ভালুকা(ময়মনসিংহ)প্রতিনিধিঃ ময়মনসিংহের ভালুকায় রব্বানী নামক ১২ বছরের এক ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের জামিরদিয়া আইনুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র মোঃ রব্বানীর গলাকাটা লাশ হোসেন আলী সরকার একাডেমী ও জামিরদিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনে সরকারী স্কুলের দপ্তরি মোঃ ক্বারী দেখতে পেয়ে আশপাশের লোকজনকে জানায়। পরে খবর পেয়ে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে। নিহত শিশু রব্বানী তার বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান।
তার পিতা শফিকুল ইসলাম জামিরদিয়া মোড়ে রেডিও টেলিভিশনের মেকারী করে এবং মাতা হেনা স্থানীয় ওরিয়ন মিলে চাকুরী করে। তারা জামিরদিয়া আইনুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার প্রাক্তন শিক্ষক এমদাদুল হক মাষ্টারের বাড়ীতে ভাড়া থাকতো। তাদের বাড়ি শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার যোগানীয়া ইউনিয়নের কাপাসিয়া গ্রামে। নিহতের মা হেনা জানান, দুপুর ১টার সময় রব্বানী বাসা থেকে চাবী নিয়ে বের হয়ে আসে তারপর আর তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না।
পরে তার ছেলে খুন হয়েছে বলে খবর পেয়ে এসে তার ছেলের লাশ সনাক্ত করে। ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন জানান, নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে।
তবে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড, এ ব্যাপারে তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।
তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি॥ বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্বামীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার নথি গায়েব করা হয়েছে। মামলার পরবর্তি তারিখতো নেইই বরং নথি গায়েবের কারনে বিচারের বাণী নিরবে নিবৃতে কাঁদে।
রবিবার তালতলী প্রেসক্লাবে এসে সংবাদ সম্মেলন করে এমন অভিযোগ করেন তালতলী উপজেলার আলীরবন্দর এলাকার সিদ্দিক দফাদারের কন্যা সালমা বেগম।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সালমা বলেন, পটুয়াখালীর গলাচিপার চিকনিকান্দি এলাকার দেলোয়ার মোল্লার ছেলে আবুবকর ছিদ্দিক মামুনের সাথে ২০১৫সালের ১৯জুন আমার বিয়ে হয়। এসময় বাবা যৌতুক হিসেবে নগদ ১লক্ষ টাকা এবং ১লক্ষ টাকার মালামাল দেন। বিয়ের বছর খানেক যেতে না যেতেই স্বামী আবুবকর ছিদ্দিক মামুন মটরসাইকেল কেনার জন্য আরো ১লক্ষ টাকার দাবী করেন। বাবার পক্ষে যৌতুক লোভী স্বামীর এ দাবী মেটাতে না পারায় আমার উপর নেমে আসে অমানুষিক নির্যাতন। এক পর্যায় শশুর, শাশুরী ও স্বামী মারধর করে আমাকে বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দেয়। তখন উপায়ান্ত না পেয়ে বাবার বাড়ী চলে এসে অ্যাডভোকেট খাইরুল ইসলামের মাধ্যমে বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্বামীর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করি। যার নং-৫৪৫/১৮। করোনায় আদালত বন্ধের পর মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে আমার আইনজীবি অ্যাডভোকেট খাইরুল ইসলামের সাথে বারবার যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান মামলার নথি হারানো গেছে। নথি পাওয়া গেলে জানানো হবে।
ভূক্তভোগী সালমার অভিযোগ বিবাদীর কাছ থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময় মামলার নথি গায়েব করা হয়েছে। এ কারনে মামলার পরবর্তি তারিখও জানা যায়নি এবং মামলার কোন অগ্রগতি নেই। নথি গায়েব হওয়ার কারনে বিচারের বাণী নিরবে নিবৃতে কাঁদে।
এবিষয় ভূক্তভোগী সালমার আইনজীবি অ্যাডভোকেট খাইরুল ইসলাম অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তপূর্বক বিবাদীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেছেন। মামলার কপি আমার কাছে রয়েছে তবে আদালতের নথি পেশকার খুজে পাচ্ছেনা। নথি খুজে না পাওয়ার কারনে মামলার পরবর্তি তারিখ জানতে পারিনি। নথি খুজে পাওয়া গেলে মামলার পরবর্তি পদক্ষেপ নেয়া হবে।
সময় ডেস্ক ঃ সামনের শীতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এছাড়াও করোনার ভ্যাকসিন কেনার সকল কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সদর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক আয়োজিত ২৬০ পাম্পযুক্ত গভীর নলকূপ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানান, এসময় বিয়ে, নানা ধরণের সভা-সমাবেশসহ সামাজিক দূরত বজায় রাখা ছাড়াও খেলাধুলাসহ অন্যান্য বিষয়াদি সীমিত আকারে করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। করোনার ভ্যাকসিন কেনার সকল কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বিশ্ব ব্যাংকসহ সকল ব্যাংক ভ্যাকসিন ক্রয়ের টাকা দিতেও সম্মতি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এসময় জেলা প্রশাসক এস এম ফেরদৌস, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ইসরাসিন হোসেন, সদর উপজেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. কাবুল উদ্দিনসহ সদর উপজেলার বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে ২৬০ জন সুবিধাভোগীর মাঝে একটি করে পাম্প যুক্ত গভীর নলকূপ বিতরণ করেন মন্ত্রী।
সময় ডেস্ক ঃ অবশেষে বদলে ফেলা হচ্ছে কক্সবাজারের বহুল আলোচিত সমালোচিত মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা। প্রশাসনিক পরিবর্তনের পর এবার নতুন করে মাদক ব্যবসায়ীদের তথ্য ভিত্তিক তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে পুলিশ। একাধিক মামলা রয়েছে বা কারাগারে বন্দি, তাদের পাশাপাশি নেপথ্যে মাদক ব্যবসায় সম্পৃক্তদেরকেও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার কথা জানিয়েছেন রেঞ্জ ডি আই জি।
কক্সবাজারে প্রকৃত ইয়াবা ব্যবসায়ীর সংখ্যা কতো সেটা এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। দুবছর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৭৩ জন শীর্ষস্থানীয় ইয়াবা গডফাদারের একটি তালিকা তৈরি করে। পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে আরো ১৭৯ জন মাদক ব্যবসায়ীর নাম যোগ করা হয়।
সবশেষ এই ২৫২ জনসহ কক্সবাজারের ৮টি থানায় মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যা উল্লেখ করা হয় ১ হাজার ১৫১ জন। কিন্তু শুরু থেকেই এই তালিকা নিয়ে রয়েছে আলোচনা-সমালোচনার পাশাপাশি নানা অভিযোগ।
কক্সবাজার বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আয়াছুর রহমান বলেন, ‘তদন্তে দেখা গেছে মাদক ব্যবসায়ীর তালিকায় নাম আছে কিন্তু তারা আসলে জড়িত না।’
দেশে ইয়াবা পাচারের নিরাপদ রুট কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত। তথ্যসূত্র বলছে, মিয়ানমার থেকে এই সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা ঢুকছে ৯ হাজার কোটি টাকার বেশি। এই অবস্থায় মাদক পাচার রোধে প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ীদের অন্তর্ভূক্ত করে তালিকা তৈরির জন্য থানাগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডি আই জি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘যারা ইতিপূর্বে মাদক মামলায় গ্রেফতার হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধেই আমরা নতুন করে তালিকাভুক্ত করবো।’
গত দু’বছরে জেলায় মাদক বিরোধী অভিযানের নামে পুলিশসহ সরকারি বিভিন্ন বাহিনীর হাতে বন্দুকযুদ্ধের শিকার হয়েছে অন্তত ২১৪ জন। এর মধ্যে ৩১ জুলাই রাতে পুলিশের গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান নিহত হলে মাদক বিরোধী এই অভিযান নিয়েই প্রশ্ন উঠে।
এর মাঝে আমূল পরিবর্তনের পর গত সপ্তাহে যোগ দিয়েছেন কক্সবাজার জেলার পুলিশ সুপারসহ ১৫০৭ জন সদস্য।
কক্সবাজার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান বলেন, ‘নেপথ্যে কি আছে। সম্মুখে করা আছে। পুরো নেটওয়ার্কটাই আমরা আবিষ্কার করার চেষ্টা করবো।’
পুলিশ গত বছর তালিকাভূক্ত ১২৩ জন মাদক ব্যবসায়ীকে জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করালেও ইয়াবার পাচার বন্ধ না হয়ে বহুগুণ বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মুন্সীগঞ্জ : নারী ধর্ষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে মুন্সীগঞ্জে পৃথব ভাবে গণস্বাক্ষর ও মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচির পালন করা হয় ।
মুন্সিগঞ্জের ৬ উপজেলার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের আয়োজনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদী কর্মসূচী পালিত হয় এবং ৭ দফা দাবিতে জেলা প্রশাসক কে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে ১০ টায় শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রঙ্গনে জেলার ৬ উপজেলার সেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সাধারণ শিক্ষাথীদের ব্যানারে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়।
মুন্সীগঞ্জের সকল সেচ্ছাসেবী সংগঠন ও ছাত্রকল্যাণ সংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ধর্ষণ বিরোধী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল শেষে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক ( ডিসি) এর বরাবর স্মারকলিপি জমা দেয়া হয়।
জেলা প্রশাসকেের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন এডিসি দীপক কুমার রায়। পরে জেলা প্রশাসক আন্দোলনকারীদের দাবি পূরণে আশ্বাস প্রদান করেন। উপস্থিত ছিলেন ৬ উপজেলার বিভিন্ন সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবী বৃন্দ এসময় বক্তারা দেশব্যাপী নারী ধর্ষণের তীব্রনিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবী জানান এবং নারী-শিশু নিরাপত্তাবৃদ্ধির জোরালো দাবী জানানো হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী জাকিয়া বিন্তি, আদনান সাদিপ, সিরাজদিখান উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী বায়েজিদ খান, মাহমুদুর রহমান, জাহিদ হাসান দেওয়ান, আবু কাওসার প্রধান, সিকান্দার আহমেদ, লৌহজং উপজেলার পিংকি রহমান সহ বিভিন্ন উপজেলার আরো শত শত স্বেচ্ছাসেবী
সৌমেন মন্ডল, রাজশাহী ব্যুরোঃ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে এবার মাঠে নামল নারী মুক্তি সংসদ। ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। শনিবার সকালে নারী মুক্তি সংসদের রাজশাহী জেলা শাখার মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে এ ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবিতে রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির রাজশাহী মহানগরের সাধারণ সম্পাদক দেবাশিষ প্রমানিক দেবু। সভাপতিত্ব করেন নারী মুক্তি সংসদের জেলা শাখার সভাপতি তসলিমা খাতুন। তারা দেশজুড়ে ধর্ষণের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন।
দেবাশিষ প্রামানিক দেবু বলেন, সারাদেশে ধর্ষণের ঘটনা অনেক বেশি বেড়ে গেছে। কোন জায়গা আর নারীদের জন্য নিরাপদ নয়। তিনি বলেন, ধর্ষকদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হলে সরকারকে কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে। কিন্তু অনেক সময় আমরা সেটা দেখছি না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, দেশে জনসংখ্যা বেড়ে যাবার কারণে ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। এই বক্তব্য অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রী যদি এই ধরণের বক্তব্য দেন তাহলে ধর্ষকেরা আরও উৎসাহিত হবে।
মানববন্ধনে নারীনেত্রী তসলিমা খাতুন বলেন, পোশাক কখনও ধর্ষণের কারণ হতে পারে না। পোশাকই যদি মূল বিষয় হতো তাহলে ৫ বছরের শিশুরা ধর্ষণের শিকার হতো না। সারাদেশে অসংখ্য ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। কিন্তু ধর্ষকেরা শাস্তি পাচ্ছে না। ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত নারী মুক্তি সংসদ মাঠে থাকবে।
মানববন্ধনের সঞ্চালনা করেন মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদকমণ্ডলির সদস্য নাজমুল করিম অপু। সংহতি প্রকাশ করে আরও বক্তব্য দেন- মহানগর যুবমৈত্রীর সভাপতি মনিরুজ্জামান মনি, মহিলা পরিষদের জেলার সাধারণ সম্পাদক অঞ্জনা সরকার প্রমুখ।
কর্মসূচিতে নারী মুক্তি সংসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শারমীন আক্তার, আসমা বেগমসহ আরও অনেক নারী অংশ নেন।
জাহিদুল ইসলাম অনিক,সাভারঃ ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। রাজধানী ঢাকাসহ সাভারে বিভিন্ন এলাকায় স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীরা ছোট ছোট গ্রুপে ভাগ হয়ে চুরি, ছিনতাই, মাদকসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
শুধু তাই নয়, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে এক গ্রুপের সদস্যরা অন্য গ্রুপের সদস্যদের খুন করতেও দ্বিধাবোধ করছে না। পারিবারিক শিক্ষা, করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘ দিন থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা ও নৈতিক শিক্ষার অভাবে কিশোররা এমন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন সাভার হেমায়েতপুর এর ট্যানারি পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ জাহিদুল ইসলাম জাহিদ (বিপিএম.পিপিএম)।
তাই জনসচেতনতার জন্য হেমায়েতপুরে বিভিন্ন মসজিদে মুসল্লিদের মাঝে পুলিশের উদ্যোগে কিশোর গ্যাং ও মাদকবিরোধী আলোচনা সভা করা হয়।
পুলিশের এ মহৎ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সেখানে বসবাসরত জনগণ।
এ সময় হেমায়েতপুর ট্যানারি পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ জাহিদুল ইসলাম জাহিদ মুসল্লিদের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের আশপাশে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা দেখামাত্রই আমাদের জানাবেন, আমরা পুলিশ আপনার তথ্য গোপন করে, তাদের আইনের আশ্রয় নিয়ে আসব।
সাভার প্রতিনিধি : সাভারের আশুলিয়ায় ইয়ারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীর বিরুদ্ধে সৎ ভাইয়ের জমি জোরপুর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রার্থী মোশাররফ হোসেন মুশাসহ ৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৫ থেকে ৭ জনের বিরুদ্ধে তারই সৎ ভাই মজিবুর রহমান আশুলিয়া থানায় হজির হয়ে এই অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযুক্তরা হলেন- আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে মহিবুর রহমান (৪০), আজিবর রহমান আজি (৩৭), নাজিমুদ্দিন নাজি (৩৬)।
অভিযোগের এজাহারের তথ্যমতে, আশুলিয়ার মনসন্তোষ মৌজার আর এস খতিয়ান ৩৯৪, আর এস দাগ ৪৭৮, ৭০ শতাংশ পরিমান জমি খোগ দখল করে আসছেন মজিবুর রহমান। কিন্তু এই জমি অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে জোর পুর্বক দখলের পায়তারা করে আসছে। একই সাথে দখল ছেড়ে দেওয়ার জন্য প্রান নাশের হুমকিসহ নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে। এমতাবস্থায় তার স্বাভাবিক চলাফেরা বিঘ্নিত হচ্ছে। এ ব্যাপারে আদালতে মামলা দায়ের করলে (মামলা নং ৬০৯/২০১৯) ২০১৯ সালের গত ২৮ মার্চ জমিতে স্থিতিবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেয় আদালত। কিন্তু আদালতের নেষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিবাদিরা অনধিকার প্রবেশ করে বাড়ি নির্মানের জন্য রাজমিস্ত্রী দিয়ে নির্মান কাজ আরম্ভ করে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বললে বিবাদীরা মজিবুর রহমানকে প্রাননাশের হুমকি প্রদান করে ও মারপিটের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। পরে থানায় হাজির হয়ে তিনি এই অভিযোগ দায়ের করেন।
এব্যাপারে বিবাদী মুশা বলেন, আমার ওই জমির আশেপাশে কোন জমি নাই। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা ভিত্তিহীন। তবে শুনেছি থানায় অভিযোগ হয়েছে এবং তদন্ত করতে থানা থেকে পুলিশ এসেছিল।
আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক জলিল বলেন, এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ হাতে পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। একই সাথে দুপক্ষকে থানায় ডাকা হয়েছে তারা আসতেও ছেয়েছেন।
মিঠু হালদার ঃ শোলা এক প্রকার উদ্ভিদ ,যা ধানখেত ও জলাভূমিতে জন্মে। এটি দিয়ে কারুকার্যময় হরেক রকম জিনিস তৈরি করা হয়।
প্রতিমা নির্মাণে ও বর-কনের টোপর তৈরিতে শোলা ব্যবহৃত হয়। টোপরে কদম ফুলের ঝালর থাকে। শিশুতোষ খেলনা ও ঘরের শৌখিন সাজ শোলাশিল্পে বৈচিত্র্য এনেছে। বৃত্তিজীবী মালাকারেরা এ শিল্পের রূপকার। এটি বাংলার উল্লেখযোগ্য লোকজ শিল্প।
তারা শোলা, সুতা, কাগজ, আঠা ও রঙের সাহায্যে পাখি, হাতি, ফুল, পুতুল, নৌকা, চাঁদমালা, ঝালর ইত্যাদি তৈরি করে মেলা ও হাটবাজারে বিক্রি করে। শোলার বৈজ্ঞানিক নাম Aeschymene aspera ।
বৈষ্ণবেরা শোলানির্মিত রাধাকৃষ্ণের মূর্তি রাসমঞ্চে প্রতিষ্ঠা করেন পূজার জন্য। তিন সারির কদম ফুল ও পাতার মাঙ্গলিক নামের এই শিল্পকর্ম একটি শৌখিন দ্রব্য; ঘরে ঝুলিয়ে রাখা হয়। ব্রিটিশ আমলে শোলার হ্যাট জনপ্রিয় ছিল। ধারালো ছুরি ও কাঁচি এ শিল্পের প্রধান যন্ত্র। শুকনো শোলার ছাল খুলে এর সাদা অংশ ব্যবহার করা হয়। ছুরি দিয়ে প্রয়োজনমতো কেটে মালাকার হাতের কৌশলে এসব শিল্পকর্ম তৈরি করেন।
বাংলাপিডিয়া থেকে জানা গেছে, শিব হিমালয়কন্যা পার্বতীকে বিবাহ করার সময় শ্বেত মুকুট পরার ইচ্ছা পোষণ করেন। দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা তখন মুকুট তৈরির উপাদানের কথা ভাবতেই শিবের ইচ্ছায় জলাশয়ে একধরনের উদ্ভিদ জন্মে, সেটাই শোলাগাছ।
কিন্তু বিশ্বকর্মা শুধু পাথর বা কাঠের মতো শক্ত দ্রব্যে কাজ করতে পারদর্শী, শোলার মতো নরম জিনিসে নয়। তখন শিবের ইচ্ছায় জলাশয়ে এক সুকুমার যুবকের আবির্ভাব ঘটে, যাকে বলা হয় মালাকার। শোলাশিল্পের সঙ্গে জড়িতরা এখন এই নামেই পরিচিত এবং হিন্দু সমাজভুক্ত।
মালাকারেরা বংশানুক্রমে শোলা দিয়ে বৈচিত্র্যময় টোপর, দেবদেবীর অলংকার, চালচিত্র, পূজামন্ডপের অঙ্গসজ্জার দ্রব্যাদি, মালা, গয়না, খেলনা ও গৃহসজ্জার নানা উপকরণ তৈরি করে।
সূত্রধর ও কর্মকারেরা বিশ্বকর্মার এবং মালাকারেরা শিবের উপাসক। এদের ধারণা, শিবের ইচ্ছায় তাদের আবির্ভাব ঘটেছে, তাই তিনিই তাদের উপাস্য।
শোলা একটি কান্ডসর্বস্ব গাছ। কান্ডের বাইরের আবরণটা মেটে রঙের, ভেতরটা সাদা। গাছ সাধারণত ৫-৬ ফুট লম্বা হয়, কান্ডের ব্যাস দুই থেকে তিন ইঞ্চি। বাংলাদেশে দুই প্রকার শোলা জন্মে: কাঠশোলা ও ভাটশোলা। কাঠশোলা অপেক্ষাকৃত শক্ত, ভাটশোলা হালকা ও নরম।
বাংলাদেশের মানিকগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ (ঢাকা), মুন্সিগঞ্জ, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, জামালপুর, শেরপুর, যশোর, রংপুর, দিনাজপুর ও বরিশাল অঞ্চল শোলাশিল্পের জন্য প্রসিদ্ধ। একসময় পুরান ঢাকার মালিটোলা এলাকায় এর কারিগর মালাকারদের বসবাস ছিল বলে ওই এলাকার নাম হয়েছে মালিটোলা। অবশ্য এখন সেখানে শোলার কাজ তেমন হয় না; বরং শাঁখারীবাজার এলাকায় এখনো অনেকে শোলার কাজ করেন। তাঁরা হলেন প্রকাশ সুর, অভি সুর, তপন নন্দী প্রমুখ।
তপন নন্দী দেবদেবীর গয়না, তাদের চালচিত্র ও পোশাক তৈরিতে অত্যন্ত দক্ষ। শাঁখারীবাজারের বেশির ভাগ পূজামন্ডপের পশ্চাৎপট ও সজ্জার কাজ তিনিই করে থাকেন।
ঢাকার বাইরে মাগুরা জেলার শতপাড়ার হাজরাহাটি গ্রামের মহাদেব মালাকার ও শঙ্কর মালাকারের শোলার তৈরি টোপর ও বিয়ের মালা সূক্ষ্মতা আর নিপুণতায় অপূর্ব। তারা বংশপরম্পরায় এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত। কুষ্টিয়ার আড়পাড়া গ্রামের গোপেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীও একজন দক্ষ শিল্পী।
শোলার শিল্পকর্ম সৃষ্টিতে তেমন কোনো যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয় না। একটি ধারালো ছুরি আর একখন্ড পাথর কিংবা কাঠই যথেষ্ট। প্রথমে ধারালো ছুরির সাহায্যে শোলাকে প্রয়োজনমতো টুকরো করা হয়। পরে ছুরির মাধ্যমে পাতলা করে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে একটি লম্বা পাতের মতো করা হয়। যেটিকে জড়িয়ে জড়িয়ে পুনরায় কান্ডের মতো করে দড়ি বেঁধে ছুরির সাহায্যে নানা আকারের পাপড়ি কেটে বেলি, কদম ইত্যাদি ফুল তৈরি হয়।
টোপর, পশুপাখি, অলংকার, পশ্চাৎপট, পটচিত্র প্রভৃতি তৈরিতে পাতলা করে কাটা শোলাকে আঠার সাহায্যে যুক্ত করা হয়। পরে প্রয়োজন অনুসারে তাকে বিভিন্ন আকার দেওয়া হয়। শোলাকে যুক্ত করতে সাধারণত নিজেরাই তেঁতুলবিচির আঠা তৈরি করে নেয়। এখন অবশ্য কৃত্রিম আঠা ব্যবহার করা হচ্ছে।
শোলার শিল্পকর্ম আকর্ষণীয় করতে মালাকারেরা রং, জরির সুতা, চুমকি ইত্যাদি ব্যবহার করেন। শাঁখারীবাজারে সম্পূর্ণ শোলা দিয়ে তৈরি একটি বিয়ের টোপর চার শ থেকে পাঁচ শ টাকায় বিক্রি হয়। এ ছাড়া এর তৈরি কুঁচিমালাও হিন্দু বিয়েতে প্রয়োজন পড়ে। ধর্মীয় উৎসবে এটি দিয়ে ক্যানভাসের মতো তৈরি করে তাতে বিভিন্ন দেবদেবীর চিত্র অঙ্কন করা হয়। এগুলো ঘটচিত্র, করন্ডিচিত্র, মুখচিত্র ইত্যাদি নামে পরিচিত। অনেক সময় গণেশ, শীতলা, মনসা, কার্তিক ও চামুন্ডার চিত্রও আঁকা হয়ে থাকে।
এখন মালাকারেরা বিয়ের টোপর, মালা ছাড়াও চাহিদা অনুযায়ী নানা ধরনের খেলনা, পাখি, ফুল, পুতুল ইত্যাদিও তৈরি করে। শোলাশিল্প সংরক্ষণ করা কষ্টকর; কারণ, এর স্থায়িত্ব কম।
এ শৌখিন শিল্প আমাদের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। এটি হারিয়ে যাওয়ার আগে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। করোনাভাইরাসের প্রভাবে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের ক্ষুদ্র শোলাশিল্প খাত।
গত বছর নববর্ষ সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কারিগরেরা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে নববর্ষের অনুষ্ঠান হয়নি। তাই শোলার থোকা থোকা ফুল তৈরি করলেও ক্রেতা ছিল না।
সারা বছর টুকটাক শোলার কাজ থাকলেও মৌসুম হচ্ছে অগ্রহায়ণ থেকে বৈশাখ।