জাহিন সিংহ, সাভার: করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে চলমান পরিস্থিতিতে কর্মহীন হয়ে পড়া এলাকার দুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে দাড়ালেন ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রলীগ নেতা মহিউদ্দিন খান শুভ।সাভার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম রাজীব ও ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি সাইদুর ইসলামের নির্দেশনায় বিভিন্ন সামাজিক সেবামূলক কাজ করে আসছেন তিনি।
তারই ধারবাহিকতায় সাভারের আমিনবাজার ইউনিয়নের বড়দেশী গ্রামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রায় শতাধিক দুস্থ পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিলেন এই ছাত্রলীগ নেতা।
এব্যপারে ছাত্রলীগ নেতা মহিউদ্দিন খান শুভ বলেন, সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের কর্তব্য। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে ও মানবিক হতে শিখিয়েছেন। তাই মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে এলাকার অসহায় মানুষের ঘরে খাবার পৌঁছে দিতে চেষ্টা করছি।
এসময় ত্রাণ সহায়তা পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে দুস্থ পরিবারগুলো। বিতরণ করা ত্রাণ সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে- চাল, ডাল, তেল, লবন, আলুসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য।
এছাড়া ছাত্রলীগ নেতা মহিউদ্দিন খান শুভ’র নেতৃত্বে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে পাড়া মহাল্লায় বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। নিয়মিত এধরণের বিভিন্ন সেবামূলক সামাজিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান ছাত্রলীগ নেতা শুভ।
সিরাজদিখান (মুন্সিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ মুন্সীগঞ্জ জেলা কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী করোনা ভাইরাস (কোভিট-১৯) বিস্তৃতি ও সংক্রমণ ঝুঁকি মোকাবেলায় জেলায় জনসাধারণের প্রবেশ ও প্রস্থান নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে গত ১০ এপ্রিল জেলা প্রশাসক মোঃ মনিরুজ্জামান তালুকদার স্বাক্ষরিত গণবিজ্ঞপ্তিতে জরুরী বিধি নিষেধ জারী করা হয়। এতে জেলার এক ইউনিয়ন থেকে অন্য ইউনিয়নের যেকোন প্রবেশ পথ দিয়ে যান বাহন প্রবেশ ও প্রস্থানের নিষেধাজ্ঞা জারী করে জেলার প্রতিটি ইউনিয়নের প্রবেশপথ সমূহে ব্যারিকেড স্থাপন করে চলাচল নিয়ন্ত্রণের রাখার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ওয়ার্ড মেম্বার ও গ্রাম পুলিশদের নির্দেশনা দেয়া হয়। কিন্তু জেলা প্রশাসন কর্তৃক জারীকৃত নির্দেশনা সিরাজদিখান উপজেলায় গত তিন দিনেও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কোন চেয়ারম্যান, মেম্বার ও গ্রাম পুলিশকে উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ সদর ও টংগিবাড়ী থেকে সিরাজদিখান উপজেলা প্রবেশ পথ বাড়ৈপারা ব্রিজ। মধ্যপাড়া,ইছাপুরা ও শ্রীনগর উপজেলা থেকে মালখানগর হয়ে মুন্সীগঞ্জ সদরে যাওয়ার কাকালদী জোর পুলের মোড়। বয়রাগাদী থেকে মালখানগরের প্রবেশ পথের ব্রীজ। জোর পুল (জংসন রোড) সিরাজদিখান উপজেলায় প্রবেশ পথের ব্রীজসমূহ খোলা থাকায় অন্য উপজেলা থেকে যানবাহন প্রবেশ করছে এবং বেরও হচ্ছে । এছাড়া উপজেলার তালতলা বাজারের পূর্ব দিকের নদীপথে দুইটি খেয়া ঘাট রয়েছে। এ খেয়া ঘাট দুটো পার হয়ে খুব সহজেই নারায়ণগঞ্জ জেলা থেকে সিরাজদিখানে উপজেলায় প্রবেশ করা যায়। এতে করে উপজেলাবাসী করোনা ভাইরাস আতঙ্কে রয়েছে। এব্যাপারে সিরাজদিখান উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের কাছে জানতে চাইলে অনেক চেয়ারম্যান বিষয়টি জানেনা বলে জানান।
সৈয়দ রুবেল, ঝালকাঠি প্রতিনিধি : প্রানঘাতি করোনা ভাইরাসের প্রভাবে ঝালকাঠিতে অঘোষিত লকডাউন চলছে। প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হচ্ছে না। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দোকান ছাড়া সব দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে সেলুন চুল কাটাতে না পেরে ব্যতিক্রম উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় যুবকরা । সেচ্ছায় মাথা ন্যাড়া হয়েছেন অনেকেই।১১/০৪/২০২০ইং তারিখ শনিবার ঝালকাঠি বেশ কিছু এলাকার শিশু ও কিশোরদের মাথা ন্যাড়া করা একটি ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়।
একটি এলাকায় একই সাথে ২২ জন শিশু ও কিশোর মাথা ন্যাড়া করেছে। স্থানীয় এক যুবক জানায়, করোনা ভাইরাসের কারনে বাজার লকডাউন থাকায় আমরা চুল কাটাতে পারছিলাম না। চৈত্রের প্রচন্ড তাপদাহ থেকে একটু স্বস্তি পাওয়ার আশায় মাথা ন্যাড়া করেছি।
কল্যাণকাঠি, সুগন্ধিয়া, বিনয়কাঠি, মানপাশা সহ জেলার বিভিন্ন এলাকার শিশু ও কিশোর সহ নানা বয়সের মানুষের মাথা ন্যাড়া করার বিন্ন চিত্র।
বিপ্লব ,সাভার ঃবকেয়া বেতনের দাবিতে সাভারের হেমায়েতপুর,তেঁতুলঝোড়া রাকেফ এপারেলস লিঃ এর শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ।
আজ রবিবার সকালে হেমায়েতপুর তেতুঝোড়া এলাকায় রাকেফ এপারেলস লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা এ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন ।
কারখানার একাধিক শ্রমিকরা জানায়, রাকিব ফ্যাশন লিমিটেডের মালিক জানুয়ারি থেকে শ্রমিকদের বেতন নিয়ে টালবাহানা করে আসছিলেন।
মার্চে বকেয়া বেতন পরিশোধের কথা থাকলেও কর্তৃপক্ষ ওই দিন বেতন না দিয়ে ১৩ তারিখে বেতন পরিশোধের আশ্বাস দিয়ে কারখানাটি ছুটি ঘোষণা করেন।
কারখানার একাধিক শ্রমিকরা অফিস স্টাফদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আগামীকাল সোমাবর (১৩ এপ্রিল) বেতন দেওয়া হবে না বলে , জানতে পারেন ।
পরে তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন। খবর পেয়ে শিল্প পুলিশের একটি দল ঘটনা স্থলে পোঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন।
শ্রমিকদের দাবী গেল জানুয়ারি মাস থেকে তারা বেতন পাচ্ছেন না , এই কারখানায় প্রায় চার হাজার শ্রমিক কাজ করে , গেল জানুয়ারি মাস থেকে মালিকপক্ষ নানা অজুহাতে তাদের বেতন নিয়ে তালবাহানা করছেন , বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের আর কোন উপায়অন্ত নেই, আমাদের বকেয়া বেতন দিয়ে দেয়া হউক ।
হুমায়ুন কবির, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় ১১ এপ্রিল শনিবার বিকাল থেকে সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা থেকে উপজেলায় আগতদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারাইন্টেনে রাখতে চিরুনি অভিযান অব্যাহত রেখেছে উপজেলা প্রশাসন। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকাল থেকে ১২ এপ্রিল দুপুর পর্যন্ত চিরুনি অভিযানে উপজেলার হোসেনগাঁও, রাউতনগর, সিদলি বারঘরিয়া, খঞ্জনা ও মিরডাঙ্গীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ১৬ জনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নিয়ে এসেছে অভিযান টিম। আগের ৮ জনসহ মোট ২৪ জনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রেখেছে রাণীশংকৈল স্বাস্থ্য বিভাগ। চিরুনি অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট, ঠাকুরগাঁও সোহাগ চন্দ্র সাহা। এ ছাড়াও অভিযান পরিচালনায় সহোযোগিতা করেন, থানা অফিসার ইনর্চাজ আব্দুল মান্নান, ভাইসচেয়ারম্যান সোহেল রানা ও ডাঃ সালাম প্রমুখ।
সম্প্রতি করোনা সংক্রমণে নারায়নগঞ্জকে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) ঝুঁকিপূর্ণ (হটস্পট) হিসেবে চিহ্নিত করেছে। যার ফলে গত বৃহস্পতিবার ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ থেকে একটি বাস ও কিছু মানুষ গোপনে রাণীশংকৈলে আসার পর থেকে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে এ অভিযান শুরু করেছেন উপজেলা প্রশাসন। এ ব্যাপারে রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ ফিরোজ আলম বলেন, কিছুদিন আগে সনাক্ত করে ৮ জনকে এবং গতকাল থেকে আজ পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ১৬ জনকে আমরা প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখার ব্যবস্থা করেছি।
এছাড়াও আমাদের স্বাস্থ্য সহকারিদের সহোযোগিতায় আরো ফেরতদের তালিকা হাতে এসেছে, তাই চিরুনি অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মহামারি করোনা ভাইরাসের ছোবলে মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এ পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৮২৮ জন। এখন পর্যন্ত এ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৩১৫ জনের শরীরে।রোববার (১২ এপ্রিল) সকাল ৯টা পর্যন্ত এ সংখ্যা নিশ্চিত করেছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের সংখ্যা ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান রাখা ওয়ার্ল্ডওমিটার। এরইমধ্যে ২১০টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়েছে করোনা ভাইরাস।
আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ৪ লাখ ৪ হাজার ৩১ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন ১২ লাখ ৬৭ হাজার ৪৫৬ জন। এদের মধ্যে ১২ লাখ ১৬ হাজার ৮৬৪ জনের অবস্থা স্থিতিশীল এবং ৫০ হাজার ৫৯২ জনের অবস্থা গুরুতর।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের ভয়াবহ তাণ্ডব চলছে। এই ভাইরাসে যুক্তরাষ্ট্রে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৫৭৭ জনে। আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৩২ হাজার ৮৭৯ জনে।
মৃতের সংখ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের পরে অবস্থানে রয়েছে ইউরোপের দেশ ইতালি। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১৯ হাজার ৪৬৮ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ২৭১ জন।
মৃত্যুর হিসেবে ইতালির পরের অবস্থানেই রয়েছে স্পেন। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১৬ হাজার ৬০৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৬৩ হাজার ২৭ জন।
মৃত্যুর তালিকার চার নম্বরে রয়েছে ফ্রান্স। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১৩ হাজার ৮৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ২৯ হাজার ৬৫৪ জন।
করোনার প্রভাবে আর্থিক সংকটে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে পত্রিকা, চাকরিহারা হয়ে পড়ছেন সংবাদকর্মীরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংকট মোকাবিলায় অগ্রসৈনিকের ভূমিকায় থাকা সংবাদশিল্প বাঁচাতে বিশেষ পদক্ষেপ নিতে হবে সরকারকে। নইলে সঠিক তথ্য প্রবাহের সংকটে কঠিন হয়ে পড়বে কোভিড উনিশের মতো বৈশ্বিক মহামারী মোকাবিলা।
করোনা সংকটের স্থবিরতার মধ্যে পেশাহীন হয়ে পড়েছেন গণমাধ্যমকর্মীরা। এক সংবাদকর্মী বলেন, করোনা সংকটের কারণে অর্থায়ন হুমকির পড়েছে এমন নোটিশ দিয়ে গেল ২৫ মার্চ থেকে হঠাৎই বন্ধ করে দেয়া হয় তার পত্রিকাটির প্রতিষ্ঠানিক সব কার্যক্রম। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে আবারও পত্রিকাটি চালু করার ঘোষণা রয়েছে। তবে পুনরায় কর্মক্ষেত্রে ফেরা নিয়ে যথেষ্ট শঙ্কা আছে এ সংবাদকর্মীর মনে।
করোনার অচলাবস্থার শিকার হয়েছে দেশের প্রায় সব গণমাধ্যম। বিজ্ঞাপন নেই, মাঠে নেই সার্কুলেশন ব্যবস্থা। এমন অবস্থায় হাতেগোনা কিছু প্রতিষ্ঠান বাদে প্রিন্ট সংস্করণ বন্ধ করে দিয়েছে প্রায় সব সারির পত্রিকা। ফলে ঝুকিঁর মুখে পড়েছে এ শিল্পের কর্মীদের জীবন-জীবিকা, প্রতিষ্ঠানগুলো। অথচ বন্দিদশার প্রেক্ষাপটে কোভিড নাইনটিন যুদ্ধক্ষেত্রে ঝুঁকি নিয়ে মাঠে এই সংবাদকর্মীরাই।
ডিবিসি নিউজের চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে প্রণোদনা দিয়েছেন সেখানে নির্দিষ্টভাবে মিডিয়ার কথা নেই। কিন্তু আমি মনে করি এই প্রণোদনার মধ্য থেকে বা এর বাইরে থেকে প্রণোদনা দেয়ার সুযোগ আছে। এবং প্রয়োজনও আছে।
গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা অপপ্রচারের বিপরীতে লকডাউন সময়ে সাধারণ মানুষ সঠিক তথ্য পাচ্ছে মূলধারার গণমাধ্যম থেকেই। তাই সংকট উত্তরণের সহযোদ্ধা হিসেবে গণমাধ্যম বাঁচাতে এখনই বিশেষ পরিকল্পনা নিতে হবে সরকারকেই।
দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, অঘোষিত ছুটি বা লকডাউন যাই বলি না কেন যে কারণে সরকারি-বেসরকারি অফিস আদালত বন্ধ। সেখানে কিন্তু কাজ করতে হচ্ছে গণমাধ্যম কর্মীদের। আমরা বিশ্বাস করি গণমাধ্যমের প্রবাহ যদি না থাকে অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে যে গুজব তা অব্যাহত থাকবে। এ কারণে প্রকৃত সত্য প্রচারের দায়িত্ব নিয়েই কিন্তু গণমাধ্যম তাদের কাজ করে পালন করছে।
গেল ৩০ মার্চ করোনা সংকটে আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে করণীয় ঠিক করতে তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন বেসরকারি টেলিভিশন ও পত্রিকার মালিক ও সম্পাদকরা। সেই বৈঠকে সংকট সমাধানে তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন মন্ত্রী।
আশরাফ হোসেন পল্টু,মাগুরা প্রতিনিধি : মাগুরার শ্রীপুর থানা পুলিশ গতকাল শুক্রবার দুপুরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় চরচৌগাছি গ্রাম থেকে সুজন জোয়াদ্দার (৩০) ও হাসান আলী (৩৫) নামে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে ২’শ ৫০ গ্রাম গাঁজাসহ আটক করেছে। পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানান, উপজেলার নলখোলা গ্রামের রজব আলী জোয়াদ্দারের পুত্র সুজন জোয়াদ্দার(৩০) ও একই গ্রামের কামাল উদ্দীনের পুত্র হাসান আলী(৩৫) এলাকায় মাদক স¤্রাট নামে পরিচিত । তারা দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে অত্র এলাকার বিভিন্ন গ্রামে গাঁজা,ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকের ব্যবসা করে আসছিল। পুলিশ একাধিবার তাদের আটক করার জন্য নিজ বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করেও ব্যর্থ হয়।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে সুজন ও হাসান দুজনেই মাদক বেচাকেনার জন্য চরচৌগাছি গ্রামের শহিদুলের পোল্ট্রি ফার্মের কাছে অপেক্ষা করছিল । এমন সময় গোপন সোর্সের সংবাদের ভিত্তিতে শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মাহাবুবুর রহমানের নির্দেশে এস,আই প্রনয় কুমার ও এ,এস,আই রমজান এর নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় তাদের আটক করতে সক্ষম হয়। আটকের পর তাদের দেহ তল্লাশী করে ২’শ ৫০ গ্রাম গাঁজা জব্দ করা হয় ।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মাহাবুবুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মাদক ব্যবসায় সাথে জড়িত আটককৃতদের বিরুদ্ধে আগের থেকেই থানায় অভিযোগ ছিল । গা ঢাকা দেওয়ার কারণে তাদের আটক করতে একটু বিলম্ভ হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য আইনে শ্রীপুর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের হয়েছে।
এ আর আহমেদ হোসাইন(দেবীদ্বার-কুমিল্লা) :গরিবের চাউল আত্মসাতের অভিযোগে উপজেলার ৩নং সুবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তাহের সরকারের বড় ভাই আব্দুল কুদ্দুস সরকারের ওএমএস’র ডিলারশীপ বাতিল করেছে প্রশাসন।
একই সাথে ওই ইউনিয়ন পরিষদের ৭নং ওয়ার্ড মেম্বার মোঃ আব্দুল মান্নান মোল্লাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার দুপুরে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সুবিল ইউনিয়নে ওএমএস’র চাউল বিক্রয় করা হচ্ছে কিন্তু সাধারন ক্রেতারা চাউল পাচ্ছেন না। ইউপি চেয়ারম্যান মেম্বারদের কাছে ধরনা দিয়েও চাউল থাক দূরের কথা নানাভাবে তিরস্কার ও নাজেহাল হয়ে আসতে হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় ভোক্তভূগীদের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সেল ফোনে জানালে তিনি উপজেলা কৃষিকর্মকর্মতা উত্তম কুমার কবিরাজকে প্রধান করে ৩সদস্যের একটি তদন্ত টিম করেন। উপজেলা কৃষিকর্মকর্মতা উত্তম কুমার কবিরাজ’র নেতৃত্বে ৩সদস্যের একটি টিম বৃহস্পতি ও শুক্রবার তদন্তে নামেন।
বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সরজেমিনে স্থানীয়দের যতজনের সাথে সাথে কথা বলেছেন ওনারা কেউ ১০টাকা কেজি দরে চাউল পাননি এবং এ কর্মসূচী পূর্ব থেকে চলমান তাও কেউ জানেনা।
এব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও তদন্ত টিম প্রধান উত্তম কুমার কবিরাজ জানান, এলাকায় তদন্তে যেয়ে যে অভিজ্ঞতা হয়েছে তাতে মনে হল ওএমএস’র চাউল বিতরণ কার্যক্রম সম্পর্কে ওই ইউনিয়নরে কেহই অবগত নন। প্রতি ইউনিয়নে উপকারভোগী ৫শত জন ১০টাকা দরে ৩০ কেজি করে চাউল পাওয়ার কথা থাকলেও এ ইউনিয়নের কেউ পেয়েছেন তা জানেনইনা। এমনকি এ কর্মসূচীর আওতায় কার্ডধারী ৫শতজনের একটি কার্ডও গ্রাহকের কাছে পৌঁছে নাই। কার্ডধারীরাও জানেনা ওরা ওএমএস তালিকাভূক্ত আছেন।
এব্যাপারে সুবিল ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড মেম্বার আব্দুল মান্নান মোল্লাকে আটক করে ওএমএস’র কার্ডগুলো গ্রাহকদের কাছে পৌঁছান নাই কেন জানতে চাইলে তিনিও ওই কার্ড সম্পর্কে কিছুই জানেনা বলে জানান। প্রমান করার জন্য তাকে নিয়ে ওএমএস ডিলারের বাড়িতে গেলে সে পালিয়ে যায়। পরে মেম্বারকে থানা পুলিশের হেফাজতে রেখে আসি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশেই পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। ওই কর্মসূচীর আওতায় পূর্বেও কাউকে চাউল দেয়া হয়নি।
ওয়াহেদপুর গ্রামের সরু মিয়া জানান, গত ৮এপ্রিল বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় সুবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তাহের সরকারের ট্রাক্টর ভর্তি চাউল পাচারের বিষয়টি সন্দেহ হলে এলাকাবাসীকে জানাই। ট্রাক্টরের চালক ছিলেন রাঘবপুর গ্রামের ফুল মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন। সন্দেহ করার কারন জানতে চাইলে তিনি জানান, ওই ইউপি চেয়ারম্যান অতিতে নানা অনিয়ম দূর্নীতির সাথে জড়িত ছিলেন, স্থানীয়রা সম্ভবত: এ বিষয়কি ইউএনওকে জানিয়েছেন।
এব্যপারে একাধিকবার চেষ্টা করেও সুবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তাহের সরকারের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হাসান জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। ওই ঘটনার তদন্তে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উত্তম কুমার কবিরাজকে প্রধান করে ৩সদস্যে কমিটি করে দিয়েছি। তারা তদন্ত করে এসেছেন। প্রাথমিকভাবে অনিয়মের সত্যতা পাওয়ায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর ডিলার’র ডিলারশীফ বাতিল করা হয়েছে। এখন আমাদের সব চেয়ে বড় কাজ হল উপকারভোগীদের কার্ডগুলো উদ্ধার করা, কোথায় এবং কার কাছে সেগুলো রক্ষিত আছে তা উদ্ধার করে গ্রাহকদের হাতে পৌঁছে দেয়া, যাতে চলমান বিতরণকৃত চাউল থেকে তারা বঞ্চিত না হন। তিনি আরো জানান, অন্যান্য ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদেরও গ্রাহকদের কাছে কার্ড পৌঁছে দেয়ার বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছি। এখন শোনছি তারাও কার্ডগুলো বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, গরিবরে চাউল পাওয়া বিষয়টি নিশ্চিত করতে যা করার তাই করা হবে। এ বিষয়ৈ কোন আপোষ নেই।
এ আর আহমেদ হোসাইন (দেবীদ্বার-কুমিল্লা)প্রতিনিধি :কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার বাঙ্গুরী পাঠান বাড়ির বাসিন্দা হুমায়ন কবির জীবন নামে এক যুবকের ফেইসবুক স্ট্যাটাস দেখে বাড়ীতে ত্রান পাঠিয়েছে কুমিল্লা-৪(দেবীদ্বার) সাংসদ রাজী মোহাম্মদ ফখরুল ।ফেইসবুকে তিনি লিখেন”আমি কর্মজীবি হয়েও করোনার কারনে বেকার বেকার জীবন ভালো লাগে না পকেটের টাকা শেষ হাওলাত চাইলেও কেউ দেয় না ”
এমন স্ট্যাটাস নজরে আসলে সাংসদ রাজী মোহাম্মদ ফখরুলের নির্দেশে শুক্রবার ত্রান নিয়ে বেকার যুবক হুমায়ন কবির জীবনের বাড়ীতে গিয়ে ত্রান বিতরন করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ।
ত্রান বিতরনের সময় উপস্থিত ছিলেন, দেবীদ্বার উপজেলা ছাত্রলীগ এর যুগ্ম আহবায়ক হুসাইয়ন আহম্মেদ,কলেজ ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক কাজী শিহাব ,জেলা ছাত্রলীগের সম্পাদক নুরউদ্দিন ,উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য সাব্বির আহম্মেদ পলাশ ,প্রণব দাশ,নাজমুল হাসান ,আহম্মেদ শুভ,নয়ন আহম্মেদ প্রমুখ
উপজেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক ইকবাল হোসেন রুবেল বলেন, করোনা ভাইরাস এর মহামারিতে দেবীদ্বার এর কোনো জনগন না খেয়ে থাকবে না এমটাই নির্দেশ দিয়েছেন আমাদের নেতা সাংসদ রাজী মোহাম্মদ ফখরুল। মাননীয় সাংসদ এর নির্দেশে দেবীদ্বার এর প্রত্যেকটি ইউনিয়ন ওয়ার্ড ও গ্রামে গ্রামে ত্রান বিতরন চলছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।