28 C
Dhaka, BD
সোমবার, আগস্ট ১৭, ২০২৬

ভারতে একদিনেই আক্রান্ত ৫ শতাধিক, মোট আক্রান্ত বেড়ে ৩৫৭৭

ভারতে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫০৫ জন প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তের সংখ্যায় মহারাষ্ট্রকে পিছনে ফেলে শীর্ষে উঠে এসেছে দিল্লি।

রোববার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্যমতে, এ নিয়ে দেশটিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে এখন ৩ হাজার ৫৭৭ জন হয়েছে। মৃতের সংখ্যা এখন ৮৩ জন। গতকাল রাত পর্যন্ত এই সংখ্যাটা ছিল ৭৫।

এছাড়া আক্রান্তদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে ২৭৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। খবর এনডিটিভি ও আনন্দবাজার পত্রিকার।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, আক্রান্তের সংখ্যায় দিল্লি উপরে উঠে আসায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মহারাষ্ট্র। সেখানে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৯০ জন। মৃত্যু হয়েছে ২৪ জনের। আক্রান্তের সংখ্যায় রাজ্যগুলোর মধ্যে তৃতীয় স্থানে রয়েছে তামিলনাড়ু। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৮৫। মৃতের সংখ্যা ৩।

আক্রান্তের সংখ্যায় দিল্লি, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ুর পর রয়েছে কেরালা (৩০৬), তারপর তেলঙ্গানা (২৬৯), উত্তরপ্রদেশ (২২৭), রাজস্থান (২০০), এবং অন্ধ্রপ্রদেশ (১৯০)।

শনিবার সরকারের তরফে জানানো হয়, বিনামূল্যে করোনাভাইরাসের পরীক্ষা করা হবে এবং ৫০ কোটি আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প উপভোক্তাদের চিকিৎসা করা হবে।

জাতীয় স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সরকারের সংস্থার তরফে জানানো হয়, সাধারণ মানুষের পরিষেবার জন্য বেসরকারি ল্যাব এবং তালিকাভুক্ত হাসপাতালগুলোকে কাজে লাগানো হবে।

করোনার বিরুদ্ধে ভারতীয়দের ৯ মিনিটের লড়াই

করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে একযোগে লড়াইয়ের ডাকে সাড়া দিয়ে ভারতজুড়ে ৯ মিনিট মোমবাতি জ্বালালেন দেশটির জনগণ।

অন্ধকার দূর করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ডাকে সারা দিয়ে দেশজুড়ে বাড়ির বৈদ্যুতিক আলো নিভিয়ে বাড়ির বারান্দা কিংবা বেলকনিতে দাঁড়িয়ে পুরো দেশবাসী মোমবাতি প্রজ্বলনে শামিল হন। খবর: এনডিটিভির।

করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে ভারতের ২১ দিনের লকডাউনের ১২তম দিন আজ রোববার। করোনাভাইরাসের মোকাবেলায় দেশবাসীকে এক সূত্রে বাঁধতে রোববার ঠিক রাত ৯টা থেকে বৈদ্যুতিক আলো নিভিয়ে বাড়ির বারান্দায়, বেলকনিতে দাঁড়িয়ে ৯ মিনিট ধরে মোমবাতি, প্রদীপ, টর্চ বা মোবাইলের আলো জ্বালানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন মোদি।

প্রাণঘাতী ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সংহতি জানাতে রাত ৯টায় ঘরে ঘরে ৯ মিনিটের জন্য সব আলো নিভিয়ে দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘৯ পিএম-৯ মিনিট’ এর ডাকে সাড়া দিয়ে করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে লাখ লাখ লোক যোগ দেয় মোমবাতি প্রজ্বলনে।

বড় শহরগুলোতে লকডাউনের কারণে ঘরবন্দি হয়েছেন সাধারণ মানুষ। এ অবস্থায় মোমবাতি জ্বালিয়ে ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এক হওয়ার বার্তা দিল ভারত। মানুষরা বাজি, হর্ন এবং ঘণ্টা বাজানোর পাশাপাশি দেশের শক্তিপ্রদর্শনের বার্তা দিতে চিৎকার করতে শুরু করেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি আপলোড করা রাজনীতিবিদদের তালিকায় প্রথম আসেন দেশটির অন্ধ্রপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তেলেগু দিশম পার্টির সুপ্রিমো চন্দ্রবাবু নাইডু। টু্ইটে তিনি লেখেন, নরেন্দ্র মোদির ডাকে সাড়া দিয়ে আমার সহনাগরিকদের সঙ্গে আমিও মোমবাতি, প্রদীপ জ্বালিয়েছি এবং করোনাভাইরাসকে পরাস্ত করতে আমাদের দায়িত্ব পালন করেছি।

ভারতে এখনও পর্যন্ত করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ৫০০ জন। মৃতের সংখ্যা ৮৩। ভারতজুড়ে যাতে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সে জন্য ২৫ মার্চ থেকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়।

সিঙ্গাপুরে কোয়ারেন্টাইনে ২০ হাজার বিদেশি শ্রমিক

করোনায় আক্রান্তের হার বাড়তে থাকায় ২০ হাজার বিদেশি শ্রমিককে কোয়ারেন্টাইনে রেখেছে সিঙ্গাপুর। রোববার স্ট্রেইটসটাইমস এ তথ্য জানিয়েছে।

সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে,  এস১১ ডরমেটরি ও তোহ গুয়ান এলাকার ওয়েস্টলাইট ডরমেটরির ২০ হাজার শ্রমিককে তাদের কক্ষে ১৪ দিনের জন্য কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

সিঙ্গাপুরের মানবসম্পদ মন্ত্রী জোসেফিন তিও বলেছেন, ‘প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে কেবল আমাদের নাগরিকই নয় বরং আমাদের অর্থনীতিতে যারা সহযোগিতা করছে সেই বিদেশি শ্রমিকসহ সবার স্বাস্থ্য ও কল্যাণ নিশ্চিত করা। আমরা বিদেশি শ্রমিকদের নিশ্চিত করতে চাই, যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে সেটি তাদের কল্যাণের জন্যই।’

তিনি জানান, শ্রমিকরা এই কোয়ারেন্টাইনে থাকার সময় বেতন পাবেন। তারা স্বদেশে স্বজনদের কাছে অর্থও পাঠাতে পারবেন।

এদিকে রোববার সিঙ্গাপুরে আরও ১২০ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এদের  মধ্যে ১১৬ জন স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত হয়েছেন। আক্রান্তদের একটি বড় অংশই শ্রমিক। তবে তারা কোন কোন দেশের তা জানানো হয়নি।

জামালপুরে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত, ১০ বাড়ি লকডাউন

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় এক যুবক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ ঘটনায় ওই যুবকের বাড়িসহ আশপাশের ১০টি বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।

আজ রোববার রাতে মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তামিম আল ইয়ামিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, ওই যুবক ঢাকার বনানী এলাকার একটি প্লাস্টিক কারখানায় চাকরি করতেন। গত ২৬ মার্চ তিনি ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে আসার পর জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত হন। পরে তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরীক্ষায় তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন নিশ্চিত হওয়া যায়। পরে ওই যুবকের বাড়িসহ আশপাশের ১০টি বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।

জামালপুরের ডেপুটি সিভিল সার্জন কে এম শফিকুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তির তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের কাজ শুরু করেছি। তিনি কীভাবে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলেন, তা আমরা বের করার চেষ্টা করছি।’

বেনাপোলে করোনা ভাইরাস বিস্তার প্রতিরোধে ছাত্রদলের উদ্দ্যোগে জীবাণুনাশক স্পে

মোঃ রাসেল ইসলাম,বেনাপোল প্রতিনিধি: মহামারী নোবেল করোনা ভাইরাস বিস্তার প্রতিরোধে বেনাপোল বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের পক্ষথেকে জীবাণুনাশক স্পে করা হয়। অনিন্দ্য ইসলাম অমিত,জেলা যুবদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মফিজুর রহমান ও যশোর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সেক্রেটারি নির্দেশনায় বন্দরনগরী বেনাপোলের বিভিন্ন জায়গায় জীবাণুনাশক স্প্রে করেন শার্শা উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক পদপ্রার্থী শরিফুল ইসলাম চয়ন এবং বেনাপোল পৌর ছাত্র নেতা ওমর ফারুকসহ একঝাঁক মেধাবী ছাত্রনেতা।

রবিবার(০৫ই এপ্রিল)সকাল দশটার সময় বেনাপোল বলফিল্ড পৌর বিয়ে বাড়ির সামনে এ জীবাণুনাশক স্প্রে উদ্বোধন করেন বেনাপোল পৌর বিএনপি’র সভাপতি মোঃ নাজিম উদ্দিন।এ জীবাণুনাশক স্প্রে অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বেনাপোল পৌর যুবদলের আহবায়ক প্রার্থী মোঃ রায়হানু উজ্জামান দিপু,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা একরাজ হোসেন (রাজ),ছাত্রনেতা ইমন,আশরাফুল, শাওন,ফরহাদ, নয়ন রাসেলসহ প্রমুখ।

করোনা পরবর্তী অর্থনীতি নিয়ে এখনই ভাবতে হবে অভিমত বিশেষজ্ঞদের

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। আক্রান্ত হচ্ছে অগণিত মানুষ। ফলে বিভিন্ন দেশে দেওয়া হয়েছে লকডাউন। কিন্তু এ লকডাউন যদি দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে তাহলে পরিস্থিতি কী হবে। এ নিয়ে কথা বলেছেন বিশিষ্টজনেরা। করোনা পরবর্তী সময়ের করণীয় সম্পর্কে দিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ মতামত-

অমর্ত্য সেন:
‘কিছু মানুষ শুধুই ভাবছেন, কীভাবে করোনার সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে, আর অন্যদিকে কিছু মানুষ শুধু দু’‌মুঠো ভাতের সন্ধান করছেন। চিন্তা করছেন, পরের দিনও খাবার জুটবে তো?‌ এই লকডাউনের সময়ে মানুষ যদি কর্মসংস্থান হারাতে থাকেন, তাহলে রোজগারের সব রাস্তাই বন্ধ হয়ে যাবে। মানুষের হাতে টাকা থাকবে না। তখন এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে যেখানে দেখা যাবে, শেষে খাদ্যের অভাবে মানুষকে মরতে হচ্ছে। এটা এমন একটা পরিস্থিতি, যেখানে আমাদের আরও সহযোগী হয়ে উঠতে হবে। আসল যুদ্ধে সহযোগী হয়ে ওঠার কোনও অবকাশ নেই।’‌

অভিজিৎ ব্যানার্জি:
‘লোকে যদি ভাতের খোঁজে রাস্তায় বেরোতে বাধ্য হয়, তা হলে লকডাউনের সুফল পাওয়া যাবে না। যদি গোটা দেশে লকডাউনের সিদ্ধান্ত সফল করতেই হয়, তা হলে গরিব মানুষের হাতে টাকা তুলে দিতেই হবে। তা নাহলে মানুষ শুধু খাবারের খোঁজেই রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াবে!‌ শুধু রেশন বা বিনামূল্যে খাবার দিলেই হবে না। তাঁদের আরও কিছু চাহিদা থাকে। সেগুলোও যাতে তাঁরা পূরণ করতে পারেন, তার পরিসর তৈরি করে দিতে হবে। তাঁদের হাতে এমন কিছু তুলে দিতে হবে যাতে তাঁরা এই লকডাউনের সময়ে প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করে।’‌

এস্থার ডুফলো:
‘তিন সপ্তাহ পরও যদি মানুষের হাতে টাকা না থাকে, খাবার না থাকে, মানুষকে ঘরে আটকে রাখা মুশকিল হয়ে যাবে। তার ফলে যেটা হবে, করোনার মোকাবিলা করতে যে লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেটাই ব্যর্থ হবে। আর এই পরিস্থিতিতে মানুষ যদি ঘর থেকে বেরতে শুরু করে, তাহলে সমস্যা আরও বাড়বে। লকডাউন অবশ্যই জরুরি। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত তখনই সফল হবে, যখন তা মানুষের প্রাণরক্ষা করতে পারবে। করোনা পরবর্তী সময়ে যদি দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে তুলতে হয়, সেক্ষেত্রে এখন থেকে তার প্রস্তুতি নিতে হবে।’‌

কৌশিক বসু:
‘‌অনেকেই বলছেন, এই মুহূর্তে আমাদের শুধুই করোনার মোকাবিলা করতে হবে। অর্থনীতি নিয়ে পরে ভাবা যাবে। আমি বলব, এটা একেবারেই ভুল ধারণা। করোনার মোকাবিলা করতে গিয়ে সরকার যদি দেশের অর্থনীতির বিষয়টি এড়িয়ে যায়, সেক্ষেত্রে তার মাশুল গুণতে হবে সাধারণ মানুষকেই। যার পরিণাম ভয়ঙ্কর। এটা ঠিকই যে করোনার মোকাবিলায় ভারত সরকার শুরুতেই বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ এবং কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু তাতেও বেশকিছু সমস্যা থেকে গিয়েছে। কিন্তু যেই সিদ্ধান্তই নেওয়া হোক না কেন, অর্থনীতির বিষয়টি সবসময়েই মাথায় রাখতে হবে। ডলারের তুলনায় টাকার দাম যদি ক্রমাগত পড়তে থাকে, তাহলে দেশের অর্থনীতি সত্যিই ধ্বসে পড়বে। আর যদি দেশের অর্থনীতি ধ্বসে যায়, তার সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের ওপর। ইতিহাস তার সাক্ষ্য প্রমাণ দেয়। সুতরাং, প্রশ্ন এটা নয়, করোনার মোকাবিলা নাকি দেশের অর্থনীতি?‌ প্রশ্ন হল, কীভাবে করোনার মোকাবিলার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিকে সঠিক দিশা দেখানো সম্ভব?‌’‌

রাণীশংকৈলে ৮ টি গুচ্ছগ্রামে হতদরিদ্রের মাঝে জেলা প্রশাসকের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

হুমায়ুন কবির রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ সারাদেশে বর্তমান করোনা দুর্যোগ মোকাবেলায় অংশ হিসাবে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় ৪ এপ্রিল শনিবার বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মোট ৮ টি গুচ্ছগ্রামে জেলা প্রশাসক ঠাকুরগাঁও ড. কে এম কামরুজামান সেলিম ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত তহবিল থেকে উপজেলার রন্ধনদিঘী, রাউতনগর, খরদিঘী, মানিকাদিঘী, শিতাদিঘী, মলানীদিঘী, ভূজাহা, বালিয়াদিঘী নামক ৮ টি গুচ্ছ গ্রামে কর্মহীন হতদরিদ্রের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন। তিনি সেখানকার অধিবাসীদের ঘরে থাকার বিষয়ে সচেতন করেন এবং গুচ্ছ গ্রামগুলোতে বসবাসরত ৬৪০ পরিবারের মাঝে ত্রান বিতরণ করেন।

এ সময় জেলা প্রশাসকের সংগে এডিসি( রেভুন্য), উপজেলা চেয়ারম্যান শাহারিয়ার আজম মুন্না, ইউএনও মৌসুমী আফরিদা,, ভাইস চেয়ারম্যান শেফালি বেগম, সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানবৃন্দ ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক চলমান করোনা মহামারি পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারি নির্দশনা অনুযায়ী সমগ্র জেলায় দিন রাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
হুমায়ুন কবির

মাগুরার শ্রীপুরে দুই গরু চোরকে গণধোলাই

আশরাফ হোসেন পল্টু,মাগুরা প্রতিনিধি ঃ গতকাল শনিবার গভীর রাতে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার চৌগাছী গ্রামের দুই গরু চোরকে ধরে গণধোলাই দিয়েছে স্থানীয় লোকজন। গণধোলাইয়ের স্বীকার শহিদুল কসাই (৪০) ও সামছু কসাই (৫০) কে আশংকাজনক অবস্থায় পুলিশ প্রহরায় শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার চৌগাছি হাফিজার বিশ্বাসের ছেলে শহিদুল কসাই (৪০) ও একই গ্রামের খোরশেদ শেখের ছেলে সামছু কসাই (৫০) এলাকায় মাংশ ব্যবসার পাশিপাশি দীর্ঘদিন ধরে গরু চুরি কারবারির সাথে জড়িত রয়েছে ।

গত শনিবার রাত অনুমান তিনটার দিকে চরচৌগাছী গ্রামের কামরুলের বাড়িতে গরু চুরির উদ্দেশ্যে গোয়ালঘরে প্রবেশ করে। বিষয়টি কামরুল টের পেয়ে গরু চোর ,গরু চোর বলে চিৎকার দেয়। তার চিৎকার শুনে চোরেরা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। তখন গ্রামবাসী দ্রæত ছুটে এসে চোরদের ধরে চরমভাবে ধণধোলাই দেয় । সংবাদ পেয়ে ওইসময়ই শ্রীপুর থানার এস,আই জুলিয়াস এর নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে চোর শহিদুল ও সামছুকে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীর কাছ উদ্ধার করে আশংকাজনক অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

এদিকে গ্রামবাসীর মধ্যে অনেকেই অভিযোগ করেন,চৌগাছী গ্রামের ইউপি সদস্য নওশের আলী ও জুয়াড়ি মঞ্জু শেখ চোরদের বাঁচানোর জন্য তাদের সাথে আতাত করে এ ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে বিভিন্ন মহলে তদবির করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

দারিয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন কানন জানান, উপজেলা মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় গরু চুরির বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক রাতের বেলা গরুবাহী গাড়ি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তারপর গরু চুরি প্রতিহত করতে বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে গ্রামবাসীদের মাধ্যমে পাহাড়াও জোরদার করা হয়েছে। সম্প্রতি এলাকার বিভিন্ন গ্রাম থেকে বেশকিছু গরু চুরি হয়েছে। গত সপ্তাহেও চরচৌগাছী গ্রামের কামরুলের গোয়ালঘর থেকে ২টি মূল্যবান গরু চুরি যায়। ঠিক তেমনি শনিবার রাতেও চোরেরা গরু চুরির উদ্দেশ্যে কামরুলের বাড়িতে হানা দিয়েছিল। বাড়ির লোকজন টের পেয়ে যাওয়ায় চোরেরা গরু চুরি করতে না পারলে গণধোলাইয়ের স্বীকার হয়ে পুলিশি প্রহরায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মাহবুবুর রহমান জানান, শনিবার রাত অনুমান তিনটার দিকে ওই গ্রামে দুইজন লোককে মারধরের সংবাদ শুনে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছিল । তবে গরু চুরির বিষয়টি সঠিক কি-না ? এই মুহুর্তে সঠিক করে বলা সম্ভব নয় । তবে অভিযোগ পেলে বিষয়টি বিস্তারিত জানা যাবে । রবিবার সকাল পর্যন্ত কোন পক্ষই কোন অভিযোগ দেয়নি । তবে চোরদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সাভারে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

বিপ্লব সাভার : সারা দেশের ন্যায় সাভারেও করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একই সাথে প্রতিদিন চলছে ভ্রাম্যমাণ আদালেতের অভিযান।রোববার সকালে সাভার বাজার বাসস্টন্ডে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম পরিদর্শন করেন র‌্যাব-৪ এর অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মোজাম্মেল হক।র‌্যাব-৪ এর অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মোজাম্মেল হক তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস মোকাবেলা সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করে যাচ্ছে র‌্যাব। এছাড়া র‌্যাব-৪ এর পক্ষ থেকে প্রতিদিন ১০০ দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে প্রদান করা হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাধাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই সহযোগিতা অব্যহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

এসময় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বদস্যরা গণ পরিবহণের চালক ও যাত্রীদের করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে বিভিন্ন সচেতনতামূলক দিক নির্দেশনা প্রদান করেন।

এছাড়া সাভার উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মাহফুজের নেতৃত্বে বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়কসহ পাড়া মহল্লায় সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে বিভিন্ন প্রচারণতা ও ভ্রাম্যমান আদলতের অভিযান অব্যাহত থাকে।

সুন্দরগঞ্জে করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সরকারি আদেশ অমান্য হাট-বাজারে উপচে পড়া ভীড়

এনামুল হক,সুন্দরগঞ্জ(গাইবান্ধা)প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের আক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে সরকারিভাবে নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও গণজমায়েত থামানো যাচ্ছেনা। গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষ বেপরোয়া চলাফেরা করছেন। গণজমায়েত কমাতে সরকারি ও বেসরকারিভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে উপজেলার সর্বত্র মাইকিং,লিফলেট বিতরণসহ নানা মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে। তবুও কমছেনা গণজমায়েত। লোকজন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে হাট-বাজারে ভীড় জমাচ্ছে। এছাড়া গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন মোড়ে দোকানপাটের সামনে গাদা-গাদী করে বসে থাকছে লোকজন। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কাঁচা বাজার ও ওষুধের দোকানের পাশাপাশি অন্যান্য দোকানপাটও খুলছে।

রবিবার(৫ এপ্রিল)সকাল ৮ টায় উপজেলার কাঠগড়াহাটে সরেজমিনে দেখা গেছে,অসংখ্য লোকের উপস্থিতি ও ভীড়। তারা সামাজিক দুরত্ব বজায় না রেখে ইচ্ছেমত গাদা-গাদী করে বেপরোয়া চলাফেরা করছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,ছাইতানতলা বাজার,বেলকা হাট,মজুমদার হাট,ছিলামনির বাজার,বরুয়ার হাট,কছিম বাজার,শখের বাজার ও চৈতন্য বাজারের অবস্থাও একই। তবে গ্রামাঞ্চলের অনেক সচেতন লোক অসচেতন লোকের বেপরোয়া চলাফেরা করার কারণে কিছুটা আতংকে রয়েছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী লুতফুল হাসান জানান,আজই(৫ এপ্রিল) আমরা সব ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের সাথে মিটিং করলাম। এখন থেকে প্রতি ইউনিয়নে নির্ধারিত পুলিশ থাকবে। চেয়ারম্যান,মেম্বর,পুলিশসহ আমরা সমন্বিতভাবে কাজ করবো। এতে সহজেই সমস্যার সমাধান হবে।

সর্বশেষ আপডেট...