23 C
Dhaka, BD
বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২৯, ২০২৬

রাণীশংকৈলে বাজার অভিযানে ১০ হাজার টাকা জরিমানা

হুমায়ুন কবির, রাণীশংকৈল ( ঠাকুরগাঁও):  ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় গত ২৪ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বিকালে পৌরশহরের ওয়ালটন সংলগ্ন বিসমিল্লাহ ট্রেডাসে মেয়াদ উত্তীর্ণ কীট নাষক রাখার অপরাধে ট্রেডাসের মালিককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ঠাকুরগাঁও, অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক শেখ শাদী।

এ সময় বাজার অভিযানে স্যানিটারী ইন্সপেক্টর সারওয়ার হোসেন, সহযোগী স্যানিটারী ইন্সপেক্টর জাহেদুল ইসলাম ও থানা পুলিশ।

এ ব্যাপারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক শেখ শাদী জানান জনস্বার্থে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

পৌর নির্বাচনে নৌকার প্রচারণায় মাঠে আমতা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রার্থী আরিফ হোসেন। 

মোঃ সম্রাট আলাউদ্দিন , ধামরাই প্রতিনিধিঃ আগামী ২৮ডিসেম্বর ধামরাই পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, এ নির্বাচনকে ঘিরে জমে উঠেছে প্রচার প্রচারণা, এই পৌর নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে মেয়র হওয়ার লড়াইয়ে নেমেছেন পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান পৌর মেয়র আলহাজ্ব গোলাম কবির মোল্লা।

বৃহস্পতিবার বিকালে ধামরাই পৌর শহরের বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় নৌকার প্রার্থী আলহাজ্ব গোলাম কবির মোল্লার পক্ষে ভোট প্রার্থনা ও পাড়া মহল্লায় লিফলেট বিতরন করেন আমতা ইউনিয়নের কৃতি সন্তান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আমতা ইউনিয়নের  চেয়ারম্যান পদে আ’লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী আরিফ হোসেন।

এ সময় চেয়ারম্যান প্রার্থী আরিফ হোসেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ও ঢাকা-২০ এর সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব বেনজীর আহমদ এমপি’র নানা উন্নয়ন কাজের বিবরণ দেন, সেই সাথে পৌর সভার নানা উন্নয়নের চিত্র, করোনাকালে নৌকার মেয়র প্রার্থী আলহাজ্ব গোলাম কবির মোল্লা’র বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন সাধারন মানুষের মাঝে।

তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ তথা শেখ হাসিনা সরকার মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন। মুজিববর্ষে গৃহহীনদের বাসস্থানের ব্যবস্থা, প্রতিবন্ধী, অবহেলিত, অধিকার বঞ্চিত মানুষদের অধিকার রক্ষা, সু-শাসন নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। গ্রামকে শহরের আদলে গড়ে তোলা এবং দেশকে অর্থনৈতিক ভাবে সমৃদ্ধশালী করাই শেখ হাসিনা সরকারের লক্ষ্য। এই লক্ষ বাস্তবায়ন করতে হলে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে।

এ সময় ধামরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সাকু, বাইশাকান্দা ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ রানা, সূতিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রাজা, সহ আরো অনেক নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

লন্ডনে আটকা পড়লেন প্রিয়াঙ্কা

মার্কিন মুলুক থেকে গিয়ে লন্ডনে ‘টেক্সট ফর ইউ’ সিনেমার চিত্রায়ণ করছেন প্রিয়াঙ্কা। চলতি বছর নভেম্বর থেকে সেখানে চিত্রায়ণে অংশ নিয়েছেন তিনি। কিন্তু লন্ডনে লকডাউন ঘোষণা করায় আটকে গেছে প্রিয়াঙ্কাসহ পুরো ইউনিট।

এমনটাই জানা গেছে একাধিক বিদেশি গণমাধ্যম সূত্রে। সূত্রের খবর, করোনার নতুন ঢেউ ঠেকাতে তৎপর লন্ডন সরকার। চতুর্থ দফায় সবচেয়ে কঠোর লকডাউন দিয়েছে দেশটিতে। ফলে লন্ডনে আটকে পড়েছে ‘টেক্সট ফর ইউ’ সিনেমার কলাকুশলীরা।

তবে টিমের পক্ষ থেকে লন্ডন সরকারের সঙ্গে কথাবার্তা বলা হচ্ছে। মার্কিন মুলুকে ফেরার অনুমতি চাইবেন তারা। তবে অনুমতি না আসা পর্যন্ত লন্ডনেই থাকতে হবে তাদের। আর অনুমতি পেলেও ভারতে ফিরতে পারবেন না প্রিয়াঙ্কা। কারণ ইংল্যান্ডের সঙ্গে বিমান চলাচল ছিন্ন করেছে ভারতসহ কয়েকটি দেশ।

হলিউড সিনেমা ‘টেক্সট ফর ইউ’-তে একটি অতিথি চরিত্রে অভিনয় করেছেন প্রিয়াঙ্কার স্বামী নিক জোনাসও। লন্ডনেই শেষ হয়েছে তার অংশের চিত্রায়ণ। জার্মান সিনেমা ‘এসএমএস ফর ডিচ’-এর ইংরেজি রিমেক ‘টেক্সট ফর ইউ’।

সোফি ক্রামারের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হয়েছিল ‘এসএমএস ফর ডিচ’ সিনেমাটি। আর ‘টেক্সট ফর ইউ’র চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করছেন জিন স্ট্রাস।

বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন বলিউড বাদশার শাহরুখ কন্যা সুহানা ।

বলিউড বাদশার একমাত্র কন্যা সুহানা খান। একা একাই বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন নিউ ইয়র্কে। মান-অভিমান করে নয়, নিজের প্রয়োজনেই মুম্বাইয়ের ‘মান্নাত’ ছেড়েছেন তিনি। এমনটাই জানা গেছে, ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে।

নিউ ইয়র্কের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া নিয়ে পড়ছেন সুহানা। লকডাউনের আগে সেখান থেকে মুম্বাই এসেছিলেন তিনি। পুরো সময়টা পরিবারের সঙ্গে কাটিয়েছেন সুহানা। পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য আবার সেখানে গিয়েছেন তিনি।

মার্কিন মুলুকে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির কিছু ছবি নিজের ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন এ স্টার কিড। তা নেটিজেনদের চোখে পড়তেই সুহানাকে নিয়ে শুরু হয়েছে নানা প্রশ্ন।

তবে এসব প্রশ্ন গায়ে মাখেন না সুহানা। গুঞ্জন এড়িয়ে যাওয়ার জন্য নিজের ইনস্টাগ্রামের কমেন্টস অপশন বন্ধ করে দিয়েছেন তিনি। মূলত বর্ণ বৈষম্য নিয়ে কটাক্ষের শিকার হওয়ার পরই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ হবে-বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী।

করোনা পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী।

বৃহস্পতিবার (২৪ ডিসেম্বর) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা মহড়া অনুষ্ঠানে তিনি একথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বেসামরিক বিমান পরিবহন, স্বাস্থ্য, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে করোনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত এভাবেই বিমান চলাচল অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি যুক্তরাজ্য থেকে নতুন ধরণের করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় সেদেশ থেকে আগত যাত্রীদের বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে। কাউকে সন্দেহ হলে তার পিসিআর ল্যাব টেস্ট করা হবে।

মাহবুব আলী বলেন, করোনা আক্রান্তদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে। প্রয়োজন হলে আরও ব্যবস্থা করা হবে। আর বিদেশ ফেরত যারা হোম কোয়ারেন্টিনে থাকবে তাদের ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনকে অবগত করা হবে।

বিদেশ ফেরত সব যাত্রীদের পিসিআর টেস্ট নেগেটিভ রিপোর্ট আনা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আর দেশের বিমানবন্দরের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আধুনিক সেবা ও আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বিঘ্নিতকারীদের ছাড় দেওয়া হবে না। প্রতিযোগিতার বাজারে সক্ষমতার প্রমাণ দিতে যাত্রী হয়রানি বন্ধের আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।

এসময় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান বলেন, কানাডা, লন্ডনসহ বিভিন্ন রুটে বিমান চলাচল শুরু হতে যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানের হওয়া জরুরি। যা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রয়েছে।

এর আগে প্রায় ৪০ মিনিটব্যাপী বিমানবন্দরের নিরাপত্তা মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে দুবাইগামী একটি বিমানের ভেতর থেকে বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করে তা নিষ্ক্রিয় করার আয়োজন করা হয়। এতে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, সেনাবাহিনী, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) ও ঢাকা মেট্রো পলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চৌকস কর্মকর্তারা অংশ নেন।

রাজনৈতিক আইসোলেশনে বিএনপি-সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বিএনপি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে রাজনৈতিক আইসোলেশনে আছে বলেই সরকারের কোনো উন্নয়ন দেখতে পায় না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) নিজের সরকারি বাসভবনে সমসাময়িক বিষয়ে ব্রিফিংকালে সেতুমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, বিএনপি এখন কূলহারা নৌকার মাঝি; আর পথহারা পথিকের মতো তারা সরকারের অর্জনে চরম পরশ্রীকাতর। তারা সরকারের কোনো উন্নয়ন দেখতে পান না।

সেতুমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাওয়া নিয়ে যখন বিশ্বব্যাপী প্রশংসা চলছে তখন বিএনপি প্রকাশ করেছেন সংশয়, তারা বলে সরকার নিজেরাই ‘রোল মডেল’ বলছে। বিএনপির এসব বানানো গল্প। বিএনপি এখন কূলহারা নৌকার মাঝি আর পথহারা পথিকের মতো তারা সরকারের অর্জনে চরম পরশ্রীকাতর।

রানীশংকৈলে গোদরোগ বিষয়ক সামাজিক উদ্বুদ্ধকরণ সভা

হুমায়ুন কবির, রাণীশংকৈল, (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৪ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে গোদরোগের উপর সামাজিক গুরুত্ব ও গণসচেতনতা মূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

“গোদরোগে যত্ন নিলে বিকলাঙ্গতা থেকে মুক্তি মেলে” এই প্রতিপাদ্য কে সামনে রেখে লেপ্রা বাংলাদেশ এবং ফাইলেরিয়াসিস নিমৃল, কৃমি নিয়ন্ত্রণ ও ক্ষুদ্র ডাক্তার কার্যক্রম, রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর , এসবের যৌথভাবে বাস্তবায়ন ও এসেন্ড প্রকল্প, ইউকেএইড এর আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় এ উদ্বুদ্ধকরণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ উপলক্ষে স্বাস্থ্য কমপ্রেস সভাকক্ষে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচ এ আব্দুস সামাদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহরিয়ার আজম মুন্না। বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবির, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সইদুল হক, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শেফালী বেগম, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোকছেদুর রহমান প্রমুখ। এছাড়াও বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সামাজিক- রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন কর্মকর্তা কর্মচারি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

বেনাপোল বন্দর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে ব্যবসায়ীরা

মোঃ রাসেল ইসলাম,বেনাপোল প্রতিনিধি: বেনাপোল কাস্টমস এর হঠকারি সিদ্ধান্তে আমদানিকারকরা বেনাপোল স্থল বন্দর থেকে মুখ সরিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বেনাপোল স্থল বন্দরে পরিকল্পিত ভাবে গড়ে উঠা ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ড ৩১ এর কাঁচা মাঠ থেকে আমদানিকৃত ফল, পিয়াজ,চাল,মাছ সহ অন্যান্য পচনশীল পণ্য ভারতীয় ট্রাক টার্মিনাল (টিটিআই মাঠ) স্থানান্তর এর জন্য বেনাপোল স্থল বন্দরকে চিঠি দিয়েছে কাস্টমস। টিটিআই মাঠে খোলা আকাশের নীচে রেখে ওই সব পচনশীল কাঁচাপণ্য খালাস করতে হবে ব্যাবসায়িদের।

অপরদিকে ৩১ নং শেডে রাখা হবে টাটা হিরো হোন্ডা, ইয়ামাহ, টিভিএস ও রানার মোটর পার্টস ও রিকন্ডিশন মোটর পার্টস। আর রোদ বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হবে যে সব পণ্য সেসব পণ্য রাখা হবে ওই টিটিআই মাঠে। এমন সিদ্ধান্তকে হঠকারি সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছেন বেনাপোল বন্দরের ব্যাবসায়ীরা। সেই সাথে শ্রমিকরাও ওই শেডে পণ্য খালাস করবে না বলেও প্রতিবাদ করেছে।

বেনাপোল বন্দর ব্যবহারকারি আমদানি কারক রয়েল এন্টারপ্রাইজ এর সত্বাধিকারী এনায়েত আলী বাবু বলেন, ভারত থেকে পচনশীল এবং কাঁচাপণ্য রাখার জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ পরিকল্পিত ভাবে তৈরী করেছে ৩১ নং শেড। যেখানে রোদ বৃষ্টিতে এসব আমদানি পন্যর গাড়ি শেডের নীচে রাখা হয়। অপরদিকে ভারতীয় ট্রাক টার্মিনাল মাঠে ওইসব পণ্য রাখা যাবে না। কারন ওই মাঠে কোন শেড নির্মান হয়নি। আমদানি পণ্য রাখতে হবে খোলা আকাশের নীচে।

আরকে ট্রেডার্সের সত্বাধিকারী কামাল হোসেন বলেন, টিটিআই মাঠে কাঁচামাল পণ্য স্থানান্তর এর ফলে এই বন্দর থেকে ব্যবসায়ীরা ইতি মধ্যে চলে যাওয়ার ঘোষনা দিয়েছে। এটা একটি হঠকারি সিদ্ধান্ত। এর ফলে সরকার হারাবে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব। এছাড়া ওই মাঠে প্রয়োজনীয় পণ্য খালাশের জন্য শ্রমিকদের জন্য নেই কোন পানির ব্যবস্থা, নেই কোন বাথরুম। শ্রমিকরাও সেখানে পণ্য খালাসের জন্য যেতে ইচ্ছুক না।

সিএন্ডএফ এজেন্ট আলেয়া এন্টারপ্রাইজ এর কর্মকর্তা মারফত আলী বলেন, ওই শেডে কাঁচা পণ্য নিলে ব্যবসায়ীদের লোকশান গুনতে হবে। সেখানে নেই নিরাপত্তার ব্যবস্থা। নেই শেড। রোদ বৃষ্টিতে ভিজে কাঁচা পণ্য নষ্ট হবে ফলে ব্যবসায়ীরা বেনাপোল বন্দর থেকে অন্য বন্দরে চলে যাবে।

বেনাপোল ৯২৫ এর হ্যান্ডলিং শ্রমকি ইউনিয়ান এর নেতা আব্দুল আলীম বলেন, কাঁচা মালের খালাস এর জন্য মাঠ পরিবর্তন এটা আতœঘাতি সিদ্ধান্ত। শ্রমিকরা ওই মাঠে যেয়ে পণ্য খালাস করতে পারবে না। সেখানে খোলা আকাশের নীচে রোদ বৃষ্টিতে ভিজে পণ্য খালাস করতে হবে। তাছাড়া সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার নেই। শ্রমিকদের জন্য সুপেয় পানি, বাথরুম এর ব্যবস্থা না থাকায় কি ভাবে কাজ করবে এটা ভাববার বিষয়।

বেনাপোল স্থল বন্দর এর ট্রাফিক পরিদর্শক লিটন আহম্মেদ বলেন, এতে ব্যবসায়িদের ক্ষতি হবে। কারন ভারতীয় ট্রাক টার্মিনালে পণ্য রাখার জন্য কোন শেড গড়ে উঠে নাই। ইতিমধ্যে অনেক ব্যবসায়ি চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন।

বেনাপোল কাস্টমস হাউজের অতিরিক্ত কমিশনার ড. নিয়ামুল হোসেন বলেন এটা বন্দর কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে যত পোর্ট আছে সেখানে ওপেন ইয়ার্ডে কাঁচামাল আনলোড করা হয়। কারন এসব পণ্য সাথে সাথে খালাস হয়। এ ব্যাপারে আজও আমরা মিটিং করেছি। ৩১ নং শেডে স্থায়ী পণ্য রাখা হবে। যেমন মোটর পার্টস, মোটর গাড়ি।

বেনাপোল স্থল বন্দরের উপপরিচালক মামুন কবির তরফদার বলেন, পণ্য কোথায় পরিবর্তন করে রাখতে হবে তার একটি আইন আছে বন্দরের। আর এ সিদ্ধান্ত বন্দর কর্তৃপক্ষ নিবে। যে মোটর সাইকেল এর কথা বলে শেড পরিবর্তন করতে চাচ্ছে তার জন্য আলাদা শেড নির্মান করা যেতে পারে। এ সিদ্ধান্ত যদি অটল থাকে তবে সরকার যেমন রাজস্ব হারাবে তেমনি ব্যবসায়ীরাও অন্য বন্দরে চলে যাবে।

রাণীশংকৈলে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যের  বিদায় সংবর্ধনা 

হুমায়ুন কবির, রাণীশংকৈল, (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ এই প্রথমবারের মতো ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে ২৩ ডিসেম্বর বুধবার বিকালে থানা চত্বরে সদ্য অবসরে যাওয়া পুলিশ সদস্য লুৎফর রহমানের (৬০) বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয় ।

তিনি রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ আরাজি চন্দন চহট গ্রামের মৃত ফুল মুহাম্মদের ছেলে । থানা সূত্রে জানা গেছে, লুৎফর রহমান ১৯৮০ সালে পুলিশ সদস্য হিসেবে প্রথম ঢাকার ডিএমপি’তে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তার চাকুরী জীবনের শেষ পর্যায়ে গত ১০-০৩-২০ খ্রীষ্টাব্দে পুলিশ সদস্য হিসেবে রাণীশংকৈল থানায় যোগদান করেন। এবং একিই স্টেশনে ১-১২-২০ খ্রীষ্টাব্দে দীর্ঘ কর্মজীবন সমাপ্ত করে পিআরএল যান।

বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন

সহকারি পুলিশ সুপার, রানীশংকৈল সার্কেল তোফাজ্জল হোসেন, অফিসার ইনচার্জ,  এস এম জাহিদ ইকবাল, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল লতিফ শেখসহ থানা পুলিশের সকল এস আই, এ এস আই ও পুলিশ সদস্যবৃন্দ।

উল্লেখ্য, অনুষ্ঠান শেষে থানা পুলিশ অবসরপ্রাপ্ত ঐ পুলিশ সদস্যকে থানার নিজস্ব গাড়ীতে করে তার বাড়িতে পৌঁছে দেন।

পোল্ট্রি ফার্ম ও বিষ্টার স্তুপ দুর্গন্ধ সইতে না পেরে-বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হলেন শ্রীপুরের মমতাজ বেগম

মাগুরা প্রতিনিধিঃ অনেক সাধ করে বাড়ি করেছিলেন মমতাজ বেগম। স্বপ্ন ছিল স্বামী-সন্তান নিয়ে গাছ-পালা ঘেরা, ছায়া ঢাকা,পাখি ডাকা বাড়িতে সুখে-শান্তিতে বসবাস করবেন।

কিন্তু তার সে স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। বাড়ি তৈরীর আট-দশ বছর পর গত প্রায় দু’বছর পূর্বে তার বাড়ির কোল ঘেষে দুই পাশ জুড়ে তিনটি বিশাল পোলট্রি ফার্ম গড়ে তোলে প্রতিবেশী অনিক মোল্ল্যা।

শুধু তাই নয় মমতাজ বেগমের বসত ঘরের একেবারেই কোল ঘেষে ডোবা কেটে সেখানে ফেলতে শুরু করে পোলট্রি ফার্মের বর্জ্য ও মুরগির বিষ্টা । ফলে বর্জ্য, মুরগির বিষ্টার অসহনীয় দুর্গন্ধ ও মশা-মাছির উপদ্রব সইতে না পেরে অবশেষে সাধের বাড়িঘর ফেলে আশ্রয় নিলেন মদনপুর গ্রামে বাবার বাড়িতে ।

বিষয়টি নিয়ে এলাকার ভূক্তভোগি মহল ও মমতাজ বেগম একাধীকবার স্থানীয় প্রশাসনের দারস্থ হয়েও কোন ফল পাননি বলে অভিযোগ করেন। ঘটনাটি মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার ৭নং সব্দালপুর ইউনিয়নের আমতৈল গ্রামের। এই গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তি আছাদুল মোল্ল্যার পুত্র অনিক মোল্ল্যা এই ফার্ম গুলির মালিক।

সম্প্রতি সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, জনবসতি এলাকায় পোলট্রি ফার্মের মালিক অনিক মোল্ল্যা প্রতিবেশী মমতাজ বেগমের ঘরের পাশেই ডোবা কেটে সেখানে ফার্মের বজ্য ও মুরগির বিষ্টা ফেলে স্তুপাকৃতি অবস্থায় রেখেছে। ভূক্তভোগী মমতাজ বেগম বলেন, ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করে দিলেও বিষ্টার দুর্গন্ধে পেট ফুলে দম বন্ধ হয়ে আসে। বিশেষ করে দুপুর বেলা প্রখর রোদে এই দুর্গন্ধ বেশি ছড়ায়। এভাবে দিনের পর দিন দুর্গন্ধের নিঃশ্বাস গ্রহন করতে করতে স্কুল,কলেজ পড়–য়া ছেলে ও মেয়ে শ্বাস কষ্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে গেছে। তিনি আরোও বলেন, স্বামী বিজিবি’তে চাকরি করেন এবং ছেলে-মেয়েকে নিয়ে তিনি বাড়িতে থাকতেন। কিন্তু ছেলে-মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তিনি বাবার বাড়িতে গিয়ে বসবাস করছেন। মমতাজ বেগম প্রায় ছয় মাস পূর্বে এঘটনার প্রতিকার চেয়ে শ্রীপুর উপজেলা নির্বার্হী অফিসারের নিকট একটি লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। এরপর উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসার সরেজমিন পরিদর্শন করলেও এর কোন প্রতিকার পাননি বলে জানান। গ্রামবাসিও একত্রিত হয়ে আরেকটি আবেদন করেছিলেন কিন্ত এরও কোন প্রতিকার হয়নি। এবিষয়ে মমতাজ বেগমের স্বামী মহিদুল ইসলাম বলেন, ফার্ম অপসারনের জন্য আবেদন করায় অনিক মোল্ল্যা ক্ষিপ্ত হয়ে তার প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যমানের গাছ কেটে নিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে শ্রীপুর থানায় জিডিও করা হয়েছিল কিন্তু কোন উপকার পাননি বলে জানান। এছাড়াও পোল্ট্রি ফার্ম অপসারনের জন্য আবেদন করায় তাকে এবং তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরকেও প্রাণ নাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: ইয়াসিন কবীর বলেন,মমতাজ বেগম ও এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগের মাধ্যমে বিষয়টি তদন্ত করা হয়েছে । তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় ফার্ম মালিককে সতর্ক ও জনস্বার্থে ফার্মের সকল সমস্যা সমাধানের বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল । এ নির্দেশের পেক্ষিতে ফার্ম মালিক অনিক মোল্লা ছয় মাসের মধ্যে ফার্মের বর্জ্য অপসারণসহ সকল প্রকার সমস্যা সমাধানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে লিখিতভাবে অঙ্গীকার করেছিল । কিন্ত অঙ্গীকারের সময়সিমা পার হয়ে গেলেও তিনি যদি এবিষয়ে কোন সু-ব্যবস্থা গ্রহন না করে থাকেন তাহলে এমতাবস্থায় ফার্মগুলি পুনরায় পরিদর্শন করে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে ।

ফার্ম মালিক অনিক মোল্লা অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন,পাড়া গায়ে গ্রামাঞ্চলে বসতবাড়ির আশেপাশে ফার্ম নির্মান করায় এবং মুরগি ফার্মের বর্জ্যরে দূগর্ন্ধে এলাকাবাসির বেশ ক্ষতি হচ্ছে সঠিক । তবে যতদ্রুুত সম্ভব এ সমস্যার সমাধান করে দিবেন বলে জানান।

সর্বশেষ আপডেট...