28 C
Dhaka, BD
সোমবার, এপ্রিল ৬, ২০২৬

রাণীশংকৈলে একই পরিবারের ৩ জনসহ ৭ জন করোনায় শনাক্ত

রাণীশংকৈল, (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধিঃ  ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় গত (৮ জুন) মঙ্গলবার নতুন করে ৭ জন করোনায় সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এদিন রাত ৯ টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত পরিসংখ্যানবিদ আরজুমানয়ারা আকতার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

করোনায় সংক্রমিত রোগীরা হলেন, উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের গহেলাপাড়া গ্রামের অনন্ত রায়ের ছেলে শ্রী দানেশ (৪৫), ধর্মগড়ের চেংমারি গ্রামের হাকিমউদ্দিনের ছেলে সফিকুল ইসলাম মুকুল (৪৮) ও তার স্ত্রী রুনা বেগম (৪১), মেয়ে বন্যা (১৬), পৌরশহরের ভান্ডারা এলাকার নাইনউদ্দিনের ছেলে কুতুবউদ্দিন (২৬) এবং নেকমরদ ইউনিয়নের মেহের লাল (৩১) ও নাসিরুল ইসলাম (৮৫) ।

রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডাঃ ফিরোজ আলম জানান, আক্রান্তদের নিজ বাড়িতে হোম আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত: এ পর্যন্ত রাণীশংকৈল উপজেলায় কোরনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৭৯ জন, ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৫৮ জন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন ৭ জন।

ধামরাইয়ে মলম পার্টির চক্রের ৩ নারী সদস্য আটক।

মোঃ সম্রাট আলাউদ্দিন ,ধামরাই( ঢাকা) প্রতিনিধিঃ ঢাকার ধামরাই পৌরসভার উত্তর পাতা দোয়েল ক্লাব সংলগ্ন রাস্তা থেকে মলম পার্টি ও ছিনতাইকারী চক্রের তিন মহিলা সদস্যকে আটক করেছে থানা পুলিশ।গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাদের আটক করা হয়।

জানা যায়, সুইটি বেগম নামে এক মহিলা যাত্রী ধামরাই বাজার যাওয়ার উদ্দেশ্যে ইসলামপুর থেকে সিএনজিতে উঠে। ঐ সিএনজিতে পূর্বেই আরো ৩ জন মহিলা যাত্রী ছিল।সিএনজি যোগে পৌরসভার উত্তর পাতা এলাকায় পৌছালে ভিকটিম সুইটি বেগম জোরে চিৎকার দেয়।

সেই চিৎকারের শব্দে স্থানীয়রা সিএনজি থামায় এবং সিএনজিতে থাকা ৩ মহিলাকে জনতা আটক করে। ঔই সময় সুইটি বেগমের চোখে মুখে মরিচের গুঁড়ো দেওয়ার কারণে তিনি চিৎকার দেন এবং স্থানীয় জনতা সন্দেহ করে গাড়ি থামায় এবং ৩ মহিলাকে আটক করে। তবে সিএনজি চালক পালিয়ে যায়। ভুক্তভোগী সুইটিকে চোখে মুখে পানি দিলে তার স্বাভাবিকতা ফিরে আসে এবং তার কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়।পরে স্থানীয়রা থানায় ফোন দিলে ধামরাই থানার কিলো টিম এসআই রশিদ এসে সিএনজিসহ মলম পার্টির ৩ নারী সদস্যকে থানা হেফাজতে নিয়ে আসে। আটককৃতরা হলো- মানিকগঞ্জ জেলার সাটুরিয়া থানার কামতা গ্রামের লিয়াকত আলীর দুই মেয়ে শিরিন ও সালমা। অপরজন, একই জায়গার আব্দুস সালামের মেয়ে সুমি আক্তার। তারা দির্ঘদিন ধরে এই পেশার সাথে জড়িত। ভিকটিম সুইটি বেগম জানান, ইসলামপুর থেকে ধামরাই উদ্দেশ্যে সিএনজিতে উঠলে সিএনজিতে থাকা ৩ মহিলা আমার চোখে মুখে মরিচের গুঁড়ো দেওয়ার কারণে আমি চিৎকার করি।তখন দোয়েল ক্লাবের সামনে স্থানীয় জনতা আমাকে উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে পুলিশ উপ- পরিদর্শক রশিদ উদ্দিন বলেন,মলম পার্টির ৩ নারী সদস্যকে আটক করা হয়েছে। তারা সুইটি নামে আরেক নারীকে অপহরণের চেষ্টা করছিল।

তাদের নামে একটি অপহরণ মামলা হয়েছে। আজ বুধবার তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সাভারে দৃষ্টিনন্দন মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উদ্বোধন (ভিডিও)

বিপ্লব সাভারঃ সাভারের দৃষ্টিনন্দন মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র উদ্বোধন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ঢাকা আরিচা মহাসড়কের সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে এই মডেল মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে। উদ্বোধনের পরেই মুসল্লিরা নামাজ আদায় করেন মডেল মসজিদে। মডেল মসজিদ উদ্বোধনে সাভারে অংশ নেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান।

তিনি বলেন, গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি সাভার মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সাভার ও আশুলিয়াবাসীর পক্ষ থেকে গভীর কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা। নিঃসন্দেহে সাভারবাসীর জন্য আজকের দিনটি ঐতিহাসিক দিন। জাতীয় জীবনেও ইতিহাসে দিনটি স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। একসঙ্গে এত মসজিদ কেউ তৈরি করেনি, যা করেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সারাদেশে ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণ করছেন ইসলামের একজন অন্যতম শ্রেষ্ঠ খাদেম শেখ হাসিনা।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইসলাম প্রচার ও প্রসারে এ এক অনন্য নজির। নামাজ আদায়ের পাশাপাশি ইসলামিক গবেষণা, সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে মসজিদের ব্যবহার আমাদের ঐতিহ্য। সেই ঐতিহ্যকেই মনেপ্রাণে লালন করেন আমাদের প্রাণপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিশ্ব ইজতেমার জন্য টঙ্গীতে সরকারি জায়গা বরাদ্দ থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করা হয়। এভাবে ইসলামের খেদমতে যেভাবে নিয়োজিত ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তেমনি তার যোগ্য উত্তরসূরি তথা একজন খাঁটি ঈমানদার মুসলমান হিসেবে আমরা পেয়েছি জননেত্রী শেখ হাসিনাকে।

ডা. এনামুর রহমান মহান এই নেত্রীর হাত ধরেই আজ সাভার মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রসহ আটটি বিভাগের উদ্বোধন করা হলো ৫০ টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। তিনি বলেন, আমার রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মসজিদ নির্মাণ করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে অনুরূপ ঘর নির্মাণ করবেন।

স্থান নির্বাচন, সব প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে সাভারে এই নান্দনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এই মসজিদটি নির্মাণে যারা আমার সঙ্গে ছিলেন, তাদের সবার প্রতি আমার প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।

দৃষ্টিনন্দন এই মডেল মসজিদটিতে একসাথে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে সাত শতাধিক মানুষ নামাজ আদায় করতে পারবেন। মহিলাদের জন্যও নামাজের ব্যবস্থা রয়েছে। বিদেশি সরকারের অর্থায়নে এই মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। মসজিদটিতে বসানো হয়েছে দৃষ্টি নন্দন কারুকাজ। বসানো হয়েছে উন্নত মানের টাইলস ও মার্বেল পাথর। নিরাপত্তার জন্য মসজিদে বসানো হয়েছে সার্বক্ষনিক সিসিটিভি ক্যামেরা। এছাড়া বিদ্যুৎ চলে গেলে সেখানে জেনারেটরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। চৌদ্দ কোটি টাকা ব্যায়ে মসজিদটি নির্মাণ করেছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। দৃষ্টি নন্দন এই মডেল মসজিদটি দেখলে যেকারোর নজর কারবে।

এসময় ঢাকা জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ হিল কাফী, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জুুরুল আলম রাজীব, পৌর মেয়র আব্দুল গণি, আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ফারুক হাসান তুহিনসহ গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তা ও সাভারের বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সাভারে আলমনগর হাউজিং থেকে ৫৭৬ ক্যান বিয়ারসহ খাইরুল নামের একজন আটক

বিপ্লব সাভার : সাভারের হেমায়েতপুর সংলগ্ন আলম নগর হাউজিং এ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৫৭৬ ক্যান বিয়ার সহ একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

সাভার থানাধীন টেনারী পুলিশ ফাঁড়ীর ইনচার্জ, জাহিদুল ইসলাম বিপিএম, পিপিএম এর নেতৃত্বে

আলমনগর হাউজিং এর ১০ নং রোডের ৬ নং বিল্ডিংস্থ নিচতলা জেনারেটর রুম সংলগ্ন রুম থেকে মজুদ কৃত বিয়ার ও এগুলো বহনকারী ব্যাবসায়ীকে আটক করা হয়।

আটককৃত ব্যক্তি হলেন, খায়রুল ইসলাম (২৪) পিতা- রফিকুল ইসলাম, সাং- চান্দুলিয়া থানা-সাভার, ঢাকা ।

মামলায় শাজাহান(৩২) নামে আরো একজন আসামীর নাম (পলাতক) উল্যেখ করা হয়, ঠিকানা-এ/পি সাং- গাবতলি, বসুপাড়া, দারুসসালাম ডিএমপি (ভাসমান)

পুলিশ সুত্রে জানা যায় , একই বিল্ডিং এর আট তলায় বসবাসরত সালমা নামের এক নারীর কাছে আসামীগণ আসা-যাওয়া করতেন।

পুলিশ জানায়, চক্রটি বহুদিন ধরে আলম নগর হাউজিং সোসাইটিতে বসবাসরত কিছু লোকের সহায়তায় বিয়ার মজুদ ও বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে আসছে, তথ্য দানকারীর এধরণের তথ্যের ভিত্তিতে গভীর রাতে অভিযান করে আসামী ও মজুদকৃত বিয়ার উদ্ধার করা হয়।

আটক আসামীর বলা তথ্য অনুযায়ী অজ্ঞাত শাজাহান নামে আরো একজনকে পলাতক আসামী হিসেবে এজাহার ভুক্ত করা হয় ।

ঢাকাস্থ শনির আখড়ার রসসুই রেস্টুরেন্ট থেকে ৪৮শ পিস ইয়াবাসহ ২ জনকে আটক করেছে র‍্যাব-৪ ‌‌(ভিডিও)

নিজস্ব প্রতিবেদক: র‍্যাব জানায়, গত ৮ই জুন মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৮:১৫ মিনিটে সময় এক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে, ঢাকাস্থ ডিএমপি কদমতলী থানাধীন শনির আখড়ার রসসুই রেস্টুরেন্টে গেলে, সেখান থেকে হাতেনাতে দুজনের কাছে তল্লাশি করে , নীল পলিথিনে মোড়ানো বেশ কয়েকটি প্যাকেটে বন্দি ,৪৮শ পিস ইয়াবা পাওয়া যায় ।

আটককৃতরা দুজনই মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ।

আটককৃতরা হলেন,মোঃ হোসেন (৩১) পিতাঃ মৃত চাঁন মিয়া সাং রাজারকুল ভিলেইজার পাড়া থানা রামু,জেলা কক্সবাজার, আঁখি খানম(২৪) স্বামী মোঃ সিরাজুল ইসলাম সাং কান্চনপুর নাতিয়া পাড়া, থানা বাসাইল, জেলা টাংগাইল । বর্তমানে ঠিকানা ৬/৩ দেবেন্দ্রনাথ দাস লেন, থানা সূত্রাপুর, ঢাকা ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন,উনূ মং সিনিয়র এএসপি সিপিসি-৩, র‍্যাব-৪,।

এ বিষয়ে কদমতলী থানায় মাদক আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে ।

ঠাণ্ডা মাথায় খুন করা হয় ডা. সাবিরাকে

রাজধানীর কলাবাগানে গ্রিন লাইফ হাসপাতালের চিকিৎসক কাজী সাবিরা রহমান লিপি (৪৬) হত্যাকাণ্ডের সাত দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও জড়িত কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।

ঘটনার পর থেকে সন্দেহভাজন, প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের স্বজনদের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করেও কোনো তথ্য মিলছে না।

তবে ঘটনার আলামত বিশ্লেষণ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, ‘খুনি ঠাণ্ডা মাথায় খুন করে পালিয়েছে।’ এ ঘটনায় থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশ, র‌্যাব, পিবিআইসহ সবাই তথ্য উদ্ধারে কাজ করছে। সবার ভাষ্য, হত্যাকাণ্ডটি ক্লুলেস ও জটিল।

সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তারা বলছেন, ডা. সাবিরার কোনো পরকীয়া প্রেমিক আছে কিনা সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সন্দেহ রয়েছে সহভাড়াটিয়া কানিজ সুবর্ণা ও নুরজাহানের প্রতিও। তবে নুরজাহান ঈদের দিন থেকে গোপালগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করায় তার দিকে সন্দেহটা কম।

এরপরও নুরজাহানকে ডেকে নিয়ে নানান বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গত রোববার (৬ জুন) ও সোমবার (৭ জুন) পিবিআই নুরজাহানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

পিবিআই দক্ষিণের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) তৃপ্তি মন্ডল জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘নুরজাহান পিবিআইয়ের কাছে হত্যার বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন। গত ঈদের দিন থেকে তিনি গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জে ছিলেন বলে দাবি করেছেন। এরপরও আমরা নানা বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করেছি। কিছু তথ্য পেয়েছি সেগুলো যাচাই করা হচ্ছে।’

পিবিআই সূত্র জানায়, নুরজাহানের চলাফেরা ছিল সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক। তার মায়ের কাছে সে বেশিরভাগ সময় থাকত। আবার একাই ফ্ল্যাট নিয়েছে। সেখানে দুই রুম সাবলেট ভাড়া দিয়েছে দুই মেয়েকে। ঈদের পর প্রথম ওই বাসায় থাকেন ডা. সাবিরা। ওইদিন রাতে তার স্বামী আসতে চেয়েছিলেন কিন্তু তার দুই শিফটে ডিউটি আছে বলে স্বামীকে আসতে দেননি। অথচ ওইদিন তিনি ডিউটিতে যাননি। তিনি বাসাতেই ছিলেন এবং সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ধারণা করা হচ্ছে ফজরের নামাজের আগে চিকিৎসক সাবিরাকে খুন করা হয়। তাকে প্রথমে পেছন থেকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে গলায় ধারালো চাকু দিয়ে আঘাত করা হয়। হত্যাকাণ্ড ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করতে ওই কক্ষে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, ঠাণ্ডা মাথায় পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে চিকিৎসক সাবিরাকে। খুনি ফ্ল্যাটের সব তথ্যই জানত। ফলে পালাতে সুবিধা হয় খুনির। বাড়ির দারোয়ান সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করত না। আবার ওই বাসাতে কোনো সিসি ক্যামেরাও নেই। আশেপাশের কোনো বাড়িতেও নেই। এমনকি কয়েকটি সড়কেও সিসি ক্যামেরা নেই। দূরের একটি সড়কে ক্যামেরা রয়েছে। সেটির ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের রমনা বিভাগের উপ কমিশনার (ডিসি) এইচ এম আজিমুল হক বলেন, ‘এখনও হত্যাকাণ্ডের তথৗ উদঘাটন করা যায়নি। আমরা সম্ভাব্য সব বিষয় আমলে নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রেখেছি। যেহেতু হত্যাকাণ্ডটি ক্লু লেস সেহেতু উদঘাটনে একটু সময় লাগবে।’

ডিবি সূত্র জানায়, ঘটনার পর সাবলেটে থাকা কানিজ সুবর্ণা এবং তার এক ছেলে বন্ধুকে ডিবি জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। ঘটনার রাতে পাশের কক্ষে কানিজের সঙ্গে রাত্রি যাপন করেছে ওই ছেলে বন্ধুটি। পাশাপাশি কক্ষে থাকলেও হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে কোনো তথ্য দিতে পারেননি তারা।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, ‘সব দিক মাথায় রেখে তদন্ত করা হচ্ছে। বিশেষ করে চিকিৎসকের ফোন কল যাচাইবাছাই করা হচ্ছে।’

ডা. সাবিরার ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাবিবার প্রথম বিয়ে হয় ২০০৩ সালে। সেই স্বামী চিকিৎসক ছিলেন। তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। এই পক্ষে এক ছেলে রয়েছে সাবিরার। পরে ২০০৫ সালে ব্যাংকার সামসুদ্দিন আজাদকে বিয়ে করেন সাবিরা। সামসুদ্দিন আজাদের দ্বিতীয় স্ত্রী সাবিরা। আজাদের প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে ডিভোর্স হওয়ার পর সাবিরাকে বিয়ে করেন। প্রথম স্ত্রীর পক্ষের এক মেয়ে রয়েছে আজাদের। সাবিরার সঙ্গে বিয়ের পর আরেক মেয়ে হয়। রাজধানীর শান্তিনগরে নিজের ফ্ল্যাটেই থাকতেন তারা।

তবে ২০১৭ সাল থেকে মেয়েকে নিয়ে আলাদা থাকা শুরু করেন সাবিরা। প্রথমে মায়ের বাসায় থাকলেও পরে আলাদা ফ্ল্যাট নেন তিনি। সাবিরার ফ্ল্যাটে খুব একটা আসতেন না আজাদ। এ নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্যও হতো। সাবিরা খুব জেদি প্রকৃতির ছিলেন।

নাম প্রকাশ না করে সাবিরার ঘনিষ্ঠ একজন বলেন, ‘সাবিরা তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্বামীর সম্পত্তি দাবি করেছিলেন। দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য জীবন নিয়েও মনোমালিন্য চলছিল। এ কারণেও ঘটতে পারে হত্যাকাণ্ড।’

সাবিরার স্বামী সামসুদ্দিন আজাদ বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধারের আগের রাতেও সাবিরার সঙ্গে ফোনে কথা হয়। আমি ৯টা ৫৭ মিনিটে সাবিরাকে মেসেঞ্জারে কল করি। কিন্তু তখন রিসিভ করেনি। পরে রাত ১০টা ২৮ মিনিটে আমাকে কল ব্যাক করে সাবিরা। প্রায় ২০ থেকে ২৫ মিনিট কথা হয়। তখন স্বাভাবিকভাবেই কথা বলেছিল সে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি অসুস্থ থাকায় ওই বাসায় ঠিকমতো যেতে পারতাম না। এ নিয়ে তার ক্ষোভ ছিল। ঘটনার আগের রাতেও আমাকে বলেছে, বাসায় আসার সময় হয় না তোমার। আমি তখন বলি কাল আসি তাহলে। তখন আমাকে বলে না কাল তার দুই শিফটে অফিস। দুই দিন পরে যেতে। ’

সম্পত্তি নিয়ে কোনো বিরোধ ছিল কিনা জানতে চাইলে আজাদ বলেন, ‘কারও সঙ্গে আমার কোনো বিরোধ নেই। সাবিরারও কোনো শত্রু নেই।’

উল্লেখ্য, গত ৩১ মে সকালে রাজধানীর কলাবাগানের ৫০/১ নম্বর ছয়তলা বাড়ির তৃতীয়তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে গ্রিন লাইফ হাসপাতালের চিকিৎসক কাজী সাবিরা রহমানের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে ওই ফ্ল্যাট থেকে আগুনের ধোঁয়া বের হতে দেখে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আসার আগেই স্থানীয়রা সহভাড়াটে কানিজ সুবর্ণার সহায়তায় ফ্ল্যাটটিতে প্রবেশ করে।

পরে সাবিরার কক্ষের তালা ভেঙে আগুন নেভায় তারা। ওই ফ্ল্যাটের যে কক্ষ থেকে সাবিরার লাশ উদ্ধার করা হয়, তার পাশে আরও দু’টি কক্ষে দুই সহভাড়াটে থাকেন। তাদের একজন আরবি শিক্ষক নুরজাহান (২৭), অন্যজন মডেল কানিজ সুবর্ণা (২৫)।ঠাণ্ডা মাথায় খুন করা হয় ডা. সাবিরাকে

এক সপ্তাহের মধ্যে সরাতে হবে সংসদ এলাকার সাইনবোর্ড ও ব্যানার

জাতীয় সংসদ ভবন ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে সংসদ সদস্য ভবনের আশেপাশে যেসব সাইনবোর্ড ও ব্যানার লাগানো হয়েছে তা এক সপ্তাহের মধ্যে অপসারণের জন্য দুই সিটি করপোরেশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ জুন) একাদশ জাতীয় সংসদের সংসদ বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভা থেকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়।

সভায় কমিটির গত ৬ষ্ঠ বৈঠকের কার্যবিবরণী নিশ্চিত করে ওই বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহের বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। একইসঙ্গে জাতীয় সংসদ ভবন, সংসদ সদস্য ভবন ও এর আশেপাশের এলাকার সেবার কাজ সম্পন্ন করার জন্য গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সীমানা নির্ধারণপূর্বক পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য বলা হয়। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে যাতে কোনো দোকানপাট বসতে না পারে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও নিয়মিত মনিটরিং করার জন্য ডিএমপিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সভায় সংসদ সচিবালয় কর্তৃক ইতোমধ্যে সরবরাহকৃত গাড়ির স্টিকার নতুন করে ডিজাইন করার সুপারিশ করে কমিটি। সংসদ ভবন ও সংসদ সদস্য ভবনের প্রয়োজনীয় স্থানে সিসি ক্যামেরা ও পিএবিএক্স টেলিফোন সংযোগ দ্রুত সময়ের মধ্যে স্থাপনের জন্য সুপারিশ করা হয়। কমিটি ন্যাম ভবনে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কর্তৃক চলমান কাজের মান ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়মিত তদারকি করার নির্দেশনা প্রদান করে।

সংসদ সদস্য ভবন এলাকায় অননুমোদিতভাবে বিভিন্ন কক্ষে/স্থানে বসবাসরত ব্যক্তিদের দ্রুত উচ্ছেদ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হয়। এছাড়া শেরে বাংলা নগর সংসদ সদস্য ভবনের ক্যান্টিন এবং মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ৬ নং সংসদ সদস্য ভবন সংলগ্ন ক্যান্টিন (সুপার সপ) দুটি পার্লামেন্ট মেম্বার্স ক্লাব কর্তৃক পরিচালিত হতে পারে মর্মে মতামত প্রদান করে কমিটি।

কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য এ বি তাজুল ইসলাম, ইকবালুর রহিম, ফজলে হোসেন বাদশা, কাজী ফিরোজ রশীদ, মাহবুব আরা বেগম গিনি, মনজুর হোসেন, আশেক উল্লাহ রফিক, শওকত হাচানুর রহমান (রিমন), মো. হারুনুর রশিদ, সামশুল হক চৌধুরী, সংসদ সদস্য ভবন ব্যবস্থাপনা কমিটির আহ্বায়ক মো. সাইফুজ্জামান, সংসদ সদস্য ভবন ব্যবস্থাপনা কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক নাহিদ ইজহার খান ও সংসদ সদস্য ভবন ব্যবস্থাপনা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক নার্গিস রহমান।

সেপ্টেম্বরেই মা হতে যাচ্ছেন নুসরাত ।

টলিউড অভিনেত্রী নুসরাত জাহানের মা হওয়ার গুঞ্জন এখন নেটদুনিয়ার ‘টক অব দ‌্য টাউন’।

নেটিজনরা পাগল প্রায় অনাগত সন্তানের বাবাকে নিয়ে। তবে এই সন্তানের বাবা যে অভিনেতা যশ দাশগুপ্ত তা সবাই প্রায় নিশ্চিত। কারণ নুসরাত আর যশ দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্কে আছেন, এ ছাড়া তারা দীর্ঘ সময় ধরে এক সঙ্গে থাকছেন।

এবার ভারতের সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে—আগামী ১০ সেপ্টেম্বর নুসরাত জাহানের সন্তান পৃথিবীর আলো দেখার সম্ভাব্য ডেট জানিয়েছেন চিকিৎসক।

আর যশ-নুসরাত বেশ আগেই বিয়ে করেছেন। নিখিলের এক কাছের বন্ধু জানান কিছু বন্ধুদের সঙ্গে গোয়ায় বেড়াতে গিয়েছিলেন নুসরাত, নিখিলই ফ্লাইটের টিকিট ও রিসোর্ট বুক করে দেন। পরে রিসোর্টের মালিক নিখিলের বন্ধু হওয়ায় তিনি জানতে পারেন যশের সঙ্গেই ছিলেন নায়িকা। সেই থেকেই সমস্যার সূত্রপাত।

যশ-নুসরাতের প্রেমের সম্পর্ক অনেক দিনের। কিন্তু কবে বিয়ে করেছেন তার সঠিক দিন-তারিখ জানা যায়নি। কলকাতার দক্ষিণেশ্বরের মন্দিরে যশ-নুসরাতের একটি ভিডিও চলতি বছরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। তাদের সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল নেতা ও রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী মদন মিত্র। শোনা যায়, সেখানেই যশকে বিয়ে করেন নুসরাত।

আয়নাল চেয়ারম্যানের মাদক ও সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে জিম্মি গ্রামের সাধারণ মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক : পশ্চিম কেরানীগঞ্জের একটি ইউনিয়ন হযরতপুর। এই ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন আয়নাল নানা ধরনের অপোকর্মে লিপ্ত রয়েছেন বলে এলাকাবাসির অভিযোগ। তাদের ভাষ্য এমন কোনো অপকর্ম নেই যা তিনি করেন না।

এলাকার উন্নয়ন এবং জন সেবার জন্যই তাদের মানুষ ভোট দেন। কিন্তু ভোটের চিত্র বদলে যাওয়ার পর থেকে এরকম জনদুশমন চেয়ারম্যানের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে ।

যার বড় উদাহরণ হচ্ছেন এই আয়নাল চেয়ারম্যান। জোর-জবরদস্তি রাস্তা নির্মান, চোরাই গরুর ব্যবসা, ডিভোর্স বা সংসার ভাঙার ব্যবসা, মদক ব্যবসা, নারী কেলেংকারি, ভিন্নমতালম্বি দেখিয়ে মিথ্যা ও হয়রানিমুলক মামলা, কারসাজি করে জমির দখল নেওয়াসহ অসংখ্য অভিযোগ উঠেছে চেয়ারম্যান আয়নালের বিরুদ্ধে।

সাধারণ একটি পরিবার থেকে উঠে এসে শত শত কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়া আয়নাল এখন ডনে পরিণত হয়েছেন।। আয়নাল হকের ভয়ে কেউ মুখ খুলতেই সাহস পায়না। প্রকাশে কেউ কিছু বললে, হত্যার হুমকি, মিথ্যা মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়। এরকম অসংখ্য ঘটনার পর ওই ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ অপেক্ষায় আছেন কবে তার ইউপি চেয়ারম্যান পদ বাতিল হবে। মানুষ তার অত্যাচার নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পারবেন।

আয়নাল হকের নির্যাতনের অস্ত্র হচ্ছে মাদক !

তাবা,আয়নালের ছেলে ইমনের ইয়াবা ব্যবসার ম্যানেজার মাদক দিয়ে তুঘলকি কান্ডকারখানা করে চলেছেন হযরতপুরের বহুল আলোচিত চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন আয়নাল। তার ছেলে এবং ভাগ্নের বিরুদ্ধে রয়েছে মাদক ব্যবসার অভিযোগ। আর তিনি নিজে মাদক দিয়ে শায়েস্তা করে চলেছেন আওয়ামী লীগের নিরীহ নেতাকর্মীদের।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আয়নাল হক যাকেই তার বিরুদ্ধপক্ষ মনে করেন তাকেই মাদকের মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেয়। আর এই কাজে বেআইনি ভাবে পুলিশকে ব্যবহার করে সে ।

এই প্রতিবেদক সরেজমিনে দেখেছেন কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি বিলাসবহুল বাড়ীর সঙ্গেই বসবাস করা একজন দিনমজুরকে হিরোইনের মিথ্যা মামলায় কিভাবে ফাঁসানো হয়েছে। অথচ ওই ভিকটিম এতটাই গরিব যে তার পক্ষে হিরোইনের ব্যবসা করা অসম্ভব। এমনকি ভিকটিম কোনোদিন বিড়ি সিগারেট খান নি বা ছুঁয়ে দেখেছেন এমনটি এলাকার কেউ বলতে পারবেননা।

এ প্রতিবেদক মো: খালেক এবং লাবু মিয়া নামের দুই ব্যক্তিকে খুঁজে পেয়েছেন যাদের বিরুদ্ধে হিরোইন ব্যবসার অভিযোগ এনে মামলা দিয়েছে পুলিশ। কিন্তু এরা বলছেন ভিন্ন কথা। লাবু মিয়া স্থানীয় একজন বিএনপি সমর্থকের সঙ্গে রাস্তায় মাটি কাটার কাজ করেন । সেই কারনে তাকে বিএনপি সমর্থক হিসেবে পুলিশের কাছে তুলে দেন ।

লাবু, নিরীহ গ্রামবাসী। এই সাধারণ ব্যক্তিকে ফাঁসানো হয়েছে হিরোইনের মামলায় ।

একই সময়ে খালেককেও তার ভাইয়ের দোকানে বসা অবস্থায় হাত ধরে উঠিয়ে পুলিশের কাছে তুলে দেন আয়নাল চেয়ারম্যান। স্থানীয় হযরতপুর বাজারে আসার পর পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে মাদকের মামলা সাজান। রাস্তায় পাওয়া যে দুজনকে এই মামলায় সাক্ষী রেখেছে পুলিশ তার একজনের বয়স তখন ১৮ বছর ছিলনা। লাবু এবং খালেক এই দুজনের বিরুদ্ধেই বিএনপি করার অভিযোগ তোলেন আয়নাল চেয়ারম্যান। অথচ তারা সবাই পরিবারগতভাবেই আওয়ামী লীগ করে চলেছেন। খালেক মনে করেন পুরোনো শত্রুতার কারণে চেয়ারম্যান তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছেন। অথচ পুরোনো কি শত্রুতা তা সে এখনো জানেনা। এটা এক ধরনের অত্যাচার বা নির্যাতন বসে সে মনে করে। চেয়ারম্যানসহ এই ভিকটিমদের বাড়ী ইটাভাড়া বাজারে একই সীমানায় পাশাপাশি অবস্থানে।

এদিকে আনোয়ার হোসেন রতন গাজী অন্য একজন আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধেও প্রতিশোধ মূলক মামলা করিয়েছেন আয়নাল হক। প্রবাসী ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাভার থানায় বিএনপির আমলে গাড়ি ভাংচুরের অভিযোগ আনা হয়। কিন্তু বিএনপি সরকারের সময় তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকার কেনো তার সমর্থকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করবে তা কারোরই বোধগম্য নয়। রতন গাজী সরাসরি এই মামলা করার ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে আয়নাল চেয়ারম্যানের নাম উল্লেখ করেছেন। তার বিরুদ্ধেও মাদক মামলার একটা ষড়যন্ত্র চলছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মো: খালেক ধূমপান করেননি জীবনে। অথচ মাদক মামলায় জেল হাজত খেটেছেন।

সবগুলো মামলা রাস্ট্রবাদি হওয়ার কারণে মূলত আয়নাল চেয়ারম্যান আইনগতভাবে জড়িত নয়। তবে স্থানীয়দের প্রকাশ্য অভিমত যে চেয়ারম্যান আয়নালের চক্রান্তেই এই মিথ্যা মামলাগুলো করেছে পুলিশ। পুলিশকে অন্যায় ভাবে ব্যবহারেরও অভিযোগ করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুরো হযরতপুর ইউনিয়নে মাদক ব্যবসার বড় নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে তার ছোট ছেলে ইমন। ইমনের প্রধান সহযোগি তাবা পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর প্রথমেই বলেছে সে চেয়ারম্যানের ছেলে ইমনের ব্যবসা সামলায়। ওই সময় সে মামুন, আলামীন, সোহেল তাজুর নাম বলেছিল। এছাড়া হাইমচর এবং রসুলপুরে তাদের বড় নেটওয়ার্ক রয়েছে বলে পুলিশকে জানিয়েছে।

চেয়ারম্যানের ষড়যন্ত্র মামলার শিকার রতন গাজী।

খোদ চেয়ারম্যানের বড় ছেলে অপু ইয়াবা সেবন করে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। চেয়ারম্যান আয়নালের ছোট ছেলে ইমন ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। চেয়ারম্যানের ভাগ্নে রাশেদুল ইসলাম রাশেদ এ ব্যবসার একজন ইন্দনদাতা । যদিও তার বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসার কোনো অভিযোগ স্পষ্ট করে কেউ বলতে পারেনা। অন্যদিকে চেয়ারম্যান তার চাচাত ভাই আতিকুর রহমান আতিকের অনেক সম্পদ জবরদখল করে নেওয়ার পর নি:স্ব আতিক এখন অনেকটাই মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে।

কোনো চেয়ারম্যানের পরিবার যখন পুরেপুরি মাদক ব্যবসা এবং মাদক সেবনের মধ্যে চলে যায় তখন নৈতিকভাবেই ওই চেয়ারম্যানের প্রতি সাধারণ মানুষ আস্থা হারিয়ে ফেলে। তখন চেয়ারম্যানও তার বিরুদ্ধে যাতে কেউ মুখ খুলতে না পারে এজন্য ক্ষমতার অপব্যবহার করেন বলে অপরাধ বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন।

অবরাধ বিশ্লেষক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুব বলেছেন, চেয়ারম্যান সরাসরি মামলার সঙ্গে যুক্ত না থাকায় তাকে আইনগতভাবে দোষারোপ করা অসম্ভব কিন্তু সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো যাবেনা। সাধারণ মানুষও সময় সুযোগ পেলে এর বদলা নিতে পারে।

আয়নাল চেয়ারম্যান বলেছেন, তার বিরুদ্ধে একটা ষড়যন্ত্র চলছে । স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন তার বিরুদ্ধে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার জন্যই এসব মিথ্যা গুজব ছড়াচ্ছে। তিনি বলেছেন, তার কোনো ছেলে ইয়াবার ব্যবসা করে না, ইয়াবা খায়না। আর তিনি কাউকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসাননি।

আয়নাল আরো বলেছেন, তার বাড়িতে যদি ইয়াবা ও অবৈধ অস্ত্র থাকে তাহলে পুলিশ এসে ধরে নিয়ে যাক। যে সব মামলার কথা বলা হচ্ছে তা পুরোনো । এতো দিন প্রতিবাদ কেনো করা হলোনা সেই প্রশ্ন তুলেছেন আয়নাল চেয়ারম্যান। তার আশঙ্কা তিনি যাতে আগামী নির্বাচনে নৌকা প্রতীক না পান সেই জন্য তার বিরুদ্ধে কিছু কিছু লোক দুর্নাম ছড়াচ্ছে। তার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ আনা হচ্ছে তা স্রেফ মিথ্যা এবং গুজব।

ধামরাই পৌরসভার প্যানেল মেয়র-১ নির্বাচিত হয়েছেন ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ মোকছেদ

মোঃ সম্রাট আলাউদ্দিন (ধামরাই প্রতিনিধি)আজ ধামরাই পৌরসভায় প্যানেল মেয়র নির্বাচনে কাউন্সিলরদের ভোটে প্যানেল মেয়র-১ নির্বাচিত হয়েছে মোঃমোকছেদ তিনি ০৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর।

এছাড়া প্যানেল মেয়র-২ হিসেবে ১নং ওয়ার্ডের আরিফুল ইসলাম এবং প্যানেল মেয়র-৩ হিসেবে ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর ফারহানা হোসেন নির্বাচিত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (০৮ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ধামরাই পৌরসভার নব-নির্বাচিত পৌর পরিষদের তৃতীয় মাসিক সাধারণ সভায় তাদের নির্বাচন করা হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন ধামরাই পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব গোলাম কবির।

পরে প্যানেল মেয়র ১- পদে ৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোকছেদ এবং ৬ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাহেব আলীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়।সাহেব আলী -৪ ভোট মোঃ মোকছেদ – ৮ ভোট, ৪ ভোটের ব্যবধানে মোঃ মোকছেদ জয়ী হন ।

এর আগে গত ২৮ ডিসেম্বর পৌরসভার ২য় মেয়াদে মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়ে পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও পৌর মেয়র গোলাম কবির ০৯টি সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং ০৩টি সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন

সর্বশেষ আপডেট...