26.5 C
Dhaka, BD
শনিবার, জুলাই ১৮, ২০২৬

সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নাজিম উদ্দিনের দেহরক্ষী অস্ত্র ও গুলিসহ আটক( ভিডিও)

স্টাফ রিপোর্টারঃ সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন প্রকাশে অস্ত্র উচিয়ে গুলি করতে যাওয়া রাকিব (২৬) নামে একজনকে অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার করেছে ট্যানারি ফাঁড়ি পুলিশ।

বুধবার বিকালে সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের হেমায়েতপুর পূর্বহাটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় ‌।

জানা যায় , গ্রেপ্তারকৃত রাকিব, তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নাজিম উদ্দিনের দেহরক্ষী হিসেবে কাজ করতো । গ্রেফতারকৃত রাকিবের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে ট্যানারি পুলিশ ফাঁড়ির এসআই জাহিদ খান জানান, পূর্বহাটী নতুনপাড়া এলাকায় রাকিব, বুলবুল সহ কয়েকজন মহড়া দিচ্ছিলো। স্থানীয়রা বিষয়টি বুঝতে পেরে তাদেরকে ধাওয়া করে এবং পুলিশে খবর দেয় । পুুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাকিবকে অস্ত্র ও গুলিসহ আটক করে। এ সময় বুলবুল নামের আরেকজন দৌঁড়ে পালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে পুলিশ আরো জানান, অস্ত্রের উৎসের ব্যাপারে রাকিবকে প্রাথমিক ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তার সঙ্গে থাকা বুলবুলকে আটকের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে সাভার মডেল থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ  ঠাকুরগাঁও জেলার  পীরগঞ্জ উপজেলায় বুধবার ২৯ সেপ্টেম্বর  এক বৃদ্ধ দম্পতিকে সরকারি ঘর পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ক্যামেরায় ধারণ করা শেখানো বক্তব্য দেখিয়ে ছেলের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা না পেয়ে ‘পিতা-মাতার ঠাঁই এখন গোয়ালঘরে’ এমন শিরোনামে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রকাশ করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী  পরিবার। এ উপলক্ষে এদিন দুপুরে পীরগঞ্জ প্রেসক্লাব হলরুমে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেন ওই দম্পতির ছেলে গণেশ চন্দ্র রায়ের পরিবার।লিখিত বক্তব্যে গণেশ চন্দ্র রায় জানান, সম্প্রতি কয়েকজন সাংবাদিক তাঁর বৃদ্ধ পিতা নগেন্দ্রনাথ রায় ও মাতা বিজয়া রাণী রায়কে সরকারি ঘর পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে শেখানো বক্তব্য ক্যামেরায় ধারণ করেন। ওই শেখানো বক্তব্যে সন্তানদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের কথা বলেন তাঁর পিতা-মাতা। এরপর ধারণকৃত সেই সাজানো বক্তব্যের ভিডিওটি ছেলে গণেশকে দেখিয়ে ৩ হাজার টাকা দাবি করেন সাংবাদিকরা। টাকা না দিলে তারা ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ গণমাধ্যমে ছড়িয়ে দিবে বলে জানান।গণেশ চন্দ্র রায় বলেন, আমার কাছ থেকে টাকা না পাওয়ায় আমার বাবা-মাকে শেখানো বক্তব্যের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় তাঁরা।

এরপর একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে আমার ও আমার পরিবারের বিরুদ্ধে ‘পিতা-মাতার ঠাঁই এখন গোয়ালঘরে’সহ বিভিন্ন শিরোনামে মিথ্যা,মানহানিকর সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত সংবাদের সূত্রধরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজাউল করিম এবং পীরগঞ্জ থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলমসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের লোকজন সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

তারা ওই প্রকাশিত সংবাদের ঘটনার সত্যতা খুঁজে পাননি। গণেশ চন্দ্র রায় আরও বলেন,ওই মিথ্যা সংবাদের কারণে আমরা সামাজিকভাবে হেয় হয়েছি। বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষজন ফোন করে ঘটনা বিষয়ে জানতে চেয়ে আমাদের বিব্রত করছে। আমরা ওই মিথ্যা সংবাদের কারণে সুশীল সমাজে মুখ দেখাতে পারছি না। মিথ্যা,বানোয়াট সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বৃদ্ধ দম্পতি নগেন্দ্রনাথ রায় ও বিজয়া রাণী রায়, ছেলে দুলাল চন্দ্র রায়, প্রতিবেশী সুজন চন্দ্র রায়, ধীরেন্দ্র নাথ রায়সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

শরবত বিক্রির ফাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন সাদেকুল।

সৌমেন মন্ডল, রাজশাহী ব্যুরোঃ শরবতের দোকানে বই। যখন ক্রেতার ভিড় কমে আসে, তখন দোকানি বইটি মেলে বসেন। সড়কবাতির আলোতে পড়াশোনা করেন। এভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

এই শরবত বিক্রেতার নাম মো. সাদেকুল ইসলাম (১৯)।

তাঁর বাবার নাম মো. জার্জিস আলী। তাঁর বাড়ি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার পশ্চিম বামনাইল গ্রামে। ১১ ভাইবোনের মধ্যে সাদেকুল সবচেয়ে ছোট। অন্য ভাইবোনেরা যে যার মতো থাকেন। ছোটবেলায় সাদেকুলকে হাফেজিয়া পড়ার জন্য রাজশাহী নগরের একটি মাদ্রাসায় ভর্তি করে দেওয়া হয়। পরে তিনি নগরের উপর ভদ্রা এলাকার মদিনাতুল উলুম কামিল মাদ্রাসা থেকে ২০১৮ সালে বিজ্ঞান বিভাগে দাখিল পাস করেন। বিজ্ঞান বিভাগের পড়াশোনার খরচ জোগাড় করতে না পারায় উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে এসে বিজ্ঞান ছেড়ে মানবিক বিভাগ নিয়ে পড়াশোনা করেন। ২০২০ সালে তিনি আলিম পাস করেন। এসএসসি ও এইচএসসি সমমানের দুই পরীক্ষায় তাঁর জিপিএ-৫ আছে। তাই ভর্তির সুযোগ পাওয়ার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।

পাঁচ বছর ধরে গরমের মৌসুমে শরবতের ভ্রাম্যমাণ ভ্যান নিয়ে সাদেকুলকে রাজশাহী রেলস্টেশনের পাশে দেখা যায়। এই বেচাবিক্রি থেকে যে আয় হয়, তা দিয়েই তাঁর পড়াশোনার খরচ জোগাড় করেন।

মদিনাতুল উলুম কামিল মাদ্রাসার বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এ কে এম সালাহ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, সাদেকুল ইসলাম খুবই পরিশ্রমী, ভালো ছেলে ও মেধাবী। সে এ শহরে থেকে অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করে।

গত সোমবার সন্ধ্যায় কথা হয় সাদেকুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, হাফেজিয়া শেষ করার পর থেকে তিনি বসে থাকেননি। কাজ খুঁজেছেন। টিউশনি করে পড়াশোনার খরচ জোগাড় করেছেন। সঙ্গে অন্যান্য কাজ করার চেষ্টা করেছেন। তিনি নগরের বালিয়াপুকুর এলাকায় থাকেন। এ এলাকায় নওগাঁর কয়েক ছেলে ভ্যানগাড়িতে করে শরবতের ব্যবসা করতেন।

তাঁদের কাছ থেকে শরবতের ব্যবসার ধারণা নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন তিনি। প্রতিদিন সকালে রাজশাহী রেলগেট এলাকায় এবং সন্ধ্যার পর রেলস্টেশনের প্রবেশমুখে তাঁর গাড়ি থাকে।শুভকামনা রইলো ভাই আপনার জন্যে।জীবন মানেই যুদ্ধ আর সেই যুদ্ধেই এগিয়ে যেতে হবে।

আশুলিয়ায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নানান অনিয়ম দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ

সাভার প্রতিনিধি: জমিদখল, সরকারী সম্পদ আত্মসাৎ, মাদক ব্যবসায় আশ্রয় প্রদান, অস্ত্রবাজি, গ্যাস সংযোগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত সাভার উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম সুরুজ।

এক সময়ের জাতীয় পার্টির ক্যাডার হিসেবে পরিচিত সুরুজ ২০০৩ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ২০১৬ সালে আওয়ামী লীগের ব্যানারে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ক্ষমতাশীন দলের ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার এর থেকেই দখল বাণিজ্য, মাদক ব্যবসায় আশ্রয় দেওয়া ও নিজস্ব বাহিনী গড়ে তুলে এলাকায় শুরু করেন আধিপত্য বিস্তার। তার ছত্রছায়ায় এলাকায় গড়ে উঠেছে একটি দুর্ধর্ষ ক্যাডার বাহিনী। এই বাহিনী এলাকায় চেয়ারম্যান বাহিনী হিসেবে পরিচিত। চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতি, মাদক ব্যবসা, অস্ত্রবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ এই বাহিনীর বিরুদ্ধে।

এসব কর্মকান্ডের নেতৃত্বে রয়েছেন ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম (রবি)। চেয়ারম্যানের পালকপুত্র ও ডানহাত হিসেবে এলাকায় পরিচিত এই রবি। গত ১৬ জুন চাচাকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে বিদেশি পিস্তল ও কয়েক রাউন্ড গুলিসহ র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন রবি। ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি রবির মাধ্যমে এলাকায় দখল বাণিজ্য, অধিপত্য বিস্তার, পতিপক্ষের লোকদের নির্যাতন ও গ্যাস সংযোগ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করেন এই ইউপি চেয়ারম্যান।

তার লোকজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পরিবহনে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জিরানী আমতলা সড়কে বিভিন্ন পরিবহন থেকে চাঁদা টাকা উত্তোলন করছেন ইউপি চেয়ারম্যানের ছোট ভাই আব্বাস পালোয়ান, সহযোগী মোতালেবসহ একটি চক্র। প্রতিটি ব্যাটারিচালিত রিকশা থেকে দিনপ্রতি অদায় করা হয় ৩০ টাকা, মহেদ্র পরিবহনকে গুনতে হয় দিনপ্রতি ১৫০ টাকা ও মাসিক ১৫০০ টাকা। বিভিন্ন সড়কে উত্তোলনকৃত চাঁদার পরিমাণ প্রতিদিন প্রায় অর্ধলক্ষ টাকা। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে চাঁদাবাজি চলে আসলেও সম্প্রতি পরিবহন থেকে টাকা আদায়ের জন্য দেয়া হয়েছে ইউনিয়ন পরিষদের স্টিকার। তবে এসব স্টিকার প্রদান ও প্রতিদিন টাকা আদায়ের কাজটি করছেন চেয়ারম্যান পরিবারের সদস্যরাই।

শিমুলিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক বছর আগে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেয়া হলে পরবর্তী বিভিন্ন সময় তিতাসের অভিযানে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। তবে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে বার বার এসব অবৈধ সংযোগের কারণে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে গ্যাসের সংকট। প্রতি সকালে রান্নার কাজে বিরম্বনায় পড়তে হয় বৈধ সংযোগ ব্যবহারকারীদের। সম্প্রতি গ্যাস লাইনের রাইজারে গ্যাস সরবারহ বাড়িয়ে দেয়ার কথা বলে চুলাপ্রতি ৪ হাজার টাকা করে ইউপি চেয়ারম্যান সুরুজের নামে আদায় করছেন ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য করিম চিশতী, মতি মোল্লা, আলী আহাম্মদ, দানেস বেপারীসহ একটি চক্র। এভাবে গ্যাসের সরবারহ বাড়িয়ে দেয়ার নামে শুরু হয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার বাণিজ্য।

ইউপি চেয়ারম্যান ও তার পালিত সন্ত্রাসীদের কর্মকান্ডে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষ। ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রায়ই ঘটছে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড। এসব ঘটনায় স্থানীয় বখাটেদের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীরা চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ করলেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ তো দূরের কথা উল্টো ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ডিম ও মুরগি সরবারহের ব্যবসা করেন তিনি। গত কয়েক মাস আসে রাঙ্গামাটি ব্রিজের পাশে স্টার ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারের সামনে তিনি ডাকাতির কবলে পড়েন। সেদিন ডিম ও মুরগি বিক্রি করে গাজীপুরের কোনাবাড়ি থেকে এলাকায় ফিরছিলেন। পথে ডাকাতরা রাস্তায় গাছ ফেলে তার ট্রাকের গতিরোধ করে সাথে থাকা নগদ ২ লক্ষ ৭৬ হাজার টাকা ও দু’টি দামি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।

তার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এসে ডাকাতদের হাতেনাতে ধরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম সুরুজের কাছে নিয়ে যায়। এসময় আটককৃত ব্যক্তিদের ডেকে নিয়ে আলাদা কথা বলার পর তাদের ছেড়ে দিয়ে চার দিন পর বিচার করা হবে বলে জানান চেয়ারম্যান। এরপর ঘটনার পাঁচ মাস অতিবাহিত হয়ে গেলও বিচার তো দূরের কথা! হাতেনাতে ধরা পড়া ডাকাতদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া তার টাকা ও মোবাইল দু’টি আজও ফেরত পাননি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।

স্থানীয়রা জানান, ইউপি চেয়ারম্যান সুরুজের সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছাত্রলীগ নেতা রবির নিয়ন্ত্রণে চলছে এসব কর্মকান্ড। এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, উঠতি বয়সের কিশোর ও যুবকদের নিয়ে নিয়মিত মাদক সেবন করেন রবি। চেয়ারম্যানের কাছে বার বার এসব বিষয়ে নালিশ করেও প্রতিকার পাননা ভুক্তভোগীরা। একই স্থানে স্থানীয় বখাটেদের কাছে ডাকাতির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় ফরহাদ বেপারী, কালু বেপারী, গোবিন্দ নিশিসহ অনেকেই।

গত ১৩ মে গোবিন্দ নিশির স্ত্রী বেতন নিয়ে বাসায় ফেরার সময় একই স্থান থেকেই টাকা ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় কয়েকজন যুবক। পরে জানতে পারেন তারা রবির লোকজন। এছাড়া কয়েক মাস আগে বিবাহের বরযাত্রীর পথরোধ করে ডাকাতরা ৭-৮ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ পাঁচ লাশ টাকা ছিনিয়ে নেয়- বলছিলেন ভুক্তভোগী গোবিন্দ নিশি।

তবে অস্ত্র মামলায় গত কয়েক মাস ধরে চেয়ারম্যানের সহযোগী ও ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি রবি জেল হাজতে থাকায় শিমুলিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অনেকটাই শান্ত অবস্থা বিরাজ করছে। এই সময়ের মধ্যে ঘটেনি বড় কোন ডাকাতি বা অন্য তেমন অপ্রীতিকর ঘটনা- বলছিলেন স্থানীয়রা।

শিমুলিয়া ইউনিয়নের অধিকাংশ রাস্তার অবস্থা জরাজীর্ণ। সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পরিণত হয়েছে ছোট-বড় খানাখন্দে। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে রাস্তাগুলোর এখন বেহাল অবস্থা। রিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেল আরোহীসহ পথচারীদের জন্য রাস্তাগুলোতে চলাচল যেন সীমাহীন দুর্ভোগের ব্যাপার। সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার কারণে অধিকাংশ সড়ক ডুবে থাকে পানিতে। গত পাঁচ বছরে এই চেয়ারম্যানের সময়ে রাস্তাঘাটের তেমন উন্নয়ন না হওয়ায় চরম ক্ষোভ স্থানীয়দের। বেশিরভাগ সড়কের অবস্থাই জরাজীর্ণ হলেও জিরানী মাজার রোড থেকে নামাপাড়া মসজিদ পর্যন্ত সড়ক, কলেজ রোড থেকে ঢালীবাড়ি পর্যন্ত, মুসলিম টেক, মরিচ কাটা সড়ক এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

তার বিরুদ্ধে রয়েছে সরকারী উন্নয়নের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ। গোয়াইল বাড়ি থেকে গাজীবাড়ী সড়কের নির্মাণ কাজে শ্রমিক ব্যবহার না করে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে সড়কের কাজ করান। গত পাঁচ বছরে তার ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ আসলেও রাস্তাঘাট ও অবকাঠামোগত তেমন কোন উন্নয়ন না হওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী। এছাড়া তার ইউনিয়নের পাশ্ববর্তী গাজীপুর জেলার অন্তর্গত কয়েকটি এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে ১০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত কর বকেয়া থাকে। এসব কর মওকুফ করিয়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে তার ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে নিয়ে এসব বাড়ির মালিকের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগও রয়েছে।

গত ছয় মাস আগে শিমুলিয়া ইউনিয়নের রাঙ্গামাটি এলাকায় শুকাই চান, অনন্ত সরকার ও শান্তি সরকার নামের ৩ সংখ্যালঘু ব্যক্তির নামে রেকর্ডীয় ৪ একর ৩৩ শতাংশ জমি দখল করে নিজের নামে সাইনবোর্ড টানিয়ে দেন ইউপি চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম সুরুজ। পরে নিজেদের সম্পতি প্রকৃত মালিকরা উদ্ধার করলেও প্রতিনিয়ত চেয়ারম্যানের ভয়ে আতঙ্কিত ভুক্তভোগী সংখ্যালঘুরা।

এছাড়া চেয়ারম্যানের নামে সরকারী খালের জামি থেকে মাটি কেটে পাশ্ববর্তী ইটভাটায় বিক্রির অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় ফারুকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে।

ছাত্রলীগ নেতা রবিসহ চেয়ারম্যানের নিজস্ব লোকদের চাঁদাবাজির আরেকটি বড় খাত বিভিন্ন তৈরি পোশাক কারখানা। এক একটি কারখানা থেকে মাসপ্রতি সর্বনিম্ন এক লক্ষ টাকা থেকে শুরু করে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করেন রবিসহ একটি চাঁদাবাজ চক্র। কারখানার ট্রেড লাইসেন্স প্রদানেও নেয়া হয় কয়েকগুণ বেশি অর্থ এমনটি অভিযোগ বিভিন্ন করাখানা মালিকদের।

শিমুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এক প্রবীণ নেতা বলেন, স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছে এলাকাবাসী জিম্মি হয়ে পড়লেও ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাননা। তার সহযোগী অস্ত্রধারী রবি এলাকায় আরেক আতঙ্কের নাম। তাকে ব্যবহার করেই মূলত সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন ইউপি চেয়ারম্যান। এসব ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম সুরুজ বলেন, যারা অভিযোগ করছেন তারাই এসব কাজের সাথে জাড়িত। তবে অভিযোগ বিষয়ে সরাসরি উত্তর না দিয়ে তিনি এই প্রতিবেদককে দেখা করে তার সাথে কথা বলতে বলেন।

রাণীশংকৈলে পুকুরের পানিতে ডুবে স্কুল ছাত্রের মৃত্যু

হুমায়ুন কবির, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ

ঠাকুরগাঁয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় ২৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বিকেলে পুকুরের পানিতে ডুবে সাব্বির হোসেন (১৫) নামে এক স্কুল ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

সাব্বির উপজেলার পশ্চিম সন্ধ্যারই গ্রামের আজিজুর রহমানের ছেলে এবং মীরডাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র। স্থানীয় ও পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, সাব্বির দীর্ঘদিন যাবত মানুষিক সমস্যায় ভূগছিল।

ঘটনার দিন দুপুরে সাব্বির বাড়ির পাশের একটি পুকুর পাড়ে একাই ঘুরতে গিয়েছিল। বিকেল ৩টা পর্যন্ত সে বাড়িতে ফিরে না আসায়  পরিবারের লোকজন তাকে খোঁজাখুঁজি করে। তারা এক পর্যায়ে না সাব্বিরের পায়ের জুতা পুকুরের পাড়ে পড়ে থাকতে দেখে। ওই পুকুরে লোকজন  ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় প্রায় ঘন্টা খানেক খোঁজাখুঁজি করে সাব্বিরের লাশ  উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

ধারনা করা হচ্ছে পুকুরে নেমেই সাব্বির পানিতে তলিয়ে গেলে তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জমিরুল ইসলাম এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে  বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ না থাকায় লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

রাণীশংকৈলে শেখ হাসিনার ৭৫ তম জন্মদিন পালিত

রাণীশংকৈল ( ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি:ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫ তম শুভ জন্মদিন পালিত হয়।

এ উপলক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগ বিকেলে পৌরশহরে একটি আনন্দ র ্যালি বের করে। দলীয় অফিসে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে সন্ধ্যায় চৌরাস্তা মোড়ে আ’লীগ সভাপতি অধ্যক্ষ সইদুল হকের

সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় আ’লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মিরা
অংশ নেন। সভাপতি ছাড়াও সভায় বক্তব্য রাখেন, সহ-সভাপতি জোবায়দুর রহমান ও মুক্তার আলম, সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দিন,আ’লীগ নেতা এমএ মোমিন, জাহাঙ্গীর আলম,সাহেরুল ইসলাম, মহাদেব বসাক, ভাইস চেয়ারম্যান সোহেল রানা, মহিলা লীগ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা হবিবর রহমান প্রমুখ।

সাভারে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলন অনুষ্ঠিত (ভিডিও)

স্টাফ রিপোর্টারঃ সাভারে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কোর অব মিলিটারি পুলিশ এর বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সেনানিবাসের কোর অব মিলিটারি পুলিশ সেন্টার এন্ড স্কুলে এ বাৎসরিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানের শুরুতে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ মেজর জেনারেল জয়নুল আবেদীন অডিটরিয়াম ও ১৭ জন বীর শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি স্বরণে বিজয় চেতনা উদ্ধোধন করেন। এছাড়া সেখানে তিনি একটি ছাতিয়ান নামের একটি গাছের চারা রোপন করেন।

এসময় সেনাবাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রাণীশংকৈলে চাঞ্চল্যকর নাসিরুল নির্যাতন মামলার মূল আসামী গ্রেফতার 

হুমায়ুন কবির রাণীশংকৈল ( ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ভাংবাড়ি গ্রামের যুবক নাসিরুলকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন মামলার মূল আসামি করিমুল ইসলাম(৩৫)কে ২৬ সেপ্টেম্বর রবিবার গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রাণীশংকৈল থানা পুলিশ ঠাকুরগাঁও থানা পুলিশের সহযোগিতায় করিমুলকে বিকেল ৫ টায় ঠাকুরগাঁও শহর থেকে গ্রেফতার করে। প্রসঙ্গত, এর আগে গত২৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার আরেক আসামী করিমুলের স্ত্রী সেলিনা আকতার(৩০)কে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ওই গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে নাসিরুল (২১)একই এলাকার করিমুল ইসলামের মেয়ে কেয়ামনি(১৮)কে প্রেম করে বিয়ে করায় গত ২০ সেপ্টেম্বর করিমুল ও তার পরিবারের লোকজন নাসিরুলকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে অমানবিকভাবে নির্যাতন করে।

এ নিয়ে নাসিরুলের বাবা থানায় লিখিত এজাহার দাখিল করেন। গুরুতর অসুস্থ নাসিরুল বর্তমানে রংপুরে চিকিৎসাধীন আছে।

রাণীশংকৈল থানার ওসি এস এম জাহিদ ইকবাল করিমুলের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামীকে রাণীশংকৈল থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।

সাভারের হেমায়েতপুর,আরজেন্ট পাড়া এলাকায় রাজমিস্ত্রি কে মারধর,ইয়াবা হাতে দিয়ে টাকা পরিশোধের চেষ্টা

স্টাফ রিপোর্টার: শনিবার বিকেলে সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের আর্জেন্ট পাড়া এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে ।

জানা যায়, মোমেন প্রামানিক প্রায় তিন মাস যাবত হায়দার আলীর আর্জেন্ট পাড়া নতুন একটি বাড়ি করছেন সেখানেই মোমেন প্রামানিক রাজমিস্ত্রি কাজ করতেন, সেই কাজের সুবাদে মোমেন্ প্রামানিক প্রায় ৪০ হাজার টাকার মতো পাওনা আছেন হায়দার আলীর কাছে ।

শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সেই পাওনা টাকা চাইতে গেলে, হায়দার আলী হঠাৎ চরাও হয় মোমেন প্রামানিকের উপর,  এরপরই হায়দার আলীর ছেলে দিদার হোসেন একটি পাইপ হাতে নিয়ে মোমেন প্রামাণিককে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে, এসময় মোমেন প্রামানিক মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হায়দার আলীর ছেলে দিদার হোসেন পলিথিনে মোড়ানো ইয়াবা টেবলেট মাদক নিজের পকেট থেকে বের করে মোমেন প্রামাণিককে জোরকরে হাতে দেন, এবং বলেন এগুলো বিক্রি করে টাকা নিয়ে যা,  না হলে টাকা পাবিনা।

এইসময় মোমেন প্রামাণিকের ডাক চিৎকারে পার্শ্ববর্তী আর্জেন্ট পাড়ার বাসিন্দা, আজম আলী ছুটে আসেন, এবং তাকে সেখান থেকে তুলে স্থানীয় হিলিং হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার বাম হাত ভাঙ্গা ও বাম কাঁদের একটি হাড় ভেঙে গেছে বলে জানান ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হায়দার আলী ও তার ছেলে দিদার কোন কাজকর্মই করেন না, তাহারা দীর্ঘদিন যাবত মাদকের ব্যবসা করে আসছেন বলেও জানান এলাকাবাসী ।

মোমেন প্রামানিক প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে নিজ বাড়িতে আসলে ঘটনাটি জানা যানি হলে, স্থানীয় রাজমিস্ত্রি কিছু লোক একত্রিত হয়ে, বর্তমানে হায়দার আলী থাকা ভাড়াটিয়া বাসার সামনে মিছিল করেন এবং এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন ।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মোমেন প্রামানিকের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে ।

মাগুরার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে দু’দল গ্রাসবাসীর সংঘর্ষে আহত ৩০, ১০টি বাড়ি-ঘর ব্যাপক ভাংচুর-লুটপাট

আশরাফ হোসেন পল্টু,মাগুরা প্রতিনিধিঃ
শুক্রবার (আজ) সকালে মাগুরা সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে প্রতিপক্ষ দু’টি গ্রুপের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্ততঃ ৩০ জন আহত হয়েছে ।

এসময় উভয় পক্ষের ১০টি বাড়ি-ঘর ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত করতে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে উভয় গ্রুপের ৬ জনকে আটক করেছে ।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের ইউনুস মোল্যা ও রহমত মোল্ল্যার সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই সূত্রধরে বৃহস্পতিবার বিকেলে রহমত মোল্যার লোকজন পূর্বপরিকল্পিতভাবে আলোকদিয়া বাজারে গিয়ে ইউনুস মোল্যার সমর্থক বিল্লাল হোসেনের দোকানে হামলা করে এবং তার পা কেটে নেওয়ার হুমকি দেয় । এ ঘটনার প্রতিক্রিয়াস্বরুপ বিল্লালের মামাতো ভাই রানা আলোদিয়া ব্রিজের ওপর ওৎপেতে বসে থেকে রহমত মোল্যার সমর্থক দুঃখ নামে একজনকে বেধড়ক মারপিট করে।

এঘটনার রেশ ধরে এক অপরের প্রতিশোধ নিতে শুক্রবার ভোর সকালে রহমত ও ইউনুসের সমর্থকরা দেশীয় ধারাল অস্ত্র-সস্ত্র ঢাল,সড়কি,রামদা,ছ্যানদা ও লাঠি-সোটা নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সংঘর্ষে উভয় গ্রুপের অন্ততঃ ৩০ জন মারাত্বক আহত হয় । এছাড়াও প্রতিপক্ষরা এসময় উভয় পক্ষের ১০টি বাড়ি-ঘর ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করে থাকে।

সংবাদ পেয়ে মাগুরা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

এ বিষয়ে মাগুরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মঞ্জুরুল আলম বলেন, দীর্ঘদিনের গ্রাম্য দলাদলির রেশ ধরে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্র্ষ বেঁধেছিল । সংবাদ পাওয়ামাত্রেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি শান্ত করে । তবে পুলিশ পৌছানোর আগ মূহুর্তে সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়েছে । তবে এলাকার আইন-শৃঙ্খলা শান্ত রাখতে উভয়পক্ষের ৬জনকে আটক করা হয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সর্বশেষ আপডেট...