18 C
Dhaka, BD
সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬

রাজশাহী লকডাউন: কঠোর অবস্থানে রাজশাহীর আইন শৃঙ্খলা বাহিনী

সৌমেন মন্ডল, রাজশাহী ব্যুরো: জরুরী সভায় করোনা ভাইরাস নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বহুল সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষার স্বার্থে রাজশাহীকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়।পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই লকডাউন থাকবে।সোমবার (৬ এপ্রিল) করোনা ভাইরাস নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় সমন্বয় সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ আইন আজ সন্ধ্যা ছয়টা থেকে কার্যকর হবে। এরই মধ্যে রাজশাহী মহানগরকে অঘোষিত লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে। একেবারে জরুরী প্রয়োজন ছাড়া শহরের বাইরে থেকে কোনো যানবাহন ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না শহরে। জরুরী পরিবহন ও ঔষধ পত্রের দোকান ব্যতীত অন্য সকল দোকান কে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ লকডাউন এর ফলে রাজশাহী জেলার সাথে পার্শ্ববর্তী সকল জেলার যানবাহন চলাচলের বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়।

এ সময় রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন, রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য জনাব ফজলে হোসেন বাদশা,রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার জনাব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার, রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি জনাব একেএম হাফিজ আক্তার, পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. গোপেন্দ্রনাথ আচার্য্য, রাজশাহী জেলা প্রশাসক জনাব হামিদুল হক, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল জনাব জামিলুর রহমান, রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা: মহা: এনামুল হক প্রমুখ উপস্থিত থেকে জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

কুমিল্লা দেবীদ্বারে ট্রাকের চাপায় নারী নিহত

এ আর আহমেদ হোসাইন (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক দেবীদ্বার পৌর সাইলচর এলাকায় রবিবার রাত নয় টার সময় ট্রাকের চাপায় আলেকা বেগম(৩৮) নিহত হয়েছেন।আলেকা বেগম দেবীদ্বার পৌর সাইলচর এর রিক্সা চালক দিলু মিয়ার স্ত্রী।
স্থানীয়রা জানান আলেকা বেগম দেবীদ্বার প্রাইভেট মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালে আয়ার কাজ করতেন।
হাসপাতালের কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে ওই দুর্ঘটনায় ঘটে।
রাতের বেলায় ওই দুর্ঘটনা ঘটাতে ট্রাকটি ধরতে পারে নাই কেউ।
পরে পরিচয় সনাক্ত হওয়ার পর নিহত আলেকা বেগম’র লাশ মহাসড়ক থেকে স্বজনরা বাড়িতে নিয়ে যায়।
নিহতের ৩ ছেলে ১ মেয়ে, বড় ছেলা মোঃ শরীফ পেশায় ট্রাকটর চালক।
দেবীদ্বার থানা অফিসার ইনচার্স মোঃ জহিরুল আনোয়ার বলেন ওই দুর্ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা করা হয় নাই।

ভারতে তাবলিগের ১২ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মামলা

তাবলিগ জামাতের সদস্য ১২ জন বাংলাদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে ফরেনার্স অ্যাক্টে মামলা রুজু করেছে ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের পুলিশ।

এই ১২ জন বাংলাদেশি দিল্লির মারকাজ নিজামুদ্দিনের জামাতে অংশ নিয়ে গত দু’সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে উত্তরপ্রদেশের শামলি জেলার একটি তাবলিগ মসজিদে অবস্থান করছিলেন।

এই বারোজনের মধ্যে অন্তত দুজন ইতিমধ্যেই করোনাভাইরাস পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন, বাকিদেরও পরীক্ষার ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।

শামলির পুলিশ প্রধান ভিনিত জয়সোয়াল জানিয়েছেন, “পর্যটক ভিসা নিয়ে ভারতে প্রবেশ করার পর এই বিদেশি নাগরিকরা বেআইনিভাবে ধর্মীয় কর্মকান্ডে অংশ নিয়েছেন, এ কারণেই তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, যে দুজন বাংলাদেশি নাগরিক এর মধ্যেই করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন, তাদের এখন রাখা হয়েছে ঝিনঝিনা-র একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের আইসোলেশন ওয়ার্ডে।

ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিকে বিশেষভাবে করোনাভাইরাস আক্রান্তদের জন্যই প্রস্তুত করা হয়েছে।

দু’জন বাংলাদেশি ছাড়াও ভারতের আসামের বাসিন্দা আর একজন তাবলিগ সদস্যও করোনা-আক্রান্ত হয়ে তাদের সঙ্গে একই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি আছেন।

বাকি আরও ১০ জন বাংলাদেশিকে নিকটবর্তী ভাওয়ান শহরের একটি সরকারি কলেজ ভবনে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।

দিল্লিতে তাবলিগ জামাতের সদর দফতর ‘বাংলাওয়ালি মসজিদ’ বা ‘মারকাজ নিজামুদ্দিনে’ মার্চ মাসের যে জামাত নিয়ে ভারতে বিতর্কের ঝড় বইছে, এরা সবাই সেই সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন।

মারকাজ নিজামুদ্দিনের ওই জামাতকে ভারত সরকার ইতিমধ্যেই এ দেশে করোনাভাইরাস ছড়ানোর অন্যতম প্রধান হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তাবলিগের প্রধান মাওলানা সাদ কান্দহালভি-ও এখনও পর্যন্ত ফেরার হয়ে আছেন।

ওই জামাতে অংশ নিয়ে তাবলিগের শত শত সদস্য, যার মধ্যে ভারতীয়রা ছাড়াও আরও অন্তত ২০টি দেশের নাগরিকও ছিলেন, তারা ধর্মপ্রচারের কাজে ভারতের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছেন।

তাদের সবার খোঁজে এবং তারা কার কার সংস্পর্শে এসেছেন, সেটা জানতে এখনও গোটা দেশ জুড়ে ব্যাপক ‘ম্যানহান্ট’ চলছে। পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের মুসলিম-অধ্যুষিত জেলা শামলি রাজধানী দিল্লি থেকে মাত্র সোয়াশো কিলোমিটার দূরে।

শামলি জেলা প্রশাসন জানাচ্ছে, বারোজন বাংলাদেশি ও আসামের একজন বাসিন্দাকে নিয়ে তাবলিগের তেরোজনের ওই দলটি শামলিতে এসে পৌঁছয় গত ১৭ই মার্চ।

শামলির জেলা প্রশাসক যশজিৎ কাউর জানিয়েছেন, “তাবলিগের এই দলটি ভেসানি গ্রামের এক মসজিদে আশ্রয় নিয়েছিল। দিল্লির মারকাজ নিয়ে সারা দেশ জুড়ে হইচই শুরু হওয়ার পর প্রশাসন ওই মসজিদে খোঁজ নিতে গেলে এদের সন্ধান পাওয়া যায়।”

“আমরা এদের সবাইকে কোয়ারেন্টিনে রাখার ব্যবস্থা করি এবং তাদের দেহ থেকে স্যাম্পল নিয়ে তা করোনাভাইরাস টেস্টের জন্য পাঠানো হয়।

সেই পরীক্ষার ফলেই অন্তত দুজন বাংলাদেশি ও একজন ভারতীয় নাগরিক করোনা-আক্রান্ত হিসেবে নিশ্চিত হয়েছেন। এরই মধ্যে শনিবার উত্তরপ্রদেশ পুলিশ শামলি জেলার ভাওয়ান থানাতে ১২জন বাংলাদেশির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে তাবলিগের যে সদস্যরা অসহযোগিতা করছেন বা স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে অশ্লীল আচরণ করছেন, উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকার ইতিমধ্যেই তাদের বিরুদ্ধে ন্যাশনাল সিকিওরিটি অ্যাক্টের মতো কড়া আইন প্রয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তাবলিগ জামাতের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের এই কঠোর নীতির অংশ হিসেবেই ১২ জন বাংলাদেশির বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ নেওয়া হল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও আগেই জানিয়েছে, যে বিদেশিরা পর্যটক ভিসা নিয়ে ভারতে ঢুকে মারকাজে অংশ নিয়েছেন- তাদের প্রত্যেককে কালো তালিকাভুক্ত করে ভারতে প্রবেশ চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হবে।

দিনকয়েক আগে হরিয়ানার পালওয়ালেও একটি মসজিদে দিল্লির মারকাজ-ফেরত তিনজন বাংলাদেশি নাগরিককে পাওয়া গিয়েছিল। তবে তাদের বিরুদ্ধে ওই রাজ্যের বিজেপি সরকার কোনও এফআইআর দায়ের করেছে বলে জানা যায়নি।

ভারতে একদিনেই আক্রান্ত ৫ শতাধিক, মোট আক্রান্ত বেড়ে ৩৫৭৭

ভারতে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫০৫ জন প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তের সংখ্যায় মহারাষ্ট্রকে পিছনে ফেলে শীর্ষে উঠে এসেছে দিল্লি।

রোববার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্যমতে, এ নিয়ে দেশটিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে এখন ৩ হাজার ৫৭৭ জন হয়েছে। মৃতের সংখ্যা এখন ৮৩ জন। গতকাল রাত পর্যন্ত এই সংখ্যাটা ছিল ৭৫।

এছাড়া আক্রান্তদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে ২৭৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। খবর এনডিটিভি ও আনন্দবাজার পত্রিকার।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, আক্রান্তের সংখ্যায় দিল্লি উপরে উঠে আসায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মহারাষ্ট্র। সেখানে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৯০ জন। মৃত্যু হয়েছে ২৪ জনের। আক্রান্তের সংখ্যায় রাজ্যগুলোর মধ্যে তৃতীয় স্থানে রয়েছে তামিলনাড়ু। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৮৫। মৃতের সংখ্যা ৩।

আক্রান্তের সংখ্যায় দিল্লি, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ুর পর রয়েছে কেরালা (৩০৬), তারপর তেলঙ্গানা (২৬৯), উত্তরপ্রদেশ (২২৭), রাজস্থান (২০০), এবং অন্ধ্রপ্রদেশ (১৯০)।

শনিবার সরকারের তরফে জানানো হয়, বিনামূল্যে করোনাভাইরাসের পরীক্ষা করা হবে এবং ৫০ কোটি আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প উপভোক্তাদের চিকিৎসা করা হবে।

জাতীয় স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সরকারের সংস্থার তরফে জানানো হয়, সাধারণ মানুষের পরিষেবার জন্য বেসরকারি ল্যাব এবং তালিকাভুক্ত হাসপাতালগুলোকে কাজে লাগানো হবে।

করোনার বিরুদ্ধে ভারতীয়দের ৯ মিনিটের লড়াই

করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে একযোগে লড়াইয়ের ডাকে সাড়া দিয়ে ভারতজুড়ে ৯ মিনিট মোমবাতি জ্বালালেন দেশটির জনগণ।

অন্ধকার দূর করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ডাকে সারা দিয়ে দেশজুড়ে বাড়ির বৈদ্যুতিক আলো নিভিয়ে বাড়ির বারান্দা কিংবা বেলকনিতে দাঁড়িয়ে পুরো দেশবাসী মোমবাতি প্রজ্বলনে শামিল হন। খবর: এনডিটিভির।

করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে ভারতের ২১ দিনের লকডাউনের ১২তম দিন আজ রোববার। করোনাভাইরাসের মোকাবেলায় দেশবাসীকে এক সূত্রে বাঁধতে রোববার ঠিক রাত ৯টা থেকে বৈদ্যুতিক আলো নিভিয়ে বাড়ির বারান্দায়, বেলকনিতে দাঁড়িয়ে ৯ মিনিট ধরে মোমবাতি, প্রদীপ, টর্চ বা মোবাইলের আলো জ্বালানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন মোদি।

প্রাণঘাতী ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সংহতি জানাতে রাত ৯টায় ঘরে ঘরে ৯ মিনিটের জন্য সব আলো নিভিয়ে দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘৯ পিএম-৯ মিনিট’ এর ডাকে সাড়া দিয়ে করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে লাখ লাখ লোক যোগ দেয় মোমবাতি প্রজ্বলনে।

বড় শহরগুলোতে লকডাউনের কারণে ঘরবন্দি হয়েছেন সাধারণ মানুষ। এ অবস্থায় মোমবাতি জ্বালিয়ে ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এক হওয়ার বার্তা দিল ভারত। মানুষরা বাজি, হর্ন এবং ঘণ্টা বাজানোর পাশাপাশি দেশের শক্তিপ্রদর্শনের বার্তা দিতে চিৎকার করতে শুরু করেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি আপলোড করা রাজনীতিবিদদের তালিকায় প্রথম আসেন দেশটির অন্ধ্রপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তেলেগু দিশম পার্টির সুপ্রিমো চন্দ্রবাবু নাইডু। টু্ইটে তিনি লেখেন, নরেন্দ্র মোদির ডাকে সাড়া দিয়ে আমার সহনাগরিকদের সঙ্গে আমিও মোমবাতি, প্রদীপ জ্বালিয়েছি এবং করোনাভাইরাসকে পরাস্ত করতে আমাদের দায়িত্ব পালন করেছি।

ভারতে এখনও পর্যন্ত করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ৫০০ জন। মৃতের সংখ্যা ৮৩। ভারতজুড়ে যাতে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সে জন্য ২৫ মার্চ থেকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়।

সিঙ্গাপুরে কোয়ারেন্টাইনে ২০ হাজার বিদেশি শ্রমিক

করোনায় আক্রান্তের হার বাড়তে থাকায় ২০ হাজার বিদেশি শ্রমিককে কোয়ারেন্টাইনে রেখেছে সিঙ্গাপুর। রোববার স্ট্রেইটসটাইমস এ তথ্য জানিয়েছে।

সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে,  এস১১ ডরমেটরি ও তোহ গুয়ান এলাকার ওয়েস্টলাইট ডরমেটরির ২০ হাজার শ্রমিককে তাদের কক্ষে ১৪ দিনের জন্য কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

সিঙ্গাপুরের মানবসম্পদ মন্ত্রী জোসেফিন তিও বলেছেন, ‘প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে কেবল আমাদের নাগরিকই নয় বরং আমাদের অর্থনীতিতে যারা সহযোগিতা করছে সেই বিদেশি শ্রমিকসহ সবার স্বাস্থ্য ও কল্যাণ নিশ্চিত করা। আমরা বিদেশি শ্রমিকদের নিশ্চিত করতে চাই, যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে সেটি তাদের কল্যাণের জন্যই।’

তিনি জানান, শ্রমিকরা এই কোয়ারেন্টাইনে থাকার সময় বেতন পাবেন। তারা স্বদেশে স্বজনদের কাছে অর্থও পাঠাতে পারবেন।

এদিকে রোববার সিঙ্গাপুরে আরও ১২০ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এদের  মধ্যে ১১৬ জন স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত হয়েছেন। আক্রান্তদের একটি বড় অংশই শ্রমিক। তবে তারা কোন কোন দেশের তা জানানো হয়নি।

জামালপুরে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত, ১০ বাড়ি লকডাউন

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় এক যুবক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ ঘটনায় ওই যুবকের বাড়িসহ আশপাশের ১০টি বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।

আজ রোববার রাতে মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তামিম আল ইয়ামিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, ওই যুবক ঢাকার বনানী এলাকার একটি প্লাস্টিক কারখানায় চাকরি করতেন। গত ২৬ মার্চ তিনি ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে আসার পর জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত হন। পরে তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরীক্ষায় তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন নিশ্চিত হওয়া যায়। পরে ওই যুবকের বাড়িসহ আশপাশের ১০টি বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।

জামালপুরের ডেপুটি সিভিল সার্জন কে এম শফিকুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তির তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের কাজ শুরু করেছি। তিনি কীভাবে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলেন, তা আমরা বের করার চেষ্টা করছি।’

বেনাপোলে করোনা ভাইরাস বিস্তার প্রতিরোধে ছাত্রদলের উদ্দ্যোগে জীবাণুনাশক স্পে

মোঃ রাসেল ইসলাম,বেনাপোল প্রতিনিধি: মহামারী নোবেল করোনা ভাইরাস বিস্তার প্রতিরোধে বেনাপোল বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের পক্ষথেকে জীবাণুনাশক স্পে করা হয়। অনিন্দ্য ইসলাম অমিত,জেলা যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মফিজুর রহমান ও যশোর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সেক্রেটারি নির্দেশনায় বন্দরনগরী বেনাপোলের বিভিন্ন জায়গায় জীবাণুনাশক স্প্রে করেন শার্শা উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক পদপ্রার্থী শরিফুল ইসলাম চয়ন এবং বেনাপোল পৌর ছাত্র নেতা ওমর ফারুকসহ একঝাঁক মেধাবী ছাত্রনেতা।

রবিবার(০৫ই এপ্রিল)সকাল দশটার সময় বেনাপোল বলফিল্ড পৌর বিয়ে বাড়ির সামনে এ জীবাণুনাশক স্প্রে উদ্বোধন করেন বেনাপোল পৌর বিএনপি’র সভাপতি মোঃ নাজিম উদ্দিন।এ জীবাণুনাশক স্প্রে অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বেনাপোল পৌর যুবদলের আহবায়ক প্রার্থী মোঃ রায়হানু উজ্জামান দিপু,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা একরাজ হোসেন (রাজ),ছাত্রনেতা ইমন,আশরাফুল, শাওন,ফরহাদ, নয়ন রাসেলসহ প্রমুখ।

করোনা পরবর্তী অর্থনীতি নিয়ে এখনই ভাবতে হবে অভিমত বিশেষজ্ঞদের

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। আক্রান্ত হচ্ছে অগণিত মানুষ। ফলে বিভিন্ন দেশে দেওয়া হয়েছে লকডাউন। কিন্তু এ লকডাউন যদি দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে তাহলে পরিস্থিতি কী হবে। এ নিয়ে কথা বলেছেন বিশিষ্টজনেরা। করোনা পরবর্তী সময়ের করণীয় সম্পর্কে দিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ মতামত-

অমর্ত্য সেন:
‘কিছু মানুষ শুধুই ভাবছেন, কীভাবে করোনার সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে, আর অন্যদিকে কিছু মানুষ শুধু দু’‌মুঠো ভাতের সন্ধান করছেন। চিন্তা করছেন, পরের দিনও খাবার জুটবে তো?‌ এই লকডাউনের সময়ে মানুষ যদি কর্মসংস্থান হারাতে থাকেন, তাহলে রোজগারের সব রাস্তাই বন্ধ হয়ে যাবে। মানুষের হাতে টাকা থাকবে না। তখন এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে যেখানে দেখা যাবে, শেষে খাদ্যের অভাবে মানুষকে মরতে হচ্ছে। এটা এমন একটা পরিস্থিতি, যেখানে আমাদের আরও সহযোগী হয়ে উঠতে হবে। আসল যুদ্ধে সহযোগী হয়ে ওঠার কোনও অবকাশ নেই।’‌

অভিজিৎ ব্যানার্জি:
‘লোকে যদি ভাতের খোঁজে রাস্তায় বেরোতে বাধ্য হয়, তা হলে লকডাউনের সুফল পাওয়া যাবে না। যদি গোটা দেশে লকডাউনের সিদ্ধান্ত সফল করতেই হয়, তা হলে গরিব মানুষের হাতে টাকা তুলে দিতেই হবে। তা নাহলে মানুষ শুধু খাবারের খোঁজেই রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াবে!‌ শুধু রেশন বা বিনামূল্যে খাবার দিলেই হবে না। তাঁদের আরও কিছু চাহিদা থাকে। সেগুলোও যাতে তাঁরা পূরণ করতে পারেন, তার পরিসর তৈরি করে দিতে হবে। তাঁদের হাতে এমন কিছু তুলে দিতে হবে যাতে তাঁরা এই লকডাউনের সময়ে প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করে।’‌

এস্থার ডুফলো:
‘তিন সপ্তাহ পরও যদি মানুষের হাতে টাকা না থাকে, খাবার না থাকে, মানুষকে ঘরে আটকে রাখা মুশকিল হয়ে যাবে। তার ফলে যেটা হবে, করোনার মোকাবিলা করতে যে লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেটাই ব্যর্থ হবে। আর এই পরিস্থিতিতে মানুষ যদি ঘর থেকে বেরতে শুরু করে, তাহলে সমস্যা আরও বাড়বে। লকডাউন অবশ্যই জরুরি। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত তখনই সফল হবে, যখন তা মানুষের প্রাণরক্ষা করতে পারবে। করোনা পরবর্তী সময়ে যদি দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে তুলতে হয়, সেক্ষেত্রে এখন থেকে তার প্রস্তুতি নিতে হবে।’‌

কৌশিক বসু:
‘‌অনেকেই বলছেন, এই মুহূর্তে আমাদের শুধুই করোনার মোকাবিলা করতে হবে। অর্থনীতি নিয়ে পরে ভাবা যাবে। আমি বলব, এটা একেবারেই ভুল ধারণা। করোনার মোকাবিলা করতে গিয়ে সরকার যদি দেশের অর্থনীতির বিষয়টি এড়িয়ে যায়, সেক্ষেত্রে তার মাশুল গুণতে হবে সাধারণ মানুষকেই। যার পরিণাম ভয়ঙ্কর। এটা ঠিকই যে করোনার মোকাবিলায় ভারত সরকার শুরুতেই বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ এবং কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু তাতেও বেশকিছু সমস্যা থেকে গিয়েছে। কিন্তু যেই সিদ্ধান্তই নেওয়া হোক না কেন, অর্থনীতির বিষয়টি সবসময়েই মাথায় রাখতে হবে। ডলারের তুলনায় টাকার দাম যদি ক্রমাগত পড়তে থাকে, তাহলে দেশের অর্থনীতি সত্যিই ধ্বসে পড়বে। আর যদি দেশের অর্থনীতি ধ্বসে যায়, তার সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের ওপর। ইতিহাস তার সাক্ষ্য প্রমাণ দেয়। সুতরাং, প্রশ্ন এটা নয়, করোনার মোকাবিলা নাকি দেশের অর্থনীতি?‌ প্রশ্ন হল, কীভাবে করোনার মোকাবিলার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিকে সঠিক দিশা দেখানো সম্ভব?‌’‌

রাণীশংকৈলে ৮ টি গুচ্ছগ্রামে হতদরিদ্রের মাঝে জেলা প্রশাসকের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

হুমায়ুন কবির রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ সারাদেশে বর্তমান করোনা দুর্যোগ মোকাবেলায় অংশ হিসাবে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় ৪ এপ্রিল শনিবার বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মোট ৮ টি গুচ্ছগ্রামে জেলা প্রশাসক ঠাকুরগাঁও ড. কে এম কামরুজামান সেলিম ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত তহবিল থেকে উপজেলার রন্ধনদিঘী, রাউতনগর, খরদিঘী, মানিকাদিঘী, শিতাদিঘী, মলানীদিঘী, ভূজাহা, বালিয়াদিঘী নামক ৮ টি গুচ্ছ গ্রামে কর্মহীন হতদরিদ্রের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন। তিনি সেখানকার অধিবাসীদের ঘরে থাকার বিষয়ে সচেতন করেন এবং গুচ্ছ গ্রামগুলোতে বসবাসরত ৬৪০ পরিবারের মাঝে ত্রান বিতরণ করেন।

এ সময় জেলা প্রশাসকের সংগে এডিসি( রেভুন্য), উপজেলা চেয়ারম্যান শাহারিয়ার আজম মুন্না, ইউএনও মৌসুমী আফরিদা,, ভাইস চেয়ারম্যান শেফালি বেগম, সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানবৃন্দ ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক চলমান করোনা মহামারি পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারি নির্দশনা অনুযায়ী সমগ্র জেলায় দিন রাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
হুমায়ুন কবির

সর্বশেষ আপডেট...