প্রচ্ছদ অন্যান্য ককরোচ জনতা পার্টি কী, কেন বিক্ষোভ করছে?

ককরোচ জনতা পার্টি কী, কেন বিক্ষোভ করছে?

Loading

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতে ইন্টারনেটের একটি কৌতুক থেকে শুরু হওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) এখন বড় ধরনের প্রতিবাদী আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। চলতি বছরের মে মাসে যাত্রা করা সংগঠনটি আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে।

ককরোচ জনতা পার্টি কোনো আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক দল নয়। ইন্টারনেটে একটি কৌতুক হিসেবে এর যাত্রা শুরু হলেও এটি ভারতে গণআন্দোলনে রূপ নিয়েছে।

ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্য থেকে সংগঠনটির নামের উৎপত্তি। চলতি বছরের মে মাসে তিনি কর্মহীন কিছু তরুণকে তেলাপোকার সঙ্গে তুলনা করেন। তার সেই মন্তব্যের জেরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

প্রধান বিচারপতির মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় অভিজিৎ দীপকে নামে এক তরুণ লেখেন, ‘সব তেলাপোকা যদি একজোট হয়, তাহলে কী হবে?’

৩০ বছর বয়সি ভারতীয় তরুণ অভিজিৎ দীপকে সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে পড়াশোনা করছিলেন। এক সময় তিনি দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টির (এএপি) সঙ্গে কাজ করতেন।

দীপকের সেই পোস্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যদিয়ে শুরু হয় ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন ককরোচ জনতা পার্টি, যা পরে বড় প্রতিবাদী উদ্যোগে রূপ নেয়।

আন্দোলন নিয়ে সরকার এত উদ্বিগ্ন কেন?

অনলাইনে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জনের পাশাপাশি বাস্তবেও মানুষকে সংগঠিত করার ক্ষমতা দেখিয়েছে সিজেপি। যাত্রার শুরুর পরই সংগঠনটির উদ্যোগে টানা পাঁচ সপ্তাহের একটি আন্দোলন হয়। ওই আন্দোলনের পর তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন।

এই সাফল্যের পর গোষ্ঠীটির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থকদের সংগঠিত করে রাস্তায় নামানোর ক্ষমতাই তাদের আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

আবার কেন বিক্ষোভ?

এবারের আন্দোলনের মূল দাবি ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। তার নেতৃত্বে ভারতের নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা হালনাগাদ করছে।

কমিশনের ভাষ্য, মৃত, একাধিকবার তালিকাভুক্ত এবং ভোটার হওয়ার অযোগ্য ব্যক্তিদের বাদ দিতে এটা নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। তবে লাখ লাখ মানুষের অভিযোগ, সংশোধনের পর ভোটার তালিকায় তাদের নাম আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

ককরোচ জনতা পার্টি ও বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) নির্বাচনী সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন উভয়ই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সিইসির পদত্যাগ দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরে তীব্র আন্দোলন চলছে। জেন-জি নেতৃত্বাধীন সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি তথা সিজেপির সঙ্গে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠনগুলো এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছে। ফলে এই আন্দোলনকে নতুন মাত্রা পেয়েছে।

গত কয়েকদিনের ধারাবাহিকতায় আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লির যন্তর মন্তরে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘ক্যাম্পেইন ফর জুডিশিয়াল প্রোটেস্ট’ নামে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেয়া হয়।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা