15.9 C
Dhaka, BD
সোমবার, জানুয়ারি ১৯, ২০২৬

ঠাকুরগাঁওয়ে কোভিট-১৯ প্রতিরোধ বিষয়ক মিডিয়া ক্যাম্পেইন সভা অনুষ্ঠিত

হুমায়ুন কবির, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে কোভিড-১৯ মোকাবেলায় অর্জিত অভিজ্ঞতা নিয়ে মিডিয়া ক্যাম্পেইন ( মতবিনিময় সভা) অনুষ্ঠিত হয়।

এ উপলক্ষে সোমবার (২৮ মার্চ) সকাল ১১ টায় পীরগঞ্জ প্রেসক্লাব হলরুমে মানব কল্যাণ পরিষদ এমকেপির আয়োজনে ও দি এশিয়া ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় “ ইনসিওরিং পিপলস্ পার্টিসিপেশন অন পাবলিক সেক্টর ম্যানেজমেন্ট পলিসি অফ কোভিড-১৯ সিচিউয়েশন ইন নর্দান বাংলাদেশ” প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পীরগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি জয়নাল আবেদীন বাবুল।

এতে অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন। মানব কল্যাণ পরিষদ-এমকেপি’র কো-অর্ডিনেটর সাদেকুল ইসলামের, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নসরতে খোদা রানা, এমকেপি’র রিসার্চ অফিসার রাকিবা ইয়াসমিন, প্রজেক্ট অফিসার অপু রাণী রায়, এসিস্ট্যান্ট অফিসার তমিজুল ইসলাম, শামীমা নাসরিন প্রমুখ।

এছাড়াও কোভিড-১৯ পরিস্থিতি মোকাবেলায় অর্জিত বাস্তব অভিজ্ঞতা সমূহ ভিডিও চিত্র প্রদর্শের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়।
এসময় পীরগঞ্জ উপজেলায় বিভিন্ন ইউনিয়নে কোভিড-১৯ মোকাবেলায় সমস্যা চিহ্নিত করে বিভিন্ন দল গঠন, তথ্য কেন্দ্র স্থাপন, বিভিন্ন সুপারিশমালা প্রণয়ন, কর্মশালা আয়োজনের মাধ্যমে প্রকল্পের বিভিন্ন অর্জন সমূহ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনার মধ্যে বক্তাগণ বলেন যে, করোনা এখনো শেষ হয়নি।

যে কোন সময়ে ভিন্নরুপে এটির প্রকটতা বৃদ্ধি পেতে পারে। সে ক্ষেত্রে সচেতনতা বৃদ্ধিমুলক এ রকম কার্যক্রম অব্যাহত রাখার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

এসময় মিডিয়া ক্যাম্পেইনে উপজেলার কর্মরত গণমাধ্যমকর্মী ও ক্যাম্পেইন প্রকল্পের সাথে জড়িত সকলেই উপস্থিত ছিলেন।

রাণীশংকৈল উপজেলা বিএনপি’র সম্মেলন স্থগিত

হুমায়ুন কবির রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল ডিগ্রী কলেজ মাঠে রবিবার ২৭ মার্চ উপজেলা বিএনপি’র দ্বিবার্ষিক সম্মেলন অনিবার্য কারণে স্থগিত করা হয়েছে।

সম্মেলন চলাকালে দ্বিতীয় পর্বে প্রধান অতিথি জেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈমুর রহমান সম্মেলন স্থগিত ঘোষণা করেন।

এদিন সকাল ১১ টায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি আইনুল হকের সভাপতিত্বে সম্মেলন শুরু হয়। এতে জেলা বিএনপির সভাপতি বীর
মুক্তিযোদ্ধা তৈমুর রহমান প্রধান অতিথি, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমিন প্রধান বক্তা এবং ঠাকুরগাঁও-৩ সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান জাহিদ উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও সম্মেলনে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কালিয়াকৈরে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত 

কালিয়াকৈর( গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের কালিয়াকৈরে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার( ২৭ শে মার্চ)বিকেলে উপজেলা শ্রমিক দলের আয়োজনে  মৌচাক বাজার সংলগ্ন এলাকা এই প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়।

এই সময় সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর জেলা শ্রমিকদলের সহ-সভাপতি বেলায়েত হোসেন,অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শ্রমিক নেতা আব্দুল করিম।

প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, গাজীপুর জেলা শ্রমিকদলের সহ-সভাপতি এ কে আজাদ, প্রধান বক্তা পৌর শমিক দলের সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম সরকার, পৌর শ্রমিকদলের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক আসাদুল্লাহ বাবু, মৌচাক ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান, পৌর শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী রায়হান রবিন, ইসমাইল হোসেন, সুমন, রাজ্জাক,রাজিব আহসান নিরবসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

সিংগাইরের জামির্তা ইউনিয়নে সিএনজি চালককে মারধরের ঘটনায় যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে (ভিডিও)

স্টাফ রিপোর্টার : মানিকগঞ্জ জেলা সিংগাইর উপজেলার জামির্তা ইউনিয়নে সিএনজি চালককে মারধরের ঘটনায় প্রায় ৬ ঘন্টা সিএনজি বন্ধ থাকায় যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার বিকেল আনুমানিক ৩ টার দিকে জামির্তা স্কুলের সামনে, মানিকনগর স্কুলের ছাত্র ও জামির্তা স্কুলের ছাত্রদের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে সৃষ্টি হয়, এতে একজন গুরুতর আহত হয়েছে বলেও জানা যায় ।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যায়, জামির্তা স্কুলের সামনে বেশ কয়েকজন স্থানীয় ছেলেরা সঙ্গবদ্ধ হয়ে, হেমায়েতপুর টু মানিকনগর গামী ৪০ থেকে ৫০ টি যাত্রীবাহী সিএনজি থেকে যাত্রীদের নামিয়ে ,জামির্তা স্কুল মাঠে জড়ো করে । এ নিয়ে বিল্লাল হোসেন নামের এক সিএনজি ড্রাইভার প্রতিবাদ করায় তাকে পিটিয়ে আহত করে স্থানীয় সঙ্গবদ্ধ দলটি । তাকে কেন মারছে আমির হোসেন নামের আরো এক ড্রাইভার জানতে চাওয়ায় তাকেও পিটিয়ে আহত করে তারা । এতে করে সকল সিএনজি চালকদের ক্ষিপ্ত হতে দেখে ,সঙ্গবদ্ধ দলটি পালিয়ে যায় ।

তারই প্রতিবাদে হেমায়েতপুর টু মানিকনগরের সকল সিএনজি বন্ধ করে দেয় সিএনজি চালকরা , তাতে যাত্রীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে ।

সিএনজি চালকদের অভিযোগ, স্থানীয় মেম্বার তারা মিয়ার উপস্থিতিতে সিএনজি চালকদের মারধর করা হয়েছে, তবে বিষয়টি তিনি অস্বীকার করে বলেন, আমি অনেক দূরে ছিলাম তাই দেখতে পাইনি ।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে, ঘটনাস্থলে শান্তিপুর তদন্ত কেন্দ্রে এ,এস,আই শাহিনুর রহমান ও স্থানীয় চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মোল্লা এসে সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয় ।

ছেঁড়া জিন্স পরা যাবে না, বিজ্ঞপ্তি জারি

হিজাব বিতর্কের মধ্যেই এবার কলেজ ক্যাম্পাসে ‘কৃত্রিমভাবে ছেঁড়া’ কোনও পোশাক পরা যাবে না বলে নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। এ নির্দেশ অমান্য করে ছাত্রছাত্রীদের কেউ এমন পোশাক পরে এলে তাকে ‘ট্রান্সফার সার্টিফিকেট’ (টিসি) দেওয়া হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

সম্প্রতি পোশাক নিয়ে এমন বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে কলকাতার আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু কলেজ কর্তৃপক্ষ। খবর আনন্দবাজারের।

আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু কলেজের বিজ্ঞপ্তিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়, ‘কৃত্রিমভাবে ছেঁড়া’ ট্রাউজার্সের প্রসঙ্গ। নির্দেশ অমান্য করে ছাত্রছাত্রীদের কেউ এমন পোশাক পরে এলে তাকে ‘ট্রান্সফার সার্টিফিকেট’ (টিসি) দেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেছে নির্দেশনায়। শহরের কলেজ পড়ুয়াদের মধ্যে ‘রিপ্‌ড জিন্স’-এর তুমুল জনপ্রিয়তা। এই পরিস্থিতিতে কলেজ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে প্রশ্ন তুলেছে ওই কলেজের শিক্ষার্থীদের একাংশ।

এ বিষয়ে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘অশালীন পোশাক নিষিদ্ধ করার যুক্তি মানা যেতে পারে, কিন্তু রিপ্‌ড জিন্স নিষিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে এমন পোশাক ফতোয়া জারি অযৌক্তিক।’

তার মতে, এই ধরনের নিয়ম তৈরি করে কলেজ কর্তৃপক্ষ ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দে হস্তক্ষেপ করছেন।

কলেজের ওয়েবসাইট থেকে নোটিশটি পাওয়ার পর বার বার চেষ্টা করেও আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু কলেজের প্রিন্সিপালের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি বলে জানায় আনন্দবাজার।

কয়েক বছর আগে মুম্বাইয়ের একটি কলেজ ক্যাম্পাসে ছেঁড়া জিন্স নিষিদ্ধ করার বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এমন নির্দেশিকার পেছনে সামাজিক কারণ রয়েছে বলে দাবি করে বলেছিলেন, ‘ওই ধরনের পোশাক দরিদ্রদের ব্যঙ্গ করে। যাদের ছেঁড়া পোশাক পরা ছাড়া কোনো উপায় নেই, তাদের কটাক্ষ করে।’

সম্প্রতি হিজাব পরে কলেজে প্রবেশ নিষেধ করায় দেশটির কর্ণাটকে বিতর্ক তৈরি হয়। এ নিয়ে মামলাও হয় আদালতে। যার রেশ ছড়িয়েছে ভারতজুড়ে। এবার পোশাক বিধি নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হলো কলকাতাতেও।

ধর্মের কারণে অভিনয় ছাড়লেন অভিনেত্রী

  1. সময়ের খবর ডেস্ক:গ্ল্যামার জগৎ ছেড়ে ধর্মের পথে চলার ঘোষণা দিয়েছেন হিন্দি সিরিয়ালের জনপ্রিয় অভিনেত্রী আনাঘা ভোঁসলে। নিজের ইনস্টাগ্রামে এক বিবৃতির মাধ্যমে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিনি। বলেছেন, ধর্ম পালনের জন্যই অভিনয় ছাড়ছি। এখন থেকে শুধুই ঈশ্বরের সেবা করবো।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আনাঘা ভোঁসলে লিখেছেন, এতদিন আপনারা আমাকে যে ভালোবাসা ও আশীর্বাদ দিয়েছেন সেজন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। এবার অভিনয়কে চিরকালের জন্য বিদায় জানাচ্ছি। আশা করি, আপনারা আমার এই সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধা করবেন ও সমর্থন জানাবেন। আমার ধর্মীয় বিশ্বাসের জন্যই আমি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

এর আগে ‘দঙ্গল’ খ্যাত অভিনেত্রী জায়রা ওয়াসিম ধর্মের কারণে বলিউড ছেড়েছেন। একই পথে হেঁটেছেন অভিনেত্রী সানা খান। এবার সেই তালিকায় যোগ হলেন আনাঘা ভোঁসলে। প্রসঙ্গত, বাংলা ধারাবাহিক ‘শ্রীময়ী’র হিন্দি রিমেক ‘অনুপমা’তে নন্দিনীর চরিত্রে অভিনয় করতেন আনাঘা।

সূত্র: জি নিউজ

ঠেলাঠেলিতে কাৎ বিএনপি নেতারা, ভাঙলো পুস্পস্তবক

মহান স্বাধীনতা দিবসে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে এসে বিশৃঙ্খলায় জড়িয়েছেন বিএনপি নেতারা। এতে ঠেলাঠেলিতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামসহ শীর্ষ কয়েকজন নেতা পড়ে যান। এসময় তাদের পুস্পস্তবকটিও ভেঙ্গে যায়।

শনিবার (২৬ মার্চ) সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদির সামনে শ্রদ্ধা জানানোর সময় এ ঘটনা ঘটে।

এসময় দলের সিনিয়র নেতা মির্জা ফখরুল ও রুহুল কবির রিজভীসহ অনেককেই বেদিতে উল্টে পড়ে যেতে দেখা যায়। বিএনপির শ্রদ্ধা নিবেদনের এমন চিত্র দেখে ক্ষোভ জানিয়েছেন সাধারণ মানুষসহ সুশীলরা।

বাহার আহমেদ নামে এক দর্শনার্থী বলেন, সকাল ৯টার দিকে বিএনপির লোকজন স্লোগান দিচ্ছিলো। এসময় বেদির কাছে অনেক যাওয়ার চেষ্টা করেও ধাক্কাধাক্কির জন্য পারিনি। পরে তারা চলে যাওয়ার পর বেদিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছি।

নাম প্রকাশে এক অনিচ্ছুক এক সংবাদকর্মী বলেন, বিএনপির শ্রদ্ধা নিবেদনের বরাবরই জাতীয় স্মৃতিসৌধে আমরা বিশৃঙ্খলা দেখেছি। নেতাকর্মীদের ধাক্কাধাক্কির কারণে সাংবাদিকদের ছবি ও ভিডিও নেয়া কষ্ট হয়ে যায়। ধাক্কাধাক্কির কারণে দাড়িয়ে থাকাও দূরহ হয়ে পড়ে। এটা খুবই দুঃখজনক!

সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) হারুন অর রশিদ বলেন, ‘বরাবরে বিএনপি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসলেই বেদির সামনে ধাক্কাধাক্কি ও ঠেলাঠেলির শুরু হয়। এসময় হ্যান্ডমাইকে তাদের উশৃংখলতা পরিহার করে শান্তভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে বলা হয়। কিন্তু তারা কর্ণপাত না করে হুড়োহুড়ি করে সামনে যাওয়ার প্রতিযোগিতা করতে থাকে।

এসময় ভীড়ের মধ্যে মোবাইল ও মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি যাওয়ারও ঘটনা ঘটে। গত বিজয় দিবসেও বিএনপির শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় সাংবাদিক, পুলিশ, সরকারি কর্মকর্তাসহ অনেকের মোবাইল খোয়া গিয়েছিল। আজকে স্বাধীনতা দিবসেও বিএনপির শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় বেশ কয়েকজন পকেটমার আটক করেছি। তবে আমাদের সকলের ভাবগাম্ভীর্যতার সাথে শ্রদ্ধা নিবেদন করা উচিত।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শামসুল আলম বলেন, ‘ওখানে ফুল দেয়ার জন্যে দায়িত্বরতদের নিয়ম চালু করা উচিৎ। সারিবদ্ধভাবে ফুল দিলে এমন ঘটনা ঘটতো না। মূলত সকালে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ফুল দিয়ে যাওয়ার পরেই বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। বিশেষ করে বড় দুই রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরা হুড়োহুড়ি করে। যারা ওখানে দায়িত্বে আছেন তারা যদি যথাযথ গাইডলাইন করে দেয় তাহলে এটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। এটা আসলে যার যার সতর্ক থাকার কথা। যার যার বোধ আসার কথা। সবাই যদি সতর্ক থাকে তাহলে এটা থেকে উত্তরণ সম্ভব।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদি তারা না পারে তাহলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বা রোভার স্কাউটকেও দায়িত্ব দিতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেমন তারা করছে। আমরা কেন পারবো না। আমাদের দায়িত্ব দেয়া হলে আমরাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারতাম। এখানে কর্তৃপক্ষেরও ব্যর্থতা রয়েছে ।

 

কেআরআর

হুইল চেয়ারে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা

সাভার প্রতিনিধি: মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবসে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে সকালে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। এরপরেই জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে সৌধ প্রাঙ্গন।

এই জনসাধারণের পাশাপাশি প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে শহীদ বেদিতে ফুল দিতে এসেছেন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের এই দলটি।

শনিবার (২৬ মার্চ) সকাল ৭টার দিকে জাতীয় স্মৃতিসৌধ সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার পরই হুইল চেয়ারে করে নারী ও শিশুসহ ১৩ জন শহীদ বেদিতে এসে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

জাতীয় স্মৃতিসৌধে আসতে পেরে তাদের মুখে হাস্যজ্জল প্রশান্তির ছাপ লক্ষ করা গেছে। যেনো এক মুহুর্তের জন্য তারা ভুলে গিয়েছিলো হুইল চেয়ার তাদের পরাধীন করে রেখেছে। মনে হয়েছে তারা স্বাধীন।

প্রতি বছর পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্রের উদ্দ্যোগে তার প্রতিষ্ঠানেই থাকা কিছু বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের জাতীয় স্মৃতিসৌধ আনা হয়। এবারও প্রতিষ্ঠানটি তাদের নিয়ে এসেছেন।

১৩ জনের সাথে ফুল দিতে আসা শারীরিক প্রতিবন্ধী তনন কুন্ড জয় বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য বীর শহীদরা নিজেদের উজার করে দিয়েছিলো। অনেকে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ হাত-পা কিংবা সমভ্রম হাড়িয়েছে। আমাদের শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধকতা আছে। সুধু এই প্রতিবন্ধকতার কারণে যদি আমরা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে কারপন্য করি তাহলে সেটা শহীদদের রক্তের সাথে বেইমানি করা হবে।

হুইল চেয়ারে বসে থাকা আরেকজন রুবেল তালুকদার বলেন, প্রতিবছরে আমাদের মত প্রতিবন্ধী কেউ না কেউ এই স্মৃতি সৌধে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে আসেন। এবার আমিও এসেছি। অনেকদিনের ইচ্ছা ছিলো এখানে আসার। দেশের বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পেরে আমি প্রশান্তি অনুভব করছি। তাদের হাজারও ছালাম রইলো।

সিআরপির সমাজ কল্যান বিভাগের প্রধান মোঃ শফিউল্লাহ বলেন, অাপনারা অনেকেই জানেন আমাদের প্রতিষ্ঠান প্রতিবন্ধীদের নিয়েই কাজ করে। প্রতিবন্ধীদের মধ্যে অনেকেই জাতীয় স্মৃতিসৌধে আসতে চায়। আর প্রতিবছর কিছু সংখক ব্যক্তিকেই এখানে আনা হয়। আমরা অনেকে শিশুকেও এখানে এনে থাকি যেনো তারা মুক্তিযুদ্ধের আসল ইতিহাস যানতে পারে৷

তিনি বলেন, অন্য আট দশজন মানুষের মত স্মৃতি সৌধে এসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য প্রতিবছর অনেক শারীরিক প্রতিবন্ধী আমাদের সাথে আসার আগ্রহ প্রকাশ করে। তারা জানতে চায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও শহীদদের বিরত্তগাথা।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে গণতন্ত্র নির্বাসিত: ফখরুল

সাভার প্রতিনিধি: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আজকে স্বাধীনতা ৫০ বছর পরে যখন আমরা স্বাধীনতা দিবস পালন করছি, সুবর্ণজয়ন্তী পালন করছি, সেই সময় বাংলাদেশ থেকে গণতন্ত্র নির্বাসিত হয়েছে।

শনিবার (২৬ মার্চ) সকালে ঢাকার সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে এসে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘যে লক্ষ্য, আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে স্বপ্ন নিয়ে আমরা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম তা ধূলিস্যাৎ হয়ে গেছে। আজকে এই ৫০ বছর পরে আমাদের জনগণের ভোটের অধিকার নেই, তাদের স্বাধীনতা নেই, সংগঠনের অধিকার নেই। বাংলাদেশ সম্পূর্ণভাবে একটা কর্তৃত্ববাদী, ফ্যাসিবাদী শাসনের কবলে পড়েছে। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া কারারুদ্ধ হয়ে আছেন মিথ্যা মামলায়। আজ আমাদের ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান মিথ্যা মামলায় নির্বাসিত অবস্থায় আছেন। ৩৫ লাখ গণতন্ত্রগামী নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, ১২শ’ নেতাকর্মী গুম হয়েছেন, সহস্রাধিক নিহত হয়েছেন। এমন একটা ভয়াবহ দুর্বিষহ স্বৈরাচারের কবলে দেশ এখন উশৃঙ্খল ব্যবস্থায় আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজকে ৫০ বছর পরে আমরা শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে এখানে শপথ নিয়েছি, ৫০ বছর আগে আমরা মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যেমন দেশকে স্বাধীন করেছিলাম, আবারও আমরা গণতন্ত্রকে মুক্ত করবো। দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবো, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনবো এবং এই দেশের মানুষকে সত্যিকার অর্থেই একটা অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জণগণের একটি সরকার আমরা প্রতিষ্ঠা করবো। জনগণের রাষ্ট্র আমরা তৈরি করবো এবং সেই রাষ্ট্র হবে সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, সেই রাষ্ট্র হবে মুক্ত রাষ্ট্র।’

এ সময় তার সঙ্গে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ অন্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কেআরআর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে সর্বস্তরের শ্রদ্ধা নিবেদন

সাভার প্রতিনিধি :মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবসে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের শ্রদ্ধা জানিয়েছে সর্বস্তরের মানুষেরা।

সকাল ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে জাতীয় স্মৃতিসৌধের শহীদ বেদীতে প্রথমে রাষ্ট্রপতি এবং পরে প্রধানমন্ত্রী পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পর ৭ টার দিকে প্রাঙ্গনটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

পরেই বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠন, প্রতিষ্ঠানসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের ব্যানারের নিয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন।

সকাল ৭টা থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, কৃষক লীগ, বিএনপি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাসদ, বাসদ ও ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন অব ড্যাবসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন দলে দলে স্মৃতিসৌধের শহিদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে।

এ সময় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব বয়সী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের দেওয়া ফুলে ফুলে ভরে ওঠে স্মৃতিসৌধের বেদি। নতুন প্রজন্মকে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে পরিবার-পরিজনকে নিয়ে অনেকে সাভার স্মৃতিসৌধে এসেছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে।

বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাদের ব্যানার হাতে নিয়ে ও বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন।

সর্বশেষ আপডেট...