দোতলা বাড়ি ভাড়া নেন অজ্ঞাত ৫-৭ জন যুবক। ওই বাড়িতে আত্মসেবা ফাউন্ডেশনের নামে একটি সাইনবোর্ড টানিয়ে ঋণদানের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে সঞ্চয় সংগ্রহ শুরু করেন। এনজিওটি ঋণগ্রহীতাদের খুঁজে ১০ শতাংশ হারে অগ্রিম সঞ্চয় সংগ্রহ করেন।
এনজিওটি পুরো উপজেলা থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা সংগ্রহ করেন। গতকাল সোমবার সকালে অফিস তালা দিয়ে পালিয়ে যান তাঁরা।
বাইমাইল এলাকার ভুক্তভোগী ইউসুফ খান বলেন, ‘আত্মসেবা ফাউন্ডেশনের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার ফয়সাল আহামেদ ১০ লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার কথা বলে ১ লাখ টাকা সঞ্চয় দাবি করেন। আমি তাঁকে ৮০ হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধ করি।
আগামী বুধবার আমাকে ঋণ দেওয়ার কথা। আজকে (সোমবার) ফয়সাল আহামেদের মোবাইল নম্বর বন্ধ পেয়ে অফিসে এসে দেখি অফিসও বন্ধ।’
নূরজাহান বেগম নামে আরেক গ্রাহক বলেন, ‘৫ লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার কথা বলে ছবি, আইডি কার্ড, একটি ফরম পূরণ করে নিয়ে যায়। সেই সঙ্গে অগ্রিম সঞ্চয় হিসেবে ৫০ হাজার টাকাও জমা দিই। এক সপ্তাহ পরে ঋণ দেওয়ার কথা ছিল।’
আবুল হোসেনের স্ত্রী বলেন, ‘মাসে ১০ হাজার টাকা ভাড়ার কথা বলে অন্য জেলার ৫-৭ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি আমাদের একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। আগামী মাসের ৫ তারিখে তাঁদের পরিচয়পত্র ও এনজিওর কাগজপত্র দেওয়ার কথা ছিল। তবে আজ (সোমবার) তাঁরা পালিয়ে গেছেন। ’
গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় এনজিওটির কার্যালয়ে গিয়ে তা তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। কয়েক কর্মকর্তার মোবাইল ফোন নম্বরে কল করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
সিঙ্গাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম মোল্লা বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সিঙ্গাইর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. ইমানুর রহমান বলেন, ‘আত্মসেবা ফাউন্ডেশন নামে আমাদের তালিকাভুক্ত কোনো এনজিও বা ঋণদানকারী সংস্থা নেই। এ ঘটনায় গ্রাহকেরা অভিযোগ করলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’