18 C
Dhaka, BD
শুক্রবার, জানুয়ারি ৩০, ২০২৬

ধামরাইয়ে লেবু বাগানে এক নারীকে গণধর্ষণ, ৫ জনকে আসামী করে মামলা।

মোঃ সম্রাট আলাউদ্দিন, ধামরাই ঢাকা থেকেঃ-ঢাকার ধামরাইয়ে সন্ধিতারা গ্রামের পাশে গুচ্ছগ্রামের লেবু বাগানে গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার(১০-নভেম্বর) ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদি হয়ে উপজেলার চৌহাট ইউনিয়নের সন্ধিতারা গ্রামের বান্দু মিয়ার ছেলে শামীমকে প্রধান আসামী করে, তাজুল ইসলামের ছেলে মোশারফ , সাইফুল ইসলামের ছেলে রুবেল, হাসান আলীর ছেলে সোহেল, নুরু মিয়ার ছেলে সুমন হোসেনের বিরুদ্ধে মোট ৫ জনকে আসামী করে নারী ও শিশু আইনে ৯(৩)/৩০ ধারায় মামলা দায়ের করাহয় ধামরাইথানা মামলা নাং-১৪।

মামলা সূত্রে জানা যায়,সন্ধিতারা গ্রামের লেবু বাগানের পাশ দিয়ে রাত ৮.৩০দিকে যাওয়ার সময় তাকে জোর করে লেবু বাগানে নিয়ে যাওয়া হয় , তারপর তাকে পাঁচ জনে মিলে পালাক্রমে গণধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। পরে ভুক্তভোগী নারীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে। এদিকে ধর্ষিতাকে পুলিশ উদ্ধার করে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয় ।

এ ব্যাপারে কাওয়ালীপাড়া বাজার তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক ইনচার্জ রাসেল মোল্লা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,ধামরাই থানায় একটি ধর্ষণের মামলা হয়েছে দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

নগরীতে আরএমপির মাস্ক বিতরণ

সৌমেন মন্ডল, রাজশাহী ব্যুরোঃ করোনাভাইরাসের সংক্রম রোধে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) পক্ষ থেকে মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সকাল ১০ টার দিকে রাজশাহী নগরীর জিরোপয়েন্টে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন, আরএমপি কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক।

এসময় আরএমপির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে- করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বৃদ্ধি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় করোনা প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে আরএমপি কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক’র নেতৃত্বে মাস্ক বিতরণ করা। এলক্ষ্যে সাধারণ মানুষকে সাচেতন ও দুস্থ্যদের মাঝে মাস্ক বিতরণ করা হয়।নগরীতে

ধামরাইয়ে ব্যাটারি চালিত ভ্যানের ধাক্কায় প্রাণ গেল পথচারী বৃদ্ধার।

মোঃ সম্রাট আলাউদ্দিন,ধামরাই ঃঢাকার ধামরাইয়ে ব্যাটারিচালিত ভ্যানের ধাক্কায় সোনা বানু (৭৫) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। ওই বৃদ্ধাকে দুর্ঘটনাস্থল থেকে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে মৃত ঘোষণা করে।

সোমবার রাত ৮টার দিকে ধামরাই গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের বাথুলি-হাতকোড়া আঞ্চলিক সড়কের হাতকোড়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সোনা বানু উপজেলার গাংগুটিয়া ইউনিয়নের মারাপাড়া গ্রামের হাফিজ উদ্দিনের স্ত্রী।

নিহতের ছেলে জানে আলম জানান, তিন ভাই ও চার বোনের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় সবাই যার যার মতো আলাদা থাকতেন। তবে মা-বাবা মেজো ভাই দেলোয়ার হোসেন ও তার সাথে মারাপাড়া গ্রামের বসতবাড়িতে থাকেন। আর বড় ভাই আওলাদ হোসেন তার শ্বশুড় বাড়ি প্রায় দুই মাইল দূরে পাশের গ্রাম বাথুলিতে থাকেন। তবে মাঝে মধ্যেই মা-বাবা নিজেদের বড় ভাই আওলাদের বাড়িতে বেড়াতে যেতেন।

সোমবার দুপুরে মা সোনা বানু একাই বড় ভাইয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান। সন্ধ্যার পর বাথুলি-হাতকোড়া আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। এসময় হাতকোড়া এলাকায় একটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানকে ধাক্কা দেয়। ভ্যানটিও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পথচারী মা সোনা বানুকে ধাক্কা দিলে গুরুতর আহত হন তিনি।

পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় মাকে নিকটস্থ মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। তবে ঘাতক মোটরসাইকেল ও ভ্যান পালিয়ে গেছে বলে জানতে পারেন তারা।

কাওয়ালীপাড়া বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রাসেল মোল্লা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় বৃদ্ধার মৃত্যুর ঘটনাটি শুনেছি। মরদেহ মানকিগঞ্জ সদর হাসপাতালেই রয়েছে। এখনো আমাদের কাছে এঘটনা কোন অভিযোগ আসেনি। তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মামলা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সার্জেন্টকে বখাটের হুমকি

সৌমেন মন্ডল, রাজশাহী ব্যুরোঃ এক মোটরবাইকে উঠেছিলেন তিনজন। তাই আটকেছিলেন ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট। ট্রাফিক আইনে দিচ্ছিলেন মামলা। আর তাই ক্ষিপ্ত হয়ে তিন আরোহীর একজন সার্জেন্টকে বললেন, ‘সাহস থাকলে পোশাক খুলে সামনে এসে দাঁড়ান। তারপর দেখছি।’

সোমবার সন্ধ্যায় রাজশাহী মহানগরীর তালাইমারি মোড়ে এমন ঘটনা ঘটে। পুলিশকে প্রকাশ্যে এমন হুমকি দেয়ায় তখন দুই যুবককে আটক করে থানায় নেয়া হয়। এদের নাম শুভ ও নাইম। পুলিশ জানিয়েছে, এরা বখাটে। নগরীর ভদ্রা ও শিরোইল কলোনী এলাকায় তাদের বাড়ি।

দায়িত্বরত সার্জেন্ট জানান, হেলমেট না পরে তিনজন যুবক মোটরসাইকেল নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় তাদের থামানো হয়। তারপর ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের জন্য তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে নাম জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু তারা নাম বলছিলেন না। উল্টো জড়িয়ে পড়েন বাগবিতÐায়। এরই একপর্যায়ে একজন পোশাক খুলে তাদের সামনে আসার হুমকি দিয়ে বসেন।

ওই সার্জেন্ট বলেন, প্রথমে তারা তাদের ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ করেন। আমি তাদের বুঝিয়ে বলি- আজ এই শহরেই আমাদের একজন পুলিশ সদস্য ট্রাকের ধাক্কায় মারা গেছেন। ট্রাফিক আইন অমান্য করলেই ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কড়া নির্দেশ আছে। তাই মামলা দিতেই হবে। আর এতেই তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এ কারণে তাদের আটক করে মতিহার থানায় নেয়া হয়।

মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএসএম সিদ্দিকুর রহমান বলেন, থানায় নেয়ার পর ট্রাফিক আইনেই মামলা দেয়া হয়েছে। তবে ট্রাফিক সার্জেন্টকে হুমকি দেয়ার জন্য একটি মুচলেকা নেয়া হয়েছে। পরে ওই দুই যুবককে ছাড়া হয়েছে।

শুটকি মৌসুম শুরু তালতলীতে শুঁটকি উৎপাদন শুরু করছে জেলেরা

মৃধা শাহীন শাইরাজ (বরগুনা) ঃ বরগুনার তালতলীর বিভিন্ন শুঁটকি পল্লীতে শুরু হয়েছে ছোট ছোট মাছ ধরে শুঁটকি তৈরির কাজ। শীত মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসে উপজেলার আশারচর, সোনাকাটা, জয়ালভাঙ্গা ও নিশানবাড়ীয়ার চরে তৈরী করছে ছোট ছোট ঘর। এ ৪ চরের শুঁটকিপল্লীর মধ্যে আশারচর অন্যতম।

এখানে রয়েছে প্রায় ২ হাজার নারী-পুরুষ জেলে। শুঁটকি ব্যবসায়ী, মালিক ও শ্রমিকের আনাগোনায় এ পল্লীগুলো এখন সরগরম।

এ উপজেলার আশারচর, সোনাকাটা, জয়ালভাঙ্গা ও নিশানবাড়ীয়ার চরের, শুঁটকি পল্লীতে নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত ৫ মাস ধরে চলে শুঁটকি প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজ। এখানকার শুঁটকিতে কোনো প্রকার কীটনাশক বা অতিরিক্ত লবণ দেওয়া হয়না বলে এই এলাকার শুঁটকির চাহিদা একটু বেশিই থাকে।

মঙ্গলবার আশারচর, শুঁটকি পল্লীতে গিয়ে দেখা যায়, এ শুঁটকি পল্লীতে মালিক, ব্যবসায়ী ও জেলে মিলে প্রায় সহস্রধিক লোক মিলে শুঁটকি উৎপাদন করার লক্ষে আপাতত অর্ধশতাধিক ছোট ছোট ঘর তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে। কেউ কেউ দেখা যাচ্ছে তাদের ঘর উঠিয়ে সাগরের ছোট ছোট মাছ ধরে শুঁটকি তৈরীর জন্য রোদে শুকাচ্ছে। একের পর এক মাছ ধরা ট্রলার সমুদ্র থেকে আসছে। এখানে প্রায় ২৫ প্রজাতির মাছের শুঁটকি জন্য রাখা হয়। এর মধ্যে রূপচাঁদা, ছুরি, কোরাল, সুরমা, লইট্ট্যা, পোপা অন্যতম।

এছাড়াও চিংড়ি, ছুড়ি, ভোল, মেদ সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের রয়েছে চাহিদা। যে সব জেলেদের ঘর উঠানো হয়েছে তারা এই মাছ গুলো বাঁশের মাচায় ও মাধুরে করে রোদে শুকাতে দেখা যায়।

এদিকে বর্ষার কয়েকমাস ছাড়া বছরের বাকি সময়ে মোটামুটি হলেও সবচেয়ে বেশি শুঁটকি তৈরি হয় শীতে। আর এ শুঁটকি বিক্রি করে জীবিকা চালান হাজারো শ্রমিক। সেখান থেকে শুঁটকি ব্যবসায়ীরা পোয়া, সোনাপাতা, মধুফাইস্যা, রূপচাঁদা, পোটকা, শাপলাপাতা, চাপিলা, ফাইস্যা, লইট্টা, চিংড়ি, ছুড়ি, ভোল, মেদ সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ কিনছেন। কেউ কেউ ওইসব মাছ পরিষ্কার করছে। একদল শুঁটকি মাচায় করে রোদে শুকাচ্ছেন আবার কেউ শুটকি প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যস্ত রয়েছেন। এখানে সামুদ্রিক মাছের মধ্যে চিংড়ি, লটিয়াসহ বিভিন্ন জাতের মাছ একসঙ্গে কিনতে হয়। এমন এক ছুড়ি মাছ বিক্রি হয় ৫শত-৭শত টাকায়। কাচা মাছ শুকানোর পর প্রতিকেজি শুঁটকিতে একদেড়শত টাকা লাভ থাকে। এ ব্যবসা লাভজনক হওয়ায় অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর শুঁটকি পল্লীগুলোতে ঘরের সংখ্যা বেড়েছে বলে জেলেরা জানিয়েছেন। এছাড়াও এখানকার শুঁটকি পল্লির মাছের গুড়ি সারাদেশে পোল্ট্রি ফার্ম ও ফিস ফিডের জন্য সরবরাহ হয়ে থাকে।

আশারচর এলাকার শুঁটকি ব্যবসায়ী মো. রুপচাঁন হাওলাদার জানান, জেলেরা কেউ কেউ ঘর উঠানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে। আবার কেউ ঘর উঠিয়ে এখন শুঁটকি তৈরিতে ব্যস্ত রয়েছে। এখানকার শুঁটকি স্বাস্থ্যসম্মত ভাবে তৈরি হওয়াতে চাহিদা রয়েছে বেশ। এই চরের শুঁটকি চট্রগ্রাম, সৈয়দপুর, খুলনা ও জামালপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চালান হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, শুঁটকি তৈরির শুরুর আগেই এখান থেকে সরকারি ভাবে এসব শুঁটকি বিদেশে রফতানির উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক। কারণ দেশ থেকে সরকারিভাবে শুঁটকি রফতানির কোনো ব্যবস্থা নাই।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, সরকারিভাবে শুঁটকি রফতানির জন্য মৎস্য অধিদফতরে বেশ কয়েকবার সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। সরকারের চিন্তা আছে জেলার তালতলী ও পাথরঘাটা শুঁটকি উৎপাদন করার। তাই সরকারীভাবে প্রকল্পর মাধ্যমে শুঁটকি উৎপাদন করা হবে।

সাভারে ৬তলা ভবন হেলে পড়েছে অরেকটি ভবনের উপর

জাহিদুল ইসলাম অনিক, সাভারঃ সাভারে একটি বহুতল ভবন অপর একটি ভবনের ওপর হেলে পড়েছে। এঘটনায় ভবনে থাকা সকলকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) দুপুরে সাভার পৌর এলাকার ওয়াপদা রোডের মৃত তাজুল ইসলামের ৬ তলা ভবন পাশের ভবনে হেলে পড়ার ঘটনা ঘটে। ভবনটিতে প্রায় অর্ধশতাধিক পরিবার বসবাস করে আসছিলো।
পৌর মেয়র আব্দুল গণি জানান, গত কয়েক দিন ধরে ভবনটি হেলে পড়েছে। তবে আজ ভবনে ফাটল দেখা দেওয়ায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে হ্যান্ড মাইক দিয়ে ভবন থেকে নিরাপদে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পৌরসভার চীফ ইঞ্জিনিয়ার শরিফুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ভবনটি সিলগালা করা হবে। পরে বুয়েটের প্রকৌশলী এসে পরিক্ষা নীরিক্ষার পর সঠিক ঘটনা জানা যাবে।
তিনি আরও জানান, এই ভবন টি ৯০ এর দশকে নির্মান করা হয়েছিলো যার কোন বৈধ কাগজপত্র বাড়ির মালিক দেখাতে পারে নাই। অবৈধভাবে ভবনটি নির্মান করা হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংবাদ পেয়ে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এএফএম সায়েদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং হেলে পড়া ভবনের সামনে পুলিশ অবস্থান নিয়ে জনসাধারণ কে সরিয়ে দিচ্ছেন।

সাভার ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার ফরহাদ হোসেন জানান, ভবন থেকে নিরাপদ দুরুত্বে সকলকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ভবনটি কিছুটা দেবে গিয়েছে। তবে হেলে পড়েছে কি না পরিক্ষা নিরিক্ষার পর জানা যাবে।

রাণীশংকৈলে পাওয়ার টিলারের চাকায় পিষ্ট হয়ে স্কুল ছাত্রের মৃত্যু

হুমায়ুন কবির, রাণীশংকৈল( ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার রাউতনগর দক্ষিণ ভবানিডাঙ্গী গ্রামে ১০ নভেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে একটি পাওয়ার টিলারের চাকায় পিষ্ট হয়ে শামীম(১৩) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।

নিহত শামীম ওই গ্রামের মেরাজুল ইসলামের ছেলে। সে রাউতনগর রেড সান স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ালেখা করতো।

জানা গেছে, ঘটনার দিন, দুপুর ১টার দিকে উপজেলার রাউতনগর দক্ষিণ ভবানিডাঙ্গি গ্রামের একটি কাঁচা রাস্তায় একদিক থেকে বাইসাইকেলে চড়ে শামীম আসছিল। অপর দিক থেকে আসা একটি পাওয়ার টিলারের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে শামীম রাস্তায় পড়ে যায়। ফলে পাওয়ার টিলারের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পাওয়ার টিলার ড্রাইভার পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে রাণীশংকৈল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাশ উদ্ধার করে। এসময় সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার তোফাজ্জল হোসেন, ওসি এস এম জাহিদ ইকবালসহ পুলিশদল উপস্থিত ছিলেন।

নিহতের পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় তারা পুলিশের কাছে লাশ দাফনের অনুমতি চায়। তবে, সহ- পুলিশ সুপার সার্কেল তোফাজ্জল হোসেন জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হবে।

হাসপাতালের কর্মচারীদের মারধরে এএসপির মৃত্যু

চিকিৎসা নিতে এসে হাসপাতাল কর্মীদের মারধরে মৃত্যু হলো বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ আনিসুল করিমের।

সোমবার (৯ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে ঢাকার হার্ট ফাউন্ডেশনে তিনি মারা যান। এর আগে মানসিক চিকিৎসার জন্য ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে মাইন্ড এইড হাসপাতালে নেয়া হয়েছিলো। পরিবারের অভিযোগ, ওই হাসপাতালে ভর্তির পরপর সেখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হাসপাতালের ব্যবস্থাপকসহ ছয়জনকে আটক করেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করায় তারা পুলিশ কর্মকর্তাকে শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন।

ওই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দেখার সময় কেউ একজন তা ভিডিও করে; যা পরে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওর কথাবর্তায় ধারণা করা যায়, হাসপাতালের ফুটেজ দেখার সময় আটককৃতদের কয়েকজন পুলিশের সঙ্গে ছিলেন এবং তাদের কাছ থেকে ঘটনার বিবরণ মিলিয়ে নিচ্ছিলো পুলিশ।

আনিসুল করিম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৩ব্যাচ বায়োকেমিসট্রির ছাত্র ছিলেন এবং ৩১তম বিসিএসে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পান। তিনি স্ত্রীসহ ৩ বছর বয়সের এক ছেলে সন্তানের জনক ছিলেন। তার বাড়ি গাজীপুর সদরের বারুদা এলাকার মুসলিমাবাদ রোডে।

আনিসুল করিমের ভাই রেজাউল করিম গণমাধ্যমকে বলেন, পারিবারিক ঝামেলার কারণে তার ভাই মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারা তাকে নিয়ে মাইন্ড এইড হাসপাতালে যান। কাউন্টারে যখন ভর্তির ফরম পূরণ করছিলেন, তখন কয়েকজন কর্মচারী তাকে দোতলায় নিয়ে যান। এর কিছুক্ষণ পর তাদের জানানো হয় আনিসুল অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছেন। এরপর তারা তাকে দ্রুত হৃদ্‌রোগ ইনস্টিটিউটে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় ওই হাসপাতাল থেকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। সেখানে দেখা যায়, বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটের দিকে পুলিশ কর্মকর্তা আনিসুল করিমকে টানাহেঁচড়া করে একটি কক্ষে ঢোকানো হয়। তাকে হাসপাতালের ছয়জন কর্মচারী মিলে মাটিতে ফেলে চেপে ধরেন। এরপর নীল পোশাক পরা আরও দুজন কর্মচারী তার পা চেপে ধরেন। এ সময় মাথার দিকে থাকা দুজন কর্মচারী হাতের কনুই দিয়ে তাকে আঘাত করছিলেন। হাসপাতালের ব্যবস্থাপক আরিফ মাহমুদ তখন পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। একটি নীল কাপড়ের টুকরা দিয়ে আনিসুলের হাত পেছনে বাঁধা হয়।

চার মিনিট পর আনিসুলকে যখন উপুড় করা হয়, তখনই তার শরীর নিস্তেজ ছিল। একজন কর্মচারী তখন তার মুখে পানি ছিটান। তাতেও আনিসুল করিম নড়াচড়া করছিলেন না। তখন কর্মচারীরা কক্ষের মেঝে পরিষ্কার করেন। সাত মিনিট পর সাদা অ্যাপ্রোন পরা একজন নারী কক্ষে প্রবেশ করেন। ১১ মিনিটের মাথায় কক্ষের দরজা লাগিয়ে দেওয়া হয়। ১৩ মিনিটের মাথায় তার বুকে পাম্প করেন সাদা অ্যাপ্রোন পরা নারী।

শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানে আলম মিয়া বলেন, হৃদ্‌রোগ ইনস্টিটিউটের খাতায় লেখা রয়েছে ‘ব্রট ডেড’ অর্থাৎ সেখানে নিয়ে আসার আগেই আনিসুলের মৃত্যু হয়েছিল।

ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মৃত্যুঞ্জয় দে গণমাধ্যমকে বলেন, হাসপাতালের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ তারা সংগ্রহ করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছয়জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আটক করা হয়েছে। আনিসুলের মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। কী ঘটেছিল, তা জিজ্ঞাসাবাদে জানা যাবে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান জানান, বিএমপি’র ট্রাফিক বিভাগের সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ আনিসুল করিম গত ৮ নভেম্বর শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ কারণে ১০ দিনের ছুটি নিয়ে তিনি ঢাকায় পরিবারের কাছে যান। সোমবার সকালে তাকে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট হাসপাতাল এবং পরে আদাবরের মাইন্ড এইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মোহাম্মদ আনিসুল করিমকে মৃত ঘোষণা করেন।

অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৬ পুলিশ কর্মকর্তা

বাংলাদেশ পুলিশের ৬ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত পুলিশ মহা-পরিদর্শক (অ্যাডিশনাল আইজিপি) পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার (৯ নভেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

পদোন্নতি পাওয়া সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তারা হলেন- পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (চলতি দায়িত্বে) মোহাম্মদ ইব্রাহীম ফাতেমী, পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (চলতি দায়িত্বে) এসএম রুহুল আমিন, হাইওয়ে পুলিশ ইউনিটের অতিরিক্ত আইজিপি (চলতি দায়িত্বে) মল্লিক ফখরুল ইসলাম, অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের অতিরিক্ত আইজিপি (চলতি দায়িত্বে) মো. কামরুল আহসান, স্পেশাল ব্রাঞ্চের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. মাজহারুল ইসলাম ও বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পদোন্নতি পাওয়া পদে যোগদানের পর এ আদেশ কার্যকর হবে। এতে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাদের যোগদানের চিঠি পাঠাতে এবং পরবর্তী পদায়নের আদেশ না হওয়া পর্যন্ত তাদের বর্তমান দায়িত্ব পালন করে যেতে বলা হয়েছে।

রাণীশংকৈলে ফুলকপি- বাঁধাকপি’র বাম্পার ফলন কৃষকের মুখে হাসি

হুমায়ুন কবির, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ে রাণীশংকৈল উপজেলায় এ বছর ফুলকপি ও বাঁধাকপির বাম্পার ফলন হয়েছে এবং বাজারে ভাল দাম থাকায় হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে।

আগাম শীতকালীন সবজি হিসেবে ফুলকপির দাম কেজি প্রতি ৫৫-৬৫ টাকা ও বাঁধাকপি ৫০-৬০ টাকা থাকায় উপজেলার হোসেনগাঁ ইউনিয়নের পদমপুর (মিলপাড়া) গ্রামের লিটন আলী জানান, গতবছর আবাদের চেয়ে এবার অনেক বেশি ফুলকপি ও বাঁধাকপি আবাদ হয়েছে। প্রতিমন ফুলকপি পাইকারী দরে ২ হাজার থেকে ২২ শত টাকা এবং বাঁধাকপি ১৮ শত থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এবং খরচ বাদ দিয়ে বেশ মুনাফা পাচ্ছি।

৯ নভেম্বর সোমবার সকালে উপজেলার ডায়াবেটিক মোড়, পদমপুর, রাউতনগড়সহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় মাঠ থেকেই সবজি ব্যবসায়ীরা কপি ক্রয় করছেন। এছাড়াও রংপুর, বগুড়া, ঢাকা ও সিলেটের পাইকাররা এ উপজেলা থেকে আগাম সবজি হিসেবে বাঁধাকপি ও ফুলকপি ভোর রাত থেকে প্রতিদিনের ন্যায় ট্রাকযোগে ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন।

জানা গেছে এবার উপজেলার বিরাশী, উমরাডাঙ্গী, উত্তরগাঁও মহলবাড়ী, কলিগাঁ, ভান্ডারাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক কপিচাষ হয়েছে।

উপজেলায় কর্মরত সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের উপ-সহকারি কৃষি অফিসার গণ এসব কৃষকদের সাথে সার্বিক যোগাযোগের মাধ্যমে সু-পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন প্রান্তিক কৃষকেরা।

তাঁরা জানান মারবেল, মুক্তি, ম্যাগনেট-১২, ভিক্টোরী জাতের ফুলকপি ও কেকে ক্রশ, ট্রপিকল্যান্ড, কুইকার , সুপার সেট জাতের বাঁধাকপি এ অঞ্চলে বেশ জনপ্রিয়।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ সঞ্জয় দেবনাথ বলেন, এই উপজেলার মাটি ফুুলকপি ও বাঁধাকপি চাষের জন্য বেশ উপযোগী।
এ বছর এ উপজেলায় ৪০০ হেক্টর ফুলকপি ও ২০০ হেক্টর বাঁধাকপির আবাদ হয়েছে। আমরা চাষিদেরকে সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। আশা করা যায় আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে চাষিরা বেশিদামে এসব সবজি বিক্রি করে যথেষ্ট লাভবান হবেন।

সর্বশেষ আপডেট...