সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহম্মদ সাখাওয়াত হোসেন জানান, অভিযানের সময় ৩টি বাধাজাল জব্দ করলেও পালিয়ে যায় জেলেরা।
সাভারে নানা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে শিশুরা
রোদেয়ান হাসান, সাভার: সাভারে গ্যাং কালচারের নামে ভয়ংকর হয়ে উঠছে উঠতি বয়সের কিশোররা। সম্প্রতি সাভারের বিভিন্ন এলাকা ঘিরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি কিশোর গ্যাং। নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের জন্য মারামারি, অস্ত্র প্রদর্শন, শো-ডাউনসহ বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকান্ড সাথে চালিয়ে যাচ্ছে তারা।
এদের সবচেয়ে ভয়ংকর কিশোর গাংটি হচ্ছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও পাশ্ববর্তী এলাকা থেকে পরিচালিত ব্রাদারহুড নামের একটি কিশোর দল। যার নেতৃত্বে রয়েছে জাবি স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক শহিদুল ইসলামের ছেলে মিরাজ ওরফে ফারভিদ মিরাজ। দলবেঁধে বিভিন্ন স্থানে বসে আড্ডা দেওয়া, ইভটিজিং করা, এমনকি মাদক সেবনের মতো অপরাধের সাথে যুক্ত এর সদস্যরা। এই গ্যাংটির সক্রিয় সদস্যরা হলো- ইশতিয়াক আহমেদ রুদ্র, আরিয়ান তাহসিন তূর্ণ, সালমান হোসেন রাতিন, রাকিব হোসেন, শারাফ শাফিন ইমন, মোতাহের হোসেন তাসিম প্রমুখ।
বাইরে থেকে জাবি ও আশেপাশের এলাকায় ঘুরতে আসা কেউ ঠিকঠাক মতো তাদের ম্যানার না মানলে, তাদের সামনে সিগারেট খাওয়াসহ কোন ভুল করলে ‘ব্রাদাহুড’র ছেলেদের কাছে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। অন্য এলাকা থেকে অপরিচিত কেউ ঘুরতে আসলে তাদের কৌশলে আটকে রেখে মোবাইল, টাকা-পয়সাসহ জিনিসপত্র রেখে দেয় তারা। এছাড়া জাবি স্কুল এন্ড কলেজের মাঠে বসে নিয়মিত মাদক সেবন করে এই গ্রুপের সদস্যরা। গত বছর নাহিদ নামে এক সহপাঠিকে অপরহণ করে মিরাজ ও তার গ্যংয়ের সদস্যরা। পরে ১০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহয়তায় উদ্ধার করা হয় নাহিদকে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সংলগ্ন আমবাগান এলাকা থেকে তাদের গ্যাংটি গড়ে উঠলেও সম্প্রতি সাভারের বিভিন্ন পাড়া মহল্লা গিরে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করছে ব্রাদারহুড গ্যাং। ফেসবুকে গ্রুপ খুলে বিভিন্ন এলাকার কিশোরদের নিজেদের দলে ভেড়াচ্ছে তারা। এছাড়া ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের দলে যোগদান কারিয়ে সংঘটিত হয়ে বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় আশেপাশের এলাকা থেকে তাদের ছেলেদের নিয়ে এসে আধিপত্য দেখায় কিশোর গ্যাংটির সদস্যরা।
ব্রদারহুড নামের এই কিশোর সন্ত্রাসী গ্রুপের রেডিও কলোনি এলাকার নেতৃত্ব দেয় রাবিয়ান আহমেদ ইমন, আজনান আহমেদ, ইমন মোল্লা, মাহফুজ ফরাসি। উলাইল এলাকায় রাহাত ফাতেহ, কলমা এলাকায় মোহাম্মদ ও হাসান মাহমুদ, জিরানী এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে অপু মুন্সি ও আবির আহমেদ এবং বাইশমাইল এলাকায় সাবাব চৌধুরী ও শেখর শেখ। এছাড়া সাভারের পাশ্ববর্তী উপজেলা ধামরাইয়েও সংগঠিত হচ্ছে এই কিশোর গ্যাংটি। সেখানে নেতৃত্ব দেয় নাবিলুর রহমান অয়ন, রাইয়ান আহমেদ ও ইমতিয়াজ আহমেদ মিঠু।
বিশ্ববিদ্যালয়ে পাশ্ববর্তী কলাবাগান এলাকায় উজ্জল সিয়ামের নেতৃত্বে রয়েছে আরেকটি কিশোর গ্যাং। আবুু সুফিয়ান আকাশ, কামরুল হাসান রনি ও সবুজ ইসলাম বাবুসহ এলাকার শতাধিক উশৃঙ্খল কিশোর এই গ্রুপের সদস্য। যারা নিজেদের ‘ডিফারেন্ট বয়েজ’ নামে পরিচয় দিলেও জিআই পাইপ নিয়ে তারা চলাফেরা করে বলে এলাকায় ‘জিআই পাইপ’ গ্রুপ নামেই তাদের পরিচিতি। এই গ্যাংয়ের বেশীরভাগ সদস্যই জাবির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মচারীদের সস্তান।
এই ‘জিআই পাইপ’ এর সদস্য আবু সুফিয়ানকে সিনিয়র হিসেবে সম্মান না করায় শান্ত সরকার নামে এক ছাত্রকে রড, জিআই পাইপ দিয়ে পিটিয়ে বিশ^বিদ্যালয়ের জঙ্গলে ফেলে রেখে যায় গ্যাংটির সদস্যরা। এঘটনায় সুফিয়ান, উজ্জল, বাবুসহ ৬ জনকে আটকের পর তখন তাদের কাছ থেকে জিআই পাইপ, ইয়াবা সেবনের কয়েন ও ফয়েল পেপার উদ্ধার হয়েছিল বলে জানায় বিশ^বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা অফিস।
গাঁজা সেবনে আসক্ত কিশোর গ্যাং মুন্সি সাদাফ
অন্যদিকে সাভার পৌর এলাকার ৮নং ওয়ার্ডে কিশোর জগতের ভয়ংকর এক অপরাধীর নাম সায়েম রহমান সাদাফ ওরফে মুন্সি সাদাফ। এলাকার দাপট ব্যবহার করে তার নেতৃত্বে রয়েছে একটি কিশোর গ্যাং। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, বুন্ধদের নিয়ে মাদক সেবন, চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধে জড়িত এই গ্যাংটির সদস্যরা। স্কুল পড়–য়া উঠতি বয়সের কিশোরদের নিয়ে পরিবারের অজান্তেই মাদকসহ নানা অপকর্মের সাথে সম্পৃক্ত করার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। এছাড়া ছাত্রলীগের কোন কমিটিতে নাম না থাকলেও ছাত্রলীগ নেতা পরিচয়ে এলাকায় দাপিয়ে বেড়ায় সে।
এদের ছত্রছায়ায় রাজাশনের ঈদগাহ মাঠ এলাকায় দাপিয়ে বেড়ায় ফাতিন, সজিব, সুজন। যাদের মধ্যে সজিব মাদক ব্যবসায়ী আর সুজনের নেতৃত্বে প্রতি সন্ধ্যায় এলাকার সুফিয়া বেকারীর মোড়ে মাচার ওপর বসে মাদক সেবনের আসর। রাজাশন গ্যারেজ এলাকায় মিঠু ও ঘাসমহল এলাকায় হৃদয় নামে আরেক কিশোর উঠতি বয়সের ছেলেদের কাছে টাকা বিনিময়ে সরবারহ করছে গাঁজা, হোরোইনসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য। আভিযোগ রয়েছে ৮নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ওরফে জামাই আনোয়ার প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকায় তার কাছ থেকে সহজেই মাদক কিনছেন উঠতি বয়সের কিশোররা।
সাভারের রেডিও কলোনি এলাকায় শ্রাবণের নেতৃত্বে রয়েছে একটি কিশোর আপরাধী দল। এলাকার বন্ধুরা মিলে একসাথে গাঁজা সেবন, ছিনতাইসহ নানা অপরাধের সাথে যুক্ত তারা। সাভারের জামসিং বাটপাড়া এলাকার আলোচিত একটি হত্যাকান্ডেরও আসামী শ্রাবনসহ তার গ্রুপের সদস্যরা।
গত বছরের ১ মার্চ সাভারের সিআরপি চাপাইন এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বন্ধুদের ছুরিকাঘাতে খুন হয় ৮ম শেণির ছাত্র সোহাগ হোসেন। সেদিন বিকেলে বন্ধুরা মিলে একসাথে সিআরপির ভেতরে মেলায় ঘুরতে যায়। সন্ধ্যার কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তার পিঠে ধারালো ছুড়ি ঢুকিয়ে রক্তাক্ত করে পালিয়ে যায় মিঠু ও প্রান্ত নামে তার অপর দুই বন্ধু। পরে সোহাগকে উদ্ধার করে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এভাবে একের পর এক অপরাধমূলক কর্মকান্ড জড়িয়ে পড়ছে সাভারের বিভিন্ন এলাকার কিশোররা। উঠতি বয়সের এসব কিশোরদের ভয়ে প্রতিবাদের সাহস পাননা এলাকার বড়রাও। বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়া এই কিশোরদের নিয়ন্ত্রণে অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে এলাকাবাসী। তা না হলে এক অনিশ্চিত ভবিৎষতের দিকে এগিয়ে যাবে পরবর্তী প্রজন্ম।
এব্যাপারে সাভার উপজেলা শিশু সুরক্ষা ও মনিটরিং কমিটির সদস্য পারভীন ইসলাম বলেন, সাধারণত বয়ঃসন্ধিকালে এসব অসামাজিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে কিশোররা। প্রতিটি পরিবাকে শিশু-কিশোরদের পরিচর্যায় আরও সচেতনতার সাথে এগিয়ে আসতে হবে। এছাড়া কিশোর আপরাধ নিয়ন্ত্রণে সামাজিক প্রতিরোধ সৃষ্টিতে সমাজের সচেতন মহলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
“নাটোরের লালপুরে পদ্মা নদী থেকে অর্ধগলিত এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার”
মোঃ নাহিদুল ইসলাম(নাহিদ)নাটোর জেলা প্রতিনিধিঃ নাটোরের লালপুরে পদ্মা নদী থেকে অর্ধগলিত এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে উপজেলার ১নং ঈশ্বরদী ইউনিয়নের বাকনাই পালপাড়া এলাকায়, পদ্মা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায়, এই মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, এলাকাবাসী কাছ থেকে সংবাদ পেয়ে পুলিশ উপজেলার ঈশ্বরদী ইউনিয়নের বাকনাই পালপাড়া এলাকা থেকে নদীতে ভাসমান অবস্থায় অর্ধগলিত ওই অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেলিম রেজা জানান, মরদেহের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করে যাচ্ছে পুলিশ।
রাণীশংকৈলে পুকুরে গোসল করতে গিয়ে দুই কিশোরের মৃত্যু
হুমায়ুন কবির, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ভরনিয়ায় ২২ জুলাই দুপুরে পুকুরের পানিতে গোসল করতে গিয়ে দুই কিশোরের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
মৃতৃ রুবেল (১২) ও রাজেন (১৪) আনসারডাঙ্গী গ্রামের আনোয়ারুল ইসলাম ও আব্দুর রহিমের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২২ জুলাই বুধবার আনুমানিক দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার ভরনিয়া বাজারের ১’শ মিটার পূর্ব- দক্ষিন দিকে ব্রীজ সংলগ্ন নবাবের পুকুরে গোসল করতে যায়। ব্রীজের উপর থেকে ঝাপ দিয়ে অনেকের মতো রুবেল ও রাজেন পুকুরের পানিতে ঝাপ দেয়। এক পর্যায়ে ঝাপ দিলে এ দুজন পানিতে তলিয়ে নিখোঁজ হয়।
পরে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলাম মুকুল থানা পুলিশে খবর দিলে ফায়ার সার্ভিসের টিমসহ পুলিশ পুকুরে অভিযান চালিয়ে পুকুরের তলদেশ থেকে ২ জনের মরদেহ বিকাল ৪ টায় উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও রানীশংকৈল থানার সাব ইন্সপেক্টর আহসান হাবিব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
কুমিল্লায়(ইউএনও)দের মাধ্যমে ৬দফা দাবীতে প্রধানমন্ত্রীর বরাবর ক্ষেতমজুরদের স্মারকলিপি
এ আর আহমেদ হোসাইন,কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি :বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি কুমিল্লার দেবীদ্বার, বুড়িচং, চান্দিনা, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা শাখা কর্তৃক,- বিনামূল্যে গ্রাামে গ্রাামে করোনা পরীক্ষা ও চিকিৎসা, করোনায় কর্মহীন ও বানভাসী গরীব- দুঃখীদের বিনামূল্যে খাদ্য সহায়তা, সকল উপজেলায় কর্মসৃজ প্রকল্প চালু, পল্লী রেশনিং ব্যবস্থা চালু, করোনাকাল পর্যন্ত এনজিও ঋণের কিস্তি আদায় বন্ধ করা, ও গ্রামীণ বরাদ্ধ লুটপাট বন্ধ লুটপাটকারীদের কঠোর শাস্তি প্রদানের দাবীতে ন্সমাবেশ, মানব বন্ধন ও প্রধান মন্ত্রীর বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেছে।
বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে সারা দেশের ন্যায় বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন উপজেলা প্রশাসনের কর্যালয়ের সামনে সমাবেশ, মানব বন্ধন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে ওই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
মানব বন্ধন ও সমাবেশ চলাকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হাসান ক্ষেতমজুর নেতাদের কাছ থেকে ওই সমারকলিপি গ্রহন করেন।
উক্ত সমাবেশে বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি দেবীদ্বার উপজেলা কমিটির সভাপতি আবুল কাসেমের সভাপতিত্বে এবং যুব নেতা বিল্লাল হোসেনের সঞ্চালনায় উক্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাতি পরেশ কর। একাত্মতা ঘোষণা করে বক্তব্য দেন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি কুমিল্লা জেলা কমিটির সভাপতি কমরেড এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, যুব ইউনিয়ন কুমিল্লা জেলা সভাপতি এ,কে,এম মিজানুর রহমান কাউছার।
অন্যান্যের মধ্যে বকাতব্য রাখেন, সিপিবি উপজেলা সভাপতি কমরেড আব্দুল ওয়াদুদ, ক্ষেতমজুর নেতা আব্দুল বাতেন সরকার, মোখলেসুর রহমান প্রমূখ।
বুড়িচং উপজেলায় মানব বন্ধন ও সমাবেশ শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে ক্ষেতমজুর নেতৃবৃন্দ ওই সমারকলিপি প্রদান করেন।
এসময় সমাবেশে বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি বুড়িচং উপজেলা কমিটির সভাপতি আব্দুর রব’র সভাপতিত্বে এবং যুব নেতা গনেশ ভট্রাচার্য্যরে সঞ্চালনায় উক্ত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য কমরেড আব্দুল্লাহ আল ক্বাফী রতন, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিপিবি কুমিল্লা জেলা কমিটির সাবেক সাধারন সম্পাদক কমরেড বিকাশ দেব, ক্ষেতমজুর নেতা ও নাট্যকার জয়নুল আবেদীন।
চান্দিনা উপজেলায় মানব বন্ধন ও সমাবেশ শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে ক্ষেতমজুর নেতৃবৃন্দ ওই সমারকলিপি প্রদান করেন।
এসময় সমাবেশে বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি চান্দিনা উপজেলা কমিটির সভাপতি ও নারী নেত্রী সুফিয়া বেগম’র সভাপতিত্বে এবং সহিদুল ইসলাম’র সঞ্চালনায় উক্ত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষক সমিতি কুমিল্লা জেলা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সুজাত আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি(সিপিবি) উপজেলা সাধারন সম্পাদক কমরেড সূধাংসু কুমার নন্দী। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন,- ক্ষেতমজুর নেতা মোঃ জামাল হোসেন, লুৎফা বেগম, জুলেখা বেগম, মনোয়ারা বেগম, খলিলুর রহমান প্রমূখ।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় মানব বন্ধন ও সমাবেশ শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে ক্ষেতমজুর নেতৃবৃন্দ ওই সমারকলিপি প্রদান করেন।
এসময় সমাবেশে বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি চৌদ্দগ্রাম উপজেলা কমিটির সভাপতি ডা. আবু নসর’র সভাপতিত্বে এবং বেলায়েত হোসেন’র সঞ্চালনায় উক্ত সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ক্ষেতমজুর নেতা নাসিমা আক্তার, রহিমা আক্তার, নাফিজা আক্তার, যুবনেতা কামরুল হাসান প্রমূখ।
রাজাপুরে পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের বেদখল হওয়া সম্পত্তি উদ্ধারের দাবিতে মৌন মিছিল।
সৈয়দ রুবেল, ঝালকাঠী প্রতিনিধি : ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে বেহাত হওয়া সম্পত্তি উদ্ধারের দাবিতে মৌন মিছিল করেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।
২২/০৭/২০২০ইং তারিখ বুধবার বেলা ১১টার দিকে স্থানীয় প্রেসক্লাব চত্ত্বর থেকে প্রতিবাদী এ মৌন মিছিলটি উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আবার একই স্থানে এসে শেষ হয়।
বিদ্যালয়ে বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীসহ সহস্রাধিক মানুষ মুখে কালো কাপড় বেঁধে মিছিলে অংশ নেয়।
মৌন মিছিলটি উপজেলা পরিষদে গিয়ে এসব অনিয়মের প্রতিবাদ জানায়। এ সময় বেদখল হওয়া জমি উদ্ধারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান তারা।
এ সময় উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সঞ্জিব কুমার বিশ্বাস, উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শাহ্ আলম নান্নু, সাবেক অধ্যক্ষ শাহজাহান মোল্লা ও উপজেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজনীন পাখি।
বক্তারা বলেন, আমরা সবাই আন্দোলন করছি, বিদ্যালয়ের বেদখল হওয়া সম্পত্তি বিদ্যালয়কে উদ্ধার করে দিতে। বিদ্যালয়ের এক ইঞ্চি জমিও বেদখলে থাকা চলবে না। প্রয়োজনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি বাঁচাতে আমরা প্রধান মন্ত্রীর দপ্তর পর্যন্ত যাবো। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বেদখল হওয়া সম্পত্তি উদ্ধারে যদি তৎপর না হয়, তাহলে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে বলে হুশিয়ারি দেন ।
জানা গেছে, ১৯২৭ সালে ২ একর ৮৩ শতাংশ জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী রাজাপুর মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্নভাবে বিদ্যালয়ের সম্পত্তি স্থানীয় মানুষের সহায়তায় কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের সহায়তায় কখনো মার্কেটের নামে, কখনো ব্যাংকের নামে কিংবা অন্য কোনোভাবে জমি বেদখল হয়েছে। নামমাত্র টাকার ৯৯ বছরের লিজে বিদ্যালয়ের বিশাল সম্পত্তিজুড়ে মার্কেট উঠিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়েছেন অনেকে। কেউবা প্রভাব ও কৌশল খাটিয়ে বিদ্যালয়ের সম্পত্তির ওপর গড়ে ওঠা ভবন নিজ জিম্মায় রেখেছেন, আবার কেউ লিজের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের জমি নিয়ে তা বিক্রি করে দিয়েছেন অন্যের কাছে।
আন্দোলনকারীরা জানায়, বিদ্যালয়ের প্রায় ৯ একর ভূ-সম্পত্তি থাকা সত্যেও মাত্র ৬৭ শতাংশ জমিতে ৫টি বহুতল ভবন নির্মাণ করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের জমি কাগজে-কলমে আছে, দখলে নেই! কোলম মতি শিক্ষার্থীরা আজ বঞ্চিত লেখা পড়ার সুন্দর পরিবেশ হতে। প্রতিষ্ঠানটির এই বিপুল সম্পত্তির ওপর লোলুপ দৃষ্টি পরে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহলের। তারা সম্পত্তি আত্মসাৎ করতেই বিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে সংকুচিত করে একটি কংক্রিটের জঙ্গলে পরিণত করেছে। বর্তমানে বিদ্যালয়ের সহস্রাধিক শিক্ষার্থীদের পিটি-প্যারেড করার জায়গাটুকুও নেই। বিদ্যালয়ের সম্পত্তি বিভিন্ন সময় বেআইনিভাবে লিজ দিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাথে যোগসাজোশে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে প্রভাবশালী ওই মহলটি। তাই গত দুইমাস ধরে বিদ্যালয়ের বেহাত হওয়া সম্পত্তি উদ্ধারের আন্দোলনে নেমেছে শিক্ষার্থীরা। এর আগেও মানববন্ধন, গণস্বাক্ষর কর্মসূচিসহ নানা কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা। এরই ধারাবাহিকতায় আজ মৌন মিছিল পালিত হয়।
এ বিষয় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিদ্যালয়ের বেহাত হওয়া বেশকিছু সম্পত্তি ইতোমধ্যেই উদ্ধার করা হয়েছে। অন্য একটি জমি নিয়ে মামলা চলছে। গত দুই মাসে অবৈধভাবে নির্মিত তিনটি ভবন ভেঙ্গেফেলা হয়েছে।’বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মনিরউজ্জামান বলেন, ‘বিদ্যালয়ের সম্পত্তি লিজ দেওয়ার কোন বিধান নেই। বিভিন্ন সময় অবৈধভাবে লিজ দেওয়া সম্পত্তিগুলো আইনি প্রকৃয়ার মাধ্যামে আমরা উদ্ধার করবো। বিদ্যালয়ের ভূ-সম্পত্তি উদ্ধার আন্দোলনের সাথে আমি ব্যক্তিগতভাবে সহমত পোষণ করছি।
রাণীশংকৈল প্রেসক্লাবের ব্যবস্থাপনায়ন ২০০ গাছের চারা বিতরণ
হুমায়ুন কবির, রাণীশংকৈল ( ঠাকুরগাও) প্রতিনিধিঃ মুজিববর্ষ উপলক্ষে সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশব্যাপি এক কোটি বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ গ্রহন করেছেন।
এরই অংশ হিসাবে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় ঠাকুরগাওয়েরর রাণীশংকৈল প্রেসক্লাব’র( পুরাতন) ব্যবস্থাপনায় ২২ জুলাই বুধবার চাঁদনী মার্কেট প্রেসক্লাব চত্বরে বিভিন্ন ফলদ গাছের ২০০ চারা এলাকাবাসী ও ক্লাবের সদস্যদের মাঝে বিতরণ করা হয়।
রাণীশংকৈল বন বিভাগের সৌজন্যে প্রাপ্ত এ চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শেফালি বেগম, প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম, সভাপতি কুশমত আলি, সম্পাদক সফিকুল ইসলাম শিল্পি, সহ-সম্পাদক হুমায়ুন কবিরসহ প্রেসক্লাবের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
২৭ মণ ওজনের যুবরাজ: বিক্রি নিয়ে অনিশ্চয়তায় খামারি বাদল
সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা)প্রতিনিধিঃ চিকচিকে কালো আর নজরকাড়া বিশাল আকৃতির যুবরাজ। সম্পূর্ণ দেশিয় পদ্ধতিতে বাড়িতে লালন পালন করা যুবরাজ এখন বিক্রির জন্য প্রস্তুত। বিশালাকৃতির এ যুবরাজকে পরম মমতায় বড় করে তুলেছেন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার সৌখিন খামারি বাদল খন্দকার।
যেমন নাম তার তেমনি আচরণ। অনেকটা রাজকীয় হালেই লালন-পালন করা হয়েছে এই যুবরাজকে। দিনের বেশিরভাগ সময় ফ্যানের নিচে শীতল হাওয়ায় রাখতে হয় তাকে। যুবরাজের খাওয়া-দাওয়ায়ও রুচির পরিচয় মেলে। প্রতিদিন স্বাভাবিক খাবারের সঙ্গে দিতে হয় কলা, ছোলা ও মুসুর ডাল। এটি গাইবান্ধা জেলার সবচেয়ে বড় কোরবানির পশু। প্রায় চার বছরে গরুর ওজন হয়েছে ২৭ মণ।
স্থানীয়ভাবে ২৭ মন ওজনের কালো রঙের দৃষ্টিনন্দন এই যুবরাজের দাম হাঁকা হচ্ছে ৯ লাখ টাকা। বিশালাকৃতির যুবরাজকে দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছে দূর-দূরান্তের ক্রেতারা। আর যুবরাজকে দেখতে স্থানীয় উৎসুক জনতার ভিড় তো লেগেই আছে। তবে স্থানীয়ভাবে কোনো ক্রেতাই কাঙ্খিত দাম না করায় যুবরাজকে বিক্রি করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন খামারী বাদল খন্দকার। করোনার বিপর্যয়ে স্বপ্নের যুবরাজকে বিক্রি করার সেই আশা এখন যেন হতাশায় পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুরে যুবরাজকে গোসল করানোর পর সাজিয়ে দিচ্ছেন মালিক বাদল খন্দকার। পরে তাকে খাবার হিসেবে দেয়া হচ্ছে কলা ও ভুষি। আর যুবরাজের ঘরে বৈদ্যুতিক পাখা লাগিয়ে শীতল হাওয়া দেয়া হচ্ছে। তার থাকার ঘরটি একদম পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন। একটু পরেই বেশকিছু দর্শনার্থী এলেন বিশালাকৃতির যুবরাজকে দেখতে। অনেকেই যুবরাজকে দেখে বিষ্ময় প্রকাশ করে মালিকের প্রশংসা করেন।
আকাশ নামের এক দর্শনার্থী বলেন, এতবড় বিশাল গরু আমার জীবনে দেখিনি। নজরকাড়া সৌন্দর্যের এই গরু লালন-পালনকারী মালিকের ধৈর্য আছে।
সাইফুল নামে আরেক ব্যক্তি বলেন, দেশিয় পদ্ধতিতে যে এত বড় গরু লালন-পালন করা যায়, জানতাম না। আমার জীবনে প্রথম চোখে দেখা বিশাল আকৃতির গরু। গরুর মালিকের চাহিদা আর ধৈর্য অনেক বেশি।
এ ব্যাপারে যুবরাজের মালিক বাদল খন্দকার জানান, বাড়িতে পালন করা ফ্রিজিয়ান জাতের গাভী থেকে যুবরাজের জন্ম। জন্মের পর এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে সবার নজর কাড়ে যুবরাজ। যুবরাজের বয়স এখন প্রায় চার বছর। ওজনে ২৭ মণ। প্রতিদিন যুবরাজের পেছনে ব্যয় হয় সাড়ে তিনশ থেকে চারশ টাকা।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে যুবরাজকে বিক্রি করা নিয়ে চিন্তায় আছি। আশা করেছিলাম অন্তত ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করা যাবে। কিন্তু করোনাকালে কেউ কাঙ্খিত দাম বলেনি। সব হাটে যুবরাজকে নিয়ে যাওয়া কষ্টকর। একদিকে অর্থ ব্যয় হয় অন্যদিকে কেউ কাঙ্খিত দাম বলে না।
রাণীশংকৈলে জাতীয় মৎস সপ্তাহ উপলক্ষে পোনা অবমুক্তকরণ
হুমায়ুন কবির, রাণীশংকৈল, (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ “মাছ উৎপাদন বৃদ্ধি করি, সুখী সমৃদ্ধি দেশ গড়ি” এই শ্লোগানকে সামনে রেখে সারা দেশের ন্যায় ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় ২২ জুলাই বুধবার জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ (২১-২৭ জুলাই) পালন উপলক্ষে উপজেলা পরিষদ পুকুরে ৩০ কেজি মাছের পোনা অবমুক্তকরণ করা হয়েছে।



































