হুমায়ুন কবির, রাণীশংকৈল, (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এবং উপজেলা পরিষদ জাইকার অর্থায়নে মঙ্গলবার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেলে সপ্তাহব্যাপী প্রশিক্ষণ শেষে ২৫ জন নারীকে বিদায় ও সনদপত্র দেয়া হয়।
করোনাকালীন আর্থিক মন্দা উত্তরণে এ যুব মহিলাদের প্রশিক্ষণ দেন প্রশিক্ষক সাগরিকা চৌধুরী রুমা।
এ মময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবির স্টিভ, মহিলা ভাইসচেয়ারম্যান শেফালি বেগম,মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নিরঞ্জন কুমার জাইকার উপ প্রকৌশলী মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ।
শুভেচ্ছা বক্তব্যে ইউএনও বিদায়ী প্রশিক্ষণার্থীদের এ প্রশিক্ষণে অর্জিত কর্মকান্ড দিয়ে নিজেদের আর্থিক স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার পরামর্শ দেন।
ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ ঝালকাঠিতে ‘অভিযান-১০’ নামের লঞ্চে আগুন ক্যানটিন থেকে নয়, ইঞ্জিনের সিলিন্ডার বিস্ফোরণে হয়েছে বলে মনে করছেন নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য শাজাহান খান।
২৫/১২/২০২১ইং তারিখ শনিবার সকাল ১১টায় আগুনে পুড়ে যাওয়া লঞ্চ পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে সংবাদ গুলো আমরা দেখেছি, সেগুলো আমলে নিয়ে পর্যালোচনা করে এবং লঞ্চটি পরিদর্শনে কাজ করছে তদন্ত কমিটি।
নৌ মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির আহবায়ক যুগ্ম সচিব তোফায়েল হাসান বলেন, ‘যা কিছু দেখেছি, সবই প্রাথমিক তদন্ত। চূড়ান্ত ভাবে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না।
ওই সময় নৌমন্ত্রণালয়ের ৭ সদস্য ফায়ার সার্ভিসের ৫ সদস্য এবং জেলা প্রশাসনের ৫ সদস্যে ও তদন্ত কমিটির সদস্যরা লঞ্চটি পরিদর্শন করে।
ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটির প্রধান উপ পরিচালক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, লঞ্চের ছয়টি সিলিন্ডারের মধ্যে একটিতে বিস্ফোরণ হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে।
তবে ইঞ্জিন রুমের পাশের ক্যানটিনের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে পুরো লঞ্চে আগুন লেগেছে বলে জানিয়ে ছিলেন কেবিন বয় ইয়াসিন।
এ উপলক্ষে এদিন রাতে উপজেলার রাউত নগর আদিবাসি স্কুল মাঠে আদিবাসি নেতা সিংরাই স্বরেন মানিকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, পৌর মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান।
এছাড়াও প্যানেল মেয়র মতিউর রহমান, প্রেস ক্লাব সভাপতি মোবারক আলী, কাউন্সিলর রুহুল আমিন,ইউপি সদস্য শাহাজান আলীসহ প্রায় দুই শতাধিক আদিবাসি নারী- পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ চেয়েছেন শীতবস্ত্র, পেলেন সরকারি আশ্রায়ন প্রকল্পের ঘর। সরকারের বরাদ্দকৃত ঘর প্রদান করে নজির স্থাপন করলেন ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মাহবুবুর রহমান।
গণশুনানিতে অংশ নেয়া পঁচিশটি অসহায় ও ভূমিহীন পরিবারকে আনুষ্ঠানকিভাবে ঘরের চাবি তুলেন দেন তিনি।
অসহায় দরিদ্র পরিবারের মানুষেরা জেলা প্রশাসকের নিয়মিত গনশুনানিতে অংশ নিয়ে নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন।
তবে ব্যতিক্রম ছিল কয়েক দিন আগের গণশুনানি। শীত বাড়তে থাকায় হতদরিদ্র পরিবারগুলো গণশুনানিতে অংশ নিয়ে বস্ত্রের জন্য আহবান জানালে জেলা প্রশাসক নিজের আগ্রহে তাদের বাসস্থানের খবর জানতে চান। তাদের মধ্যে ভূমিহীন পরিবারদের আশ্রায়ন প্রকল্পের সরকারি ঘর বরাদ্দ দেয়ার কথা জানালে আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠেন তারা।
তাদের মধ্য থেকে তালিকা করে শুক্রবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকালে সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের কান্দরপাড়া গ্রামে আনুষ্ঠানিকভাবে ২৫ জন ভূমিহীন পরিবারকে আশ্রায়ন প্রকল্পের ঘরের চাবি তুলে দেন।
বসতভিটাবিহীন পরিবারগুলো ঘর বরাদ্দ পেয়ে বেশ খুশি। পরে প্রত্যেক পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র প্রদান করেন জেলা প্রশাসক।
ঘর পাওয়া পরিবারগুলো জানান, আমরা গণশুনানিতে অংশ নিয়ে শীতবস্ত্রের কথা জানালে ডিসি সাহেব আমাদের বাড়ি আছে কি না তার খোঁজ খবর নেন। যাদের ঘরবাড়ি নেই ভূমিহীন তাদের ঘর দেয়ার আশ্বাস দেয়ার পর আজ ঘরের চাবি তুলে দেন।
কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে উজ্জ্বল (২৬) নামের এক নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
এ সময় আহত হয়েছেন ইমান আলী নামে অপর একজন নির্মাণ শ্রমিক।
শনিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত উজ্জ্বল সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ থানার গোথিয়া গ্রামের আফজাল হোসেনের ছেলে। আহত ইমান আলী নিচিন্তপুর গ্রামের দিদার ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিশ্চিন্তপুর এলাকায় একটি বাসার নির্মাণ কাজ করছিলেন কয়েকজন শ্রমিক। এমন সময় অসতর্কভাবে একটি লোহার রড হাত থেকে পড়ে বিদ্যুতের তারের স্পর্শে আসে। এতে বিদুৎস্পৃষ্টে ঝঁলসে উজ্জ্বল নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়।
আহত হয় আরো একজন শ্রমিক। পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে এসে নিহতের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে নিহতের লাশ উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেন। এর পূর্বে এলাকাবাসী আহত ইমানকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় হাসপাতালে পাঠায়।
মৌচাক ফাঁড়ির ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের লাশ উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে বরগুনা গামী এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনায় বিকাল ৪ টা পর্যন্ত ৪১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় দগ্ধ শতাধিক ও নিখোঁজ রয়েছেন ৪৬জন। ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৬জন,বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৬২জন,ঢাকা পাঠানো হয়েছে ৮জন। তবে এখন পর্যন্ত হতাহতদের নাম-পরিচয় পাওয়া জানাযায়নি।
২৪/১২/২০২১ইং তারিখ শুক্রবার রাত ৩টার দিকে সুগন্ধা নদীর দিয়াকুল নামক এলাকায় ঢাকা থেকে বরগুনা গামী লঞ্চটিতে আগুন লাগে। এক সূত্রে জানা যায়, লঞ্চটির ইঞ্জিন কক্ষ থেকে আগুনের সূত্র পাত হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এ খবর পেয়ে বরিশাল, পিরোজপুর, বরগুনা ও ঝালকাঠির কোস্ট গার্ডসহ ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট উদ্ধার কাজ করছেন।
বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক কামাল হোসেন ভূঁইয়া এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
খবর পেয়ে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বিকাল তিনটায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জন প্রতি নিহত পরিবারকে দেড়লাখ টাকা ও দাফনের জন্য ২৫ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষনা দেন। এবং অগ্নিদগ্ধদের চিকিৎসার সকল ব্যায় সরকার বহন করবে বলে প্রতিমন্ত্রী জানান।
এসময় অগ্নিকান্ডের ঘটনায় নৌপরিবহন মন্ত্রনালয়ের যুগ্ম সচিবকে প্রধান করে ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি কে আগামী ৩ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান ।
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী আরো বলেন, তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর অগ্নিকান্ডের প্রকৃত কারন উদঘাটনের পর র্দূঘটনার জন্য দায়ীকে বা কারো দায়িত্বে অবহেলা থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে জেলা প্রশাসক মোঃ জোহর আলী জানায়, দূর্ঘটনার কারন অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা প্রসাশক কে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্তটিম গঠন করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত লাশ স্বজনদের শনাক্তের জন্য পৌর মিনিপার্কে রাখার পর এ পর্যন্ত ৬ জনকে শনাক্ত করেছে।
হাজার খানেক যাত্রী নিয়ে লঞ্চটি ঢাকা থেকে বরগুনা যাচ্ছিল। ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে থাকা অবস্থায় লঞ্চটিতে আগুন লাগে। লঞ্চের একাধিক যাত্রী জানান, রাত ৩টার দিকে লঞ্চের ইঞ্জিন রুমে হঠাৎ আগুন লেগে যায়। আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো লঞ্চে। এসময় লঞ্চে বেশ কয়েকজন যাত্রী দগ্ধ হন। প্রাণে বাঁচতে অনেক যাত্রীই নদীতে ঝাঁপ দেন।সাইদুর নামের এক যাত্রী জানান, ‘রাতে ঢাকা থেকে বরগুনা ফিরছিলাম। লঞ্চটি ঝালকাঠি এলাকায় পৌঁছালেই ঞ্জিন রুমে আগুন লেগে যায়। এরপর সে আগুন পুরো লঞ্চে ছড়িয়ে পড়ে। অসংখ্য মানুষ অগ্নিদগ্ধ হয়। প্রাণে বাঁচতে নদীতে ঝাপ দেন অনেক যাত্রী। নদী পাড়ে অপেক্ষায় থাকা আমেনা খাতুন জানান, ‘তার ভাই ঢাকা থেকে এ লঞ্চে রওনা দিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ পাচ্ছিনা। আমার ভাইয়ের সন্ধান চাই।’তবে লঞ্চের কেবিন গুলোতে অনেক মৃত্যু যাত্রীদের হাড় ও মাথার খুলি দেখা গেছে।
এদিকে চলন্ত লঞ্চে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ বাতাস ভারিহয়ে উঠেছে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীর তীর। সকাল থেকে নদীতীরের গাবখান ধানসিঁড়ি এলাকায় অগ্নিদগ্ধদের স্বজনরা ভিড় করেন।লঞ্চটিকে বর্তমানে ঝালকাঠি সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়নের দেউড়ি সাইক্লোন শেল্টারের পাশে (বিষখালী নদীর তীরে) নোঙর করা হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ে চাঞ্চল্যকর মেহেদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আরমান (১৬) ও গালিবকে (১৬) গ্রেফতার করা হয়েছে।
তারা নিহত মেহেদির বন্ধু ছিলো। একই সঙ্গে আরমানের দাদা আকবর আলমকে (৬২) কেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আরমান ও গালিব মামাতো ফুফাতো ভাই হওয়ায় আকবর সম্পর্কে গালিবের নানা।
বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) রাতে তিনজনকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। এর আগে মেহেদির বাবা মালেক চারজনকে আসামি করে সদর থানায় মামলা করেন।
গ্রেফতারকৃত আরমান ও গালিব হাসপাতালে ভর্তি ছিলো। আর আকবরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে আগেই থানায় নেওয়া হয়েছিলো। মামলার চার নাম্বার আসামি আরমানের বাবা জুয়েল ইসলাম পলাতক রয়েছেন।
মামরার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় প্রতিবেশি গালিব বাসা থেকে মেহেদিকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে আরমান ও তার বাবা জুয়েল তাদের সঙ্গে মিলিত হয়। তিনজন এক হয়ে মেহেদিকে নিয়ে দুরামারিতে চা খেতে যায়। আরও পরে আকবর সেখানে যোগ দিয়ে মেহেদিকে আহত করলে এক পর্যায়ে মেহেদির মৃত্যু হয়।
গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানভীরুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতারকৃতরা আাগে থেকেই সন্দেহের তালিকায় ছিলো। পরে তাদের নাম উল্লেখ করেই মামলা হলে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় গ্রেফতার করা হয়েছে। পলাতক অন্য আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও জানান, আরমান ও গালিব পুলিশ হেফাজতে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আকবরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত : গত বুধবার ২২ ডিসেম্বর ঠাকুরগাঁও জেলার সদর উপজেলার দুরামারির শামিমের হোটেলের পাশে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে মেহেদি ধারালো অস্ত্রের আঘাতে খুন হয়।
দোকান ভাড়া নিয়ে সংঘর্ষ, বোমা বিস্ফোরণ, আহত ১৫ মাদারীপুরে দোকানঘর ভাড়া নিয়ে তর্কবিতর্কে দু’দল গ্রামবাসীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এতে নারীসহ আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৫ জন।
বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের বড়মেহের ও ঘটমাঝি ইউনিয়নের ঝিকরহাটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযুক্ত ভাড়াটিয়া ইস্রাফিল জমাদ্দার ঝিকরহাটি গ্রামের বাসিন্দা ও আরেক অভিযুক্ত ঘরমালিক খবির মাতুব্বর বড়মেহের গ্রামের বাসিন্দা। ঘটনার পর পলাতক রয়েছে অভিযুক্তরা।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, তিন বছর আগে মাদারীপুর সদর উপজেলার মোস্তফাপুর বাসস্ট্যান্ডের সৌদি প্রবাসী দিপু মাতুব্বরের একটি দোকানঘর ভাড়া নেয় ইস্রাফিল জমাদ্দার। আগামী ১ জানুয়ারি দোকানঘর ভাড়ার মেয়াদ (চুক্তি) শেষ হবে।
এজন্য বৃহস্পতিবার দুপুরে ইস্রাফিলকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দোকান খালি করে দিতে বলে মালিকপক্ষের লোকজন (দিপু মাতুব্বরের ভাই খবির মাতুব্বর)। এ সময় ঘর মালিক ও ভাড়াটিয়ার মধ্যে কথার কাটাকাটি হয়। পরে ইস্রাফিলের লোকজন বড়মেহের এলাকায় ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ঝিকরহাটি ও বড়মেহের গ্রামবাসী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বেশ কয়েকটি হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
এ সময় মো. শাহজালাল নামে এক রাজমিস্ত্রির ছেলের অনুষ্ঠানেও হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এতে নারীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়। খবর পেয়ে টিয়ারশের নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।
আহতদের উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ে বুধবার ২২ ডিসেম্বর রাতে কিশোর গ্যাংয়ের দু’পক্ষের সংঘর্ষে মেহেদি (১৬) নামে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরমান (১৫) নামে আরও একজন আহত হয়েছে।
সদর উপজেলার দুড়ামারী শামিমের হোটেলের পাশে এ ঘটনা ঘটে।
মেহেদি সদর উপজেলার রুহিয়া সেনেহারি গ্রামের আ. মালেকের ছেলে ও ঠাকুরগাঁও বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র। আহত আরমান শহরের পরিশোধ পাড়ার জুয়েল ইসলামের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যমতে, বুধবার রাত আনুমানিক ৮ টার দিকে শামীম হোটেলের পাশে হঠাৎ কিশোর বয়সী কিছু ছেলেদের চিল্লাফাল্লা শুনতে পেয়ে বাজারের লোকজন এগিয়ে যায়।
পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তাদের জখম করা হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা ধারনা করেন।
নিহত মেহেদির মামা আমজাদ হোসেন বলেন, স্কুলে যাওয়ার সুবিধার্থে মেহেদি আমাদের বাসায় থেকে পড়াশোনা করতো। সন্ধ্যায় কেউ একজন মেহেদিকে ডেকে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরে মোবাইলে একজন হামলার বিষয়টি জানায়। আহত আরমানের পিতা জুয়েল ইসলাম বলেন, আমি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ছিলাম। হঠাৎ ছেলে আমাকে কল দিয়ে আহত হবার কথা জানায়। ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসি।
ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ছাবরিনা জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই মেহেদির মৃত্যু হয়েছে। আরমানের অবস্থা খুব বেশি গুরুতর না হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম আতিক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত পরবর্তি আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।