সাভার প্রতিনিধি ঃ সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নে মাদক ও কিশোর গ্যং বিরোধী আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। চলো যাই যুদ্ধে মাদকের বিরুদ্ধে এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ বিকেলে সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের পানপাড়া এলাকার জনগনকে সচেতন করার লক্ষ্যে এ মাদক ও কিশোর গ্যং বিরোধী এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
দেশের যুব সমাজকে মাদক থেকে রক্ষা করতে পানপাড়া এলাকাবাসির আয়োজনে উক্ত মাদকবিরোধী আলোচনা ও জন সচেতনতা মূলক সভায় প্রধান অতিথী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তেতুঁলঝোড়া ইউপি চেয়ারম্যান ফখরুল আলম সমর,বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহিদুল ইসলাম (বিপিএম.পিপিএম) ইনচার্জ, ট্যানারী পুলিশ ফাঁড়ি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে চেয়ারম্যান ফখরুল আলম সমর বলেন- ‘চলো যাই যুদ্ধে মাদকের বিরুদ্ধে’ এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে বাস্তবে রুপ দিতে আমরা পানপাড়া এলাকাকে মাদক মুক্ত করতে বিভিন্ন কর্মসূচী হাতে নিয়েছি। পানপাড়া এলাকার কোথায় কোথায় মাদকের ছড়াছড়ি ইতোমধ্যে তা চিহ্নিত করা হয়েছে। মাদকের সাথে যারা জড়িত রয়েছেন আমরা আশাবাদি আপনার মাদক ছেড়ে দিবেন।
তিনি আরও বলেন- আমরা শুরুতেই মাদক আসক্তদের নিয়ে মাদক ছেড়ে দিয়ে সুন্দর সমাজ গঠেনের আহবান জানাচ্ছি। তাতে কাজ না হলে মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহন করা, তারপর যদি কাজ না হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। মাদক নির্মূলের জন্য ইতোমধ্যে সমাজের সচেতন নাগরিকদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হচ্ছে। অচিরেই মাদক নির্মূল কমিটি মাঠে নামবে।
এসময় জাহিদুল ইসলাম (বিপিএম.পিপিএম) ইনচার্জ, ট্যানারী পুলিশ ফাঁড়ি বলেন, মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি। এ রোগ থেকে আমাদের সমাজকে বাচাঁতে বর্তমান সরকার কঠোর পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। তিনি বলেন, তেতুলঝোড়া ইউনিয়নকে মাদকমুক্ত ইউনিয়ন হিসেবে আমারা ঘোষনা করতে চাই। এজন্য আমরা পুলিশ সবধরনের ব্যবস্থা গ্রহন করেছি।
এসময় আরও উপস্তিত ছিলেন তেতুলঝোড়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য, তেতুলঝোড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি জুয়েলআহমেদ, তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদ মনির হোসেন, সাভার উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা সাইদুল ইসলাম সহ স্থানীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সৌমেন মন্ডল, রাজশাহী ব্যুরোঃ আজ দুপুরে রাজশাহী ছাত্রলীগ ধর্ষকের শাস্তি মৃত্যুদন্ড দাবিতে বিক্ষোভ করেন। মিছিলে বলেন ‘আমরা ছাত্রলীগ, ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদÐ চাই’ এই স্লোগানে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১২ অক্টোবর বেলা ১২টার দিকে রাজশাহী কলেজ শাখা ছাত্রলীগের উদ্যোগে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
বিক্ষোভ থেকে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের প্রতিবাদের নামে বিএনপি ও জামায়াত-শিবির, সরকারের বিরুদ্ধে চক্রান্ত ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসানার নামে কুটক্তি করায় রাজশাহী কলেজ শাখা ছাত্রলীগ এই বিক্ষোভের আয়োজন করে। এসময় ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদÐ কার্যকরের দাবিতে বিভিন্ন শ্লোগান দেয় ছাত্রলীগ। মিছিলটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
বিক্ষোভ উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি রকি কুমার ঘোষসহ নেতৃবৃন্দরা।
কুকুর কামড়ের তাণ্ডবে ছাগলের মালিকেরা অতিষ্ঠ্য । শহরজুড়ে যেন চলছে কুকুরেরই আধিপত্য। বেওয়ারিশ কুকুরের দল পৌরশহরের প্রধান প্রধান আবাসিক ও সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।
১২ অক্টোবর সোমবার পৌরশহরের শিবদীঘি যাত্রী ছাউনি জিরো পয়েন্টেসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, সংঘবদ্ধ কুকুরের দল পাগলু অটোরিকশা ও অটোভেসহ বিভিন্ন দোকানের সামনে গাদাগাদি হয়ে পায়চারি করছে । অভিযোগ করে শান্তীপুরের ফলের দোকানদার ইসমাইল বলেন আমার পোষা ৮ থেকে ১০ হাজার মূল্যের একটি (খাসি) ছাগলকে কামড়িয়ে মেরে ফেলেছে সঙ্গবদ্ধ কুকুরের দল।
একই এলাকার ওয়ার্কসোপ দোকানদার (বাকপ্রতিবন্ধী) মুন্নাফের দুটো খাসি ছাগলকে কুকুর কামড় দিলে ১টি মারা গেলেও অপরটি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানান তার স্ত্রী। সবজি ব্যবসায়ী জাবেদ জানান, কিছুদিন আগে কুকুরের একটি বেপরোয়া সঙ্গবদ্ধদল তার ৭ হাজার টাকা মূল্যের খাসি ছাগল মেরে ফেলে ।এতে রাগে অভিমানে বাড়িতে থাকা অবশিষ্ট বেশকিছু ছাগল বিক্রি করে দেন। পৌর শহরের ৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাদেকুর ইসলাম জানান, পৌরসভার মাসিক মিটিং কুকুরের এ ভয়ংকর চলাফেনার বিষয়টি উত্থ্যাপন করেছি। এর মধ্যে বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে শহর ও গ্রামের সাধারণ মানুষও বাদ পড়েননি। ১০ থেকে১৫ জনকে কুকুর কামড়ানোর খবর রয়েছে স্থানীয় পৌরবাসীর মতে। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন চিকিৎসাধীন আছে বলে পৌরশহরের মুক্তা মার্কেটের দোকান্দার ফারাজুল জানান। সমগ্র পৌরশহর জুড়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু ও বৃদ্ধা। পৗরসভা প্রধান প্রশাসনিক অফিস সহায়ক ডালিম শেখ জানান, কুকুরের প্রজননের সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে পৌর শহরসহ উপজেলাব্যাপী কুকুরের উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু অমানবিক হওয়ায় উচ্চ আদালতের নির্দেশে সারা দেশে কুকুর নিধন বন্ধ রয়েছে। ফলে পৌর কর্তৃপক্ষ কুকুর নিধন করতে পারছে না। এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন না পেয়ে রোগী নিয়ে অনেকে পড়ছেন বিপাকে।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আব্দুস সামাদ চৌধুরী জানান, হাসপাতালে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন বরাদ্দ নেই। এসব রোগী এলে আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে জেলা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দেই।
ভালুকা(ময়মনসিংহ)প্রতিনিধিঃ ময়মনসিংহের ভালুকায় রব্বানী নামক ১২ বছরের এক ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের জামিরদিয়া আইনুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র মোঃ রব্বানীর গলাকাটা লাশ হোসেন আলী সরকার একাডেমী ও জামিরদিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনে সরকারী স্কুলের দপ্তরি মোঃ ক্বারী দেখতে পেয়ে আশপাশের লোকজনকে জানায়। পরে খবর পেয়ে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে। নিহত শিশু রব্বানী তার বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান।
তার পিতা শফিকুল ইসলাম জামিরদিয়া মোড়ে রেডিও টেলিভিশনের মেকারী করে এবং মাতা হেনা স্থানীয় ওরিয়ন মিলে চাকুরী করে। তারা জামিরদিয়া আইনুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার প্রাক্তন শিক্ষক এমদাদুল হক মাষ্টারের বাড়ীতে ভাড়া থাকতো। তাদের বাড়ি শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার যোগানীয়া ইউনিয়নের কাপাসিয়া গ্রামে। নিহতের মা হেনা জানান, দুপুর ১টার সময় রব্বানী বাসা থেকে চাবী নিয়ে বের হয়ে আসে তারপর আর তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না।
পরে তার ছেলে খুন হয়েছে বলে খবর পেয়ে এসে তার ছেলের লাশ সনাক্ত করে। ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন জানান, নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে।
তবে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড, এ ব্যাপারে তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।
তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি॥ বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্বামীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার নথি গায়েব করা হয়েছে। মামলার পরবর্তি তারিখতো নেইই বরং নথি গায়েবের কারনে বিচারের বাণী নিরবে নিবৃতে কাঁদে।
রবিবার তালতলী প্রেসক্লাবে এসে সংবাদ সম্মেলন করে এমন অভিযোগ করেন তালতলী উপজেলার আলীরবন্দর এলাকার সিদ্দিক দফাদারের কন্যা সালমা বেগম।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সালমা বলেন, পটুয়াখালীর গলাচিপার চিকনিকান্দি এলাকার দেলোয়ার মোল্লার ছেলে আবুবকর ছিদ্দিক মামুনের সাথে ২০১৫সালের ১৯জুন আমার বিয়ে হয়। এসময় বাবা যৌতুক হিসেবে নগদ ১লক্ষ টাকা এবং ১লক্ষ টাকার মালামাল দেন। বিয়ের বছর খানেক যেতে না যেতেই স্বামী আবুবকর ছিদ্দিক মামুন মটরসাইকেল কেনার জন্য আরো ১লক্ষ টাকার দাবী করেন। বাবার পক্ষে যৌতুক লোভী স্বামীর এ দাবী মেটাতে না পারায় আমার উপর নেমে আসে অমানুষিক নির্যাতন। এক পর্যায় শশুর, শাশুরী ও স্বামী মারধর করে আমাকে বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দেয়। তখন উপায়ান্ত না পেয়ে বাবার বাড়ী চলে এসে অ্যাডভোকেট খাইরুল ইসলামের মাধ্যমে বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্বামীর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করি। যার নং-৫৪৫/১৮। করোনায় আদালত বন্ধের পর মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে আমার আইনজীবি অ্যাডভোকেট খাইরুল ইসলামের সাথে বারবার যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান মামলার নথি হারানো গেছে। নথি পাওয়া গেলে জানানো হবে।
ভূক্তভোগী সালমার অভিযোগ বিবাদীর কাছ থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময় মামলার নথি গায়েব করা হয়েছে। এ কারনে মামলার পরবর্তি তারিখও জানা যায়নি এবং মামলার কোন অগ্রগতি নেই। নথি গায়েব হওয়ার কারনে বিচারের বাণী নিরবে নিবৃতে কাঁদে।
এবিষয় ভূক্তভোগী সালমার আইনজীবি অ্যাডভোকেট খাইরুল ইসলাম অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তপূর্বক বিবাদীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেছেন। মামলার কপি আমার কাছে রয়েছে তবে আদালতের নথি পেশকার খুজে পাচ্ছেনা। নথি খুজে না পাওয়ার কারনে মামলার পরবর্তি তারিখ জানতে পারিনি। নথি খুজে পাওয়া গেলে মামলার পরবর্তি পদক্ষেপ নেয়া হবে।
সময় ডেস্ক ঃ সামনের শীতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এছাড়াও করোনার ভ্যাকসিন কেনার সকল কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সদর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক আয়োজিত ২৬০ পাম্পযুক্ত গভীর নলকূপ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানান, এসময় বিয়ে, নানা ধরণের সভা-সমাবেশসহ সামাজিক দূরত বজায় রাখা ছাড়াও খেলাধুলাসহ অন্যান্য বিষয়াদি সীমিত আকারে করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। করোনার ভ্যাকসিন কেনার সকল কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বিশ্ব ব্যাংকসহ সকল ব্যাংক ভ্যাকসিন ক্রয়ের টাকা দিতেও সম্মতি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এসময় জেলা প্রশাসক এস এম ফেরদৌস, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ইসরাসিন হোসেন, সদর উপজেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. কাবুল উদ্দিনসহ সদর উপজেলার বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে ২৬০ জন সুবিধাভোগীর মাঝে একটি করে পাম্প যুক্ত গভীর নলকূপ বিতরণ করেন মন্ত্রী।
সময় ডেস্ক ঃ অবশেষে বদলে ফেলা হচ্ছে কক্সবাজারের বহুল আলোচিত সমালোচিত মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা। প্রশাসনিক পরিবর্তনের পর এবার নতুন করে মাদক ব্যবসায়ীদের তথ্য ভিত্তিক তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে পুলিশ। একাধিক মামলা রয়েছে বা কারাগারে বন্দি, তাদের পাশাপাশি নেপথ্যে মাদক ব্যবসায় সম্পৃক্তদেরকেও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার কথা জানিয়েছেন রেঞ্জ ডি আই জি।
কক্সবাজারে প্রকৃত ইয়াবা ব্যবসায়ীর সংখ্যা কতো সেটা এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। দুবছর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৭৩ জন শীর্ষস্থানীয় ইয়াবা গডফাদারের একটি তালিকা তৈরি করে। পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে আরো ১৭৯ জন মাদক ব্যবসায়ীর নাম যোগ করা হয়।
সবশেষ এই ২৫২ জনসহ কক্সবাজারের ৮টি থানায় মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যা উল্লেখ করা হয় ১ হাজার ১৫১ জন। কিন্তু শুরু থেকেই এই তালিকা নিয়ে রয়েছে আলোচনা-সমালোচনার পাশাপাশি নানা অভিযোগ।
কক্সবাজার বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আয়াছুর রহমান বলেন, ‘তদন্তে দেখা গেছে মাদক ব্যবসায়ীর তালিকায় নাম আছে কিন্তু তারা আসলে জড়িত না।’
দেশে ইয়াবা পাচারের নিরাপদ রুট কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত। তথ্যসূত্র বলছে, মিয়ানমার থেকে এই সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা ঢুকছে ৯ হাজার কোটি টাকার বেশি। এই অবস্থায় মাদক পাচার রোধে প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ীদের অন্তর্ভূক্ত করে তালিকা তৈরির জন্য থানাগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডি আই জি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘যারা ইতিপূর্বে মাদক মামলায় গ্রেফতার হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধেই আমরা নতুন করে তালিকাভুক্ত করবো।’
গত দু’বছরে জেলায় মাদক বিরোধী অভিযানের নামে পুলিশসহ সরকারি বিভিন্ন বাহিনীর হাতে বন্দুকযুদ্ধের শিকার হয়েছে অন্তত ২১৪ জন। এর মধ্যে ৩১ জুলাই রাতে পুলিশের গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান নিহত হলে মাদক বিরোধী এই অভিযান নিয়েই প্রশ্ন উঠে।
এর মাঝে আমূল পরিবর্তনের পর গত সপ্তাহে যোগ দিয়েছেন কক্সবাজার জেলার পুলিশ সুপারসহ ১৫০৭ জন সদস্য।
কক্সবাজার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান বলেন, ‘নেপথ্যে কি আছে। সম্মুখে করা আছে। পুরো নেটওয়ার্কটাই আমরা আবিষ্কার করার চেষ্টা করবো।’
পুলিশ গত বছর তালিকাভূক্ত ১২৩ জন মাদক ব্যবসায়ীকে জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করালেও ইয়াবার পাচার বন্ধ না হয়ে বহুগুণ বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মুন্সীগঞ্জ : নারী ধর্ষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে মুন্সীগঞ্জে পৃথব ভাবে গণস্বাক্ষর ও মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচির পালন করা হয় ।
মুন্সিগঞ্জের ৬ উপজেলার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের আয়োজনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদী কর্মসূচী পালিত হয় এবং ৭ দফা দাবিতে জেলা প্রশাসক কে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে ১০ টায় শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রঙ্গনে জেলার ৬ উপজেলার সেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সাধারণ শিক্ষাথীদের ব্যানারে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়।
মুন্সীগঞ্জের সকল সেচ্ছাসেবী সংগঠন ও ছাত্রকল্যাণ সংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ধর্ষণ বিরোধী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল শেষে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক ( ডিসি) এর বরাবর স্মারকলিপি জমা দেয়া হয়।
জেলা প্রশাসকেের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন এডিসি দীপক কুমার রায়। পরে জেলা প্রশাসক আন্দোলনকারীদের দাবি পূরণে আশ্বাস প্রদান করেন। উপস্থিত ছিলেন ৬ উপজেলার বিভিন্ন সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবী বৃন্দ এসময় বক্তারা দেশব্যাপী নারী ধর্ষণের তীব্রনিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবী জানান এবং নারী-শিশু নিরাপত্তাবৃদ্ধির জোরালো দাবী জানানো হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী জাকিয়া বিন্তি, আদনান সাদিপ, সিরাজদিখান উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী বায়েজিদ খান, মাহমুদুর রহমান, জাহিদ হাসান দেওয়ান, আবু কাওসার প্রধান, সিকান্দার আহমেদ, লৌহজং উপজেলার পিংকি রহমান সহ বিভিন্ন উপজেলার আরো শত শত স্বেচ্ছাসেবী
সৌমেন মন্ডল, রাজশাহী ব্যুরোঃ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে এবার মাঠে নামল নারী মুক্তি সংসদ। ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। শনিবার সকালে নারী মুক্তি সংসদের রাজশাহী জেলা শাখার মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে এ ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবিতে রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির রাজশাহী মহানগরের সাধারণ সম্পাদক দেবাশিষ প্রমানিক দেবু। সভাপতিত্ব করেন নারী মুক্তি সংসদের জেলা শাখার সভাপতি তসলিমা খাতুন। তারা দেশজুড়ে ধর্ষণের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন।
দেবাশিষ প্রামানিক দেবু বলেন, সারাদেশে ধর্ষণের ঘটনা অনেক বেশি বেড়ে গেছে। কোন জায়গা আর নারীদের জন্য নিরাপদ নয়। তিনি বলেন, ধর্ষকদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হলে সরকারকে কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে। কিন্তু অনেক সময় আমরা সেটা দেখছি না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, দেশে জনসংখ্যা বেড়ে যাবার কারণে ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। এই বক্তব্য অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রী যদি এই ধরণের বক্তব্য দেন তাহলে ধর্ষকেরা আরও উৎসাহিত হবে।
মানববন্ধনে নারীনেত্রী তসলিমা খাতুন বলেন, পোশাক কখনও ধর্ষণের কারণ হতে পারে না। পোশাকই যদি মূল বিষয় হতো তাহলে ৫ বছরের শিশুরা ধর্ষণের শিকার হতো না। সারাদেশে অসংখ্য ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। কিন্তু ধর্ষকেরা শাস্তি পাচ্ছে না। ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত নারী মুক্তি সংসদ মাঠে থাকবে।
মানববন্ধনের সঞ্চালনা করেন মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদকমণ্ডলির সদস্য নাজমুল করিম অপু। সংহতি প্রকাশ করে আরও বক্তব্য দেন- মহানগর যুবমৈত্রীর সভাপতি মনিরুজ্জামান মনি, মহিলা পরিষদের জেলার সাধারণ সম্পাদক অঞ্জনা সরকার প্রমুখ।
কর্মসূচিতে নারী মুক্তি সংসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শারমীন আক্তার, আসমা বেগমসহ আরও অনেক নারী অংশ নেন।